শাহরুখ খানের ছবি "রইস"।

আগামী ২৫ শে জানুয়ারি রিলিজ হতে চলছে শাহরুখ খানের ছবি “রইস”। যে সিনেমায় নায়ক শাহরুখ, ভিলেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, এবং নায়িকা মাহিরা খান সকলেই মুসলিম, মাহিরা আবার পাকিস্তানি। যার জীবনকাহিনী নিয়ে এই “রইস” ছবি তৈরি করেছে শাহরুখ তার নাম আব্দুল লতিফ।
…অর্থাৎ এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য, বাস্তব জীবনে এক জেহাদি আতঙ্কবাদী আব্দুল লতীফের আসল কাহিনী আপনাদের জানানো। যদি মনে করেন শাহরুখ আমার প্রিয় নায়ক, তার ছবি তো দেখতে যাবই; তবে তার আগে জেনে নিন কে ছিল এই আব্দুল লতীফ ???
.
…আব্দুল লতীফের জন্ম আহমেদাবাদের কালুপুর নামক এক মুসলিম বহুল এলাকায়। আব্দুল লতিফরা ছয় ভাই বোন। এত ভাইবোন, তাই তাদের আর্থিক স্থিতি ভাল ছিল না। এই কারনে টাকার জন্য আব্দুল লতীফ এক মদ বিক্রেতা “আল্লা রাখা”র সংঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। আস্তে আস্তে দুই জন মিলে নকল মদের দুই নম্বরী কারবার করতে থাকে। এতে অনেক টাকার মালিক হয় আব্দুল লতীফ।
…১৯৯০ এর দশকে আব্দুল লতীফ পাকিস্তানে গিয়ে ভারতের পয়লা নম্বর শত্রু দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে আব্দুল ভারতে তার দুই নম্বরী ব্যাবসায় দাউদের সাহায্যের আশ্বাস পায়, বদলে ভারতে দাউদের জেহাদি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে দাউদকে সাহায্য করবার আশ্বাস দেয়। এছাড়াও ভারতে দাউদ ও আব্দুল মিলে নানান বেআইনি ব্যাবসা শুরুর চুক্তিও হয়।
…দাউদের সঙ্গে দেখা করার পর থেকেই আব্দুল লতিফ ভারতে জেহাদি আতঙ্ক ছড়ানো শুরু করে চুক্তি অনুযায়ী। কিছুদিনের মধ্যেই আব্দুল লতিফ খুন, চুরি, তোলা আদায়, দু-নম্বরী মদ, চরস, হাসিস, গাঁজার ব্যাবসা ও কিডন্যাপ করে টাকা আদায়কারী ডন হিসাবে কুখ্যাত হয়। ৪০ টি খুন সহ উপরিউক্ত বেআইনি কাজগুলির জন্যে ৯৭ টি কেসে গুজরাটে মোস্ট ওয়ান্টেড হয়ে ওঠে সে।
…এর মধ্যেই আব্দুল লতীফ ও তার লোকজন কংগ্রেস পার্টি থেকে টিকিট নিয়ে কালুপুর কর্পোরেশন নির্বাচনে ৫ টি সিটে জেতে। নেতা হয়ে দাউদের সঙ্গে মিলে “হিউম্যান ট্র্যাফিকিং” এর জাল ছড়ায়। মাথার ওপর কংগ্রেসি নেতাদের হাত থাকায়, আব্দুল হাজার হাজার মুসলিম ছেলেকে ভারতব্যাপী নিয়োগ করে হিন্দু মেয়েদের ভালবাসায় ফাঁসিয়ে কিংবা চাকরি দেবার নাম করে আহমেদাবাদ-কানপুর-মুম্বাই হয়ে পাকিস্তান, দুবাই, শারজাহ, সৌদি আরবের বেশ্যালয়গুলিতে পাঠানোর জন্য। দাউদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আরবে মেয়ে পাঠিয়ে অগুনতি টাকার মালিক হয়ে ওঠে আব্দুল লতিফ।
…এরপর ১৯৯৩ সালে দাউদের নির্দেশে “মুম্বাই ব্লাস্ট” করার জন্য টাকার ব্যবস্থা করে এই আব্দুল লতিফই। “মুম্বাই ব্লাস্টে” ২৯৩ জন লোক মারা যায়। কিন্তু ১৯৯৫ সালে গুজরাটের ভোটে লতিফ এবং কংগ্রেস জোট করে ভোটে লড়ার পরেও লোকে বিজেপিকেই ভোট দেয়। মুখ্যমন্ত্রী হন কেশুভাই প্যাটেল।
…গুজরাটে জাতীয়তাবাদী পার্টি বিজেপি ক্ষমতায় আসায় নিজের দিন গোনা শুরু করে লতিফ। ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই এক বাঙালি আইপিএস অফিসার “উপেন বিশ্বাস” এর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে আব্দুল কে গ্রেপ্তার করতে বলেন। প্রায় ১০ মাসের চেষ্টায় নভেম্বর মাসে দেশবিরোধী জেহাদি আব্দুল লতিফকে এনকাউন্টারে মারতে সক্ষম হয় গুজরাট পুলিস। অচিরেই গুজরাট আব্দুল লতিফের আতঙ্ক থেকে মুক্ত হয় এবং গুজরাটের মাটি থেকে দাউদ ইব্রাহিম তথা পাকিস্তানের কব্জা উপড়ে ফেলা হয়।
.
…আপনারা একটু যুক্তিবাদী মন নিয়ে ভেবে দেখুন, এই বলিউডে দাউদের দালাল শাহরুখ খান পাকিস্তান আর দাউদের শাগরেদ আব্দুল লতিফকে হিরো বানাতে, সিনেমা বানিয়ে ভারতীয় জনতাকে কিভাবে উল্লু বানানোর চেষ্টা করছে ???
…শাহরুখ খানের পাকিস্তান, লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ ও দাউদ উব্রাহিম প্রেম কারুর অজানা নয়। তাই একজন দেশবিরোধী ক্রিমিনাল ও জেহাদি আতঙ্কবাদী আব্দুল লতিফকে শাহরুখ যে এমনভাবে পেশ করবে যে সে আতঙ্কবাদী নয়, সে রবীনহুড – এটাই স্বাভাবিক।
.
…আমি অনেক পরিশ্রম করে, জেনে বুঝে, জেহাদি শাহরুখের “রইস” সিনেমা বানানোর পেছনে আসল সত্যটা আপনাদের জানালাম; বাকি আপনার হাতে।
…এক ক্রিমিনাল, জেহাদি আতঙ্কবাদী, যে নাকি শত শত খুন করিয়েছে, হাজার হাজার হিন্দু মেয়েকে বেশ্যালয়ে পাঠিয়েছে, মুম্বাই ব্লাস্টের মত অপরাধ করেছে, লক্ষ লক্ষ কমবয়েসি ছেলেমেয়েদের নেশার সমুদ্রে ডুবিয়ে তাদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে, তাকে শাহরুখের “রইস” সিনেমায় হিরোর রূপে দেখে আপনারা খুশি হবেন তো ???
…আপনাদের কি মনে হয়, এই সিনেমা নিজের কষ্টের উপার্জিত টাকা খরচ করে দেখে- শাহরুখ বকলমে দাউদকে বড়োলোক বানিয়ে আব্দুল লতিফদের মত জেহাদি আতঙ্কবাদিদের হিম্মত বাড়ানো দরকার ??? নাকি জেহাদি শাহরুখ ও দাউদের মত যারা আতঙ্কবাদীদের হিরো বানায়, তাদের উচিত জবাব দেওয়া দরকার ???
…প্রচুর পরিমানে শেয়ায় করুন। এই খবর ২৫ শে জানুয়ারির আগেই সবার কাছে পৌছানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব…… ভারত মাতা কি জয়……

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started