স্বামীজীর পত্রাবলী- মিসেস লেগেটকে লিখিত

*-  :      স্বামীজীর পত্রাবলী     :  -*
*”নমঃ শ্রীযতিরাজায় বিবেকানন্দ সুরয়ে।*                           *সচ্চিৎসুখস্বরূপায় স্বামিনে তাপহারিণে।।”*
                          ।।ঔঁ।।
(মিসেস লেগেটকে লিখিত)
প্যারিস, ৩রা সেপ্টেম্বর, ১৯০০
মা,
   এ বাড়িতে আমাদের একটা খেয়ালীদের কংগ্রেস হয়ে গেল। নানা দেশের প্রতিনিধি এসেছিল – দক্ষিণে ভারত থেকে উত্তরে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত, ইংলন্ড ও আমেরিকাও তার মধ্যে ছিল।
   সভাপতি নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের বিশেষ অসুবিধা হয়েছিল, কারণ ডক্টর জেমস্ (Prof. William James) যদিও উপস্থিত ছিলেন, তবু তিনি বিশ্বসমস্যা সমাধানের চেয়ে মিসেস মিল্টন (চৌম্বক আরোগ্যকারী) কর্তৃক তাঁর অঙ্গে উৎপাদিত স্ফোটকগুলি সম্বন্ধে বেশি সচেতন ছিলেন।
   আমি জো-র নাম প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু তিনি তাঁর নূতন গাউন যথাসময়ে এসে না পৌঁছানোর দরুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন এবং সুবিধাজনক জায়গা থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এক কোণে প্রস্থান করলেন।
   মিসেস বুল তৈরিই ছিলেন, কিন্তু মার্গট প্রতিবাদ করে বললেন, সে ক্ষেত্রে সভাটি তুলনামূলক দর্শনের ক্লাসে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
   আমরা যখন এ রকম সংকটাবস্থায় আছি, তখন তড়াক করে এক কোণ থেকে বেঁটে-খাটো গোলমত একটা মূর্তি লাফিয়ে উঠল এবং বিনা ভূমিকায় ঘোষণা করল – কেবল সভাপতির সমস্যা নয়, জীবনসমস্যা পর্যন্ত সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যদি আমরা শুধু সূর্যদেবতা ও চন্দ্রদেবতার অর্চনা করি।
   পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেছিলেন, কিন্তু সেটাকে অনুবাদ করতে তাঁর শিষ্যের ঝাড়া পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় লেগেছিল। ইতোমধ্যে উক্ত গুরুদেব আপনাদের বৈঠকখানায় কম্বলাদি টেনে স্তূপাকার করে ফেলেছিলেন এই শুভবাসনায় (যে বাসনার কথা তিনি নিজ মুখেই উচ্চারণ করেছিলেন) যে, তিনি তখনই সেখানে ‘অগ্নিদেবতার’ মহাশক্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিতে চান।
   সেই সন্ধিক্ষণে জো বাধা দিলেন এবং একগুঁয়েমির সঙ্গে বললেন, তাঁদের বৈঠকখানায় অগ্নি-যজ্ঞ তাঁর অভিপ্রেত নয়; ফলে উক্ত ভারতীয় ঋষি জো-র দিকে অতি ভয়াবহ চোখে তাকালেন, তাকে তিনি অগ্নি-উপাসনায় সম্পূর্ণ দীক্ষিত বলে সুনিশ্চিত বিশ্বাস করেছিলেন, তার এরূপ ব্যবহারে ঋষির বিরক্তির সীমা ছিল না।
   তখন ডক্টর জেমস্ তাঁর স্ফোটকের পরিচর্যা থেকে মাত্র এক মিনিট সময় বাঁচিয়ে সেই অবসরে ঘোষণা করলেন যে, অগ্নিদেবতা এবং তাঁর ভ্রাতৃগণ সম্বন্ধে তাঁর একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বক্তব্য আছে। তা তিনি উপস্থিত করতেন, যদি স্বদেহে মিল্টনীয় স্ফোটকের বিবর্তনের ব্যাপারে তাঁকে নিতান্ত কর্মব্যস্ত না থাকতে হতো।
   তদুপরি তাঁর মহান আচার্য হার্বার্ট স্পেন্সার বিষয়টি সম্বন্ধে তাঁর পূর্বে গবেষণা করেননি বলে ডঃ জেমস্ জানালেন, তিনি মহামূল্য নীরবতাকেই দৃঢ়ভাবে আশ্রয় করবেন।
                         
*”ওঁ পরতত্ত্বে সদালীনো রামকৃষ্ণ সমাজ্ঞয়া।*
*যো ধর্মস্থাপনরতো বীরেশং তং নমাম্যহম্।।”*

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started