রামকৃষ্ণসঙ্ঘের মত বিশ্বখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানের তিনি ছিলেন অন্তরালবর্তিনী ও নীরব সর্বময়ী নেত্রী ।

নেপথ্যচারিণী ”শ্রীমা ”

********************

রামকৃষ্ণসঙ্ঘের মত বিশ্বখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানের তিনি ছিলেন অন্তরালবর্তিনী
ও নীরব সর্বময়ী নেত্রী ।
রামকৃষ্ণ – বিবেকানন্দ প্রমুখের দ্বারা জীবনকালে পূজিতা ও বন্দিতা হয়েও কখনও তাঁর মধ্যে কোনও অহঙ্কারের প্রকাশ দেখা যায় নি ।
জীবন কালে রামকৃষ্ণ সংঘে তিনি ছিলেন সর্বদাই নেপথ্যচারিণী , কিন্তু সর্বত্রই তাঁর উপস্থিতি ছিল অপ্রতিরোধ্য ভাবে বাগ্ময় ।
এখানেই তাঁর অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের রহস্য ।
তিনি এইভাবেই আত্মবিলয়ের মন্ত্রে হয়েছিলেন স্বয়াংসিদ্ধা । মা এর এই আত্মবিলয়ের শক্তি দেখে শিহরিত হয়েছিলেন নিবেদিতা ।
জীবন রহস্যের মূলকথা এক সন্তান কে ব্যক্ত করে মা বলেছিলেন ; ” ঝড়ের এঁটোপাত হয়ে থাক — তোমার অস্তিত্ব থাকবে , ব্যক্তিত্ব থাকবে না , তা হলে তোমার সব জ্বালা যাবে । ”
মেয়েদের জন্য বিশেষ করে মা বলেছিলেনঃ ” সন্তোষের সমান ধন নেই , আর সহ্যের সমান গুন নেই । ” ” শ , ষ ,স — তিনটে স । যে সয় সেই রয় ”
এই বাক্য গুলি দেখে আমরা যেন না মনে করি , মেয়েদের অবদমিত করে রাখতে চেয়েছেন তিনি। নারীশিক্ষা ও নারীর স্বাধীন চেতনা ও চিন্তার ওপর তাঁর প্রবল অনুরাগ ছিল ।
মেয়েদের শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতার তিনি ছিলেন পূর্ন সমর্থক । সমর্থন শুধু মুখেই ছিলনা , অনেক মানুষের কাছে সমালোচনার স্বীকার হয়েও তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী দের নিবেদিতার বিদ্যালয়ে শিক্ষার ব্যাবস্থা করেন । সে কালের পরিপ্রেক্ষিতে তা দুঃসাহসের পরিচায়ক ছিল । তিনি কিন্তু তাঁর দৃঢ়তায় অবিচল থেকেছিলেন । আবার পতির প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততায় নিজেকে পূর্ণ ভাবে উজাড় করে দিলেও তিনি ছিলেন একই সঙ্গে আসাধারণ স্বাধীন চিন্তার অধিকারিণী এবং অসাধারণ মর্যাদাময়ী । ।

পূর্ণাত্মানন্দজী

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started