শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলিতেন, “রাখাল আমার ছেলে—মানসপুত্র” এবং ‘নিত্যসিদ্ধ ও ভক্ত’

শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলিতেন, “রাখাল আমার ছেলে—মানসপুত্র” এবং ‘নিত্যসিদ্ধ ও ভক্ত’
==============================
      “অনেকের সাধ্যসাধনা করে একটু ভক্তি হয়, এর আজন্ম ঈশ্বরে ভালবাসা—যেন পাতাল-ফোঁড়া শিব, বসানো শিব নয়।” পাতাল-ফোঁড়া শিবকে সংসারী করিবার জন্য পিতা আনন্দমোহন কৈশোর অতিক্রম না হইতেই বিবাহ দিলেন।  একদিন দেখি, মা একটি ছেলে এনে আমার কোলে বসিয়ে দিয়ে বললেন—এইটি তোমার ছেলে।  আমি তো শিউরে উঠলাম।  মা আমার ভাব দেখে  হেসে বললেন—সাধারণ সংসারিভাবের ছেলে নয়,ত্যাগী মানসপুত্র।  এদিকে পিতাপুত্রে অপূর্ব প্রীতির খেলা চলিতে লাগিল।  শ্রীরামকৃষ্ণের অপরিসীম আদরে রাখালরাজ ভাবিতেন—ইনি নিজস্ব আমার। এমন করিয়া দিন বহিতে লাগিল।  শ্রীরামকৃষ্ণ বুঝিয়াছিলেন, রাখাল আর সংসারে আসক্ত হইবে না।  দিনে দিনে রাখালরাজের অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দিল।  অন্তরে ভক্তির পূর্ণ জোয়ার, অনুরাগের একটানা স্রোত—অনুক্ষণ যেন নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন !  যাঁহারা গৃহ ত্যাগ করিয়া গুরুসেবায় রত হইয়াছিলেন, রাখালরাজ ভিন্ন প্রায় অপর সকলেই কুমার ব্রহ্মচারী।  পিতার ঐশ্বর্য, রূপযৌবনশালিনী ভার্যা, সুকুমার পুত্র, সংসারের যাহা কিছু মোহকর আকর্ষণ তৃণজ্ঞানে বর্জন করিয়া ব্রজের প্রেমিক রাখাল বিশ্বেপ্রেমে আত্মোৎসর্গ করিলেন।
      এদিকে স্বামীজী শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ধর্ম-সমন্বয়ের বাণী জগতে প্রচার করিলেন।  তাঁহার সে আশার বাণী শ্রবণ করিয়া ভগবন্নিষ্ঠ ভক্তগণ শ্রীরামকৃষ্ণ মঠে যোগ দিবার জন্য উৎসাহিত হইল। অপরদিকে মহারাজ সে-সকল ভক্তগণকে লইয়া নীরবে, শান্তভাবে শ্রীরামকৃষ্ণ-সঙ্ঘ গড়িয়া তুলিলেন।  তাঁহার অপরিসীম স্নেহ, ভালবাসা, অপূর্ব কর্মকুশলতা এবং আধ্যাত্মিক শান্তিপ্রবাহে শ্রীরামকৃষ্ণ-সঙ্ঘ শশিকলার ন্যায় দিন দিন বর্ধিত হইয়া ভারত ও ভারতবহির্ভূত প্রদেশে বিস্তার লাভ করিল।
            ♣♣♣♦♦♣♣♣

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started