হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ = ভালোবাসা
==============================
স্বামিজীর ইচ্ছা হয়েছিল বেলুড় মঠে গঙ্গার ধারের কিছুটা পোস্তা বেঁধে একটি ঘাট বানাবেন । তিনি বিজ্ঞান মহারাজকে প্ল্যান ও খরচ-পত্রাদির একটি আনুমানিক হিসাব করতে বলেন । বিজ্ঞান মহারাজ ভয়ে ভয়ে কম করে তিন হাজার টাকার হিসাব তৈরী করলেন। স্বামিজী খুব খুশী হয়ে মহারাজকে ডেকে বললেন, “কি বল রাজা, এই সামানেটাতে একটা ঘাট আর পোস্তা হলে বেশ হয়। পেসন তো বলছে যে তিন হাজার টাকায় হয়ে যাবে। তুমি বল তো কাজ সুরু হতে পারে।” মহারাজ বললেন, “তিন হাজার টাকায় হয় তো তা যোগাড় হয়ে যাবে।” স্বামিজীর ইচ্ছা অনুসারে মহারাজ ভিত্তি স্থাপন করলেন। বিজ্ঞান মহারাজ একদিন মহারাজকে জানালেন যে তিনি যা হিসাব করেছিলেন তার থেকে অনেক বেশি খরচ হবে। মহারাজ তাঁকে আশ্বাস দিলেন, “তার আর কি করা যাবে ? কাজে যখন হাত দেওয়া হয়েছে, যে করেই হোক শেষ করতেই হবে। তুমি তার জন্য ভেব না। কাজ যাতে ভাল ভাবে হয়, তাই তুমি কর।” একদিন স্বামিজী মহারাজের কাছে হিসাব দেখিতে গিয়ে দেখলেন যে, তিন হাজারের ঢের বেশী টাকা খরচ হয়ে গেছে, অথচ কাজ শেষ হতে এখনও অনেক বাকি। স্বামিজী অকথ্য ভাষায় মহারাজকে তিরস্কার করলেন। মহারাজ নীববে সব শুনলেন। এরপর নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করলেন। কিছুক্ষণ পরে স্বামিজী বিজ্ঞান মহারাজকে বললেন, “দেখ তো পেসন, রাজা কি করছে ?” বিজ্ঞান মহারাজ স্বামিজীকে জানালেন যে মহারাজ বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাঁদছেন। শুনেই স্বামিজী পাগলের মতো দৌড়ে মহারাজের ঘরে গেলেন। তারপর মহারাজকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, “রাজা, রাজা, আমায় ক্ষমা কর। আমি কি অন্যায় না করেছি ! তোমায় গালাগাল করেছি – আমায় ক্ষমা কর।” স্বামিজীর কান্না দেখে মহারাজ একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলেন। তিনি স্বামিজীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “তুমি অমন করছে কেন ? আমায় গালাগাল দিয়েছ – তাতে হয়েছে কি ? তুমি ভালবাস, তাইত এইসব বলেছ।” স্বামিজী বললেন, “না, না, তুমি আমায় ক্ষমা কর। তোমায় ঠাকুর কত আদর করতেন, কখন তোমায় তিনি একটা কড়া কথা বলেন নি। আর আমি কি না ছাই কাজের জন্য তোমায় গালাগাল করলুম – তোমার মনে কষ্ট দিলুম। আমি আর তোমাদের সঙ্গে থাকবার যোগ্য নই। চলে যাই হিমালয়ে – কোথাও গিয়ে নির্জ্জনে থাকব।” মহারাজ অমনি বললেন, “সে কি, তোমার গালাগাল যে আমাদের আশীর্ব্বাদ। তুমি কোথায় চলে যাবে ? তুমি আমাদের মাথা। তুমি চলে গেলে আমরা কি নিয়ে থাকব ?” এই ভাবে দুই বন্ধু একে অন্যকে সান্ত্বনা দিতে দিতে শান্ত হলেন।
==============================
স্বামিজীর ইচ্ছা হয়েছিল বেলুড় মঠে গঙ্গার ধারের কিছুটা পোস্তা বেঁধে একটি ঘাট বানাবেন । তিনি বিজ্ঞান মহারাজকে প্ল্যান ও খরচ-পত্রাদির একটি আনুমানিক হিসাব করতে বলেন । বিজ্ঞান মহারাজ ভয়ে ভয়ে কম করে তিন হাজার টাকার হিসাব তৈরী করলেন। স্বামিজী খুব খুশী হয়ে মহারাজকে ডেকে বললেন, “কি বল রাজা, এই সামানেটাতে একটা ঘাট আর পোস্তা হলে বেশ হয়। পেসন তো বলছে যে তিন হাজার টাকায় হয়ে যাবে। তুমি বল তো কাজ সুরু হতে পারে।” মহারাজ বললেন, “তিন হাজার টাকায় হয় তো তা যোগাড় হয়ে যাবে।” স্বামিজীর ইচ্ছা অনুসারে মহারাজ ভিত্তি স্থাপন করলেন। বিজ্ঞান মহারাজ একদিন মহারাজকে জানালেন যে তিনি যা হিসাব করেছিলেন তার থেকে অনেক বেশি খরচ হবে। মহারাজ তাঁকে আশ্বাস দিলেন, “তার আর কি করা যাবে ? কাজে যখন হাত দেওয়া হয়েছে, যে করেই হোক শেষ করতেই হবে। তুমি তার জন্য ভেব না। কাজ যাতে ভাল ভাবে হয়, তাই তুমি কর।” একদিন স্বামিজী মহারাজের কাছে হিসাব দেখিতে গিয়ে দেখলেন যে, তিন হাজারের ঢের বেশী টাকা খরচ হয়ে গেছে, অথচ কাজ শেষ হতে এখনও অনেক বাকি। স্বামিজী অকথ্য ভাষায় মহারাজকে তিরস্কার করলেন। মহারাজ নীববে সব শুনলেন। এরপর নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করলেন। কিছুক্ষণ পরে স্বামিজী বিজ্ঞান মহারাজকে বললেন, “দেখ তো পেসন, রাজা কি করছে ?” বিজ্ঞান মহারাজ স্বামিজীকে জানালেন যে মহারাজ বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাঁদছেন। শুনেই স্বামিজী পাগলের মতো দৌড়ে মহারাজের ঘরে গেলেন। তারপর মহারাজকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, “রাজা, রাজা, আমায় ক্ষমা কর। আমি কি অন্যায় না করেছি ! তোমায় গালাগাল করেছি – আমায় ক্ষমা কর।” স্বামিজীর কান্না দেখে মহারাজ একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলেন। তিনি স্বামিজীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “তুমি অমন করছে কেন ? আমায় গালাগাল দিয়েছ – তাতে হয়েছে কি ? তুমি ভালবাস, তাইত এইসব বলেছ।” স্বামিজী বললেন, “না, না, তুমি আমায় ক্ষমা কর। তোমায় ঠাকুর কত আদর করতেন, কখন তোমায় তিনি একটা কড়া কথা বলেন নি। আর আমি কি না ছাই কাজের জন্য তোমায় গালাগাল করলুম – তোমার মনে কষ্ট দিলুম। আমি আর তোমাদের সঙ্গে থাকবার যোগ্য নই। চলে যাই হিমালয়ে – কোথাও গিয়ে নির্জ্জনে থাকব।” মহারাজ অমনি বললেন, “সে কি, তোমার গালাগাল যে আমাদের আশীর্ব্বাদ। তুমি কোথায় চলে যাবে ? তুমি আমাদের মাথা। তুমি চলে গেলে আমরা কি নিয়ে থাকব ?” এই ভাবে দুই বন্ধু একে অন্যকে সান্ত্বনা দিতে দিতে শান্ত হলেন।
