চুপড়িটির কি হইবে? নিচে যাঁহারা ছিলেন, তাঁহারা বলিলেন, "ও আর কি হবে, রাস্তায় ফেলে দে।" Sri Sri mayer jibon kotha

– :      শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা      : -*

*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
   অপচয় তিনি পছন্দ করিতেন না। একদিন বলরামবাবুর বাড়ির চাকর চুপড়িতে করিয়া কিছু আতা আনিয়া উদ্বোধনে ঠাকুর-ঘরে রাখিয়া গেল এবং নিচে গিয়া জিজ্ঞাসা করিল,

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi

@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

 চুপড়িটির কি হইবে? নিচে যাঁহারা ছিলেন, তাঁহারা বলিলেন, “ও আর কি হবে, রাস্তায় ফেলে দে।”

মা উহা উপর হইতে শুনিতে পাইয়া রাস্তার দিকে বারান্দায় গিয়া দেখিলেন, চুপড়িটি সুন্দর এবং কাজে লাগিতে পারে; সুতরাং এইরূপ অপচয়ের নিন্দা করিয়া উহা আনিয়া ধুইয়া রাখিয়া দিলেন।
রামময় প্রতি শনিবার বদনগঞ্জ হইতে জয়রামবাটী যান। তাই কোন ভাল খাবার থাকিলে মা তাঁহার জন্য তুলিয়া রাখেন।
এক শনিবারে কোন ভক্ত মহিলা ভুনিখিচুড়ি রাঁধিয়াছিলেন। রামময় আসিলে মা তাঁহার সম্মুখে প্রচুর খিচুড়ি ধরিয়া দিলেন।
তিনি পরিমাণ মত খাইয়া বাকিটা ফেলিয়া দিতে উঠিলে মা বলিলেন, *”বাবা, এমন ভাল জিনিস ফেলো না”*, এবং পাশের বাড়ির এক সদগোপের মেয়েকে ডাকিয়া দিতে বলিলেন।
সে আসিয়া আহ্লাদ সহকারে উহা লইয়া গেলে মা বলিলেন, *”যার যেটি প্রাপ্য সেটি তাকে দিতে হয়। যা মানুষে খায়, তা গরুকে দিতে নেই; যা গরুতে খায়, তা কুকুরকে দিতে নেই; গরু ও কুকুরে না খেলে পুকুরে ফেললে মাছ খায় – তবু নষ্ট করতে নেই।”* কোন জিনিস তিনি নষ্ট হইতে দিতেন না। ফল ও তরকারির খোসা ইত্যাদিও গরুর জন্য তুলিয়া রাখিতেন।
গতানুগতিক ধারায় চলিতে অভ্যস্ত মানুষের জীবন্ত সমাজে অকস্মাৎ এমন অনেক খাপছাড়া প্রশ্ন উপস্থিত হয়, যাহার সমাধান বহু স্থানে সমাজ শুধু অবজ্ঞা দিয়াই করিতে চায়। কিন্তু মহামানবের হৃদয়মুকুরে সেক্ষেত্রেও সত্যের এরূপ আলোক প্রতিফলিত হয়, যাহার সাহায্যে সমাজ নূতন পথের সন্ধান পায়।
কলকাতায় মায়ের বাড়ির সম্মুখে একটি লোক থাকিত। তাহার উপপত্নীর কঠিন পীড়া হইলে সে প্রাণ দিয়া সেবা করিয়াছিল।
গুণগ্রাহিণী শ্রীমা ইহার প্রশংসা করিয়া বলিয়াছিলেন, *”কি সেবাটাই করেছে, মা, এমন দেখি নি! একেই বলে সেবা, একেই বলে টান!”*
মা যাঁহাকে বলিলেন, তিনি মায়ের সম্মুখে চুপ করিয়া থাকিলেও অন্তরে ঘৃণাই পোষণ করিলেন – উপপত্নীর আবার সেবা! মায়ের এই ঔদার্য বুঝিতে একটু সময় লাগিবারই কথা।
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্‌গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started