(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
‘যার যেমন ভাব তার তেমন লাভ’
‘যার যেমন ভাব তার তেমন লাভ’
=======================
ভগবান মানুষকে দুটি জিনিস দিয়েছেন—বিদ্যা ও অবিদ্যা। বিদ্যা দুরকম—বিবেক ও বৈরাগ্য। এদের আশ্রয় নিলে মানুষ ভগবানের শরণাপন্ন হয়। অবিদ্যা ছয় প্রকার—কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য ইত্যাদি। এদের আশ্রয় নিলে মানুষ পশুভাবাপন্ন হয় এবং শত্রুরূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিদ্যার অনুশীলন করলে অবিদ্যার নাশ হয়, আবার অবিদ্যার অনুশীলন করলে ‘আমি’ ও ‘আমার’ জ্ঞান বেড়ে গিয়ে মানুষকে সংসারে বদ্ধ করে রাখে, ভগবানের কাছ থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায় এবং অশেষ দুঃখ যন্ত্রণা পেতে হয়। তিনি জীবকে বিদ্যা ও অবিদ্যা শুধু এই দুইটি জিনিসই দিয়েছেন, তা নয়—এ দুটির মধ্যে ভাল মন্দ বিচার করে নেবার শক্তিও আবার দিয়েছেন। মানুষ যেটি ভাল মনে করে সেটি নেবে, ফলও সেই রকম পাবে।
মানুষ দুঃখ কষ্ট পেয়ে তাঁকে যে দোষ দেয় সেটা ভুল, মস্ত ভুল। আমরা নিজের পছন্দমত রাস্তা ঠিক করে নিয়ে তার ভালমন্দ ফলভোগ করছি। তার জন্য তাঁকে দোষ দিলে চলবে কেন ? ক্ষণিক সুখের মোহে এত ভুলে গেলে যে, ভাল মন্দ বিচার করে দেখবার আমাদের আর সময় হলো না। আগুনে হাত দিলে হাত পুড়বেই—সেটা আগুনের দোষ না আমাদের দোষ ? ঠাকুর বলতেন, “প্রদীপের স্বভাব আলো দেওয়া, কেউ বা তাতে ভাগবত পাঠ করছে— সে কি আলোর দোষ ?” সেই রকম ভগবান মানুষকে ভাল মন্দ দুটি রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছেন। আমাদের ইচ্ছামত পছন্দ করে নিতে হবে।
অতএব, বিবেক–বৈরাগ্য আশ্রয় করে, তাঁকে লাভ করে আনন্দের অধিকারী হবে—আর সংসারকে আশ্রয় করে, এ জীবনে অল্পবিস্তর ক্ষণিক আনন্দ পাবে বটে, কিন্তু ভবিষ্যৎকে অন্ধকার–সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়ে অনন্ত দুঃখ কষ্ট পাবার জন্য তৈরি থাকতে হবে। কেবল সুখটি চাই, দুঃখটি চাই না, বললে চলবে না। একটাকে চাইলে আর একটা আসবেই, আমরা চাই আর না চাই।
♣♣♣♦♦♣♣♣
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});