[৭৩]
৫•১•৬০
সেবক : _মঠের নিয়মাবলিতে আছে , ঠাকুর একশো বছর এই শরীরে থাকবেন। তাহলে কি তাঁকে ১০০ বছর পর আর দেখা যাবে না?_
মহারাজ : *আমি ঠিক এর উত্তর দিতে পারব না। তবে আমার ধারণা, স্বামীজী যা বলতে চেয়েছেন, তা হচ্ছে –ঠাকুর ১০০ বছর সূক্ষ্মশরীরে থাকবেন , তারপর কারণশরীরে চলে যাবেন। অর্থাৎ যতদিন সূক্ষ্মশরীরে থাকেন ততদিন সহজে তাঁকে সহজে পাওয়া যাবে। কারণশরীরে গেলে আর সহজে পাওয়া যাবে না।*
সেবক : _ঠাকুরকে তো দেখা যাবে, এমনকী গা টিপেও দেখা যাবে–তেমনি বিজয় গোস্বামী দেখেছিলেন; কিন্তু স্বামী শিবানন্দ, স্বামী বিশুদ্ধানন্দকেও কি ঠিক এইভাবে দেখা যাবে?_
মহারাজ : *কেন যাবে না? সেই পরব্রহ্মকে যে যেভাবে ধ্যান করবে সেই ঠিক সেইভাবেই দেখবে । ‘যে যথা মাং…।’ তবে ঠাকুরকে দেখা আর স্বামী শিবানন্দকে দেখা একরকম নয় । সে আরেক রাজ্যের কথা। দেহ , প্রাণ, মন ছাড়িয়ে শুদ্ধবুদ্ধিতে গেলে তবে এইসব দর্শন হয়।*
সেবক : _নন্দলাল বোস , যদুনাথ মল্লিক –এঁদের কি পরে পরিবর্তন হয়েছিল?_
মহারাজ : *নিশ্চয়ই । ঠাকুর যার দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন তারই মুক্তি হবে।*
সেবক : _শুধু দেখলেই হবে ?_
মহারাজ : *’বীক্ষনে মোহ যায় ।’ অবতার শুধু দৃষ্টিতেই হবে।*
সেবক : _মহারাজ, ঠাকুরের সময় দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতে যারা ছিল, তাদেরও কি মুক্তি হবে ?_
মহারাজ : *না , যাদের উপর ঠাকুরের কৃপাদৃষ্টি ছিল তাদেরই হবে।*
সেবক : _যদুনাথ মল্লিকের ওপর কি কৃপাদৃষ্টি ছিল?_
![]() |
| স্বামী সুহিতানন্দ |
মহারাজ : *ছিল না? নিজে তাঁর বাড়িতে গেলেন। যদুনাথ মাঝে মাঝে একটু ভোগন্মুখ হয়েছিলেন, পরে পালটে যান। তবে সেও নিবৃত্তিমূলক। ভোগের একটু বাকি ছিল, হয়ে গেল । আমাদের যা-সব কাজ —সে কর্মক্ষম ভোগ ,ক্ষয়মুখী কর্ম ; এতে এই জন্মে , বড়োজোর পরজন্মে মুক্তি হবে।*
সেবক : _মহারাজ, আমাদের সঙ্ঘে এই যে কাজকর্ম বাড়ছে –এটা ভাল না খারাপ?_
মহারাজ : *ভালই । আমাদের যদি সত্য সত্যই বৈরাগ্য থাকত , তবে কোনোমতেই এত কাজ হতে পারত না । আসলে বৈরাগ্য নেই। তাই ক্ষয়মুখী কর্মে ভালই হচ্ছে।*
সেবক : _এইসব কাজ করতে গিয়ে কেউ যদি ঠাকুরের ভাবের সঙ্গে কিছু compromise করে কাজ হাসিল করে, তার তাতে কী গতি হবে ?_
মহারাজ : *ব্যাক্তিগত কর্মফল ভুগতেই হবে ।*

