শান্ত সেই দুই নয়নের খোঁজে :-
___________________________
ছাত্রাবস্থাতে একবার মনে হয়েছিল দীক্ষা নেব | গুরু আমায় পথ দেখাবেন | তখন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ যিনি ছিলেন ,শুনলাম তিনি পুরুলিয়া আসবেন দীক্ষা দিতে |বিশ্বাস ছিল মা আব্বা কেউই আপত্তি করবেন না | কিন্তু দিন যত এগিয়ে আসতে লাগলো ,ততই আমার মনের উৎসাহ কমে আসতে লাগলো | দুবেলা প্রার্থনা করি ,মনের সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করি ঠাকুরের পায়ে ;কিন্তু দীক্ষা নেওয়ার ইচ্ছাটা আর রইলো না | পরে বুঝেছিলাম –আমার সময় হয়নি | সময় হলে নিশ্চিতভাবে আমি দীক্ষা পাওয়ার অধিকারী হবো | তবু আফশোস রয়ে গেছে |
যেমনভাবে আরেকটা আফশোস রয়ে গেছে মন্দিরে আরতি করা নিয়ে | বড় ইচ্ছা ছিল ,বিদ্যাপীঠের মূল প্রার্থনাঘরে ঠাকুরের মর্মর মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর আরতি করব |চামর দুলিয়ে আমার সমস্ত শ্রদ্ধা,সব ভালবাসা নিবেদন করব তাঁর চরণে | আমার পিছনে গান ভেসে আসবে –“জয় জয় আরতি তোমার,হর হর আরতি তোমার,শিব শিব আরতি তোমার “| সে-সাধ মেটেনি | বীজমন্ত্র আমি পাইনি | আর সে-মন্ত্র ছাড়া আরতি সম্ভব নয় |
স্বামীজি বলেছিলেন,ইসলামীয় শরীর এবং বৈদান্তিক মস্তিষ্কের কথা | রামকৃষ্ণ মিশনে প্রিয় শিক্ষক বারে বারে মনে করিয়ে দিতেন সে-কথা | তখন পুরোপুরি বুঝিনি | আজ যখন চারপাশের জগতের দিকে তাকাই ,তখন বুঝতে পারি এই সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা | আক্ষরিকভাবে এবং রূপকার্থে –উভয়ভাবেই সেই সমন্বয়ের সুযোগ আমি পেয়েছি | মহীরুহ হয়ে ওঠার সুযোগ আর নেই | তবু এখনো ভালো ছাত্রকে এগিয়ে দিই নিজ সংগ্রহের ” শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত” | দরিদ্র আদিবাসী ছাত্রকে পড়তে দিই স্বামীজীর রচনার সেই অংশ –যেখানে রয়েছে দরিদ্র আইরিশ মানুষদের কথা ,যারা পজিটিভ চিন্তার ছোঁয়ায় নতুন করে বেঁচে উঠেছিল |
চেষ্টা করি ধ্যানস্থ মানুষটির শান্ত সেই দু-নয়নকে নিজের অন্তরে খুঁজে পাওয়ার ||”