সন্তানবৎসলা শ্রীশ্রীমা II একদিন সে মাতামহীর নিকট শুইয়া আছে, ঠাকুরদেবতার গল্প প্রসঙ্গে মাতামহী বলিলেন, — ভক্তি হ’লে ভগবানকে পাওয়া যায়।

সন্তানবৎসলা শ্রীশ্রীমা ( ১ম পর্ব )

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

          মায়ের এক অদ্ভুত আকর্ষণী শক্তি ছিল। আবালবৃদ্ধ যে-কেহ একবার তাঁহার সান্নিধ্যে আসিয়াছে, তাঁহার অহেতুক স্নেহ ও আকর্ষণ জীবনে ভুলিতে পারে নাই। দক্ষিণ-কলিকাতার এক ব্রাহ্মণকন্যা শৈশব হইতেই মায়ের দর্শনর সৌভাগ্য লাভ করে। মাকে তাহার এত ভাল লাগিত যে, আত্মীয়পরিজনের সহিত যখন-তখন সে মায়ের বাড়ীতে চলিয়া আসিত তাঁহার দর্শনের জন্য। মধ্যে মধ্যে মায়ের নিকট রাত্রিযাপনও করিত। মাতা তাহাকে অতিশয় স্নেহ করিতেন।
      একদিন সে মাতামহীর নিকট শুইয়া আছে, ঠাকুরদেবতার গল্প প্রসঙ্গে মাতামহী বলিলেন, — ভক্তি হ’লে ভগবানকে পাওয়া যায়।
Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi
        ভক্তি যে কি বস্তু, সে জ্ঞান তখনও কন্যার হয় নাই, প্রশ্ন করিল, — ভক্তি কোথায় পাওয়া যায় দিদিমা ?
      সেই -যে পরমহংস মশায়ের পরিবার, তাঁর কাছে আছে। তিনিই ভক্তি দিতে পারেন।
      কন্যার মনে কৌতূহল জাগে, ঐ বস্তুটি পাইতে হইবে।
       দ্বিতীয় সহোদর তাহাকে অধিক স্নেহ করিতেন। তাঁহাকে সে পরদিবসই বলিল, — সেই মায়ের কাছে নিয়ে চল, ভক্তি আনতে হবে। কথা শুনিয়া তিনি তো প্রথমে খুব হাসিতে লাগিলেন, পরে তাহার আবদারে স্বীকৃত হইলেন। মাকে তিনিও ভক্তি করিতেন ; ভাবিলেন, ভগ্নীকে উপলক্ষ করিয়া তাঁহারও মাতৃদর্শন হইবে।
     দুইজনে ভবানীপুর হইতে বোসপাড়া লেনে মাতাঠাকুরাণীর বাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। মা তখন সবেমাত্র ঠাকুরঘর হইতে বাহিরে আসিয়াছেন, কন্যা প্রণাম করিতেও ভুলিয়া গেল, ছুটিয়া গিয়া মায়ের বস্ত্রাঞ্চল ধরিয়া বলিল, — তোমার কাছে না-কি ভক্তি আছে, আমায় দাও।
      শুনিয়া মাতাঠাকুরাণী হাসিতে হাসিতে বলেন, — ওমা, এ খুদেভক্ত বলে কি গো!  আমার কাছে যে ভক্তি আছে, কে বলেছে তোমায় ?
     — দিদিমা-যে বললে, তোমার কাছে আছে।
     গিরিশচন্দ্রের ভগ্নী ন’দিদি এবং যোগেনমার গর্ভধারিণী উপস্থিত ছিলেন, তাঁহারা খুব উৎসাহ দিতে লাগিলেন, — শক্ত ক’রে ধরো খুকি, মা-ঠাকুরুণের কাছেই ভক্তি আছে। মায়ের বস্ত্রাঞ্চল সে আরও শক্ত করিয়া ধরিল এবং একেবারে গাত্রসংলগ্ন হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল।
      আচ্ছা, দাঁড়া বাপু, এনে দিচ্ছি ; এই বলিয়া ঠাকুরঘর হইতে মা একখানি প্রসাদী অমৃতি-জিলিপি আনিয়া কন্যার হাতে দিলেন।
    ভক্তিপ্রাপ্তির কাহিনী ততক্ষণে প্রচার হইয়া গিয়াছে। অনেকে আসিয়া সেখানে উপস্থিত হইলেন। তাহাকে ঘিরিয়া সকলেই ভক্তির জন্য হাত পাতিলেন ; এ বলে, — দিদি, আমায় একটু দাও ; ও বলে, — খুকি, আমায় একটুখানি দাও। মা-ঠাকরুণ তোমায় ভক্তি দিয়েছেন, আমাদের সবাইকে ভাগ দিতে হবে।
      এই অবস্থার জন্য কন্যা আদৌ প্রস্তুত ছিল না। সকলকে কিছু কিছু ভাগ দিয়া নিজেও একটু গ্রহণ করিল এবং একটু রাখিয়া দিল। ( এই ভক্তিমতী কন্যা দুর্গাপুরী দেবী )  
                                                                ( সারদা-রামকৃষ্ণ )

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started