‘শ্রীরামকৃষ্ণ নামই মহামন্ত্র’ :
তখনও জপ–ধ্যান কিভাবেকরতে হয় জানি নাl
তাই পরের দিন সকলেরসঙ্গে মহাপুরুষজীকে প্রনাম করে বিনীতভাবেজপ ধ্যান কিভাবে করতেহয় জিজ্ঞাসা করাতে
মহাপুরুষজী সস্নেহে বললেন : “প্রীতির সঙ্গে বারং বারভগবানের নাম করাই জপl”
ঠাকুরই জীবন্ত জাগ্রত দেবতা—এযুগে “শ্রীরামকৃষ্ণ” নামই মহামন্ত্র l
মনে মনে “রামকৃষ্ণ” নামজপ্ করবে, আর খুবব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা করবেl
বলবে, প্রভু, তুমি জগতেরউদ্ধারের জন্য নরদেহ ধারণকরে কত কষ্ট সহ্যকরেছ,
আমি অতি দীন হীন, ভজনহীন , পুজনহীন, জ্ঞানহীন, ভক্তিহীন, বিশ্বাসহীন, প্রেমহীন, দয়া করে আমারহৃদয়ে প্রকাশিত হও l
মানবজীবন সার্থক হোক l
তোমারই একজন সন্তান তোমারকাছে এভাবে প্রার্থনা করতেকরতে শিখিয়েছেন l তুমি আমায় কৃপাকর l –
—এমনি করে প্রার্থনা করতেকরতে তাঁর কৃপা হবেl
ক্রমে মন স্থির হয়েআসবে l
জপ–ধ্যানে মন বসবে,অন্তরে আনন্দ ওপ্রেম অনুভব করবে, প্রাণেআসার সঞ্চার হবে l
খুব প্রার্থনা করে, পরে যেমনযেমন বলেছি তেমনি ভাবেজপ করবে l
ঠাকুরের পবিত্র নাম এরএমনই শক্তি যে, ঐ–নাম জপ করতেকরতে ক্রমে ধ্যান আপনিইহবে l
জপের সময় খুব একাগ্রচিত্তেভাববে যে, তিনি প্রসন্নদৃষ্টিতেতোমার দিকে চেয়ে আছেনl
এই চিন্তা দীর্ঘ সময়স্থায়ী হওয়াও এক রকমেরধ্যান l
তুমি তাঁর নাম জপকরতে করতে প্রার্থনা কর—প্রভু, আমার ধ্যান যাতেহয় তা–ই করেদাও l তিনি তা–ইকরে দেবেন, নিশ্চয় যেনোl
তিনি সকলের গুরু, পথপ্রদর্শক, প্রভু, পিতামাতা, সখা, ভ্রাতা l
যে–কোনো রকমে প্রেমেরসঙ্গে তাঁর শ্রীমূর্তি বাতাঁর গুন চিন্তা করাইধ্যান l ধ্যানের অনেক অবস্থা আছে, বহু রকমের ধ্যান আছে l
খুব ব্যাকুল হয়ে ডাক –খুবকাঁদ l কাঁদতে কাঁদতে হৃদয়েরময়লা সব ধুয়ে যাবে—-আর তিনি প্রকটিত হবেনl
এসব একদিনে হয় নাl করে যাও, ডেকে যাও—নিশ্চয়ই সাড়া পাবে —আনন্দপাবে l
এযুগে “রামকৃষ্ণ” নামই মহামন্ত্র l শুধু“রামকৃষ্ণ” নাম—-তাতে “ওঁ” কার বা অন্য কোনোবীজমন্ত্র যোগ করারও প্রয়োজনহয় না l’
স্বামী অপুর্বানন্দ (দেবলোকে)…
______________________________
তাঁকে যত পার স্মরণ–মনন করবে, তাঁকেইএকমাত্র আপনার জন বলেজানবে,
তাঁকে আপনার চেয়েও আপনারবলে জানবে l
যিনি ইহকাল ও পরকালেরএকমাত্র আশ্রয় ও সম্বল, তাঁকেই একমাত্র মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসবে l
যে যাকে ভালবাসে সেতারই কথা ভাবে, ভাবেসুখ পায়, আনন্দ পায়, তাকে পেতে চায়, সবক্ষণহৃদয়ের মধ্যে রাখতে চায়, আপনার করে নিতে চায়l
অন্য কথা বা কাজতার ভাল লাগে না, অন্য কিছু সে চায়না l
সবকিছুর বিচ্ছেদ আছে, শেষ আছে, কিন্তু ভগবৎ প্রেমের শেষনেই, সে যে অফুরন্তভান্ডার !
যত পান করবে ততইপিপাসা বাড়বে, শেষে আনন্দেবিভোর হয়ে আপনাকে ভুলেতন্ময় হয়ে যাবে l
তখন জীবত্ব ঘুচে দেবত্বপাবে, শবত্ব ঘুচে শিবত্বপাবে, মৃত্যুর বদলে অমৃতত্ব পাবে।
~~~~~~স্বামী বিরজানন্দ