শ্রী শ্রী মায়ের জীবনকথা: -*
*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতাহি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।“*
শ্রীমা নিজে কাজ করিতেভালবাসিতেন এবং অপরকেও ঐরূপকরিতে বলিতেন।
এক অপরাহ্নে ব্রহ্মচারী গোপেশ দেখিলেন, মাজয়রামবাটীর নূতন বাড়িতে নলিনীদিদিরঘরের বারান্দায় বসিয়া ধীরে ধীরেআটা মাখিতেছেন।
তখন সেখানে ঝি–চাকর, সেবক–সেবিকা ইত্যাদির অভাবনাই; অথচ বৃদ্ধ বয়সেও অসুস্থ শরীরে মায়েরএত পরিশ্রম করার সার্থকতা কি?
ব্রহ্মচারীমনের কথা মাকে খুলিয়াবলিলে তিনি উত্তর দিলেন, *”বাবা, কাজ করাই ভাল।“* তারপর একটু নীরব থাকিয়াগম্ভীরভাবে বলিলেন, *”আশীর্বাদ কর, যতদিন আছি, যেন কাজ করেই যেতেপারি।“*
মায়ের কাজের অন্ত ছিলনা। জয়রামবাটীতে ভক্তদের তত্ত্বাবধান, সকাল বেলা ঘন্টাদুই ধরিয়া তরকারি কোটা, ভাঁড়ার বাহির করিয়া দেওয়া, পূজার আয়োজন করা, স্বহস্তেপূজা করা, পূজার পরপ্রসাদ বাঁটিয়া দেওয়া, অন্তত একশখিলি পান সাজা, বৈকালেনিজ হাতে আটা–ময়দামাখিয়া রুটি–লুচি তৈয়ারকরা, দুধ জ্বাল দেওয়া, লন্ঠন পরিষ্কার করা ইত্যাদি কাজতিনি প্রত্যহ প্রীতির সহিত ধারাবাহিক ভাবেকরিয়া যাইতেন।
গৃহে অপর লোক থাকিলেওসবটাই যেন তাঁহার একারকাজ – কাহারও অপেক্ষায় তিনিবসিয়া থাকিতেন না। তিনি বলিতেন, *”শরীর এদিকে পড়ে যাচ্ছে, আর কাজও ক্রমাগত বেড়েযাচ্ছে।“*
উদ্বোধনেরবাড়িতে বর্ষার সময় সকলেকাপড় শুকাইতে দিয়া নিশ্চিন্তমনে নিজনিজ ঘরে বসিয়া আছেন।এদিকে বৃষ্টি আসিয়া হয়তোকাপড়গুলি ভিজিয়া গেল।
মায়ের পায়ে বাত থাকিলেওতিনি তখন ভিজা বারান্দায়যাইয়া কাপড়গুলি তুলিয়া আনিয়া ওনিংড়াইয়া দক্ষিণের ঘরে সযত্নে শুকাইতেদিলেন। কেহ অনুযোগ করিলেবা বাতের কথা স্মরণকরাইয়া দিলে বলিলেন, *”না, বাবা, এই যাচ্ছি, এইসামান্য একটু।“*
মঠের কয়েকজন সাধু তপস্যায়যাইবেন শুনিয়া কিশোরী মহারাজমাকে বলিলেন, “এই কর্মের মধ্যেথাকা যেন ভাল বোধহচ্ছে না। আমিও তপস্যাকরতে যাব, আপনি অনুমতিদিন।“
মা বলিলেন, *”সে কি গো! আমার কাজ করছ, ঠাকুরেরকাজ করছ, এ কিতপস্যার চেয়ে কম হচ্ছে? হাওয়া গুণতে কোথায় যাবে?”*
কাশীধামেস্বামী শান্তানন্দকে মা উপদেশ দিয়াছিলেন, *”ঠাকুরের কাজ করবে, আরসাধন–ভজন করবে; কিছুকিছু কাজ করলে মনেবাজে চিন্তা আসে না।একাকী বসে থাকলে অনেকরকম চিন্তা আসতে পারে।“*
অবশ্য উপযুক্ত অধিকারীকে মা তপস্যার অনুমতিওদিতেন; কিন্তু আমরা এখানেঅন্য বিষয়ের আলোচনা করিতেছি।
ছোট ছোট বিষয়েও শ্রীমায়েরতীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকিত এবংতিনি বিশৃঙ্খলা সহ্য করিতে পারিতেননা।
একদিন জয়রামবাটীতে গৃহকার্যে নিযুক্ত একজন স্ত্রীলোক ঝাঁটদিয়া ঝাঁটাটি ছুঁড়িয়া একদিকে ফেলিয়া রাখিলেতিনি বলিলেন যে, ঝাঁটাটিকেওসম্মান দিতে হয়; সামান্যকাজও শ্রদ্ধার সহিত করিতে হয়; ছোট জিনিস বলিয়া তুচ্ছকরিতে নাই।
