স্বামী নির্লেপানন্দের স্মৃতিকথা –
২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার। উদ্বোধনের ছাদে সামিয়ানা টাঙিয়েসুন্দর ব্যবস্থায় মায়েরশুভ জন্মতিথি উৎসব পালন। ছোটবাড়ি। স্থানের বড় অভাব। সারাদিনে পাঁচ–ছয় খেপেসবশুদ্ধ প্রায় সাতশো নরনারীপরিতৃপ্তির সঙ্গে প্রসাদ পেলেন।ধুপধুনা পুষ্পমাল্যজাত সৌরভে দশদিকআমোদিত। সুপ্রসন্ন পরিবেশ। মায়ের পরনে পট্টবাস।গলায় পুষ্পমাল্য। শ্রীপাদপদ্মে অসংখ্য শ্বেত রক্তপদ্মগোলাপ। ফুলে ফুলে পর্বতাকার।
মাস্টার মশায়ের অপ্রকাশিত নোটেদেখি, শ্রীরামকৃষ্ণ মায়ের সম্পর্কে বলছেন: “ওর পা যেন জগদ্ধাত্রীরপা। সুলক্ষণযুক্ত পা।“
মাকে ঐ শুভবাসরে যোগীন–মার প্রণাম। সেএকটা চুপি চুপি দেখবারইব্যাপার। ঠাকুরঘর। যোগীনের ভাবে ঢল ঢলমুখমন্ডলে বিস্ফারিত দুটি পদ্মআঁখি, যেনআঁকা। বহু বহুক্ষণ ধরেমায়ের শ্রীপদে মাথা রেখে প্রণতিনিবেদন। পুষ্পার্ঘ্য দান। দাঁড়িয়েউঠেও ভাবের ঘোর কাটেনি।যেন টলছেন। মা মাথায়হাত বুলোচ্ছেন। চিবুকে করাঙ্গুলিস্পর্শে চুমুদিচ্ছেন। আর সবচেয়ে মিষ্টি—-যোগীন–মা—মাকেপরমাদর সোহাগ ভরে চিবুকস্পর্শ করে চুমু খাচ্ছেনবারবার। এ বিশেষ অধিকারতাঁর। শ্রীমায়ের মুখে, “এস, এস মাএস “—–এছাড়া কথা তোবড় নেই এই ব্যাপারে। যেন ব্রজের শ্রীমতীকেনিয়ে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা গলে গড়িয়ে পড়ছেচার ধারে।
💖💖💖
