১৬৩ পরমপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ
লেখক :: অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কালনা থেকে চল এবারনবদ্বীপ। চলো একবার দেখেআসি নিমাইএর জন্মভূমি। কেউ বলে নিমগাছের নিচে জন্মেছিল বলেনিমাই। কেউ বলে যমেরমুখে তেতো লাগবে বলেনিমাই। কেউ বলে আট–আটটি কন্যা মরেযাবার পর নবম গর্ভেজন্মেছিল বলে নিমাই।
কিন্তু এমন ঁকাদুনে ছেলেকিছুতেই শান্ত হতে চায়না। পাড়ার স্ত্রীলোকদের কতজনেরকত রকম চেষ্টা, কিছুতেইনিবৃত্তি নেই। অগত্যা অনুপায় হয়েহরিনাম শুরু করে দেয়সবাই। ব্যাস, শিশুর মুখেখিলখিল হাসি।পরম সংকেত পেয়ে গেলসকলে। শিশু ঁকাদলেই হরিনামকরতে হবে। আর শিশুওএমনি ঁদুদে, তার কেবলথেকে থেকে কান্না।
কিন্তু নেড়া–নেড়ীদের এসবকি কান্ড বল দেখি? সত্যিই কি চৈতন্য অবতারনা নাড়া–নেড়ীরা টেনে–বুনে বানিয়েছে একটা।চলো নিজে গিয়ে দেখেআসি। ঁহ্যা, নিজে সেখানেগেলেই ঠিকঠাক বোঝা যাবে।চৈতন্য যদি অবতার হয়ইতবে সেখানে কিছু নাকিছু প্রকাশ থাকবেই, আরইশারা ঠিক মিলে যাবেচট করে।
রামকৃষ্ণ এল নবদ্বীপে। বড়গোঁসাইএর বাড়ী, ছোট গোঁসাইএরবাড়ী দেখতে লাগল ঘুরেঘুরে। হেথা–হোথা, হেন–তেন কত ঠাকুরদেবতার থান। কোথাও কিছুইদেখতে পেল না। সর্বত্রইশুকনো ঁহাড়ি ঠনঠন করছে।কোথাও দেবভাব নেই। সবজেয়গাতেই এক এক কাঠেরমরদ হাত তুলে খাড়াহয়ে আছে শুধু। দূর! এখানে এলুম কি করতে! চল্ ফিরে চল নৌকোয়।
কিন্তু নৌকোয় যেই উঠেছেরামকৃষ্ণ, অমনি বদলে গেলদৃশ্যপট। অলৌকিক দর্শন হলতার। ঐ এলো, ঐএলো — বলতে বলতে চকিতেসমাধিস্থ হয়ে গেল। জলেপড়ে যাচ্ছিল, ধরে ফেলল হৃদয়।
।। ওঁ ভগবতে শ্রীরামকৃষ্ণায় নম: ।।
