লক্ষ্মীদিদি বলিয়াছিলেন, — অনেক জায়গায় গেছি, অনেক জায়গায় নেমন্তন্ন খেয়েছি। খুড়ীমার সঙ্গে এ ব্রাহ্মণীর বাড়ীতে যেমন আদরযত্ন, আর পেসাদ পেলুম, তা’ অনেককাল মনে থাকবে IIসন্তানবৎসলা শ্রীশ্রীমা ( ৩য় পর্ব )

সন্তানবৎসলা শ্রীশ্রীমা ( ৩য় পর্ব ) 

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

       শ্যামবাজার-নিবাসী প্রাণকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় একবার ঠাকুরকে নিজ গৃহে নিমন্ত্রণ করিয়াছিলেন, তাঁহার পত্নী বগলামণি দেবীর প্রস্তুত পরমান্ন ঠাকুর স্বয়ং উপযাচক হইয়া ভোজন করিয়াছিলেন। বগলা দেবীর ইহা ছিল পরম গর্ব। গৌরীমার আশ্রমে আসিয়া তিনি সেইকালের কথা আমাদিগকে শুনাইয়া আনন্দ পাইতেন, আমরাও শুনিয়া ধন্য হইতাম।
      মাতাঠাকুরাণীকেও স্বভবনে নিমন্ত্রণ করিয়া স্বহস্তে রন্ধন করিয়া খাওয়াইতে তাঁহার বাসনা হইল। রামলাল দাদাকে একদিন তিনি মনের অভিলাষ জানাইলেন। তাহা শুনিয়া মা সহজেই তাঁহার নিমন্ত্রণে স্বীকৃত হইলেন। রামলালদাদা, লক্ষ্মীদিদি, শিবরামদাদা এবং দুই-তিন জন সাধুসেবকও মায়ের সঙ্গে তথায় গমন করেন। গৃহকর্ত্রী মাতার পদ ধৌত করিয়া তাঁহাকে সাদর অভ্যর্থনা জানাইলেন এবং একখানি নূতন বস্ত্র ও পুষ্পমাল্যে মাকে ভূষিত করিলেন। ঠাকুর যে-স্থানে বসিয়াছিলেন, ঠিক সেইস্থানেই আসন পাতিয়া তাঁহাকে বসাইলেন।
Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi
      বগলা দেবী ছিলেন অতিশয় আচারসম্পন্না বিধবা, তিনি গঙ্গাজলে রন্ধন করিলেন। নানাবিধ ভোজ্য, পিষ্টক এবং পরমান্ন প্রস্তুত হইল। তাঁহার ভক্তি এবং আন্তরিকতায় সকলেই প্রসন্ন হইলেন।
      লক্ষ্মীদিদি বলিয়াছিলেন, — অনেক জায়গায় গেছি, অনেক জায়গায় নেমন্তন্ন খেয়েছি। খুড়ীমার সঙ্গে এ ব্রাহ্মণীর বাড়ীতে যেমন আদরযত্ন, আর পেসাদ পেলুম, তা’ অনেককাল মনে থাকবে।
     রায় বাহাদুর মাধবচন্দ্র রায়ের পত্নী সাধিকা কেশবমোহিনী দেবীর আমন্ত্রণে একবার রাসপূর্ণিমার দিনে মাতাঠাকুরাণী মধ্য-কলিকাতায় এন্টালিতে তাঁহাদের গৃহে পদার্পণ করেন। তথায় অনেক নরনারী সমবেত হইয়াছিলেন এবং সমস্তদিবসব্যাপী আনন্দোৎসব হয়।
       সেদিন জপের প্রসঙ্গে জনৈকা ভক্তিমতীর প্রশ্নের উত্তরে মা বলেন, — দুপুরের পূর্বেই জপ সারবে, তা’ নইলে ইষ্টকে উপবাসী রাখা হয়। ইষ্টকে উপবাসী রাখতে নেই। তিনি চান, ভক্ত নিয়মমত নাম জপ করুক, এই জপই তাঁর ভোজ্য। মানসে ভোগ দিলে, বাতাস করলে, আরতি করলেও ইষ্ট প্রসন্ন হ’ন।
                                                                                 ( সারদা-রামকৃষ্ণ )

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started