লাটু মহারাজ প্রতিদিন মায়ের কাছে কেন যেতেন না,এ-রহস্য অনেক ভক্তকেই সংশয়ান্বিত করে তুলত।

লাটু মহারাজ প্রতিদিন মায়ের কাছে কেন যেতেন না,এ-রহস্য অনেক ভক্তকেই সংশয়ান্বিত করে তুলত।

একদিন এক ভক্তকে তিনি এ সম্পর্কে বলেছিলেনঃ ‘দেখো ! মা বলরাম মন্দিরে মাঝে মাঝে আসতেন। হামনে বাহিরের ঘরে থাকতুম। হামাকে হামেশা লোকে জিজ্ঞেস করতো–“মশায় ! মা উপরে রয়েছেন,আপুনি এখানে কেনো ?” তাদের বলতুম–“তাতে কি হয়েছে ?” হামার মনের ভাব কেউ বুঝতো,কেউ বুঝতো না। কেউ কেউ আবার এ-কথা শুনে চটে যেত। গালাগালি করতো। হামনে ত একদিন তাদের তাড়া দিলুম–“শালারা কেউ কুছু করবে না কেবল মা-ঠাউন,মা-ঠাউন বলে হুজুগ করবে। হামনে মানে না তোদের এমন মা-ঠাউনকে।”‘
কিন্তু কী আশ্চর্যমধুর মাতৃভক্তি ! পরক্ষণেই আবেগ-জড়ানো কন্ঠে বলে চললেনঃ ‘মাকে মানা কি সহজ কথারে ! তাঁর (ঠাকুরের) পূজা তিনি গ্রহণ করেছেন,বুঝো ব্যেপার ! মা-ঠাউন যে কি, তা একমাত্র তিনি বুঝেছিলেন,আর কঞ্চিৎ [কিঞ্চিৎ বলতে পারতেন না] স্বামীজী বুঝেছিলো। তিনি যে স্বয়ং লক্ষ্মী। তাঁর দয়া বুঝতে গেলে বহুৎ তপস্যার দরকার।’
কথাগুলির মধ্যে মধ্যাহ্নসূর্যের জ্ঞানদীপ্তি যেমন, আবার ঊষাকালের শিশিরস্নিগ্ধ ভক্তির ব্যঞ্জনাও তেমনই।
( আগামী শুক্রবার লাটূ মহারাজের পুণ্য জন্মতিথি পালনের শুভ অবসরে)

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started