গৌরী মার গর্ভধারিণী গিরিবালা দেবী কালী সাধিকা

গৌরী মার গর্ভধারিণী গিরিবালা দেবী কালী সাধিকা । শ্রী রামকৃষ্ণকে তিনি মা- কালীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে মনে করতেন । 

কিন্তু ” পরমহংস মহাশয়ের পরিবার কে সাধারন মানবী বলিয়াই মনে করিতেন । এই হেতু গর্ভধারিণীর সহিত গৌরী মায়ের তর্ক বিতর্ক হইত ।
গৌরী মা বলিতেন ,—- তুমি সারাজীবন সাদন ভজন করে , কালী সিদ্ধা হয়েও ব্রহ্ম ময়ী কে চিনতে পারলেনা । তোমার এতে অপরাধ হচ্ছে ।
গিরিবালা বলিতেন , — তোদের এখনও অভাব রয়েছে । আমার অন্তরে স্বয়ং ত্রিপুরেশ্বরী বিরাজ কচ্ছেন , আমার আর কারো প্রয়োজন নেই ।
দুঃখিত হইয়া গৌরী মা বলিতেন, —- ভাগ্যে থাকলে তো হবে !
এইরূপ বাদানুবাদের পর কন্যা র একান্ত আগ্রহে গিরিবালা একদিন মাতা ঠাকুরানীর নিকট গেলেন । মা তখন নহবত এ গৃহ কর্মে ব্যাপৃত ছিলেন । বৃদ্ধাকে দেখিয়া অভ্যর্থনা জানাইলেন ।
মায়ের মুখের দিকে চাহিয়াই গিরিবালা বিস্মিত কণ্ঠে বলিলেন * এ মা তুমি ! তুমি ! এ -যে আমার সেই ———* বলিয়া পদপ্রান্তে লুটাইয়া পড়িয়া তাঁহার পদধূলি মাথায় মাখিতে লাগিলেন । ইহাতে মা হাসিয়া বলিলেন ,—– কি হয়েছে মা , অমন কচ্ছেন কেন ?
ভিতরে ভিতরে নিশ্চয়ই কিছু ঘটিয়াছে বুঝিয়া গৌরী মা বিজয় গর্বে বলেন ,—— হবে আবার কি ? যা হবার তাই হয়েছে । মাতা ঠাকুরানী এবং গৌরী মা খুব হাসিতে লাগিলেন । গিরিবালা নির্বাক ।
গিরিবালা দেবির আমন্ত্রনে ঠাকুর ও ঠাকুরানী ভবানী পুরে তাঁহার গৃহে পদার্পণ করেন । গিরিবালা ছিলেন বিদুষী এবং কবি , তিনি অনেক কালী সঙ্গিত রচনা করিয়াছিলেন । তাঁহার রচনা কালী সঙ্গীত – শ্রবণে ঠাকুর খুব আনন্দ পাইতেন ।

”গ্রণ্থ – সারদাা – রামকৃষ্ণ ( ” শ্রী দুর্গাপুরী দেবী ” )

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started