||||||||||||||| লাটু মহারাজ |||||||||||||||
——————————————————-
লাটু মহারাজ শ্রীরামকৃষ্ণ এর অদ্ভুত সৃষ্টি ।
লাটু মহারাজ শ্রীরামকৃষ্ণ এর অদ্ভুত সৃষ্টি ।
“লাটু যেরূপ পারিপার্শিক অবস্থার মধ্য হইতে আসিয়া অল্প দিনের মধ্যে আধ্যাত্মিক জগতে যতটা উন্নতিলাভ করিয়াছে—–এতদুভয়ের তুলনা করিয়া দেখিলে সে আমাদের অপেক্ষা অনেক বড় ।
আমরা সকলেই উচ্চবংশজাত এবং লেখাপড়া শিখিযা মার্জিত বুদ্ধি লইয়া ঠাকুরের নিকট আসিয়াছিলাম ; লাটু কিন্তু সম্পূর্ণ নিরক্ষর । আমরা ধ্যান-ধারণা ভাল না লাগিলে পড়াশুনা করিয়া মনের সে ভাব দূর করিতে পারিতাম ।
আমরা সকলেই উচ্চবংশজাত এবং লেখাপড়া শিখিযা মার্জিত বুদ্ধি লইয়া ঠাকুরের নিকট আসিয়াছিলাম ; লাটু কিন্তু সম্পূর্ণ নিরক্ষর । আমরা ধ্যান-ধারণা ভাল না লাগিলে পড়াশুনা করিয়া মনের সে ভাব দূর করিতে পারিতাম ।
লাটুর কিন্তু অন্য অবলম্বন ছিল না——তাঁহাকে একটিমাত্র ভাব অবলম্বনেই চলিতে হইয়াছে ।
কেবলমাত্র ধ্যানন-ধারণা সহায়ে লাটু যে মস্তিষ্ক ঠিক রাখিয়া অতি নিন্ম অবস্থা হইতে উচ্চতম আধ্যাত্মিক সম্পদের অধিকারী হইয়াছে, তাহাতে তাঁহার অন্তর্নিহিত শক্তির ও তাহার প্রতি শ্রীশ্রীঠাকুর এর অশেষ কৃপার পরিচয় পাই ।”
কেবলমাত্র ধ্যানন-ধারণা সহায়ে লাটু যে মস্তিষ্ক ঠিক রাখিয়া অতি নিন্ম অবস্থা হইতে উচ্চতম আধ্যাত্মিক সম্পদের অধিকারী হইয়াছে, তাহাতে তাঁহার অন্তর্নিহিত শক্তির ও তাহার প্রতি শ্রীশ্রীঠাকুর এর অশেষ কৃপার পরিচয় পাই ।”
—————–স্বামী বিবেকানন্দ ।।
স্বামী অদ্ভুতানন্দ মহারাজ এর কিছু উপদেশবলী::::::::::::::::
ভগবান চান পবিত্র জীবন l জীবন সকলেরই সমান l তবে যার পবিত্র জীবন ভগবান তাকে ভালবাসেন l
ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলেছেন, “যার হৃদয় শুদ্ধ আমি সেখানে প্রকাশ থাকি l ……লোকে ঘুরে ঘুরে বেড়ায় l আমি কিন্তু তার হৃদয়েই রয়েছি l সেখানে বজ্জাতি, অসদ্বুদ্ধি থাকে, তাই আমাকে দেখতে পায় না l”
ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলেছেন, “যার হৃদয় শুদ্ধ আমি সেখানে প্রকাশ থাকি l ……লোকে ঘুরে ঘুরে বেড়ায় l আমি কিন্তু তার হৃদয়েই রয়েছি l সেখানে বজ্জাতি, অসদ্বুদ্ধি থাকে, তাই আমাকে দেখতে পায় না l”
কারুর খুব রাগ হলে ঠাকুর বলতেন—ওকে ছুঁস নি, চন্ডালে স্পর্শ করেছে l চন্ডাল ছুঁলে যেমন অস্পৃশ্য হয়, ক্রোধের বশীভূত হলে মানুষ সেরূপ হয় l
এ জগতে কেউ ছোট হতে চায় না, সবাই বড় হতে চায়; তাই তো এত গোলমালের সৃষ্টি l একজন একটু নিচু হলে সব গোলমাল মিটে যায়; কিন্তু তা কিছুতেই হবে না l বলে—আমি ওর থেকে ছোট কিসে ? এরই নাম অহংকার l যত অনর্থের মূল ঐখানে l যদি সংসারে শান্তি পেতে চাস, তবে ছোট হতে শেখ l
সংসারই বল, আর ধর্মই বল, শ্রদ্ধা প্রীতি না হলে কিছুই হয় না l উপরোধে কি কোনো কাজ হয় ? প্রীতি থাকলে আর ছাড়তে ইচ্ছা হয় না, ক্রমশঃ ভগবানে মন বসে যায় l প্রীতিই হলো প্রধান l
আজকাল লোকে যে ধর্ম ধর্ম করছে, ও সব হুজুগে ধর্ম l ঠিক ঠিক লোক কত ? কজন ধর্ম চায় ? সকলেই হুজুগে ধর্ম করে, তবে ভালোর মন্দ তাও ভালো, এই পর্যন্ত l
সংস্কার যায় কিসে ? —ভগবানের নাম গুনগান, সাধুসঙ্গ, ধ্যানজপ ইত্যাদি করলে l
নিজেকে বড় বলে মনে হলেই যত গোল l যার ছোট বলে মনে ধারণা, তার আর কিসের গোল ?
নিজেকে বড় বলে মনে হলেই যত গোল l যার ছোট বলে মনে ধারণা, তার আর কিসের গোল ?
ভগবান কি গাছের ফল যে তাঁকে ইচ্ছামাত্রই পাবে ?
তাঁকে পেতে হলে তাঁর কৃপা চাই, দয়া চাই l তাঁর কৃপালাভ করতে হলে সাধুদের ভালবাসা, আশীর্বাদ পেতে হয় l ভগবান আছেন বলে বিশ্বাস কর l বিশ্বাস করে যেখানে বসে ডাকবে, সেইখানেই পাবে l
ভগবান কাউকে অর্থ দেন, কিন্তু দান করবার ইচ্ছা দেন না l আবার যাকে দান করার ইচ্ছা দেন, তাকে অর্থ দেন না l আর যাকে দুইই দেন বুঝতে হবে তার উপর ভগবান এর দয়া আছে l
সাধন-ভজনের উপদেশ যার তার কাছ থেকে নিলে অনিষ্ট হতে পারে l গুরু—যিনি শিষ্যের ভাব জানেন বা জানতে পারেন, তাঁর কাছে উপদেশ নিলে কল্যাণ হয় l নচেত ভাব নষ্ট হতে পারে l
হাজার হাজার ধর্মকথা জানার চেয়ে, বলার চেয়ে, লোককে শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে ভগবানকে ডাকা ভালো l
গুরুবাক্যে সংশয় করলে কখনও ধর্ম হয় না l একজনের উপর নির্ভর করা কি কম কথা ? সুখ আসুক, দুঃখ আসুক গুরুর আজ্ঞা পালন করে চলতে হবে—তবেই মঙ্গল l
তাঁর উপর মন থাকলে সব ভয় কেটে যায় l ভগবানে মন থাকাই হলো প্রধান l তিনি যে কোথা থেকে বুদ্ধি জুটিয়ে দেন, তা কি জীব বুঝবে ? তাঁর কাছে আন্তরিক প্রার্থনা করতে হয় l বাইরে লোক দেখানো না হয় l আন্তরিক প্রার্থনা হলে তিনি শোনেন l
পরের দোষ দেখতে দেখতে দোষই কেবল নজরে আসে l যাঁর কাছে উপকার পেয়েছ, তিনি যদি হঠাৎ কোন অন্যায় করে ফেলেন—তাঁর দোষ কখনও দেখা উচিত নয় l তখন তাঁর গুণটা সামনে ধরলে অনেক বাঁচোয়া ; তা না হলে পরে ভয়ানক অনুতাপ হয় l
পবিত্র থাকলে ধর্ম একদিন না একদিন বুঝতে পারবেই l সতের কাছে ভগবান প্রকাশিত হন, যেমন অর্জুনের কাছে শ্রীকৃষ্ণ হয়েছিলেন l
সৎসঙ্গকরলে কি হয় যেন ? সৎসঙ্গ করলে সদবুদ্ধি হয়, ভগবানে ভক্তি-বিশ্বাস হয় l হিংসা-দ্বেষ চলে যায় l পরস্পরে ভাবের আদান প্রদান হওয়ায় কু-ভাব চলে গিয়ে সু-ভাব আসে l জপ-ধ্যান করবার ইচ্ছা প্রবল হয় l সৎসঙ্গ—সৎ হবার উপায় l
রামকৃষ্ণ শরনম ………..