‘পুণ্য স্মৃতির আলোকে অনন্যসাধারণ মহাপুরুষ স্বামী শিবানন্দজী মহারাজ’
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
একসময়ের আচার্য স্বামী বিবেকানন্দ প্রণীত ‘মঠের নিয়মাবলী’ লইয়া পরম শ্রদ্ধাস্পদ স্বামী সারদানন্দজীর কাছে জনৈক মহারাজ নিবেদন করিলেন—ঐ পুস্তিকায় লিখিত কথাগুলির মধ্যে স্বামীজীর নিজস্ব মত কতটা আছে এবং কোন বিষয়ে স্বামী সারদানন্দজীর স্বতন্ত্র মত আছে কিনা, ইহাই ছিল জানিবার বিষয়। তাঁহার আদেশে একটি একটি করিয়া নিয়মগুলি পাঠ করিলাম এবং তিনিও প্রত্যেকটি নিয়মের ভিত্তি যে শ্রীরামকৃষ্ণের অভিজ্ঞতা ও বাণীর উপর প্রতিষ্ঠিত তাহা বিশদভাবে বুঝাইয়া দিলেন। পরিশেষে তিনি বলিলেন তাঁহার নিজের ঐ বিষয়ে ব্যক্তিগত কোন স্বতন্ত্র মত নাই, এবং ঐ প্রশ্ন লইয়া মহাপুরুষ মহারাজের কাছে উপস্থিত হইতে আদেশ করিলেন। মহাপুরুষ মহারাজের কাছে গিয়া প্রশ্নটি করিবামাত্রই তিনি এক কথায় বলিলেন, “দেখ, ঠাকুর হচ্ছেন বেদ, আর স্বামীজী তাঁর ভাষ্য । এঁদের বাইরে আমাদের কোন কথাই নাই।” এক মহাপুরুষ আমাদের যুক্তিবাদী মনের সংশয় দূর করিলেন বিচারসঙ্গত বিশদ ব্যাখ্যার মধ্য দিয়া, আর এক মহাপুরুষ মনের উপর অঙ্কিত করিয়া দিলেন উপসংহারটি রূপকের মধ্য দিয়া। উভয়ের বাণীর মধ্যে পাওয়া গেল শ্রীশ্রীঠাকুর ও স্বামীজীর প্রতি শ্রদ্ধার এক অসীম গভীরতা।
![]() |
|
Swami Shivananda
|
শ্রীরামকৃষ্ণ মিশনের যে প্রতিষ্ঠানটির কাজে নিযুক্ত ছিলেন উক্ত জনৈক সন্ন্যাসী, সে স্থান হইতে তার অন্যত্র যাইবার ইচ্ছা কয়েকবার হইয়াছিল। প্রতিবারই নানাভাবে আশ্বাস এবং উৎসাহ দিয়া মহাপুরুষ মহারাজ তাকে নিরস্ত করিয়াছিলেন। শেষবার যখন তাঁহার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিলেন, তখন তিনি এমনই একটা সকরুণ সুরে একটি বিশেষ কথা বলিয়াছিলেন যাহার প্রভাবেই বোধ হয় অন্যত্র যাইবার বাসনা চিরজীবনের জন্যই অন্তর্হিত হইল। তিনি বলিয়াছিলেন, “প্রতিষ্ঠানটির মধ্য দিয়া বহুলোকের কল্যাণ হইবে। আর ওখানে থাকার জন্য যদি কারো কোন ক্ষতি হয় তাহা আর কিছু না,—হয়ত তাদের অভীষ্ট লাভের কিছু বিলম্ব হইতে পারে। যদিও বিলম্ব অবশ্য হইবে না। কিন্তু যদিই বা হয়, কেউ কি এতগুলি লোকের কল্যাণের জন্য এইটুকু ত্যাগস্বীকার করিতে পারিবে না ?”
ওঁ শান্তিঃ ! ওঁ শান্তিঃ ! ওঁ শান্তিঃ !
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

