p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }
একদিন পূজাদির কথা উঠিলে মহাপুরুষজী বলিলেন – দেখ, আমরা যখন পূজা করতুম, সে ছিল শুধু ভাবের পূজা।
এত আড়ম্বর আমাদের কিছুই ছিল না। পূজা করতে বসে ভাবতুম, তিনি দক্ষিণেশ্বরে যেমন নিজ খাটটিতে বসে থাকতেন, তেমনি প্রত্যক্ষভাবে এখানেও রয়েছেন; এবং সেইভাবেই তাঁর পা দুখানি ধুইয়ে মুছিয়ে; তাঁকে স্নানাদি করিয়ে কাপড়–চোপড় পরাচ্ছি। তারপর ফুলচন্দন দিয়ে সাজিয়ে ফলমূল মিষ্টান্নাদি খেতে দিতুম, পরে আবার অন্নব্যঞ্জনাদি নিবেদন করতুম। তাঁর ভোজন শেষ হলে পান, তামাক দিতুম। তামাক খাওয়া হতে তাঁকে শয়ন করিয়ে তাঁর পদসেবা ও ব্যজনাদি করতুম এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়লে আস্তে আস্তে দরজা বন্ধ করে নিজ ঘরে এসে বিশ্রাম করতুম। তিনি জীবন্ত ও প্রত্যক্ষ আছেন, এই বুদ্ধিতে তাঁর প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসার সঙ্গে এইসব অনুষ্ঠিত হতো। মন্ত্রতন্ত্র বিধিমতন কিছু কিছু থাকলেও তার উপর আমাদের তেমন ঝোঁক থাকত না, এবং পূজার কোন আড়ম্বরের লেশমাত্র ছিল না। তিন আমাদের প্রাণের ঠাকুর, তিনি চান প্রাণের ভালবাসা, আত্মনিবেদন। কিন্তু এখন যত দিন যাচ্ছে বাহ্যিক আড়ম্বরই তত বেড়ে যাচ্ছে এবং তার ফলে ভাবভক্তির গভীরতা ক্রমে কমে যাচ্ছে। স্বামীজীর পূজাও ছিল তেমনি। তিনি তো ঠাকুরঘরে গিয়ে প্রথমে আসনে বসেই অনেকক্ষণ ধরে ধ্যান লাগাতেন – খুব জোর ধ্যান। এক ঘণ্টা দেড় ঘণ্টা বেশ ধ্যান করে তবে পূজাদি আরম্ভ করতেন। ধ্যানের দ্বারাই সব হয়ে গেল। তারপর ঠাকুরকে স্নান করিয়ে, সমস্ত ফুলে চন্দন মাখিয়ে দু–হাতে নিয়ে বারবার তাঁর শ্রীচরণে অঞ্জলি দিতেন। সে এক দেখবার পূজা ছিল। তারপর সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করে উঠে আসতেন। ভোগাদি অন্য কেউ গিয়ে নিবেদন করে দিত। তাঁর পূজার মধ্যে ধ্যানই ছিল বেশি।
পরে কথাপ্রসঙ্গে বলিলেন – আমরা তো সন্ন্যাসী। ঠাকুরবাড়ি, পূজা ইত্যাদির দরকার আমাদের ততটা নেই। এসব বাহ্যিক অনুষ্ঠান না করলেও আমাদের চলতে পারে। কিন্তু এসবের প্রয়োজন বেশির ভাগ এইজন্য যে এখন দিনের পর দিন পৃথিবীর নানাস্থান থেকে সব শ্রেণীর স্ত্রী–পুরুষ, আবালবৃদ্ধবনিতা এ মহাকেন্দ্রে আকৃষ্ট হয়ে এসে এসব পূজাদি দেখে ও অনুষ্ঠান করে ধীরে ধীরে পবিত্র হবে ও শ্রীশ্রীঠাকুরের এই মহদুদার সমন্বয়ভাব গ্রহণ করে ধন্য হবে। সাধারণ অধিকারিড় জন্য এসব বাহ্য পূজাদির বিশেষ প্রয়োজন আছে। তাই তো শ্রীশ্রীমা–ই প্রথমে শ্রীশ্রীঠাকুরের পূজার প্রবর্তন করলেন। তারপর স্বামীজী প্রভৃতিও পূজাদি সব করে গিয়েছেন।
