🌺কৃপাং কুরু মহাদেবী…🌺
প্রায় আজ হতে তিরিশ বছর আগেকার ঘটনা । উত্তরপ্রদেশের কোনো আশ্রমে এক নবীন ব্রহ্মচারী আছেন । শীতের রাত । অন্ধকার চারিদিকে। ব্রহ্মচারীর ঘরের জানালা খোলা । শুয়ে আছেন বিছানায় । হঠাৎ দেখেন জানলার বাইরে একগুচ্ছ কুন্ডলীপাকানো ধোঁয়া ক্রমশ এগিয়ে আসছে জানলা দিয়ে , ধেয়ে আসছে এক ভয়ংকর নারীমূর্তি ।
ব্রহ্মচারী ভীত । পাশের টেবিলে রাখা ছিল শ্রীশ্রীমায়ের ছবি । ব্রহ্মচারী ‘ মাগো ‘ বলে টেবিল থেকে শ্রীশ্রীমায়ের ছবিটা বুকে নিয়ে রাখলেন― সঙ্গে সঙ্গে সংজ্ঞাহীন । তারপরে আর কিছু মনে নেই ।
সকাল হল―জানলা দিয়ে রোদ এল ঘরে , ঘুম ভাঙল তাঁর । কিন্তু গতরাতের ঘটনা প্রচন্ডভাবে নাড়া দিল তাঁকে । তবে তাঁর অনুভব হল―তিনি বেঁচে গেছেন শ্রীশ্রীমায়ের কৃপায় । এক অশরীরী প্রেতাত্মা বা অন্যকিছু হতে শ্রীশ্রীমাই রক্ষা করেছেন তাঁকে । শ্রীশ্রীমার কৃপা অনুভবে ব্রহ্মচারীর জীবন সার্থক ।
এই ঘটনার পরে সেই ব্রহ্মচারী পূর্বাশ্রমে গেছেন নিজ জননীকে দেখতে এবং জানতে পারেন যে , ব্রহ্মচারী হওয়া তাঁর বাড়ির লোকেদের মত ছিল না । তাঁর বাড়ির একজন তান্ত্রিকের সাহায্য নিয়েছিলেন ব্রহ্মচারীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে ।তান্ত্রিক মন্ত্রযোগের মাধ্যমে এক অশরীরী নারীমূর্তি সৃষ্টি করেছিলেন – তাঁর কাজ ছিল , কানপুরে গিয়ে ব্রহ্মচারীকে পাগল করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা । কানপুরে সেই অশরীরীও গিয়েছিল । কিন্তু শ্রীশ্রীমায়ের শক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল ।সেই অশরীরী তান্ত্রিকের কাছে ফিরে এসে বলেছিল যে ওই ব্রহ্মচারীকে রক্ষা করছেন এক মহাশক্তিধর দেবী ।তাঁর কাছে যাওয়া একেবারে অসম্ভব ।তাই আমি পরাজিত । তান্ত্রিকের কার্যকলাপ ও কানপুরে ঘটা ঘটনার তারিখ এক ―ব্রহ্মচারী মিলিয়ে দেখলেন ।
![]() |
| স্বামী বিমলাত্মানন্দ মহারাজ |
ঘটনার বিশ্লেষণে আমাদের যুগপৎ বিস্ময় —এই বর্তমান বৈজ্ঞানিক যুগে তন্ত্র মন্ত্রের শক্তি এখনও জীবন্ত ; শ্রীশ্রীমায়ের দৈবী প্রভাব – মহাশক্তিধর তিনি ।
যে সন্তান তাঁর আশ্রয়ে থাকেন বা তাঁর আশ্রয় নেন ,শ্রীশ্রীমা সর্বদা তাঁর সন্তানকে কৃপা করে রক্ষা করেন । শ্রীশ্রীমায়ের কৃপা এমনিধারায় আজ ও প্রবাহিত ।
” কৃপাং কুরু মহাদেবী সুতেষু প্রণতেষু চ ।
চরণাশ্রয়দানেন কৃপাময়ী নমোহস্তুতে ।। “
🌷জয় মা 🌷
স্বামী বিমলাত্মানন্দ মহারাজ

