সেবার মাদ্রাজ মঠে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের জন্মোৎসব করবেন শশী মহারাজ। অনেক কষ্টে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
তাঁর খুব ইচ্ছে হলো, এই উপলক্ষ্যে নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করবেন। কিন্ত শেষ পর্যন্ত নরনারায়ান সেবার জন্য অর্থের ব্যবস্থা কিছুতেই হলো না।
শশী মহারাজ একটা ভয়ঙ্কর যন্ত্রনা করতে থাকেন স্বীয় অন্তরে। ঠাকুরের জন্মতিথি তে নরনারায়ান সেবা হবে না? এই কি তবে শ্রীরামকৃষ্ণের ইচ্ছা?
সারারাত চোখে ঘুম নেই। খাঁচায় আটক সিংহের মতো। তিনি মঠের বারান্দায় দ্রুত পায়চারি করছেন। আর বারবার শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতিকৃতির দিকে তাকাচ্ছেন। আর ক্ষোভে দুঃখে অস্থির হয়ে উঠছেন। এমন সময় একজন সন্ন্যাসীর ঘুম ভেঙে গেছে। তিনি ওই অবস্থায় শশী মহারাজকে দেখে, বুঝলেন শ্রীরামকৃষ্ণের রামকৃষ্ণানন্দ ঠাকুরের কাছ জানাচ্ছেন নিজের ক্ষোভ দুঃখ ও বেদনার কথা। তিনি আর কাছে যেতে সাহস করলেন না।
পরদিন প্রভাতেই জনৈক দরদী অনুরাগী মঠে এসে হাজির। তাঁকে দেখে শশী মহারাজ একটু অবাকই হলেন। ইনি তো এইসময় কখনো আসেন না। তাই অনুরাগী ভদ্রোলককে প্রশ্ন করলেন: কি ব্যাপার এত সকালে?
ভদ্রলোক বললেন : আমি এবার শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথি উৎসব এবং নরোনারায়ান সেবার জন্য কিছু অর্থ দিতে চাই।
তিনি বললেন বটে কিছু অর্থ! আসলে দিলেন প্রচুর অর্থ। ফলে উৎসব খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়ে গেল।
শশী মহারাজ গিয়ে দাঁড়ালেন শ্রী রামকৃষ্ণের প্রতিকৃতির সামনে। তাঁর দুচোখেই অবিরাম অশ্রুধারা। ঠাকুরকে বললেন : তুমি ই তো তোমার সব কাজ করে দিচ্ছ। তাহলে আমরা করবো কি?