মন থেকে কামিনী-কাঞ্চন সব না গেলে অবতারকে চিনতে পারা কঠিন l

অবতার …………..

.ঈশ্বর সর্বস্থানে সর্বভুতে আছেন বটে, কিন্তু অবতার না হলে জীবের আকাঙ্ক্ষা পুরে না, প্রয়োজন মেটে না l তাই তিনি মানুষ দেহ ধারণ করে ধরায় অবতীর্ণ হন l ঈশ্বরলীলা, দেবলীলা, জগৎলীলা, নরলীলা l নরলীলায় অবতার l যাঁরই নিত্য তাঁরই লীলা l তিনি ভক্তের ভালবাসার জন্য চৌদ্দপোয়া হয়ে লীলা করতে আসেন l তাঁকে নর রূপে দেখতে পেলে তবে তো ভক্তেরা ভাই-ভগ্নী, বাপ-মা, সন্তানের মতো স্নেহ করতে পারবে l প্রেম, ভক্তি শেখাবার জন্য ঈশ্বর মানুষ দেহ ধারণ করে সময়ে সময়ে অবতীর্ণ হন l

অবতারকে দেখা যা, ইশ্বরকে দেখাও তাই l যদি গঙ্গার কাছে গিয়ে গঙ্গাজল স্পর্শ করে কেউ  বলে—গঙ্গা দর্শন স্পর্শন করে এলাম , তা হলেই হলো l সব গঙ্গাটা হরিদ্বার থেকে গঙ্গা সাগর পর্যন্ত ছুঁতে হয় না l

মন থেকে কামিনী-কাঞ্চন সব না গেলে অবতারকে চিনতে পারা কঠিন l
রাম পূর্ণব্রহ্ম পূর্ণ অবতার — একথা বারজন ঋষি কেবল জানত l  অন্য ঋষিরা বলেছিলেন —-হে রাম, আমরা তোমাকে দশরথের ব্যাটা বলেই জানি l
অবতারে তিনি বেশি প্রকাশ l অবতারের শরীর থাকতে তাঁর পূজা সেবা করতে হয় l
‘সে যে কোঠার ভিতর চোর কুঠুরী            ভোর হলে সে লুকাবে রে l’ ……………………….
অবতারকে সকলে চিনতে পারে না l দেহ ধারণ করলে রোগ, শোক, ক্ষুধা, তৃষ্ণা সবই আছে, মনে হয়, আমাদেরই মতো l রাম সীতার শোকে কেঁদে ছিলেন —-
‘পঞ্চভূতের ফাঁদে, ব্রহ্ম পড়ে কাঁদে l’
বড় বড় বাহাদুরী  কাঠ যখন ভেসে আসে, তখন কত লোক তার ওপরে চড়ে চলে যায় l তাতে সে ডোবে না l সামান্য  একখানা কাঠ একটা কাক বসলে অমনি ডুবে যায় l তেমনি যখন অবতারাদি আসেন কত শত লোক তাঁকে আশ্রয় করে তরে যায় l 

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started