Character II চরিত্র বলতে আমরা কি বুঝি। সাধারণভাবে আমরা চরিত্র বলতে ব্যক্তিগত কতকগুলি আচরণ ও সে বিষয়ে সংযমকে বুঝি

চরিত্র গঠন
শ্রীনবনীহরণ মুখোপাধ্যায়
  স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন আজ ভারতবর্ষের যা দরকার, তা হচ্ছে  চরিত্র। কথাটা আজ আরও বেশী করে সত্য। আরও বেশী করে এ কথাটা আজ আমাদের স্মরণ রাখা দরকার ও যাতে চরিত্র গঠিত হয় তার জন্য চেষ্টা করা দরকার ।
    প্রথম কথা উঠবে, তা হলে কি আমাদের চরিত্র নেই ? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে প্রথমে জানতে হবে চরিত্র কি ? চরিত্র কি জানলেআমরা নিজেরাই সলজ্জভাবে বলব আমাদের চরিত্রের বিশেষ অভাব আছে। এবং আমরা যদি দেশের ভবিষ্যৎ বিষয়ে আগ্রহী হই ও যদি চাই, ভারতবর্ষকে ভাল ও বড় করে গড়তে হবে, দেশের অগণিত দরিদ্র, অশিক্ষিত, আবাসহীন, ভবিষ্যৎহীন মানুষকে সুখী করতে হবে, তবে আমাদের চরিত্র গঠনের দিকে সবচেয়ে বেশী জোর দিতে হবে।
  প্রথমে দেখা যাক, চরিত্র বলতে আমরা কি বুঝি। সাধারণভাবে আমরা চরিত্র বলতে ব্যক্তিগত কতকগুলি আচরণ ও সে বিষয়ে সংযমকে বুঝি। অবশ্যই এই অর্থে সকল ব্যক্তিরই চরিত্র সুন্দর হওয়া কাম্য ও যাতে সে চরিত্র গঠিত হয় সে বিষয়ে আশৈশব প্ৰযত্ন প্রয়োজন।
   কিন্তু চরিত্রের আরও এক ব্যাপক অর্থ আছে এবং সেই অর্থে চরিত্র শুধু ব্যক্তিগত সীমার মধ্যে থাকে না, তা সারা সমাজ বা জাতির চরিত্র নির্ধারণ করে। যখন আমরা বলি তখন এই ব্যাপকতর অর্থেই চরিত্র কথাটা প্রযুক্ত হয়। স্বামীজীও ভারতবর্ষের জন্য এই ব্যাপকতর অর্থেই চরিত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন–যার মধ্যে ঐ ব্যক্তিগত আচরণ ভিত্তিক চরিত্র অন্তর্ভুক্ত। আজ দেশের ভবিষ্যতের জন্যে যুবকদের এই ব্যাপক ও সার্বিক চরিত্র গঠনের সংগ্রামে নামতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যুগ-যুগান্তর সংগ্রামের ফলে একটি চরিত্র গঠিত হয়। সেই আন্তর সংগ্রামের দায় যুব সম্প্রদায়কে গ্রহণ করতে হবে, যারা নতুন মহত্তর ভারতবর্ষ গড়ার স্বপ্ন দেখে। 

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started