এক মহিলা ছোটবেলা থেকেই বৃন্দাবন ধামে যেতেন।
তিনি বড় হলেন তথাপি বৃন্দাবনে যাওয়া বন্ধ করলেন না। তার বিয়ে হলো তবুও বৃন্দাবন ধামে যাওয়া তিনি বন্ধ করলেন না। উনার ছেলে মেয়ে হলো তাদের বিয়ে দিলেন, উনার নাতি পুতি হলো তাও তিনি বৃন্দাবনে যাওয়া বন্ধ করলেন না।
তিনি বৃদ্ধা হয়ে গেলেন,
তিনি দেখলেন এখন তো আর আমি বৃন্দাবন ধাম যেতে পারবো না,তাই তিনি শেষ বারের মতো বৃন্দাবন গেলেন আর সেখান থেকে একটি গোপালের পিতলের বিগ্রহ নিয়ে এলেন।
ওই মূর্তি টিকে তিনি নিজের সন্তানের থেকেও বেশি ভালোবাসতে লাগলেন। মূর্তিটিকে সোনা সোনা বলে আদর করতে থাকলেন। তিনি এমনি বৃদ্ধা হলেন যে সে আর চলতে পারছেন না।একবছর জম্মাষ্টমী তিথি এলো, বৃদ্ধা মহিলাটি তার বৌমাকে ডেকে বললেন, বৌমা আজ জম্মষ্টমি,তুমি আমার সোনা গোপালকে স্নান করিয়ে একটু সাজিয়ে পালঙ্কের উপরে বসিয়ে দাও।
তার বৌমা কম্পিউটারে কিছু কাজ করছিলেন, তিনি বললেন মা আমি একটা গুরুত্বপূর্ন কাজে ব্যস্ত আছি , একটু পর দিচ্ছি। বুড়ি মা বললেন, তোমার কাজটি না হয় একটু পরে করো,আগে এসে আমার গোপালকে স্নান করিয়ে, সাজিয়ে পালঙ্কের উপরে বসিয়ে দাও।
বৌমা ফট করে ওঠে এসে মূর্তি টাকে উঠাতে গেলেন,আর হাত থেকে মাটিতে পরে গেলো। বৃদ্ধা মা যেন “মা” বলে ডেকে ওঠা একটি আওয়াজ পেলেন। আর বললেন বৌমা এ তুমি কি করলে,আমার সোনাকে মাটিতে ফেলে দিলে! দেখো কতো ব্যথা পেয়েছে আমার সোনা।
ব্ররদ্বা মার চেচামেচি শুনে উনার ছেলে ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে বললেন,কি হয়েছে মা? মা বললেন, বৌমা আমার সোনা কে মাটিতে ফেলে দিয়েছে ওর খুব লেগেছে,তুই তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডেকে নিয়ে আয় বাবা।ছেলে বললেন মা ওটাতো পিতলেন মূর্তি, ওতে কি করে আঘাত লাগতে পারে।
মা বললেন, না ওর খুব লেগেছে তুই তাড়াতাড়ি গিয়ে ডাক্তার ডেকে নিয়ে আয়। ওদের চেচামেচি শুনে পাড়া–প্রতিবেশী তাদের বাড়িতে জড়ো হয়ে গেলো,আর বললো কি হয়েছে এতো চেচামেচি করছেন কেনো?
ছেলেটি বললেন, দেখুন না আমার মা পাগল হয়ে গেছে। পিতলের মূর্তি হাত থেকে মাটিতে পরে গেছে তাই বলছে ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসো আমার সোনার খুব লেগেছে,এ বলে চেচামেচি শুরু করেছে। তখন প্রতিবেশীদের মধ্যে থেকে একজন বলছেন, বুড়ি মা যখন কোনো কথা শুনছেন না তখন একটি ডাক্তার এনে দেখিয়ে নিলেই তো ঝামেলা মিটে যায়।
ওই কথা শুনে ছেলেটি ডাক্তার আনতে যান। কোনো ডাক্তার‘ই এই কথা শুনে আসতে রাজি হয় না। একজন ডাক্তারকে অনেক অনুনয়বিনয় করে রাজি করালেন যে, আপনি শুধু গিয়ে বলবেন আপনার সোনা ঠিক আছে ,খুব ভালো আছে।ছেলেটির কথামতো ডাক্তার এসে মূর্তি টিকে হাতে নিয়ে বললেন, বুড়িমা আপনার সোনা খুব ভালো আছে।
তখন বুড়ি মা বললেন ওরে ডাক্তার কিভাবে চেকআপ করলে,তোমার ওই কানে লাগিয়ে আর বুকে ঠেকিয়ে যে চেকাপ করো সেইভাবে করো দেখো। ডাক্তার তার সে যন্ত্রটি বের করে মূর্তির বুকে লাগিয়ে দেখলেন আর চমকে উঠলেন,পর পর পাঁচ ছয়বার যন্ত্রটি লাগালেন,তিনি একই শব্দ শুনতে পেলেন সেই আওয়াজ ধব ধব করছে। ডাক্তার সব কিছু ফেলে রেখে চলে যেতে লাগলেন। বুড়িমা ডেকে বলতে লাগলেন কোথায় যাচ্ছো ডাক্তার? তোমার সুটকেশ তো নিয়ে যাও।ডাক্তার বাবু বললেন, আপনি যেখান থেকে এই পিতলের মূর্তিটি এনেছেন আমি সেখানে যাচ্ছি। আমার এত দিনের ডাক্তারি সায়েন্স নিয়ে পড়া সব আজ ব্যর্থ হয়ে গেলো। তাই আজ থেকে আমি সেই প্রান গোবিন্দের চরনটি খুজতে চললাম।
যাওয়ার সময় ডাক্তার বুড়িমার ছেলেটিকে বললেন, দাদা আপনার মা পাগল নয় পাগল আমরা,এই দুনিয়া পাগল,যেখানে সত্যের বিশ্বাস নেই।আজ থেকে আমি এই পাগলা গারোদ থেকে মুক্তি হতে চাই, তাই হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ বলে আমি চললাম বৃন্দাবন ধাম!।।
হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণকৃষ্ণ হরেহরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
⚘*