শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ – প্রকৃতিং পরমাং (স্বামী অব্জজানন্দ)।। অরবিন্দ-পত্নী মৃণালিনীকে মা মানসিক শান্তির জন্য ‘সব সময় ঠাকুরের বই’ পড়তে বলে দিয়েছিলেন।

জানা যায়, আলিপুরের বোমার মামলায় জড়িত শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ যখন তাঁর অনুগামীদের সহ বন্দী হয়েছিলেন – রাষ্ট্রদোহিতা ও সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোতে নেতৃত্ব প্রদানের অভিযোগে (১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দের ২ মে), তখন তাঁর সহধর্মিণী শ্রীমতী মৃণালিনী ঘোষ শোকে ও ত্রাসে একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছিলেন, এমনকি সিদ্ধান্ত করে ফেলেছিলেন, এই রকম পতিহীনা অবস্থায় বেঁচে থাকা অপেক্ষা মরণই ভাল। 
কেননা তিনি সুনিশ্চিত ছিলেন যে, তাঁর অভিযুক্ত স্বামীর মৃত্যুদণ্ড অবধারিত। অরবিন্দের ঘনিষ্ঠ সতীর্থ শ্রীদেবব্রত বসু – উত্তরকালে যিনি রূপান্তরিত শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবস্নাত মনীষী সন্ন্যাসী স্বামী প্রজ্ঞানন্দে – তাঁরই সুযোগ্যা ভগিনী, শ্রীশ্রীমায়ের চরণাশ্রিতা সুধীরা দেবী, পতি-শোক-বিধুরা মৃণালিনীকে সঙ্গে করে বাগবাজারে মায়েরই চরণপ্রাণে নিয়ে গিয়েছিলেন। 
সুধীরা দিদি মাকে আর্তি নিবেদন করেছিলেন, ব্যথাচঞ্চলা মৃণালিনীর জন্য। সমস্ত ঘটনা মা অতিশয় সহানুভূতির সঙ্গে শুনেছিলেন এবং পরিশেষে মৃণালিনীকে অশেষ কৃপাসিক্ত মিষ্টি কথায় আশ্বাস প্রদান করেছিলেন। বলেছিলেনঃ “চঞ্চল হয়ো না মা, চাঞ্চল্যে কিছুই লাভ নেই।
তোমার স্বামী শ্রীভগবানের পূর্ণ আশ্রিত, – ঠাকুরের আশীর্বাদে তিনি অতি সত্বর নিষ্পাপ প্রমাণে মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন”। 
অরবিন্দ-পত্নী মৃণালিনীকে মা মানসিক শান্তির জন্য ‘সব সময় ঠাকুরের বই’ পড়তে বলে দিয়েছিলেন। 
তদনুসরণে মৃণালিনীও প্রতিদিন মধ্যাহ্নে কথামৃত পাঠ করতেন। – প্রকৃতিং পরমাং (স্বামী অব্জজানন্দ)।।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started