তাই ১৯০২ সালের ১৮ই জুলাই নিবেদিতা তদানীন্তন মঠের অধ্যক্ষ
” অতঃপর সিস্টার নিবেদিতার কোন কাজই মঠের সম্মতির অপেক্ষায় থাকবে না । তাঁর কাজ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বলে গন্য হবে । “
এসবের পরেও কিন্তু নিবেদিতার সঙ্গে সঙ্ঘের অন্তরের যোগ ছিল আর গুরুভাইয়েরা তাঁকে কখনও অনাত্মীয় মনে করেন নি ।
স্বামী ব্রম্মানন্দকে নিজের বর্তমান কাজের পন্থা সম্পর্কে এক পত্র লিখলেন ; নিজেও স্বয়ং বেলুড় মঠে গিয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনাও করে এলেন । অবশেষে , সন্ন্যাসী- সঙ্ঘ প্রকাশ্যে নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দিলেন –
কারণ নিবেদিতা বুঝেছিলেন শ্রীঅরবিন্দের মতো খাঁটি ভারতীয়ের সন্ধান তিনি পেয়েছেন । কলকাতায় পৌঁছে , আবার তিনি মাদ্রাজ কংগ্রেসে যোগদানের জন্য দক্ষিণ ভারতে রওনা হন । সেখানের সমস্ত প্রাচীন তীর্থস্থান পরিদর্শন করে , সর্বত্রই ভারতের উজ্জল ভবিষ্যৎ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের বানী প্রচার করলেন।
১৯০৪ সালের অক্টোবর মাসের বুদ্ধগয়া ভ্রমণ, নিবেদিতার জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা ।
- সিস্টার ক্রিস্টিন ,
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ,
- বসু -দম্পতি ,
- স্বামী সদানন্দ ,
- স্বামী শঙ্করানন্দ মহারাজ ,
- স্টেটসম্যান পত্রিকার র্যাটক্লিফ ,
- অধ্যাপক যদুনাথ সরকার
প্রভৃতি বিশিষ্ট মনীষীগন ছিলেন নিবেদিতার সঙ্গী।
এই সময়ে সাঁচীর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভারতীয় ভাস্কর্য -শিল্পের অপূর্ব বিকাশ দেখে তিনি মুগ্ধ হন । বুদ্ধগয়ায় আসার পরে প্রাচীন ভারতের কীর্তি নিবেদিতার মনে জাগ্রত হয়ে তাঁকে ভাব -বিহ্বল করে তুলল ; স্বামীজির সঙ্গে আসা সেই পুণ্যস্মৃতি তাঁর মনে গভীরভাবে ছায়াপাত করল , নিজের প্রিয় গুরুদেবকে যেন আবার অনুভব করতে পারলেন ।
নিবেদিতা তাঁর ” Footfalls of Indian History ” বইটিতে আবেগের সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মহাপ্রভু বুদ্ধের মায়াময় রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন –
কেমন করে খঞ্জ একটি ছাগলের শিশুকে কাঁধে নিয়ে অনুকম্পাভরা প্রাণে প্রেমের অবতার বুদ্ধদেব রাজপ্রাসাদে আসলেন । তিনি আরও লিখেছেন –
” এখনও যেন রাজগৃহের প্রতি গুহায় বুদ্ধদেবের কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যায় । ”
- রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে –
- ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্ত ,
- শ্রী যদুনাথ সরকার ,
- বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র ও
- প্রফুল্লচন্দ্র ,
- শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং
- নন্দলাল বসু ,
- অসিত হালদার ,
- সাংবাদিক শিশিরকুমার ঘোষ ,
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ,
- সাহিত্যিক দীনেশচন্দ্র সেন
প্রভৃতি প্রগতিবাদী চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ এই বিদুষী , তেজস্বিনী মহিলার সংস্পর্শে এসে অফুরন্ত প্রেরণা সংগ্রহ করেছেন ।
