স্বামীজির অবর্তমানে , গুরুদেবের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের কাজ করতে গিয়ে , ভগিনী নিবেদিতাকে ক্রমশই বিপ্লবাত্মক রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছিল ।

স্বামীজির অবর্তমানে , গুরুদেবের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের কাজ করতে গিয়ে , ভগিনী নিবেদিতাকে  ক্রমশই বিপ্লবাত্মক রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছিল । স্বামীজি নিজের প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশনকে রাজনীতির থেকে দূরে রাখতে বার বার সতর্ক করে দিয়েছিলেন । অধ্যাত্মবিদ্যার অনুশীলন ও প্রচার এবং নারায়ন জ্ঞানে জীবের সেবা করাই – সন্ন্যাসী সঙ্ঘের মূলমন্ত্র ।
তাই ১৯০২ সালের ১৮ই জুলাই নিবেদিতা তদানীন্তন মঠের অধ্যক্ষ
”   অতঃপর সিস্টার নিবেদিতার কোন কাজই মঠের সম্মতির অপেক্ষায় থাকবে না । তাঁর কাজ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বলে গন্য  হবে । “
         এসবের পরেও কিন্তু নিবেদিতার সঙ্গে সঙ্ঘের  অন্তরের যোগ ছিল আর গুরুভাইয়েরা তাঁকে কখনও অনাত্মীয় মনে করেন নি । 
Swami Vivekananda
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Swami Vivekananda

স্বামী ব্রম্মানন্দকে নিজের বর্তমান কাজের পন্থা সম্পর্কে  এক পত্র লিখলেন ; নিজেও স্বয়ং বেলুড়  মঠে গিয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনাও করে এলেন । অবশেষে , সন্ন্যাসী- সঙ্ঘ প্রকাশ্যে  নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দিলেন –

            ভগিনী নিবেদিতা এইসময়ে বেশ নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন । স্কুলের আর্থিক হিসাব নিকাস প্রায় মিটিয়ে ফেলেছিলেন । নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে শ্রীমাতা ঠাকুরানীর জন্য একখানি বাড়ি কেনার অভিপ্রায়ে চারশো পাউন্ড মঠের হাতে তুলে দিলেন । আর অবশিষ্ট অর্থ বাগবাজারের নিজের বাসভবনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং  ভারতভ্রমনের উদ্দেশ্যে জমা রাখলেন ।
      প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে স্বামী সদানন্দের সঙ্গে পরিভ্রমণ করে অনেক দেশসেবকের সঙ্গে পরিচিত হলেন । বরোদায় পৌঁছানো মাত্রই রাজ কলেজের তদানীন্তন অধ্যাপক শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ নিবেদিতাকে সংবর্ধনা জানিয়ে ষ্টেশন থেকে রাজ অতিথিশালায় নিয়ে গেলেন । সেখানে যে কদিন ছিলেন , শ্রীঅরবিন্দ এবং স্বদেশ-প্রেমিক রমেশচন্দ্র দত্তের সঙ্গে মেশার আর ভারতের নানা জটিল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন । তিনি ফেরার সময়ে শ্রীঅরবিন্দকে জানিয়ে দিয়েছিলেন – বাংলাই তাঁর উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র , বাংলার যুব- সম্প্রদায় অরবিন্দের মতো একজন প্রতিভাশালী , শক্তিধর পুরুষের জন্য অপেক্ষা করছে।
কারণ নিবেদিতা বুঝেছিলেন শ্রীঅরবিন্দের মতো খাঁটি ভারতীয়ের সন্ধান তিনি পেয়েছেন । কলকাতায় পৌঁছে , আবার তিনি মাদ্রাজ কংগ্রেসে যোগদানের জন্য দক্ষিণ ভারতে রওনা হন । সেখানের সমস্ত প্রাচীন তীর্থস্থান পরিদর্শন করে , সর্বত্রই ভারতের উজ্জল ভবিষ্যৎ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের বানী প্রচার করলেন।

 ১৯০৪ সালের অক্টোবর মাসের বুদ্ধগয়া ভ্রমণ, নিবেদিতার জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা । 

  1. সিস্টার ক্রিস্টিন , 
  2. বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ , 
  3. বসু -দম্পতি , 
  4. স্বামী সদানন্দ , 
  5. স্বামী শঙ্করানন্দ  মহারাজ , 
  6. স্টেটসম্যান পত্রিকার র‍্যাটক্লিফ , 
  7. অধ্যাপক যদুনাথ সরকার

 প্রভৃতি বিশিষ্ট মনীষীগন ছিলেন নিবেদিতার সঙ্গী।
        এই সময়ে সাঁচীর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভারতীয় ভাস্কর্য -শিল্পের অপূর্ব বিকাশ দেখে তিনি মুগ্ধ হন । বুদ্ধগয়ায় আসার পরে প্রাচীন ভারতের কীর্তি নিবেদিতার মনে জাগ্রত হয়ে তাঁকে ভাব -বিহ্বল করে তুলল ; স্বামীজির সঙ্গে আসা সেই পুণ্যস্মৃতি তাঁর মনে গভীরভাবে ছায়াপাত করল , নিজের প্রিয় গুরুদেবকে যেন আবার অনুভব করতে পারলেন ।
    
        নিবেদিতা তাঁর ” Footfalls of Indian History ”  বইটিতে আবেগের সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মহাপ্রভু বুদ্ধের মায়াময় রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন –
  কেমন করে খঞ্জ একটি ছাগলের শিশুকে কাঁধে নিয়ে অনুকম্পাভরা প্রাণে প্রেমের অবতার বুদ্ধদেব রাজপ্রাসাদে আসলেন । তিনি আরও লিখেছেন –
” এখনও যেন রাজগৃহের প্রতি গুহায় বুদ্ধদেবের  কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যায় । ”

       ক্রমশ – ভগিনী নিবেদিতার গৃহপ্রাঙ্গণ ভারতের বিপ্লবী , বিখ্যাত মনীষীদের পুণ্যতীর্থে পরিণত হল । 

  1. রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে –  
  2. ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র  দত্ত , 
  3. শ্রী যদুনাথ সরকার ,
  4.  বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র ও 
  5. প্রফুল্লচন্দ্র , 
  6. শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং 
  7. নন্দলাল বসু , 
  8. অসিত হালদার , 
  9. সাংবাদিক শিশিরকুমার ঘোষ , 
  10. রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় , 
  11. সাহিত্যিক দীনেশচন্দ্র সেন  

প্রভৃতি প্রগতিবাদী চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ এই বিদুষী , তেজস্বিনী মহিলার সংস্পর্শে এসে অফুরন্ত প্রেরণা সংগ্রহ করেছেন ।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started