![]() |
| swami prabhanandaji, |
স্বামী প্রভানন্দ মহারাজজীর রচনা ‘No one is a stranger’ প্রবন্ধের ‘A Timeless Conversation’ থেকে একটা অংশের উদ্ধৃতি দিচ্ছি। সেখানে শ্রীশ্রীমা সবাইকে ‘সমদরশন’ করার পদ্ধতি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
একবার শ্রীশ্রীমা কোলকাতা থেকে জয়রামবাটী যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি মেয়ে তার মায়ের সাথে এলো শ্রীশ্রীমায়ের সাথে দেখা করতে। শ্রীশ্রীমা মেয়েটিকে প্রাণভরা আশীর্বাদ করলেন এবং কিছু মিষ্টি হাতে দিলেন। শ্রীশ্রীমা জানতে চাইলেন কেন সে এতো দেরী করে এলো। শ্রীশ্রীমা আরও জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি আমাকে ভালোবাস না?’
‘হ্যাঁ মা আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি’। ‘কতটুকু ভালোবাস?’ মেয়েটি তার দুহাত বিস্তৃত করে বললো –‘এতোটুকু’।
শ্রীশ্রীমা আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি যখন কোলকাতা থেকে দূরে জয়রামবাটীতে থাকবো, তখনও কি তুমি আমাকে এইরূপ ভালোবাসবে?’
‘হ্যাঁ মা, আমি এই রকমই ভালোবাসবো’। ‘আমি কেমন করে তা জানবো?’ ‘মা, আপনিই বলুন কি করলে আপনি জানতে পারবেন’। ‘ যখন তুমি বাড়ীর সবাইকে ভালোবাসবে, তখনই আমি বুঝতে পারবো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো’। ‘নিশ্চয়ই আমি বাড়ীর সবাইকে খুব ভালোবাসবো’।
‘সে তো খুবই ভালো। কিন্তু আমি কিভাবে জানবো যে তুমি সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসছো, কাউকে বেশী বা কাউকে কম নয়’। ‘মা, আপনিই বলুন আমি কিভাবে সবাইকে সমান ভালোবাসবো’।
শ্রীশ্রীমা বললেন –‘আমি বলছি কিভাবে সবাইকে সমান ভালোবাসবে।– শুনো। যাদের তুমি ভালোবাসবে, তাদের কাছ থেকে কিছুই চাইবে না। যদি তুমি কিছু চাও, তবে কেউ তোমাকে বেশী দেবে, কেউ দেবে কম – আবার কেউ কিছুই দেবে না। স্বাভাবিক ভাবেই তোমার ভালোবাসাও বেশী-কম হবে এবং কোথাও ভালোবাসা থাকবেই না। অর্থাৎ তুমি সবাইকে সমান ভাবে ভালোবাসতে পারবে না,।
মেয়েটি প্রতিজ্ঞা করলো যে সে কোন প্রতিদান না চেয়ে সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসবে। শ্রীশ্রীমা পরে খবর পেয়েছিলেন যে তারপর থেকে মেয়েটির ব্যবহারে এক দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন এসেছিল।
শ্রীশ্রীমা এখানে মেয়েটিকে কোন কঠিন সাধনার কথা বলেন নি। শ্রীশ্রীমায়ের শেষ উপদেশের ব্যবহারিক প্রয়োগ করার সহজ উপায় কিভাবে বের করতে হবে তা এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে মেয়েটিকে অর্থাৎ আমাদের সবাইকে বলে দিলেন।
তাই আমার অনুধাবন এই যে – শ্রীশ্রীমায়ের জীবনী এবং উপদেশের পাহাড়-প্রমাণ গ্রন্থপাঠ এবং আলোচনায় নিমগ্ন না থেকে একটি বা দুটি উপদেশের সারমর্ম অনুধাবন করে বাস্তবে প্রয়োগ করতে চেষ্টা করাই তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানর প্রকৃষ্ট উপায়।
একবার শ্রীশ্রীমা কোলকাতা থেকে জয়রামবাটী যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি মেয়ে তার মায়ের সাথে এলো শ্রীশ্রীমায়ের সাথে দেখা করতে। শ্রীশ্রীমা মেয়েটিকে প্রাণভরা আশীর্বাদ করলেন এবং কিছু মিষ্টি হাতে দিলেন। শ্রীশ্রীমা জানতে চাইলেন কেন সে এতো দেরী করে এলো। শ্রীশ্রীমা আরও জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি আমাকে ভালোবাস না?’
‘হ্যাঁ মা আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি’। ‘কতটুকু ভালোবাস?’ মেয়েটি তার দুহাত বিস্তৃত করে বললো –‘এতোটুকু’।
শ্রীশ্রীমা আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি যখন কোলকাতা থেকে দূরে জয়রামবাটীতে থাকবো, তখনও কি তুমি আমাকে এইরূপ ভালোবাসবে?’
‘হ্যাঁ মা, আমি এই রকমই ভালোবাসবো’। ‘আমি কেমন করে তা জানবো?’ ‘মা, আপনিই বলুন কি করলে আপনি জানতে পারবেন’। ‘ যখন তুমি বাড়ীর সবাইকে ভালোবাসবে, তখনই আমি বুঝতে পারবো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো’। ‘নিশ্চয়ই আমি বাড়ীর সবাইকে খুব ভালোবাসবো’।
‘সে তো খুবই ভালো। কিন্তু আমি কিভাবে জানবো যে তুমি সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসছো, কাউকে বেশী বা কাউকে কম নয়’। ‘মা, আপনিই বলুন আমি কিভাবে সবাইকে সমান ভালোবাসবো’।
শ্রীশ্রীমা বললেন –‘আমি বলছি কিভাবে সবাইকে সমান ভালোবাসবে।– শুনো। যাদের তুমি ভালোবাসবে, তাদের কাছ থেকে কিছুই চাইবে না। যদি তুমি কিছু চাও, তবে কেউ তোমাকে বেশী দেবে, কেউ দেবে কম – আবার কেউ কিছুই দেবে না। স্বাভাবিক ভাবেই তোমার ভালোবাসাও বেশী-কম হবে এবং কোথাও ভালোবাসা থাকবেই না। অর্থাৎ তুমি সবাইকে সমান ভাবে ভালোবাসতে পারবে না,।
মেয়েটি প্রতিজ্ঞা করলো যে সে কোন প্রতিদান না চেয়ে সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসবে। শ্রীশ্রীমা পরে খবর পেয়েছিলেন যে তারপর থেকে মেয়েটির ব্যবহারে এক দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন এসেছিল।
শ্রীশ্রীমা এখানে মেয়েটিকে কোন কঠিন সাধনার কথা বলেন নি। শ্রীশ্রীমায়ের শেষ উপদেশের ব্যবহারিক প্রয়োগ করার সহজ উপায় কিভাবে বের করতে হবে তা এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে মেয়েটিকে অর্থাৎ আমাদের সবাইকে বলে দিলেন।
তাই আমার অনুধাবন এই যে – শ্রীশ্রীমায়ের জীবনী এবং উপদেশের পাহাড়-প্রমাণ গ্রন্থপাঠ এবং আলোচনায় নিমগ্ন না থেকে একটি বা দুটি উপদেশের সারমর্ম অনুধাবন করে বাস্তবে প্রয়োগ করতে চেষ্টা করাই তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানর প্রকৃষ্ট উপায়।
