![]() |
| Mahasamadhi of Sri Sri Ramakrishna |
শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাসমাধি হয় ৩১ শে শ্রাবণ,১২৯৩ সাল৷(ইংরেজী ১৬ই আগস্ট,১৮৮৬ খ্রীস্টাব্দে, রাত্রি ১টা ৬মিনিটে)
তিনি গত কয়েকদিন ধরে আমাদের বলছিলেন,সমুদ্রে যে জাহাজটি ভাসছিল তার তিন ভাগের দু-ভাগ জলে ভরে গেছে এবং শিগগিরই বাকি অংশটুকু জলে ভরে যাবে ওজাহাজটি জলে তলিয়ে যাবে৷কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি তিনি সত্যিসত্যিই চলে যাচ্ছেন৷ কখনোই মনে হোত না তিনি যন্ত্রনায় কাতর হয়েছেন৷ তিনি সর্বদা প্রফুল্ল থাকতেন৷ বলতেন ভালো আছেন ও সুখে আছেন, কেবল এইখানে(গলা দেখিয়ে) কি যেন একটি আছে৷
তিনি বলতেন, ” এর মধ্যে দুজন আছে, একজন জগন্মাতা, আর একজন তাঁর ভক্ত৷ ভক্তেরই অসুখ করেছে৷”
যখন ঠাকুর দেহরক্ষা করলেন, আমার মনে হয় সেইটেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত৷
তাঁর মধ্যে দিয়ে যেন একটা আনন্দের শিহরণ বয়ে গেল৷
আমরা সবাই ভেবেছিলাম তিনি সমাধিস্থ হয়েছেন,আমরা প্রায় কুড়িজন একসঙ্গে “হরি ওম্, হরি ওম্” বলে মন্ত্র উচ্চারণ করতে লাগলাম৷এইভাবে আমরা পরের দিন একটা-দুটো পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম৷কিন্তু ডাক্তার জোর দিয়ে বললেন যে তিনি দেহ রক্ষা করেছেন৷
বেলা পাঁচ টার সময় কাশীপুর থেকে শ্রীশ্রীঠাকুরের দিব্যদেহ সংকীর্তন করতে করতে বিপুল জনস্রোতের মধ্যে দিয়ে যেতে লাগল৷ খোল করতাল ও কীর্তনের শব্দে চতুর্দিক মাতোয়ারা হোল৷ত্রিশূল,ওঁকার, খোন্তা,ক্রুশ. ক্রেসেন্ট প্রভৃতি বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক (symbols)নিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে শ্রীশ্রীঠাকুরের পুণ্যদেহ কাশীপুর শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হোল৷
খোল, করতাল ও কীর্তনের মধুর ধ্বনিতে শ্মশানঘাট প্রতিধ্বনিত হতে লাগল৷ সে এক অবর্ণনীয় দৃশ্য! শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের সন্তান ও ভক্তগণ শেষবারের মতো শ্রীশ্রীঠাকুরের দিব্যশরীর নিরীক্ষণ করে শ্রদ্ধাচিত্তে প্রণাম ও স্তব পাঠ করতে লাগল৷
স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ
