ভক্তশ্রেষ্ঠ সাধু নাগমহাশয়ের পূণ্য জন্মতিথির শ্রদ্ধার্ঘ্য………………

ভক্তশ্রেষ্ঠ সাধু নাগমহাশয়ের পূণ্য জন্মতিথির শ্রদ্ধার্ঘ্য………………

শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্ত শ্রীযুক্ত সুরেশচন্দ্র দত্তের সাথে নাগ মহাশয়ের পরিচয় হলে দুবন্ধু মিলে দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের সাথে দেখা করতে যান। সেখানে প্রতাপচন্দ্র হাজরা জানান ঠাকুর চন্দননগর গিয়েছেন। হতাশা আর অবসন্নমনে বিদায় নিবেন এমন সময় নাগমহাশয় দেখেন, ভেতরে উত্তরাস্য এক ব্যক্তি একটি ছোট তক্তপোশের উপর পা ছড়িয়ে বসে স্মিতমুখে তাঁদের ইঙ্গিতে ভিতরে ডাকছেন।ভিতরে গিয়ে তারা মেজেতে পাতা মাদুরে বসে সুরেেশবাবু করজোড়ে প্রনাম করলেন আর নাগমহাশয় ভূমিষ্ঠ প্রনামান্তে পদধূলি নিতে গেলে ঠাকুর চরণ স্পর্শ করতে দিলেন না, কথাবার্তায় নাগ মহাশয় বুঝলেন ইনিই দক্ষিণশ্বরের মহাপুরুষ। ঠাকুর তাঁদের পরিচয় জানলেন এবং সংসারে পাঁকাল মাছের ন্যায় নিলির্প্ত হয়ে থাকতে উপদেশ দিলেন। তারপর পঞ্চবটীতে ধ্যান করতে পাঠালেন। ঈশ্বরলাভ – লালসায় উন্মাদপ্রায় নাগমহাশয় একসপ্তাহ পরে আবার ঠাকুরের কাছে গেলে আত্মীয় মিলনের মত উৎফুল্ল কন্ঠে বললেন এসেছো বেশ  করেছো,আমি তোমাদের জন্য এখানে বসে আছি।তারপর নাগ মহাশয়কে বলেন,-“ভয় কি তোমার ত উচ্চ অবস্থা। “নাগ মহাশয়ের মনের সেবার আাকাঙ্খা  পূরনের জন্য ঠাকুর তাঁকে দিয়ে পরপর তামাক সাজানো, গামছা, বটুয়া, জলের গাড়ু আনা ইত্যদি কাজ করালে নাগমহাশয় খুব খুশি হলেন। শুধু ক্ষোভ রইল চরণ ধূলি দেননি। ঠাকুরও উপযুক্ত ভক্ত পেয়ে বললেন —-“দেখছ, এ লোকটা যেন আগুন– জ্বলন্ত আগুন।”
নাগ মহাশয় তৃতীয় বার একাই দক্ষিণেশ্বরে এসেছেন‌ সেদিন ভাবাবস্থ ঠাকুর অস্ফুটস্বরে কি বলতে বলতে উঠে দাঁড়ালেন এবং নাগ মহাশয়কে বললেন , ” ওগো , তুমি না ডাক্তারি করো , দেখ দিকি , আমার পায়ে কি হয়েছে ।” ডাক্তার নাগ মহাশয় পরীক্ষা করে বললেন , ” কৈ , কোথাও তো কিছু দেখছি না ।” ঠাকুর বললেন , ” ভাল

করে দেখ না , কি হয়েছে ।” ভাল করে দেখার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু সাধ মিটিয়ে চরণধূলি নেবার আকাঙ্খা ভক্ত নাগ মহাশয়ের ছিল। তিনি তাই পূর্ণ করলেন । এখন থেকে তিনি জানলেন , শ্রীরামকৃষ্ণ বাঞ্ছাকল্পতরু ভগবান। অতএব সেই দিনই পরীক্ষাচ্ছলে ঠাকুর যখন নিজের শ্রীঅঙ্গ দেখিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন ,” তোমার এটা কি বোধ হয় ?” নাগ মহাশয় বিন্দুমাত্র ইতস্ততঃ না করে উত্তর দিলেন ,” ঠাকুর আর আমায় বলতে হবে না ।আমি আপনারই কৃপায় জানতে পেরেছি , আপনি সেই ।” ঠাকুর অমনি সমাধিস্থ হয়ে তাঁর বক্ষে শ্রীচরণ রাখলেন।সহসা নাগ মহাশয় অন্য এক অনুভূতিরাজ‍্যে উপস্থিত হয়ে দেখলেন―সর্বত্র এক দিব‍্য জ‍্যোতি উছলে উঠছে।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started