স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চলছে. রক্তদান শিবিরের থিমলাইন হয়েছে নেতাজির পেল্লাই কাটআউট সহ "তোমরা আমায় রক্ত দাও.

ব্যাপক লেখা।কার লেখা জানি না। কেউ জানলে যদি জানিয়ে দেন,লেখকের নাম দিয়ে আর একবার পোস্ট করবো।
একটা বিন্দাস পাড়া. স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চলছে. রক্তদান শিবিরের থিমলাইন হয়েছে নেতাজির পেল্লাই কাটআউট সহ “তোমরা আমায় রক্ত দাও…..”    
স্টেজে সুনীলবাবু উদাত্ত গলায় কবিতা পড়ছেন, “উনসত্তর বছর কেটে গেলো, কেউ কথা রাখেনি.” পাশেই বসে মানিক বাঁড়ুজ্জে. মীর নামে এক বেড়েপাকা ছোকরা হঠাৎ তাঁর সামনে এসে গম্ভীর গলায় রক্তদান শিবিরে পাওয়া প্যাকেট থেকে একটা সেদ্ধডিম বার করে বললো, “তোমার মন নাই কুসুম?” পাশেই ছিলেন বিভূতিভূষণ, ফিচলেমির মাত্রা দেখে সান্ত্বনা দিলেন, “অ মানিকবাবু, ইগনোর করেন, আজকালকার ছেলেপিলেগুলো সব একেকটা বুনিপ তৈরি হয়েছে!”    
খানিক আগে হেমাঙ্গ বিশ্বাস মাউন্টব্যাটেনের গান গেয়ে গেছেন. এবার রহমান মা তুঝে সালাম গাইবেন. সব রেডি, হঠাৎ সাউন্ডচেকের সময় তিড়িং করে স্টেজে উঠে পড়ে চিৎকার করে উঠলেন কবীর সুমন, “গদির লড়াই চলুক যেখানে চলে, হৃদয়ে লড়াই তৃণমূল তৃণমূল !!” উদ্যোক্তারা নেমে আসার অনুরোধ করতেই বাপ-মা-সিপিএম তুলে তেড়ে খিস্তি. জীবনানন্দ নীচে বসেছিলেন, পাশে উত্তমকুমারকে ফিসফিসিয়ে বললেন, “এই লোকটাই বোধহয় ট্রামটা চালাচ্ছিল, বুঝলে….” 
ওদিকে খবরে প্রকাশ, চোদ্দ তারিখ মধ্যরাতেই স্বাধীনতা দিবস কে #স্বাধীনবলেইসফল দিবস ঘোষণা করতে হবে, এই দাবিতে যাদবপুর প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের একটি মিছিল বাস্তিল দূর্গ অভিমুখে রওনা হয়েছে. মুশকিল হলো, একেই ত্রিফলাগুলো কারা ঝেঁপে দিয়েছে, তার ওপর মাথার পিছনের আলোগুলোরও লুজ কানেকশান হয়েছে, ফলে সে মিছিল রাস্তা হারিয়ে এদিকে চলে আসার সমূহ সম্ভাবনা.
  মঞ্চের পিছনে হতোদ্যম রাহুল গান্ধীকে প্রাণপণ বুঝিয়ে চলেছেন শচীন, “বুস্ট খা, এনার্জি বাড়বে.” একটু দূরে দীপা কর্মকারের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন গুরুদেব, “দুঃখ করিস নে মা, মেডেলটা পেলেও বেশিদিন তোর কাছে থাকতো না, কেউ না কেউ ঠিক ঝেড়ে দিতো.”
  বাজপেয়ী তখন থেকে জ্যোতিবাবুর পিছনে ঘুরঘুর করে যাচ্ছেন আর জিজ্ঞাসা করে যাচ্ছেন, “তাই বলে অসভ্য বর্বর বলবেন ?” বিরক্ত জ্যোতিবাবু সবে ঘাড় ঘুরিয়েছেন, হঠাৎ একটা রোগাপাতলা ছেলে কাঁধে ঝোলা নিয়ে সুনীল গাঙ্গুলির কবিতাপাঠ শুনছিলো, ছুটে এসে বললো,”ওনাদের গোপালন, আপনাদের গো-পালন. তফাৎ শুধু হাইফেনে.” শুনে জনি লিভার হর্ষ ভোগলেকে ডেকে বললেন, “ওই দ্যাখ, এর নাম শ্রীজাত, তোর থেকেও বেশি ভাট বকে.”
মাঝে একবার বাল ঠাকরের সাথে অন্নদাশঙ্কর রায়ের দেখা হলো. ব্যাকগ্রাউন্ডে তারস্বরে ‘তোমরা যে সব ধেড়ে খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করো’ বাজতে থাকায় কথোপকথন কি হলো, শোনা গেলো না.
উল্টোদিকের রাস্তায় একটা দশ বাই বারোর গোসাঘর. তলায় বড়ো করে লেখা আছে, ‘অনশন মঞ্চ.’ আশেপাশে খালি খাবারের প্যাকেট ছড়াছড়ি. মাচার ওপরে তিনি বসে বসে ক্যানভাসে ছবি আঁকছেন. নীচে এক কোটি ছিয়াশি লাখ টাকা নিয়ে অপেক্ষা করছে সুদীপ্ত সেন. তিনি একবার টাকাটার দিকে দেখছেন, আর একটা করে আঁচড় কাটছেন ক্যানভাসে. একটু পর ডেকে উঠলেন, “ও শুভাদা, একটু এদিকে আসুন তো, এটা যে কি এঁকেছি কিছুতেই বুঝতে পারছি না………………”

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started