১৩৭৬ সাল, হৃষীকেশে চাতুর্মাস্য চলছে।
ধনুর্দাসের গল্প বলার সময়ে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—“কাবেরী স্নানান্তে ফেরবার সময়ে শ্রীরামানুজাচার্য ধনুর্দাস–এর হাত ধরে আসতেন। এই দেখে আশ্রমস্থ ব্রাহ্মণ শিস্যরা ক্ষুন্ন হয়ে ভাবতে লাগল—‘আমরা তো ব্রাহ্মণ রয়েছি—স্নানের পর শূদ্রের হাত ধরে কেন আসবেন?’তাদের জাতি অভিমান বুঝে ভগবান রামানুজ তাদের শিক্ষা দেবার জন্য এক রাত্রে যখন সবাই ঘুমোচ্ছে, তখন তাদের লোটা কৌপীন ইত্যাদি জিনিস ওলটপালট করে রাখলেন—একজনেরটা অন্যের শিয়রে, অপরের অন্যস্থানে এভাবে রাখলেন। সকালে তাই নিয়ে কি হৈচৈ চেঁচামেচি। এ ওকে সন্দেহ করে গালাগালি দেয়, শেষে তুমুল ঝগড়া!
পরে একদিন তাদের কয়েকজনকে ডেকে চুপি চুপি রামানুজ বলেন—‘দেখ ধনুর্দাসকে এখানেই আটকে রাখছি। তোমরা সেই অবসরে তার স্ত্রীর গা থেকে গ
![]() |
| @page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx } |
হনা যা পাও চুরি করে আন।’
ওই শিস্যরা ধনুর্দাসের বাড়ি এসে দেখলে—ধনুর্দাসের স্ত্রী এক পাশ ফিরে ঘুমোচ্ছে, তারা একদিকের গহনা যা পারল খুলে নিল।ধনুর্দাসের স্ত্রী পাশ ফিরছে দেখে ঐ শিস্যরা পলায়ন করল। ইতিমধ্যে ধনুর্দাস রামানুজের কাছ থেকে ফিরলেন। শিস্যরা একদিকের গহনা নিয়ে রামানুজের কাছে ফিরে সব ব্যাপার জানালে রামানুজ বলেন—‘চল তো ধনুর্দাসেরা কি করছে দেখি।’ এসে তাঁরা দেখেন—ধনুর্দাস স্ত্রী কে বলেন—‘এক হাতের গয়না কোথায়?’স্ত্রী ধনুর্দাসকে বলে—‘রাত্রে গা থেকে গয়না খোলাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখলাম গুরুভ্রাতারা নিচ্ছেন। তাঁদের অন্য হাতের গহনা দেবার জন্য যেন ঘুমোতে ঘুমোতে পাশ ফিরছি, — তাঁরা জেগে গেছি মনে করে চলে গেলেন।‘
ধনুর্দাস বলেন– ‘তুমিই তো ভুল করেছ। চুপ করে শুয়ে থাকলেই পারতে। এই ভাবে সেবা থেকে বঞ্চিত হলে? আহা না জানি কত দরকার ছিল অলঙ্কারের! যাক এখন এক কাজ করা যাক – তোমার ঐ পাশের অলঙ্কার খুলে দাও, চল গুরুদেবের চরনে দিয়ে ক্ষমা প্রারথনা করে আসি।’রামানুজের ব্রাহ্মণ শিস্যমণ্ডলী সব কথা শুনলেন। শ্রীভগবান রামানুজ তাঁদের বললেন—‘বুঝতে পারলে? কেন আমি নিত্য কাবেরী স্নানান্তে ধনুর্দাসের হাত ধরে আশ্রমে আসি?’ ব্রাহ্মণ শিস্যমণ্ডলী অধোবদনে দাঁড়িয়ে রইলেন। “
