তাপসী বসুমতী-মা

তাপসী বসুমতী-মা

                  1st part
      🌷অধ্যাত্ম-জগতের পরশমণি ছিলেন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ। তাই দেখতে পাই,স্নেহভরে যাঁদেরই তিনি স্পর্শ করেছেন,মনের কোণে ঠাঁই দিয়েছেন,উত্তরকালে তাঁদের প্রত্যেকেই রূপান্তরিত হয়েছেন খাঁটি সোনায়।
        🌷বসুমতী-মা, বালিকা থাকা কালে ঠাকুর রামকৃষ্ণ যাঁর নামকরণ করেছিলেন ভবতারিনী,সাধিকা হিসাবে হয়ে উঠেছেন এমনি এক খাঁটি সোনা।
       🌷রামকৃষ্ণের ভক্তমণ্ডলীতে এই তপস্বিনীর,এই মাতৃস্বরূপিণী সাধিকার পুন্যস্মৃতি বহু ভক্তের অন্তরের মণিকোঠায় বিরাজ করছে চিরপ্রোজ্জ্বল হয়ে।
      🌷ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ ও সারদাদেবী উভয়েরই সঙ্গে ঘনিষ্ট আত্মীয়তা ছিল বসুমতী-মার।
       🌷কিন্তু শুধু আত্মীয়তা থাকলেই আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে না।সে সম্পর্ক গড়ে ওঠে পূর্ব জন্মের শুভসংস্কার,ঈশ্বরীয় কৃপা আর আত্মিক সাধনার    সৌভাগ্যের বলে।
      🌷বসুমতি-মার জীবনে দেখা গিয়েছে এর সব কয়টি সৌভাগ্য,তাই আত্মীয় শ্রী রামকৃষ্ণের সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছেন আধ্যাত্মিক সম্পর্কের দ্বারা।
     🌷ঠাকুরের স্নেহাশীষ অবিরল ধারায় ঝরে পড়েছিল তাঁর ওপর, ফলে আপ্তকামা 
।।তাপসী বসুমতী-মা।।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
          ।।প্রাক্- ভাষণ।।
              2nd Part
   🌷 শেষ জীবনে তিনি বারাণসীর পুন্য ভূমির এক কোণে ,একান্তে,ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের অনুধ্যানে তিনি দিন যাপন করতেন।
     🌷মহল্লার নরনারীর তিনি অতি আপনজন,তাঁদের তিনি বুড্ঢা মাঈ।আর রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু ব্রহ্মচারীদের তিনি পরম আদরের বুড়ী-মা—-বসুমতি-মা।
    🌷সুপ্রসিদ্ধ বসুমতী পত্রিকা ও প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের পত্নী তিনি,তাই সবাই তাকে বসুমতী-মা বলে।
    🌷ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের পুন্যদেহ স্পর্শ করেছেন বসুমতী মা।আদুরে মেয়ের মতো আবদার করেছেন,ঝগড়া করেছেন তাঁর সঙ্গে,তাঁর কোলে উঠেছেন অবলীলায় ও স্বচ্ছন্দে।
     🌷তারপর দীর্ঘ ধ্যান মননের ফলে পেয়েছেন ঠাকুরের দিব্য দর্শন ও দিব্য কৃপা।পরম সৌভাগ্যবতী ও পুন্যবতী নারী তিনি।
    🌷তাই শুধু বারাণসীর রামকৃষ্ণ মঠের সাধুরা ও ভক্তরাই নয়,সর্ব সম্প্রদায়ের সাধক ও ভক্তেরাই বসুমতী মাকে উচ্চকোটির সাধিকা বলে গণ্য করতেন,ভালোবাসতেন,
শ্রদ্ধা করতেন।
    🌷তাঁর মুখে ঠাকুর ও সারদামণির স্মৃতি কাহিনী শোনার জন্য সবাই উন্মুখ হয়ে বসে থাকতেন।
    🌷তাপসী বসুমতী মা কৃপাসিদ্ধা।এই কৃপাসিদ্ধি শুধু সেই মহাসাধকই দান করতে পারেন নিজে যিনি তপস্যার বলে সিদ্ধি ও পরমপ্রাপ্তির শিখরে অধিষ্টিত।
    🌷ঠাকুর রামকৃষ্ণ ছিলেন এমনি এক অসামান্য মহাসাধক,তাই তাঁর কৃপাশক্তি বসুমতী মার শুদ্ধ আধারে অবলীলায় ঢেলে দিতে পেরেছে দিব্য লোকের আলোকধারা।
    🌷”ঠাকুরকে দেখেছেন আপনি?”এই প্রশ্ন কেউ করলে স্নিগ্ধ আলোর ঝলক দেখা দিত বসুমতী মার চোখ দুটিতে।
    🌷উত্তরে বলতেন,”দেখেছি কেবল!স্পর্শও পেয়েছি কতো—স্পর্শ মণির স্পর্শ।মা’র বাপের গাঁয়ের মেয়ে আমি।
    🌷ডান হাতের মাঝের এই আঙুল মা’র মুঠিতে দিয়ে ছোট্ট মেয়েটি আমি কতবার গেছি ঠাকুরের কাছে।
    🌷ঠাকুর সস্নেহে বলতেন আহা,কুমারী মেয়ে,ওকে আগে খেতে দাও গো।”
         ।।প্রণাম।।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started