সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি (6-9)

  সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 6

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

অকস্মাৎ স্বসমীপে সমাগতা সারদাকে মাদুর পাতিয়ে সমাসিনা করে যখন বার্তালাপে জানলেন , পথশ্রমে তিনি অসুস্থা হয়ে এসেছেন, তখন নিজের ঘরে তাঁকে রেখে – নিজের তত্বাবধানে সুচিকিৎসায় তাঁকে সুস্থ করে তুললেন।
ঠাকুরকে প্রত্যক্ষ দর্শনে যে শুধু সারদার চক্ষু-কর্ণের বিবাদ ঘুচলো তাই নয়, নূতন করে অনুভূতিতে পেলেন তিনি ঠাকুরের পূর্ণতর কৃপা।

সুস্থ হয়ে জীবনের নবোন্মোচিত অধ্যায়ে অচিরে আপন কর্তব্য বিষয়ে স্থিরনিশ্চয় হয়ে মহোৎসাহে সারদা ঠাকুর ও তাঁর জননীর সেবায় আত্মনিয়োগ করলেন। এটিই হল তাঁর প্রথম ও প্রধান সাধনা । সারাদিন নহবতে থেকে ‘সংসারের’ কাজকর্ম সেরে রাত্রিতে তিনি ঠাকুরের ঘরে তাঁর শয্যায় শয়নের অনুমতি পেয়েছিলেন।
একান্তে প্ররীক্ষাচ্ছলে ঠাকুর সারদাকে এই প্রশ্নটি করলেন, “ কি গো, তুমি কি আমায় সংসারপথে টেনে নিতে এসেছ ?”
মুহূর্তমধ্যে সারদার যে অভাবিত ও অভাবনীয় জবাব এলো তাতে সকল মানুষের ধর্মদিগন্ত তৎক্ষণাৎ এক নবীন মহাসম্ভাবনার আভায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো।

   সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 7

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

নিজের স্বতস্ফুর্ত সারল্যে স্পষ্টতম ভাষায় সারদা বললেন ঃ- “না, আমি তোমাকে সংসারপথে কেন টানতে যাব ? আমি তোমার ইষ্টপথেই সাহাজ্য করতে এসেছি । “
কত জন্ম ধরে এই মহাযোগিনী কত সার্থক সাধনার ফলশ্রুতিরূপে যে অবলীলায় এ যুগান্তকারী আর্য ঘোষণাটি করতে পেরেছিলেন তা কে বলতে পারে?
তাৎক্ষণিক এমন সম্পূর্ণ সংসারত্যাগের নজির ধর্মের ইতিহাসে আরো আছে বলে আমাদের জানা নেই। ত্যাগীশ্বরের সহধর্মিণী তাঁর পাশে  অনায়াসে ত্যাগীশ্বরীরূপে সমাসীনা হলেন। এই ত্যাগীশ্বরীর বৈরাগ্য-বৈভবেই ত্যাগীশ্বর ঠাকুরের চিরপ্রতিষ্ঠা হলো।
এ যে একেবারে পরমাপ্রকৃতির মুখের কথা। কে পারেন ! কার সাধ্য আছে সিদ্ধ ব্রহ্মজ্ঞানী রামকৃষ্ণকে “ইষ্টপথে” সাহায্য করতে ! তিনি সামান্যা নন – তিনি অনন্যা, অতি অনন্যা ! তাই তাঁর  দক্ষিণেশ্বরের কালো বোনটি কতটা পথ এগয়ে গিয়ে সারদাকে স্বাগত জানিয়ে এসেছিলেন, বলে এসেছিলেন, “আমি তোমার বোন হই” , “তোমার জন্যই তো তাঁকে  সেখানে আটকে রেখেছি” ।
ভবতারিণীর এই বাণী ও সারদার এই বাণী – দুই বাণীরই প্রাণের সঙ্গীত অতি গম্ভীর এক সুরে মন্দ্রিত ।

 সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 8 

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

আজ আমরা যে আমাদের কপালমোচন, ভবভয়ভেদকারী, অভয়শরণ,, জগজনদুঃখহারী, ‘ চির উন্মাদ প্রেম পাথার’ শ্রীরামকৃষ্ণকে জগৎজুড়ে – প্রাণ –মান হৃদয় ভরে পেয়েছি সে কেবলি সারদার মঙ্গলহস্তের দানরূপে।  সারদার ত্যাগ অমন সম্যক সম্পূর্ণ না হলে আমাদের অমন “ভঞ্জন-দুঃখ-গঞ্জন” “প্রেমার্পণ –সমদারশন” অবতারবরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণকে পেতান না – তা তাঁর প্রাক-সারদা –আবির্ভাবের সকল সাধন-সিদ্ধি সত্ত্বেও !
ঠকুরের ইষ্টলাভ বহু পূর্বেই হয়ে গেছে – তিনি এখন পূর্ণাতিপূর্ণ। সারদা এমন লগ্নে আবার তাঁকে কোন ইষ্টপথে সাহায্য করতে এলেন? তার জন্য আবার শ্রীরামকৃষ্ণকে দক্ষিণশ্বরে ধরে রাখাই বা কেন ?
এ প্রশ্নদুটির জবাব আমরা স্বামীজী ও নিবেদিতার প্রশ্নত্তোরের মধ্যে পাই যেখানে স্বামীজী নিবেদিতার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলছেন, “ –– এ বিষয়ে আমি ও নিঃসন্দেহ যে, কালী রামকৃষ্ণের উপর ভর করে নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করেছেন।“

সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 9 

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

মা কালী তো প্রথম থেকেই জানতেন যে শ্রীরামকৃষ্ণ অবতারপুরুষ। ভবতারিণী  যে ঠাকুরকে সদা-সর্বদা নিজ ত্রিনয়নের সজাগ ও সস্নেহ দৃষ্টি রেখে, নিজের যন্ত্রমাত্র করে এতো বহুপ্রকারের সাধনা করিয়ে নিয়েছিলেন তার উদ্দেশ্য আমাদের জানতে হবে। তার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আমাদের ধারনা এটুকুই  জন্মায় যে তিনি সর্বদেবদেবীর শক্তি সংহত করে, যুগপ্রয়োজনে তাঁকে নিজ প্রতিভূরূপে এ ধারণীতে ধর্মসংস্থাপনার্থ ও জীবদ্ধার-কর্মে চালিত করতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন।  এই প্রস্তুতির পেছনে ভবতারিণীর অপার করুণার যে একটি শক্তি প্রবায় বয়ে চলছিল তার প্রতীকরূপেই তিনি যেন ঘটালেন সারদার দক্ষিণেশ্বরে আবির্ভাব ও  ঠাকুরের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর এই অবিশ্বাস্য ঘোষণা।
ভবতারিণী যেমন জানতেন রামকৃষ্ণ- সম্ভাবিতকে তেমনই জানতেন সারদা-সম্ভাবনাকে। তিনি জানতেন স্বল্পায়ু শ্রীরামকৃষ্ণের দেহাবসানে সারদাই ধারন করবেন তাঁর মাধ্যমে প্রবাহিত ঈশশক্তিধারা ।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started