‘চিত্তাকর্ষক দুটি অসাধারণ স্মৃতিকথা’
![]() |
| SWAMI SUBODHANANDA |
+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+
পূজনীয় খোকা মহারাজ শরৎবাবুকে বলেছিলেন যে, একদিন বেলুড় মঠে কালীকীর্তন হচ্ছিল।
তিনি ওপর তলায় গঙ্গার দিকের বারান্দায় মাঝে মাঝে বেড়াচ্ছিলেন। মহাপুরুষ মহারাজ তাঁর ঘরে ছিলেন। নিচে কীর্তন খুব জমে গিয়েছে, তখন রাত প্রায় আটটা নয়টা হবে। এমন সময় পূজনীয় খোকা মহারাজ দেখেন—একটি আট নয় বছরের মেয়ে গঙ্গার ঘাটে সিঁড়ির ওপর গঙ্গার দিকে পা ঝুলিয়ে বসে আছে। মহারাজ ভাবছেন এত রাতে কাদের মেয়েটি একা বসে আছে, পথ ভুলে যায় নি তো ? এই মনে করে নিচে যারা ছিল তাদের ডেকে বললেন—“দেখতো, কাদের মেয়েটি ঘাটে বসে আছে ?” এই বলতে বলতে মেয়েটি ঝুপ করে গঙ্গায় পড়ে গেল। অমনি মহারাজ বলে উঠলেন, “আরে যাঃ ! কাদের মেয়ে একটি গঙ্গায় পড়ে গেল !” শুনে মহাপুরুষ মহারাজ বললেন—“ও আর কাদের মেয়ে—স্বয়ং মা গঙ্গা কালীকীর্তন শুনছিলেন।”
বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দের ঘরে কেউ শোয় না। একদিন পূজনীয় মহাপুরুষ মহারাজ খোকা মহারাজকে বললেন—“খোকা, স্বামীজীর ঘরে কেউ শোয় না, তুমি ঐ ঘরটায় আজ শোও।” খোকা মহারাজ সে রাত্রে স্বামীজীর ঘরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নে দেখেন, স্বামীজী তার পীঠে আস্তে আস্তে ধাক্কা দিয়ে বলছেন—“খোকা, এক গ্লাস জল দেনা ভাই।”
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খোকা মহারাজ পূজনীয় মহাপুরুষ মহারাজকে বলেন, “ও ঘরে যেন কেউ না শোয়, ও ঘরে স্বামীজী মহারাজ এখনো আছেন !”
একদিন পূজনীয় রাখাল মহারাজ ঘুমুচ্ছেন। খোকা মহারাজও সেই ঘরে আছেন। খোকা মহারাজ জেগে, রাখাল মহারাজ ঘুমুতে ঘুমুতে বলে উঠলেন, “তাঁ দা।” খোকা মহারাজ মনে মনে ভাবতে লাগলেন—“রাজা মহারাজ ‘তাঁ দা’ কি বললেন ?” ভাবতে ভাবতে খোকা মহারাজের যেই তন্দ্রা এসেছে, ঠাকুর তাকে বললেন—“রাখাল ‘তাঁ দা’ বললে, তুই বুঝতে পারলিনি ? ‘তাঁ দা’ মানে তাঁর দয়া, অর্থাৎ তাঁর দয়া না হলে কিছু হবার যো নেই।”
