বেলুড় মঠের দূর্গা পূজার সূচনা… II “মা, আমার জ্বর করে দাও।”

বেলুড় মঠের দূর্গা পূজার সূচনা...

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

বেলুড় মঠের দূর্গা পূজার সূচনা…

স্বামীজী যখন বেলুড় মঠে দূর্গা পূজা করার চিন্তা করছিলেন সে সময়  স্বামী ব্রহ্মানন্দ স্বপ্নে দেবী দূর্গার দর্শন পান। তিনি দেখেন স্বয়ং মা মহিষাসুরমর্দিনী গঙ্গার ওপর দিয়ে দক্ষিণেশ্বর থেকে বেলুড়ের দিকে আসছেন । গুরুভাইয়ের মুখে এই কথা শুনে স্বামীজী স্থির করলেন এবার মঠে যেভাবে হোক মায়ের পূজা করতেই হবে।স্বামীজীর ধ্যানে সেই দেবীর যে রূপ উদ্ভাসিত হয়েছিলো তিনিই শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘের জননী শ্রীশ্রীমা সারদা ।  
বেলুড় মঠের এই দূর্গা মায়ের পূজায় সঙ্কল্প করা হয় শ্রীমা সারদা দেবীর নামেই। এই প্রথা এখনও চলে আসছে। কারণ সন্ন্যাসীগণ সঙ্কল্প করে কোনো পূজা বা বৈদিক কাণ্ড করার অধিকারী নন বলেই আদর্শ গৃহস্থাশ্রমী শ্রীশ্রীমায়ের নামে ( যদিও ত্যাগ- তপস্যায় তিনি সন্ন্যাসীরও শিরোমণি ) নামেই বেলুড় মঠের দূর্গা পূজায়  সঙ্কল্প হয় । আর একটি কথা স্বামীজী যে কল্পনা করতেন শ্রীশ্রীমাকে ‘জ্যান্ত দূর্গা’ রূপে-  প্রতি বছর মঠে সেই চিন্ময়ী মায়েরই মৃন্ময়ী মূর্তিতে পূজা হয়।  তাঁর নির্দেশে একদল গেলেন কুমারটুলিতে প্রতিমার বায়না করতে। আর একদল গেলেন বাগবাজারে শ্রীমায়ের অনুমতি নিতে। তখন পূজার তিন সপ্তাহ বাকী। সৌভাগ্যক্রমে কুমোরটুলিতে একটি মূর্তি পাওয়া গেলো। অপরদিকে শ্রীমা অনুমতি দিলেন। রঘুনন্দনের “অষ্টবিংশতি তত্ত্ব” পড়ে স্বামীজী বলছেন- 

“রঘুনন্দন বলছেন- 
‘নবম্যাং পূজয়েৎ দেবীং কৃত্বা রুধিরকর্দমম্’

 – মার ইচ্ছা হয় তো তাও করবো। মাকে বুকের রক্ত দিয়ে পূজা করতে হয়, তবে তিনি প্রসন্না হন। মার ছেলে বীর হবে, মহাবীর হবে। নিরানন্দে , দুঃখে প্রলয়ে, মহালয়ে মায়ের ছেলে নির্ভীক  হয়ে থাকবে” । শ্রীশ্রীমায়ের নামে পূজায় সঙ্কল্প হয়েছিলো। তবে শ্রীমায়ের নির্দেশে অবশ্য পশুবলিদান হয় নি। বেলুড় মঠের প্রথম সেই দূর্গা পূজা মহাসমারোহে হয়েছিলো। স্বামী ব্রহ্মানন্দজী পূজার সব উপকরণ জোগারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পূজকের আসনে বসেছিলেন কৃষ্ণলাল নামক জনৈক নবীন ব্রহ্মচারী। তন্ত্রধারক হয়েছিলেন স্বামী রামকৃষ্ণানন্দজীর পিতৃদেব ঈশ্বরচন্দ্র ভট্টাচার্য । 
ষষ্ঠীর দিন থেকেই বেলুড়ে আনন্দের বাণ ডেকেছিলো। এই পূজায় নিমন্ত্রিত ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের গৃহী ভক্তগণ। এছাড়াও বেলুড়, বালি, উত্তরপাড়ার নৈষ্ঠিক ব্রাহ্মণ ও ভক্ত শত শত লোকেদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। পূজায় পশু বলির বিকল্প রূপে ফল বলি হিসাবে উৎসর্গ করা হয় । এই পূজোর সাথে জড়িয়ে আছে কুমারী পূজা। স্বামীজীর অনুরোধে , গৌরী মা,  কুমারী পূজার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। পাদ্য- অর্ঘ- শঙ্খবলয় – বস্ত্রাদি দিয়ে স্বামীজী নয়জন কুমারীকে পূজা করেন । স্বামীজী সেই সকল কুমারীদিগকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করেন। ভাবাবস্থায় একজন কুমারীকে কপালে রক্তচন্দন পড়াবার সময় স্বামীজী শিহরিয়ে উঠে বলেছিলেন- “আহা দেবীর তৃতীয় নয়নে আঘাত লাগে নি তো।” দূর্গা পূজার সাথে কুমারী পূজা তন্ত্রের মত। এই সময় আর একটি আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। পূজার দিন। হঠাত স্বামীজী এসে শ্রীমায়ের কাছে প্রার্থনা করেন, “মা, আমার জ্বর করে দাও।” বলতে না বলতেই স্বামীজীর প্রচণ্ড জ্বর হল। শ্রীমা চিন্তিত হলেন। স্বামীজী বললেন- “কোন চিন্তা নেই মা। আমি সেধে জ্বর নিলুম এই জন্য যে ছেলেগুলো প্রাণপণ করে তো খাটছে, তবু কোথাও কি ত্রুটি হবে, আমি রেগে যাব, বকবো , চাই কি দুটো থাপ্পড়ই দিয়ে বসবো। 
ওদেরও কষ্ট হবে, আমারও কষ্ট হবে। তাই ভাবলুম- কাজ কি, থাকি কিছুক্ষন জ্বরে পড়ে।” খানিক পরে শ্রীমা বললেন- “ও নরেন , এখন তা হলে ওঠ।” স্বামীজী বললেন- “হ্যা মা, এই উঠলুম আর কি”- স্বামীজী উঠতেই দেখা গেলো তাঁর আর জ্বর নেই। তখন তিঁনি এদিক ওদিক পায়চারী, পূজা মণ্ডপে বসে গুন গুন করে গান গাইছেন সদানন্দময়ী কালী, মহাকালের মনমোহিনী তুমি আপনি নাচ, আপনি গাও,আপনি দাও মা করতালি ।
স্বামীজীর প্রবর্তিত সেই পূজাতে এখনও বেলুর মঠে শ্রীমায়ের নামে সঙ্কল্প করা হয়। স্বামীজীর সেই চিন্ময়ী “জ্যান্ত দূর্গা,  মা সারদা”  মৃন্ময়ী বিগ্রহে অবস্থান করে ভক্তের পূজা গ্রহণ করে সকল ভক্তকে কৃপা করেন।

—-স্বামী দেবেন্দ্রানন্দ

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started