বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজা (১৯০১),

Durga puja

বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজা (১৯০১),স্মৃতির পাতা থেকে……………স্বামী ব্রহ্মানন্দ একদিন (বেলুড়) মঠের সম্মুখে বসে হঠাৎ দেখলেন, যেন মা দুর্গা দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে গঙ্গাবক্ষে চলে মঠের বিল্ববৃক্ষতলে গিয়ে উঠলেন। ঠিক এই সময়েই স্বামীজী (স্বামী বিবেকানন্দ) কলকাতা থেকে নৌকা করে মঠে এসেই জিজ্ঞাসা করলেন, “রাজা (ব্রহ্মানন্দ) কোথায়?” তাঁকে দেখতে পেয়েই বললেন, “এবার প্রতিমা এনে মঠে দুর্গাপূজা করতে হবে, সব আয়োজন কর।” ব্রহ্মানন্দ বললেন, “তোমাকে দুদিন পরে কথা দেব; এখন প্রতিমা পাওয়া যায় কি না দেখতে হবে – সময় একেবারে সংক্ষেপ, দুটো দিন সময় দাও।” স্বামীজী তাঁকে জানালেন যে, তিনি ভাবচক্ষে দেখেছেন, মঠে দুর্গোত্‍সব হ‌চ্ছে এবং প্রতিমায় পূজা হ‌চ্ছে। স্বামী ব্রহ্মানন্দও তখন স্বামীজীকে স্বীয় দর্শনের কথা বললেন। মঠে এইসব শুনে হ‌ইচ‌ই লেগে গেল। স্বামী ব্রহ্মানন্দের আদেশে ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল কলকাতায় কুমারটুলিতে প্রতিমার সন্ধানে গেলেন – তখন পূজার মাত্র চারি-পাঁচ দিন বাকি। তবু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, একখানি মাত্র প্রতিমা সেখানে দেখা গেল। কৃষ্ণলাল কারিগরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি এই প্রতিমা আমাদের দিতে পার ?” কারিগর উত্তরে জানাল, যিনি ফরমাশ দিয়াছিলেন, তিনি হয়তো কোন কারণে তখন‌ও নিয়ে যাননি; তিনি নেবেন কি না বুঝে নিয়ে পরদিন পাকা কথা দিতে পারবেন। স্বামীজী মহারাজ কৃষ্ণলালের মুখে সব শুনে বললেন, “যেমন করেই হোক, প্রতিমাখানি নিয়ে আসবি।” শেষ পর্যন্ত প্রতিমাখানি পাওয়া গেল এবং মঠের পূজা সম্পন্ন হ‌ইল এবং তার সাথে সাথেই শুরু হল বেলুড়মঠে দুর্গোৎসবের যা আজ এক ঐতিহাসিক দুর্গোৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের সকলের মা-ই, মৃন্ময়ী মূর্তি ধরে চিন্ময়ী রূপধারণ করে এই পূজা গ্রহণ করেন। স্বামীজীর “জ্যান্ত দুর্গা”র পুজা আজ এক ঐতিহ্য ও স্বর্ণাক্ষরে লেখা বর্ণময় ইতিহাসে রুপান্তরিত হয়েছে। ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ পেজের  সকল সদস্যকে জানাই শুভ শারদীয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।শ্রীশ্রী ঠাকুর ও মায়ের কৃপায় সকলের আগামীদিনগুলি আনন্দময় হোক।জয় দুর্গামাঈ কী জয়!!!জয় মহামাঈ কী জয়!!!

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started