//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
শ্রীরামকৃষ্ণ ও সারদাদেবীর ধর্মাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত গৌরী-মার জীবন II Gauri’s life founded on Ramakrishna and Saradadevi’s Dharma.
![]() |
Gauri-Ma//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({}); |
শ্রীরামকৃষ্ণ ও সারদাদেবীর ধর্মাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত গৌরী-মার জীবন। তাঁর প্রতি কাজে, কথায় তাঁদের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। আশ্রমের বহু কাজের মধ্যেও তিনি খুব ছোট কাজের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। এমনকি প্র্যোজন হলে নিজেই সে কাজগুলি সেরে রাখতেন। ছোটবড় কোন কাজকেই তিনি অবহেলা করতেন না।
আশ্রমের গরুঘোড়ার প্রতিও তাঁড় যত্নের ত্রুটি ছিল না। কোনদিন সহিসের আসতে দেরি হলে তিনি নিজে ঘোড়ার ছোলা এবং রুটি নিয়ে গিয়ে আস্তাবলে ঘোড়াকে খাইয়ে আসতেন।
আশ্রমের বিভিন্ন কাজে বহু জটিলতা আসত কিন্তু তিনি কখনো ভয় পেতেন না বা চিন্তাগ্রস্ত হতেন না বরং বিচলিত হলে বলতেনঃ “নিজের মতলবে ব্যাঘাত হলেই মানুষ রুষ্ট হয়। বিবেকসঙ্গত কাজ করে যাবে, যে যা বলুক!” তিনি যা সত্য বা ন্যায়সঙ্গত মনে করতেন, স্থানকালপাত্রের অপেক্ষা না করে সে-কাজ করে ফেলতেন। তাঁর আদর্শনিষ্ঠা, তেজস্বিতা এবং স্পষ্টবাদিতার ফলে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতেন, কিন্তু অন্যায়কে গৌরী-মা কখনো প্রশ্রয় দেননি, বিশেষ করে মেয়েদের প্রতি অন্যায় ও অবিচার দেখলে তার প্রতিকার না করা পর্যন্ত কিছুতেই স্থির হতে পারতেন না।
আশ্রমের বাইরেও বহু নিরাশ্রয় বিধবা, দুস্থ নারী এবং অনাথা তাঁর সাহায্য পেয়েছে। একদিন অনেক রাত্রে এক বাড়িতে বধূ-নির্যাতন চলছিল। গৌরী-মা আওয়াজ পেল লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়েন এবং পুলিশের সাহায্যে সেই রাত্রেই মেয়েটিকে তার পিত্রালয়ে রেখে আসেন এবং পরে তাঁর মধ্যস্থতায় মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ক্ষমা চেয়ে বধূকে পিত্রালয় থেকে ফিরিয়ে আনে। এইরকম বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে মেয়েদের গৌরী-মা শিক্ষা দিতেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।
সেইসঙ্গে তিনি একথাও বলতেনঃ “পরের সেবা করতে এসে যদি মনের কোণেও আত্মপ্রশংসার আকাঙ্ক্ষা জাগে তবে সাধকজীবনে তা আত্মহত্যারই তুল্য জানবে!” গৌরী-মার উন্নত জীবন ও তাঁর সান্নিধ্য আশ্রমের মেয়েদের প্রভাবিত করেছিল, যার ফলে তিনি তাদের জীবনকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে পেরেছিলেন।
