*- : শ্রীশ্রী মাতৃ-স্মরণিকা : -*
*”ওঁ যথাগ্নের্দাহিকা শক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি যা।*
*সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমাম্যহম।।”*
*।।জন্মজন্মান্তরের মা।।*
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
*কীর্তিঃ শ্রীর্বাক্ চ নারীণাম্*
![]() |
| @page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }
Sri Sarada Devi
|
গীতায় উল্লিখিত পরবর্তী গুণ দুটি ধৃতি ও ক্ষমা। ধৃতি অর্থ ধৈর্য, বেঙ্কটের মতে এর মানে ক্ষুধা, তৃষ্ণা সহ্য করার শক্তি, পুরুষোত্তমজীর মতে বিপদে নিজ ধর্মে অটল থাকা। অপরিসীম ধৈর্যে মা শৈশব থেকে প্রায় আজীবন দারিদ্র্যের ক্লেশ হাসিমুখে সহ্য করে গেছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের দেহত্যাগের পর অর্থকষ্ট যখন চরমে উঠেছে, নুনটুকুও জোটেনি তখনও কারও কাছে চিৎ হাত না করার নিজ আদর্শ বজায় রেখে পরম ঔদাসিন্যে বলেছেন, “অমন ঠাকুরই চলে গেলেন, আমি টাকা নিয়ে কি করব?”
তরুণী বধূটি স্বামীর উন্মাদ অবস্থার প্রচারে একদিকে যেমন সমাজের উপেক্ষা ও গঞ্জনা সহ্য করেছেন অন্যদিকে স্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিধির বিধানে এই অনভিপ্রেত ঘটনা যদি ঘটেই থাকে তাহলে পত্নী হিসেবে তাঁর একান্ত কর্তব্য স্বামীর কাছে গিয়ে তাঁর সেবা করা।
কাশীপুরে ঠাকুরের শরীরত্যাগের প্রাক্কালে বিমর্ষ সন্তানদের সান্তনা দিয়ে নিজ সেবাধর্মে অটল থেকেছেন। উত্তরকালে আত্মীয়স্বজনদের দুর্ব্যবহার ও উপদ্রব, অজস্র ভক্তের বিচিত্র আবদার, শারীরিক ক্লেশ, অর্থকষ্ট – সবই তিনি নীরবে সহ্য করে গেছেন। মা যে বলতেন, “পৃথিবীর মতো সহ্যগুণ চাই।” – তার সার্থক রূপায়ণ তাঁর নিজেরই জীবন।
ক্ষমা শব্দের অর্থ আনন্দগিরি করেছেন মান ও অপমানে নির্বিকার থাকা। বেঙ্কট আত্মার পরিচয় দিয়েছেন সুন্দর একটি লক্ষণ উদ্ধৃত করে –
“আক্রুষ্টোহভিহিতো বাপি নাক্রোশেন্ন চ তাড়য়েৎ।
অদুষ্টো বাঙ্মনঃ কায়ৈঃ সা ক্ষমা পরিকীর্তিতা।।”
– অর্থাৎ কুবাক্য বললেও বা আঘাত করলেও যা (যে শক্তি) কুবাক্য বলে না বা প্রত্যাঘাত করে না, যা কায়মনোবাক্যে নিষ্কলুষ, তাই ক্ষমা।
শ্রীশ্রীমায়ের সমগ্র জীবনই ক্ষমামন্ডিত। শাস্ত্র বলেন শক্তিহীনদের ক্ষমা গুণ, কিন্তু যাঁর শক্তি আছে ক্ষমা তাঁর ভূষণ – ‘ক্ষমা গুণো হ্যশক্তানাং শক্তানাং ভূষণং ক্ষমা।‘ শক্তিস্বরূপিণী মা আজীবন নানাজনের নানা অপরাধ অকুন্ঠচিত্তে ক্ষমা করে গেছেন।
পাগলিমামী ও রাধুর অবুঝ অত্যাচারে অস্থির হয়েও কিছু বলেননি। রাধু পা দিয়ে ঠেললে তাড়াতাড়ি নিজের পায়ের ধুলো রাধুর মাথায় দিয়ে হাতজোড় করে বলছেন, “ঠাকুর ওর অপরাধ নিও না, ও অবোধ!” কত উদাহরণই না আছে। ভক্তপ্রবর বলরামবাবু তাই এককথায় মায়ের পরিচয় দিয়েছেন ‘ক্ষমারূপা তপস্বিনী’ বলে।
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্গুরুম্।*
*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।”*
https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
