VISIT TODAY RAMAKRISHNA II জগতে দুরকমের লোক আছে।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Sri Ramakrishna
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Ramakrishna

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

জগতে দুরকমের লোক আছে। একরকম হ’ল—বলিষ্ঠ, শান্তিপ্রিয়, প্রকৃতির কাছে নতি স্বীকার করে, বেশী কল্পনার ধার ধারে না, কিন্তু সৎ সহৃদয় মধুরস্বভাব ইত্যাদি। তাদেরই জন্য এই পৃথিবী; তারাই সুখী হ’তে জন্মেছে। আবার অন্যরকমের লােক আছে, যাদের স্নায়ুগুলি উত্তেজনা প্রবণ, যারা ভয়ানক রকম কল্পনাপ্রিয়, তীব্র অনুভূতি সম্পন্ন এবং সর্বদা এই মুহূর্তে উঁচুতে উঠছে এবং পরের মুহূর্তে তলিয়ে যাচ্ছে। তাদের বরাতে সুখ নেই। প্রথম শ্রেণীর লােকেরা মাঝামাঝি একটা সুখের সুরে ভেসে যায়। শেযােক্তেরা আনন্দ ও বেদনার মধ্যে এ ছুটোছুটি করে। কিন্তু এরাই হ’ল প্রতিভার উপাদান। প্রতিভা এক রকমের পাগলামি’—আধুনিক এই মতবাদের মধ্যে অন্ততঃ কিছু সত্য নিহিত আছে।

Sri Ramakrishna

Sri Ramakrishna


এখন এই শ্রেণীর লােকেরা যদি বড় হতে চায়, তবে তাদের তা চরিতার্থ করবার জন্য লড়াই করতে হবে—লড়াই-এর জন্যেই, আর বাইরে বেরিয়ে এসে। তাদের কোন দায় থাকবে না,—বিবাহ নয়, সন্তান নয়, সেই এক চিন্তা ছাড়া আর কোন অনাবশ্যক আসক্তি নয়; সেই আদর্শের জন্যই জীবনধারণ এবং সেই আদর্শের জন্যই মৃত্যুবরণ। আমি এই শ্রেণীর মানুষ। আমার একমাত্র ভাবাদর্শ হ’ল ‘বেদান্ত’, এবং আমি ‘লড়াই-এর জন্য প্রস্তুত। তুমি ও ইসাবেল এই ধাতুতে গড়া; কিন্তু আমি তােমাদের বলছি, যদিও কথাটা রূঢ়, তােমরা তােমাদের জীবনের বৃথাই অপচয় করছ। হয় একটা আদর্শকে ধর, বাইরে ঝাপিয়ে পড় এবং তার জন্য জীবন উৎসর্গ কর; কিংবা অল্পে সন্তুষ্ট থাকো ও বাস্তববাদী হও; আদর্শকে খাটো করে বিয়ে কর ও সুখের জীবন যাপন করা হয় ‘ভােগ’ নয় ‘যােগ’—হয় এই জীবনটাকে উপভােগ কর, অথবা সবকিছু ছেড়েছুড়ে দিয়ে যােগী হও; দুটি একসঙ্গে লাভ করার সাধ্য কারও নেই। এইবেলা না হলে কোনকালেই হবে না, ঝটপট একটাকে বেছে নাও। কথায় বলে, ‘যে খুব বাছবিচার করে, তার বরাতে কিছুই জোটে না। তাই আন্তরিকভাবে, খাটিভাবে আমরণ সংকল্প নিয়ে ‘লড়াই-এর জন্য প্রস্তুত হও’; দর্শন বা বিজ্ঞান, ধর্ম বা সাহিত্য—যে-কোন একটিকে অবলম্বন কর এবং অবশিষ্ট জীবনে সেইটিই তােমার উপাস্য দেবতা হােক। হয় সুখী হও, নয়তাে মহৎ হও। তােমার ও ইসাবেলের প্রতি আমার এতটুকু সহানুভূতি নেই; তােমরা না এটায় না ওটায়। তােমরাও হারিয়েটের মতাে ঠিক পথটি বেছে নিয়ে সুখী হও, কিংবা মহীয়সী হও—এই আমি দেখতে চাই। পান ভােজন সজ্জা ও যত বাজে সামাজিক চালচলনের ছেলেমানুষির জন্য একটা জীবন দেওয়া চলে না—বিশেষতঃ মেরী, তােমার। অদ্ভুত মস্তিষ্ক ও কর্মকুশলতাকে তুমি মরচে পড়তে দিয়ে নষ্ট করে ফেলছ, যার কোন অজুহাত নেই। বড় হবার উচ্চাশা তােমাকে রাখতে হবে। আমি জানি, আমার এই রূঢ় মন্তব্যগুলাে তুমি ঠিকভাবে নেবে, কারণ তুমি জাননা, আমি তােমাদের যে ‘বােন’ বলে ডাকি—তার চেয়েও বেশীই আমি তােমাদের মনে করি। আমার অনেকদিন থেকেই এই কথাটি তােমাকে বলার ইচ্ছা ছিল, এবং অভিজ্ঞতা জমছে, তাই বলার আবেগে বলে ফেললাম।

স্বামী বিবেকানন্দ (১৭ সেপ্টেম্বর ১৮৯৬ মেরী হেলকে লিখিত পত্র, পত্রাবলী, ২০০০, পৃঃ ৪৯১-৯২)

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started