প্রশ্ন: চৈতন্যদেবও তাে অবতার ছিলেন। কিন্তু তাঁর শিক্ষার পরিধিও খুব ছােট। 

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Sri Ramakrishna
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Ramakrishna

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Sri Ramakrishna
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Ramakrishna

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Sri Ramakrishna
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Ramakrishna

প্রশ্ন: চৈতন্যদেবও তাে অবতার ছিলেন। কিন্তু তাঁর শিক্ষার পরিধিও খুব ছােট।  

মহারাজ সব জায়গাতেই যত অবতার এসেছেন সকলের ক্ষেত্রেই সেকথা প্রযােজ্য। এখন আমরা কৃষ্ণ বা বুদ্ধকে যেভাবে জানছি বা বুঝছি আগে কি তাদের সেভাবে বােঝা হতাে জগতে বুদ্ধির যত প্রসার হচ্ছে তাদেরও প্রসার ব্যাপক হচ্ছে। তবে ঠাকুরের লীলা অসাধারণ। আমরা একথাও বলতে পারি যে ঠাকুরের নামই কি সকলে জানত বা এখনাে কি সকলে জানে নামের কথা নয় ভাবের কথা। একটি ঘটনা শুনেছি। বলছি সেটি। দক্ষিণ ভারতের একটি অখ্যাত জায়গা। আমাদের একজন সাধু বেড়াতে গেছেন। সেখানে একটি পানের দোকানে শ্রীশ্রীমায়ের ছবি দেখে অবাক হয়ে গেছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন ;তুমি এখানে এ ছবি কোত্থেকে পেলে দোকানি বলল এখন মনে নেই কোত্থেকে পেয়েছি কিন্তু এ ছবিটি আমার পক্ষে কল্যাণকর। আশ্চর্য ব্যাপার ! আর একবারের কথা। আমাদের একজন প্রাচীন সাধু স্বামী পূৰ্ণানন্দ কেদার বদরি বেড়াতে গেছেন। রাস্তায় একজায়গায় স্নান করছেন। তাঁর গলায় শ্রীশ্রীমায়ের ছবির একটা লকেট ছিল। তা স্নান করার সময় সেটা তাে আর ঢাকা নেই। দেখেছেন একজন। তিনি সাধুকে জিজ্ঞেস করছেন : “Who is that lady?” আমাদের সাধু বলছেন : “She is the wife of Ramakrishna Paramahamsa.” অন্য একটি লােক তা শুনে চটে গেছেনবলছেন : Do you not call her Holy Mother?

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

বিদেশে আবার অনেকে মনে করে ঠাকুর নয় স্বামীজীই অবতার। আমাদের একজন অস্ট্রেলিয়ান ব্রক্ষ্মচারী ছিল। নাম ওয়েল। তার কাছে শুনেছি। সে বলত স্বামীজী আমাকে পথের ধুলাে থেকে তুলে এনেছেন। সে এক অলৌকিক ব্যাপারসেদিন ছিল তার জন্মদিন। বাজারে মদ কিনতে গেছে। জন্মদিন পালন করবে। তার বন্ধুদের নেমন্তন্ন করেছে। ওদের জন্মদিনে মদ একটা অপরিহার্য জিনিস। কিনে আনছে। এমন সময় পথে একটা দর্শন হল—একটা ছবি দেখল। তার মনে হল—কে এ এ কাকে দেখলাম নাম তাে জানি না। মনে হচ্ছে কোন  সেন্ট হবেন। আর সেন্ট আমাকে দর্শনই বা দিলেন কেন নিশ্চয়ই আমার জীবনে কোন পরিবর্তন আনবার জন্য। এই ভেবে সেই রাস্তাতেই মদের বােতলগুলাে ভেঙে ফেলল। শুধুহাতে বাড়ি ফিরল। তার বােন বলল— “মদ কোথায়?” সে বলল—“আজ থেকে মদ আমি আর ছোঁব না।” এরপর সে যার দর্শন পেয়েছে তার খোঁজ শুরু করল। চারদিকে খোঁজ করলকিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না। দুশাে মাইল দূরে সিডনি। চলে গেল সেখানে যদি কোন খোঁজ পাওয়া যায়। সিডনিতে ঘুরতে ঘুরতে একটা বইয়ের দোকানে এসে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে সে দেখতে লাগল—একটা বইয়ের মলাটে স্বামীজীর ধ্যানস্থ ছবি। বইটি ‘রাজযােগ’। স্বামীজীর ছবি দেখে তার মনে হল—এইতাে তিনিইনিই তাে আমাকে দর্শন দিয়েছেন। তারপর সে বইটি কিনে এনে পড়ল। তাতে অদ্বৈত আশ্রমের ঠিকানা ছিল। সেখানে চিঠি পাঠাল। তখন অশােকানন্দ স্বামী প্রবুদ্ধ ভারত’এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি তার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলেন। আর মহাপুরুষ মহারাজের সঙ্গে তার যােগাযােগ করিয়ে বলেছিলেনসে যেন তার আধ্যাত্মিক প্রশ্ন সব তঁাকে করে। তখন থেকে সে মহাপুরুষ মহারাজের সঙ্গে চিঠিতে যােগাযােগ করত। তারপর সাধু হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে মহাপুরুষ মহারাজ লিখলেন— 
“বাপুতােমাদের দেশের লােকের এখানে এসে স্বাস্থ্য ভাল থাকে না। কাজেই এসাে না।” 
কিন্তু সে নাছােড়বান্দা। মহাপুরুষ মহারাজ তখন দুশ্চিন্তা নিয়ে লিখলেন—
“আচ্ছাতাহলে এসাে। কিন্তু ফিরে যাওয়ার টাকা এখানে এনে জমা রাখবে। তা না হলে আমরা কোথায় টাকা পাবটাকা দিয়ে তােমাকে ফেরত পাঠাব কী করেযদি তােমার স্বাস্থ্য এখানে না টেকে ?” 
ঠিক তাই হল। আসার কয়েক বছর পর তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ল। তখন তাকে ফিরে যেতে বলা হল। টাকা তাে ছিলই। ফিরে গেল। কিন্তু গিয়ে সমস্ত জীবন স্বামীজীর ভক্ত হয়েই রইল। একবার তাকে নিয়ে মাস্টারমশায়ের কাছে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কথায় কথায় মাস্টারমশাই বললেন—
ঠাকুর হলেন অবতার।” 
সে ঠাকুরের ভক্ত নয়। সে বলল  স্বামীজী অবতার।” মাস্টারমশাই আবার বললেন—
“স্বামীজী অবতার নন। ঠাকুরই অবতার।” 
সে কিছুতেই মানবে না। অন্যত্র স্বামীজী ঠাকুর সম্বন্ধে বলেছেন—“ভগবানের বাবা। ভগবান কিনা অবতার। আর ‘বাবা’ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ ভগবানের বাবা’ মানেও ‘অবতারবরিষ্ঠঅবতারের বিশেষত্ব এই যেতার ভিতর একটি মানব ভাব এবং আরেকটি দেব ভাব একই সঙ্গে থাকে। ঠাকুর বলেছেন এর ভেতর দুটি আছে একটি ভক্ত অপরটি ভগবান দুটি ভাবই আছে। পাশাপাশি আছে। সাধারণত আমরা সেটা বুঝতে পারি না। একটির সঙ্গে আরেকটিকে মিশিয়ে দিলে হবে না। একটির সঙ্গে অপরটির সহাবস্থান আছে। ইচ্ছা করলেই দুটি ভাবের যেকোনটিতে তিনি থাকতে পারেন। দুটি ভাব বিপরীত। একটি পূর্ণ এবং আরেকটি অপূর্ণ। কিন্তু দুটি একই জায়গায় একই ব্যক্তিতে অবস্থান করতে পারে। তিনিই অবতারঅবতারের ভিতর যদি মানব ভাব না থাকত তাহলে তার অবতারত্ব কিছু হতাে না। মানুষের মধ্যে মানুষের মতাে হয়ে তাকে ব্যবহার করতে হয়। তা না হলে তিনি কী করে সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করবেন ? এজন্য মানব ভাবে থাকতে হয়। শুধু মানব ভাবে থাকা নয় মানব ভাব থেকে দেব ভাবে ইচ্ছা করলেই নিজেও যেতে পারেন এবং অপরকেও নিয়ে যেতে পারেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started