 |
| @page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }
|
 |
| @page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }
Sri Ramakrishna
|
১২। জপ করার সময় ইষ্টমূর্তি ধ্যান করবে, নইলে জপ জমে না। পূণমূর্তির ধ্যান না এলেও যেটুকু আসে তাই নিয়ে ধ্যান আরম্ভ করবে। না পারলেও বার বার চেষ্টা করবে। না এলে ছাড়বে কেন? নাছােড়বান্দা হয়ে করতেই হবে। ধ্যান কি সহজে, মনে করলেই হয়? মনকে অন্য বিষয় থেকে গুটিয়ে এনে ধেয় বস্তুতে রাখবার চেষ্টা বার বার করতে হবে। করতে করতেই হবে।
১৩। জপ – করগণনা, মালা করা, সংখ্যা রাখা — এসব শুধু মনকে অন্য বিষয় থেকে উঠিয়ে আনবার, ধরে রাখবার জন্য। তা নইলে মন কখন এ দিক ওদিক চলে গেছে, বা কখন তন্দ্রা এসেছে, জানতে পারবে না। তাই এই সবের দ্বারা প্রথম প্রথম একটু বিক্ষেপ হলেও এদিকে নজর রাখতে পারবে, সহজে এগুলি ধরতে পারবে ও মনকে ফিরিয়ে এনে ধ্যেয় বস্তুতে আকৃষ্ট করে রাখতে পারবে।
১৪। নিজেকে কখনও দুর্বল মনে করবে না। নিজের উপর খুব বিশ্বাস রাখবে। ভাববে আমার অসাধ্য কি আছে, আমি মনে করলে সব করতে পারি। মনের কাছে পরাজয় স্বীকার করতে যাবে কেন? জানবে মনকে বশ করতে পারলে সমস্ত জগৎ তােমার বশে আসবে, তুমি বিশ্বজয়ী হবে। যার নিজের উপর প্রত্যয় নেই সেই যথার্থ নাস্তিক। যার নিজের উপর প্রত্যয় নেই তার কথা কেউ শােনে না, ভগবানও তার কথা (প্রার্থনা) শােনেন না।
১৫। যেভাবে স্থির হয়ে (না নড়ে) ও সুখে (আরামে) অনেকক্ষণ বসতে পারা যায় – তাকেই আসন বলে। কিন্তু মেরুদণ্ডকে সােজা রাখতে হবে, আর বক্ষঃস্থল, গ্রীবা (গলা) ও মস্তক সােজা ভাবে রাখতে হবে, যেন দেহের সমস্ত ভারটি পঞ্জরগুলির উপর পড়ে – বক্ষদেশ যেন নীচের দিকে ঝুঁকে না পড়ে। হেঁট হয়ে ঝুঁকে বসা মােটেই স্বাস্থ্যকর নয়। ততদিন ধ্যান বিতৃষ্ণা আসন হবে। তা
১৬। সংসার অসার, অনিত্য, তিনি একমাত্র সার সত্য, এই ভাবটি যতদিন মনে দৃঢ় না হয়, ততদিন ধ্যান করবার সময় মন চঞ্চল হবেই। ইন্দ্রিয়সুখে যত বিতৃষ্ণা আসবে, ভগবানে অনুরাগ ততই বাড়বে, মনও তত একাগ্র হবে। তার প্রেমের স্বাদ কণিকামাত্রও পেলে জগতের সমস্ত সুখ তুচ্ছ, ঘৃণ্য হয়ে যাবে।