তাহলে শিক্ষা কেন? শিক্ষা মানুষের বংশের তপস্যার, সাধনার, ভক্তির প্রতীক II শিক্ষা আর সূত্র
শিক্ষা আর সূত্র–
![]() |
|
শিক্ষা আর সূত্র
|
৩. অগ্নিকার্য কি? পুরাকালে হিন্দুদের দেবী-দেবতার বিগ্রহ থাকতো না। অগ্নি ই দেবতা। অগ্নির দেখা শুনা করা, নিত্য ভোগ দেওয়া, সব ব্রাহ্মণ করতেন। যখন পুত্র আট বছরের হতো, পিত তাকে শিক্ষা সূত্র দিয়ে অগ্নির অধিকার প্রদান করতেন, গার্হপত্য অগ্নি।
What keeps our mind in high level December 25
(p.5, For Seekers of God, Swami Shivananda’s advice on 25 December 1920).
Ramakrishna sarada ashram Antpur II (রামকৃষ্ণ সারদা আশ্রম (আঁটপুর) থেকে প্রকাশিত ২০১০-২০১১ বার্ষিক
“তাঁর তারামা পজো করে এখনো পর্যন্ত জলটুকুও মুখে দেয়নি।” যে লোকটি প্রসাদ নিয়ে যেত তার একখুঁটে প্রসাদী পান অন্য খুঁটে চা-চিনি। তখন ভুবনেশ্বরে ওসব জিনিস পাওয়া যায় না। তারাসুন্দরীর চোখে জল আসত-পিতৃস্নেহ কি তা তিনি কোনদিন জানতে পারেন নি – গুরুস্নেহধারায় তাঁর সে অভাব দূর হয়ে যেত। কোনদিন হয়ত সঙ্কোচে কুন্ঠায় বলেছেন, ” কাল থেকে আমি নিজে এসেই প্রসাদ পেয়ে যাব।” তীব্র ভাবে নিষেধ করেছেন স্বামী ব্রহ্মানন্দ, “না, নাগো তারামা, দুপুরে বড় রোদ্দুর-এদেশে গাড়ী পাওয়া যায়না। তুমি কষ্ট করে এসো না-আমিই তোমায় প্রসাদ পাঠিয়ে দেব।” তারাসুন্দরী নীরবে বসে চোখের জলে ভেসেছে – এত নিস্বার্থ স্নেহ! সমাজের জ্ঞানীগুণী মানুষেরা যখন এই দেহটির প্রতি ঘৃণায় চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে
তখনই সেই নরদেহধারী ঈশ্বরের করুণার পাবণী ধারা তাঁঁর মানস পুত্রের মাধ্যমে এই পতিতার প্রতি বর্ষিত হচ্ছে! এই অহেতুকী কৃপার যোগ্য কী আমি!
(২০শ পর্ব)
আমাদের এখন একটু শোনাও দেখি।’ মাতৃ আদেশ
! জোড় হাত করে মা সারদাকে নমস্কার করে ‘জনা’
থেকে আবৃত্তি করতে শুরু করলেন – প্রবীরের বীর রসাত্মক সংলাপের কিছু অংশ। সমস্ত বারান্দা, ঘোর,দোর,ছাদের কার্নিসে কার্নিসে প্রতিধ্বনিত হতে
লাগলো তারার সেই যাদুকরী ক ন্ঠস্বর। সবাই নিঃশব্দ, হতবাক্। অভিনয় শেষ করে প্রণাম করে সেদিনের মতো বিদায় নেবার সময় মা বললেন ,
” আর একদিন সময় করে এসো।”
(২১শ পর্ব)
সেদিন জ্বর। দরজার বাইরে থেকে প্রণাম করলেন তারাসুন্দরী। মা হাত তুলে আশীর্বাদ করলেন। ভগবতীর দয়া কাঁটাগাছকে বাছে না-সে দয়ার পাত্র পাত্রী নেই,সে দয়ার বিচার করে না, ব্যবহারিক জগতের কোন বিধি নিষেধ মানে না; সে কেবল জাতি-ধর্ম নির্বিচারে সকলকে পবিত্র করে নেয়।
জীবনের সহস্র লাঞ্ছনার, ঘৃনা ও উপেক্ষার মধ্যেও তারার জীবনে শ্রীমার এই প্রাণ উজার করা আশীর্বাদ তাঁকে মহত্তর ভাবচেতনায় উদ্বুদ্ধ করে তুলেছিল।
নীরব রাত্রের কিছু শোকার্ত শরীরের কান্নার রোল বাগবাজারের আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত করে তুললো।
(২২শ পর্ব)
কারুর কাছে গিয়ে শান্তি ভিক্ষা করার পথটিও রুদ্ধ হয়ে গেল। তারাসুন্দরী মনপ্রান সঁপে দিলেন তাঁর দীক্ষাগুরু স্বামী ব্রহ্মানন্দের পয়ে। জ্বালা-যন্ত্রণায়, দুঃখে-হতাশায় তাঁর একমাত্র সহমর্মী রাজা মহারাজকে জীবনের সম্বল করে জীবনের বাকী পথটুকু হাঁটার স্বপ্ন দেখলেন। কিন্তু না, মায়ের তিরোধানের পর দুটি বছর কাটতে না কাটতেই সেই ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ তারার সমস্ত সপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিল। ১৯২২সালের ১০ই এপ্রিল, সোমবার রাত্রি পৌনে নটায় শ্রীরামকৃষ্ণের মানসপুত্র রাজা মহারাজ নিত্যলীলায় প্রবেশ করলেন। শোকস্তব্ধ তারাসুন্দরী সুদূর দিগন্ত রেখায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মূক হয়ে রইলেন। রাজা মহারাজের তিরোভাবে এক অসীম শূণ্যতা যেন তারাসুন্দরীকে গ্রাস করলো। জগতটা যেন পাল্টে গেল। অসহায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে শোকে দুঃখে মৃত প্রায় হয়ে শয্যা গ্রহন করলেন। অভিনয় ছেড়ে দিলেন। আর যেন সংসারে থাকবেন না, এমন পাগলের মতো অবস্থা। এই অসীম শূণ্যতার মধ্যে রাজা মহারাজের স্মতিচারণ করে লিখলেন:
ব্রহ্মানন্দ শ্রীরামকৃষ্ণের মানসপুত্র, সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী, সর্বপূজ্য,সর্বমান্য মহারাজ, কি আকুল আগ্রহে,কি অকৃত্রিম স্নেহে, কি অপ্রত্যাশিত যত্নে আমাকে আপনার করিয়া লইলেন।”
মঠে যাবার মতো মানসিকতা অবস্থাটুকুও হারিয়ে ফেললেন। স্বামী শিবানন্দ লোক পাঠিয়ে তারাসুন্দরীকে ডেকে আনলেন।
– আর কার কাছে আসব মহারাজ? রাজা – মহারাজই তো নেই।
– সে কি গো নেই কি? ঠাকুর আছেন আমরা আছি।
আর সর্বোপরি আছে শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ। যে দীপ
তিনি জ্বেলে দিয়ে গেছেন – সে যে অনির্বাণ! সেই দীপে আলোকিত করো নিজেকে – নিজের শিল্প সুষমায় বাংলার মানুষকে।
অভিনেত্রীদের অন্যতমা। বিনোদিনীর মতো তারাসুন্দরীও সুলেখিকা ছিলেন। তাঁর রচনার মধ্যে
আত্মানুসন্ধান ও আত্মানুশোচনার একটি অকৃত্রিম
সুর সুস্পষ্ট হয়ে আছে। তাঁর সমগ্র জীবনের মধ্যে ত্যাগ ও বৈরাগ্যের রূপটি ফুটে ওঠে তা সমকালীন সকল অভিনেত্রীদের থেকে তাঁকে এক স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পাপস্মৃতি দূরে গেছে ফুটেছে নয়ন।
জীবনের গুরুভার,কাতর করে না আর
কে আমার ঘুচাইল ভ্রম আচ্ছাদন?
ক্ষুদ্রমতি নারীপ্রাণ, অর্থ আশা অভিমান
কালের কুটিল স্রোতে, হয়ে দিশাহারা।
অন্ধকার আলিঙ্গন, করিয়াছি আজীবন
প্রলোভনে সঁপি মন হইয়াছি সারা।
ভবিষ্যৎ বিভীষিকা, প্রেতময়ী মরীচকা
প্রতিকৃতি যদি তার,মিলেছে আমার।
যৌবনে প্রবৃত্তি যত,সৌরভে করবে রত
পরিমল পবিত্রতা কর অনুসার।
যতদিন মধু রবে, আদরের ধন হবে ,
অবহেলে বিলাইলে, মান আপনার।
না বুঝিলে ছলনা এ কুটিল ধরার।
সুবাস ধরছে বুকে,কি হেতু ছড়াও?
গুনের গরিমা নাই, অযতনে বুঝি তাই
সাধের সৌরভ হায়! অবাধে লুটাও।
বিকৃতি প্রকৃতি লয়ে কিবা সুখ পাও?
বিচিত্র চরিত্রে মুগ্ধ, অন্তর আমার!
খেলিলে পবন সনে, সুমধুর আবাহনে,
পরাগ ছড়ায়ে মোরে ডেক’ নাকো আর!
অনুমাত্র পড়ে আছি – ধরে এ সংসার!
(২৪শ পর্ব)
করেন। স্বামী ব্রহ্মানন্দ তাঁর জীবদ্দশায় এই ভূমিতে দাঁড়িয়ে ধ্যানস্থ অবস্থায় বলেছিলেন “সাধন ভজনের উপযুক্ত স্থান – গোমুখী ভূমি,ঈশানে ঈশান
( ভুবনেশ্বরের মন্দির) । তারাসুন্দরীর সাধন পদ্ধতি ছিল সত্যই অভিনব। কখনো ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেছে তিনি ধ্যানে ডুবে থেকেছেন। একবার পাশের স্কুলবাড়ীতে আগুন লেগেছিল, ওঁর গোয়ালঘর বাঁচাবার জন্য লোক জড় হয়েছে। হৈ হল্লা চিৎকারে মুখরিত চারিপাশ, তবুও তাঁর ধ্যান ভঙ্গ হয়নি তিনি
ধ্যানে ডুবে ছিলেন। আবার কখনো তাঁর ুপাসনা পদ্ধতির বৈচিত্র্য দেখে আনাতোল ফ্রাঁসের সেই বিখ্যাত গল্প. ” OUR LADY’S JUGGLER”- এর কথা মনে পড়ে যায়। মনে হয় যেন গল্পের সেই কাল্পনিক ভ্রাম্যমান পথের-যাদুকর সত্য সত্যই একদিন তারাসুন্দরীর শরীর ধারণ করে অবতীর্ণ হয়েছিলেন কলকাতার এক পতিতাপল্লীর অন্ধকার
গলিতে। কোথায় মিল – আনাতোল ফ্রাঁসোর কাল্পনিক যাদুকরের গল্পটিই বা কী? শোনা যাক সেই গল্প।
রামকৃষ্ণ সারদা আশ্রম (আঁটপুর) থেকে প্রকাশিত ২০১০-২০১১ বার্ষিক ‘হোমাগ্নি’ পত্রিকায় আমার অতিপ্রিয় ও আপনার জন শ্রী প্রদীপ রায়চৌধুরী মহাশয়ের কলম থেকে) II Ramakrishna sarada ashram Antpur
![]() |
রামকৃষ্ণ সারদা আশ্রম (আঁটপুর) |
(রামকৃষ্ণ সারদা আশ্রম (আঁটপুর) থেকে প্রকাশিত ২০১০-২০১১ বার্ষিক ‘হোমাগ্নি’ পত্রিকায় আমার অতিপ্রিয় ও আপনার জন শ্রী প্রদীপ রায়চৌধুরী মহাশয়ের কলম থেকে)
(১ম পর্ব)
দুঃখের মতো অননভিপ্রেত আর কি আছে? ব্যর্থতার মতো শূন্যতাবোধ আর কি হতে পারে? কে-ই বা জীবনে দুঃখ, ব্যর্থতা,পরাভব চায়? কিন্তু শিল্পের জগতে আমরা তাই চাই। তাই পরম শোকাবহ কাব্য অথবা ট্রাজিক নাটক আমাদের চেতনাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। যা আমাদের সমগ্র সত্তাকে বিস্ময়রসে মন্থন করে, চেতনাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে এবং মনকে তামসিক জড়তা থেকে মুক্ত করে সাত্ত্বিক রসভোগে প্রস্তুত করে। তাই শোকাবহতাই নান্দনিক সৃষ্টির মূল উপাদান।
চিরন্তন সেই নান্দনিক সত্তার অন্বেষণে একদিন দেহসুখে আবদ্ধ পঙ্কিল জীবন ত্যাগ করে অচেনা অজানা এক পথের পথিক হয়ে হেঁটে ছিলেন তিনটি নারী। পথের শর্ত মেনে ছেড়েছিলেন দেহের অনুপম সৌন্দর্যের গর্ব, পান্না হিরে চুনি খচিত জড়োয়ার প্রলোভন, লাখ টাকার ঝাড়বাতিগুলি থেকে বিচ্ছুরিত আলোর রোশনাই আর মদিরা মেদুর প্রহরে কলকাতার বাবুদের ছোঁড়া নজরানার হাতছানি। উথাল পাথাল করা জীবনের স্মৃতিগুলি কাকবিষ্টার মতো পরিত্যাগ করে যন্ত্রণা-অপমান, ললাঞ্ছনা-ঘৃণা আর সামাজিক বিষোদ্গার উপেক্ষা করে আলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল তিনটি দুঃসাহসী পথযাত্রী।অবিরাম পথ চলে একদিন পৌঁছে গিয়েছিলেন এক আনন্দময় অচিন দেশে। তাঁদের জন্যই বোধহয় অপেক্ষারত ছিলেন সেই নান্দনিক সত্তা। ভুবনমোহিনী হাসি ছড়িয়ে প্রসারিত দুটি হাত বাড়িয়ে তাঁদের গ্রহন করেছিলেন সেই আনন্দময় লোকে।
সেকালের থিয়েটারের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সামাজিক মর্যাদার পরিমাপ করতে গিয়ে ফ্রান্সিস লেগেটকে লেখা স্বামী বিবেকানন্দের একটি উক্তির কথাই বারবার মনে পড়ে। স্বামীজী লিখেছিলেন যে,” কলকাতার যে ফুটপাথে থিয়েটার, সেই ফুটপাথ দিয়ে চলতাম না পর্যন্ত।” তখন ভদ্রসমাজের চোখে থিয়েটার মানে নরক। শিক্ষিত ভদ্রসমাজ থিয়েটারের সঙ্গে শুধু সম্পর্ক ছেদই নয়, থিয়েটারের নাম পর্যন্ত ভদ্রসমাজে অচল হয়ে দাঁড়াল-আর অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও সমাজে অপাঙক্তেয় বলে ঘৃণিত হয়ে উঠলেন।
১৮৭৪ খ্রীষ্টাব্দের ডিসেম্বরে “সাপ্তাহিক সংবাদ” স্থম্ভে ‘সুলভ সমাচার’ লিখলো,”যাত্রার পরিবর্তে নাটক অভিনীত হতে দেখিয়া আমরা মনে করয়াছিলাম, এতদিনের পর বিশুদ্ধ আমোদ লাভ করিবার ব্যবস্থা হইল। কিন্তু সে আশায় ছাই পড়িল। বেশ্যাদ্বারা অভিনীত হইলে নাট্য-মন্দির আর বিশুদ্ধ আমোদের স্থল রহিল না। যে কারণে খেমটার নাচ দেখা মন্দ কাজ সেই কারণেই বেশ্যার অভিনয় দেখা অত্যন্ত দোষের।
বেশ্যার অভিনয়ে দুটি দোষ। যে সকল পুরুষ বেশ্যার সাথে অভিনয় করেন তাঁদের চরিত্র ভাল রাখা কঠিন। দ্বিতীয়ত যাঁরা বেশ্যার অভিনয় দেখেন তাঁদেরও মন কলঙ্কিত হইবার সম্ভাবনা অধিক। সুতরাং বেশ্যার অভিনয় অবাধে প্রচলিত হইলে ভারতের আরো একটি সর্বনাশের দ্বার খোলা হইবে।…..শুনিলাম কতকগুলি সুশিক্ষিত লোক নাকি বেশ্যার অভিনয়ে উৎসাহ দিয়া থাকেন।যে সুশিক্ষার ফল বেশ্যার আমোদ, সে সুশিক্ষার মুখে আগুন। ভারতের অস্থিচর্মসার এ অবস্থায় নির্দয়রূপে ভারতমাতার মর্মে আর আঘাত করিও না, যথেষ্ট হইয়াছে। ভাই সকল, ক্ষান্ত হও,তোমাদের পায়ে পড়ি।দেশ ডোবে, আর কু-নীতি বিস্তার করিও না।”
নাটক দেখার পর গিরিশের আদেশে সমস্ত নটীরা ঠাকুরকে ভূমিষ্ট হয়ে প্রণাম করলেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঠাকুরের পাদস্পর্শ করে নমস্কার করলেন, ঠাকুর তখন কেবলই বলে চললেন, “মা থাক্ মা থাক্, থাক্ মা থাক্।” এ এক অপূর্ব লীলা নাটক – বাংলার ঘৃণিত, অবহেলিত নটনটীদের সঙ্গে গ্রহন করলেন বাংলার রঙ্গমঞ্চকে। তাঁর নান্দনিক সত্তার এক অনন্য প্রকাশ সেদিন সাধারণ মানুষের সামনে যে আদর্শটিকে তুলে ধরলো তা হলো বৃত্তি বা জীবিকা বাদ দিয়ে অভিনেত্রীদের শিল্পীরূপে প্রত্যক্ষ করা।
নাট্টকার অভিনেতা অমৃতলাল বসু সেদিনের স্মৃতি
রোমন্থন করে বলেছিলেন, ” সেই প্রথমে যখন দীনা অভিনেত্রী রঙ্গমঞ্চে শ্রীচৈতন্যের বেশে নদীয়ায় ঈশ্বরাবতারের লীলা অভিনয় করিয়াছে, তখন আমাদিগের হীন রঙ্গালয়কে বৈকুন্ঠে উন্নত করিয়া দক্ষিনেশ্বরে প্রকটিত ঈশ্বরের অন্য অবতার শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব সেই অভিনয় বসিয়া দেখিয়াছেন, আমরা ধন্য হইয়াছি;দর্শক ধন্য হইয়াছেন ;বসুমতী ধন্য হইয়াছে।”
‘প্রহ্লাদ চরিত্রে’ প্রহ্লাদ, ‘বৃষকেতু’তে পদ্মাবতী, ‘নিমাই সন্ন্যাসে’ নিমাই, ‘দক্ষযজ্ঞে’ সতী রূপে এবং প্রহসনমূলক নাটক ‘বিবাহবিভ্রাটে’ বিলাসিনী কারফরমার ভূমিকায় বিনোদিনীর অভিনয় দেখে ঠাকুর মুগ্ধ হয়েছিলেন।
নিরখিয়া শ্রীগিরিশ পুলকিত মন।।
কি লম্পট, কি কপট, হীন হেয় জন।
বেশ্যা বারাঙ্গনা জাতি অভিনেত্রীগণ।।
আবাহন সকলেই বারে বারে করে।
পদরেণু ঠাকুরের শিরে ধরিবারে।।
অভিনেতা পুরুষেরা আসিয়া তথায়।
অভয় চরণরেণু ধরিল মাথায়।।
গিরিশের আশ্বাস বচনে পেয়ে বল।
উপনীত অবশেষে বারাঙ্গনা দল।।
গণনায় ষোলজনা যুবতী প্রখরা।
বসনে ভূষণে সজ্জা মুণিমনোহরা।।
দেখিয়া শ্রীপ্রভুদেব ভাবে ভরা চিত।
ধরিলা মোহন কন্ঠে শ্যামাগুণ গীত।।
মধুর প্রভুর স্বর পিকপাখী জিনি।
শ্রবনে মোহিত চিত যতেক রমণী।।
তারমধ্যে একজনা বিনোদিনী নাম।
মূর্ছিতা হইয়া পড়ে ধরায় অজ্ঞান।।
প্রসারিত ঠাকুরের শ্রীচরণ তলে।
দিব্যভাব সমুদিত অন্তর অঞ্চলে।।
তখন স্ত্রীলোক দর্শকদিগের মধ্যে কেহ কেহ এমন উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিতেন যে আমার বুকের ভিতরে গুর্ গুর করিত। আবার আমার শচীমাতার হৃদয়ভেদী মর্ম-নিদারুণ শোকধ্বনি নিজের মনের উত্তেজনা, দর্শকবৃন্দের ব্যাগ্রতা আমায় এত অধীর করিত যে আমার দুই চক্ষের জলে নিজে আকুল হইয়া উঠিতাম। শেষে সন্ন্যাসী হইয়া সংকীর্তনকালে, “হরি মন মজায়ে লুকালে কোথায়, আমি ভবে একা দাও হে দেখা প্রাণসখা রাখ পায়।” গানটি গাহিবার সময়ের মনের ভাব আমি লিখিয়া জানাইতে পারিব না। আমার সত্যই মনে হইত যে আমি তো ভবে একা, কেহ তো আমার নেই। আমার প্রাণ যেন হরি পাদপদ্মে নিজের আশ্রয়স্থান খুঁজিত । উন্মত্তভাবে
সংকীর্তনে মূর্ছিতা হইয়া পড়িতাম। ….এই চৈতন্যলীলার অভিনয় নহে, আমার জীবনের মধ্যে “চৈতন্যলীলা ” অভিনয়কালে আমার সকল অপেক্ষা শ্লাঘার বিষয় এই যে আমি পতিত পাবন পরমহংসদেব রামকৃষ্ণ মহাশয়ের দয়া পাইয়া ছিলাম। কেননা, সেই পরম পূজনীয় দেবতা ‘চৈতন্যলীলা’ অভিনয় দর্শন করিয়া আমায় তাঁর শ্রীপাদপদ্মে আশ্রয় দিয়াছিলেন। অভিনয় কার্য শেষ হইলে আমি শ্রীচরণ দর্শনের জন্য যখন অফিস ঘরে তাঁর চরণ সমীপে উপস্থিত হইতাম, তিনি প্রসন্নবদনে উঠিয়া নাচিতে নাচিতে বলিতেন ” হরি গুরু গুরু হরি! বলো মা হরি গুরু গুরু হরি! ” তাহার পর উভয় হস্ত আমার মস্তকে রাখিয়া আমার পাপদেহকে পবিত্র করিয়া আশীর্বাদ করিয়া বলিলেন “মা, তোমার চৈতন্য হউক। “
কেঁদ না নিমাই বলে।
কৃষ্ণ বলে কাঁদিলে সকলই পাবে
কাঁদিলে নিমাই বলে, নিমাই হারাবে
কৃষ্ণ নাহি পাবে-
গিরিশ বলরামবাবুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ” সাজঘরে গেলেনই বা কেন, কি দেখলেন আবার তাড়াতাড়ি চলেই বা এলেন কেন!” বলরামবাবু মৃদু হেসে বললেন, ” মঞ্চে গোপাকে দেখে ভাবলুম এই
অনবদ্য সুন্দরী নারীকে থিয়েটারওয়ালারা কোথা থেকে পেল? তাই তাকে দেখার জন্য মন অস্থির হয়েছিল। সাজঘরে গিয়ে দেখলাম যতটা সুন্দরী মঞ্চে লাগছিল ততটা সুন্দরী সে নয়। তবে বেশ সুন্দরী। ” তারপর একদিন অসজ্জিত অবস্থায় বিনোদিনীকে দেখে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে এই স্ত্রীলোকই সেদিন মঞ্চে গোপার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। বলরামবাবু বিনোদিনীর সাজসজ্জার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।
এ ব্যাপারে বিনোদিনী বিশেষ নিপুণা ছিলেন। বিনোদিনী ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় সাজসজ্জায় নিজেকে এমন পরিবর্তন করতে পারতেন যে, তাঁকে অপর এক ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখেও, এই নতুন ভূমিকায় যে তিনিই এসেছেন তা দর্শক বুঝতে পারতেন না। বিনোদিনীর জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্তে তাঁর পরিস্থিতি উপযোগী পরিচ্ছদে সুসজ্জিত হবার কৌশল একদিন সৃষ্টি করেছিল এক অনবদ্য ভক্ত – ভগবান লীলা – নাট্য। শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে বিনোদিনীর শেষ সাক্ষাতকার অত্যন্ত নাটকীয়। শ্রীরামকৃষ্ণ তখন দুরারোগ্য গলরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৫নং শ্যামপুকুর স্ট্রীটের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।
তাঁর ত্যাগী পার্ষদেরা বহিরাগত ভক্তসাধারণের বিশেষকরে বিশেষ করে স্ত্রীলোকেদের যাতায়াত নিষেধ করে দিয়েছেন। দর্শনব্যাকুল রূপসজ্জানিপুণ অভিনেত্রী বিনোদিনী একদিন সন্ধ্যায় কালীপদ ঘোষের ( দানাকালীর ) হাত ধরে পুরুষের মতো “হ্যাট কোটে” সজ্জিত হয়ে শ্যামপুকুর বাটীতে এসে উপস্থিত হলেন। ঠাকুরের পাহারায় থাকা ত্যাগী পার্ষদ প্রভৃতির কাছে দানাকালী বিনোদিনীকে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় দিলেন। বিনোদিনীর দিকে চেয়ে কারুর সন্দেহ পর্যন্ত হলো না যে ইনি মহিলা এবং ভারতীয়। ঠাকুরের ঘরেও তখন কেউ নেই। দানাকালী ঠাকুরের ঘরে প্রবেশ করে বললেন, ” ঠাকুুর আপনার শ্রীচরণ দর্শনের অভিপ্রায়েই বিনোদিনী বিদেশী ইউরোপীয় পুরুষের ছদ্মবেশে সবাইকে বিমূঢ় করে আপনার কাছে উপস্থিত হয়েছে। ” রঙ্গপ্রিয় শ্রীরামকৃষ্ণ খিলখিল করে হাসতে লাগলেন। উপস্থিত সকল পার্ষদের চোখে ধূলো দিয়ে তাঁর কাছে এভাবে আসাতে তাঁর আনন্দের সীমা রইলো না। তিনি বিনোদিনীর সাহস, দক্ষতা, ও অপরিসীম শ্রদ্ধাভক্তি দেখে তারিফ করতে লাগলেন। প্রসন্ন বদনে বিনোদিনীর দিকে চেয়ে বললেন , ” আয় মা বোস।” বিনোদিনীকে কাছে বসিয়ে তাঁকে ঈশ্বরীয় কথায় উদ্বুদ্ধ করে বললেন,
” ঈশ্বরে বিশ্বাসবতী হয়ে, তাঁর শরণাপন্ন হয়ে জীবনের বাকী দিনগুলি কাটিয়ে দিও মা। ভয়মুক্ত হয়ে থাক। ” বিনোদিনীও তাঁর শ্রীচরণে মাথা রেখে
আকূল অশ্রুবিসর্জনে নিজেকে সিক্ত করে তুললেন। ঠাকুরের অশেষ কৃপা মাথায় ধারণ করে
ধীর পদক্ষেপে কালীপদ ঘোষের সঙ্গে চলে গেলেন।
তাঁর দৈনন্দিন জীবনের সকল দিকটাই তিনি জানতেন। তাই তাঁর ঘরোয়া জীবনের কথা, তাঁর
আধ্যাত্মিক জীবনের কথা বা তাঁর অভিনয়ে প্রীত শ্রীরামকৃষ্ণের আশীর্বাদের কথা যেমনটি তিনি বিনোদিনীর মুখে শুনেছেন , তাই লিপীবদ্ধ করে গেছেন। প্রভাতী খান্না লিখেছেনঃ- ” বিনোদিনী নিজবাড়ীর তিনতলায় ঠাকুরঘর করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠিত করেন রাধাকৃষ্ণ মূর্তি,গোপাল ও শালগ্রাম শিলা। রাধাকৃষ্ণের পূজা করতে আসতেন পুরোহিত। সেই ঠাকুরঘর ছাড়াও তাঁর নিজস্ব একটি ঘর ছিল-বিনোদিনীর নিজস্ব পূজাগৃহ। সেখানে ছিল শুধু শ্রীরামকৃষ্ণের পট। এখানে পূজা করতেন তিনি নিজে। গীতাপাঠ করতেন, আহ্নিক করতেন -শ্রীরামকৃষ্ণের পট পূজা করতেন ফুল চন্দনাদি দিয়ে।”
হরিনাম হলে স্বয়ং শ্রীহরি তা শুনতে আসেন, শ্রীরামকৃষ্ণ স্বয়ং তার প্রমাণ প্রদর্শন করলেন। তাঁর পদধূলিলাভে কেউই বঞ্চিত হননি। সকলেই পতিত কিন্তু পতিতপাবন যে পতিতকে কৃপা করেন, এ কথা শুধু পুরাণের পাতায় বদ্ধ হয়ে রইলো না – সত্যের আকার ধারণ করে পতিতমন্ডলীর হৃদয়ে পাঁচ সিকে পাঁচ আনা বিশ্বাসে রূপান্তরিত হলো।
বিনোদিনী অতি ধন্যা , শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন – ” মা , তোর চৈতন্য হোক।” যাঁরা দুর্গম হিমালয়ের পর্বতকন্দরে যুগ যুগ ধরে কঠোর সাধনায় লিপ্ত হয়ে আছেন তাঁদের কাছেও এমন আশীর্বাদ স্বপ্নের অতীত। বিনোদিনীর সাধন – যথাজ্ঞান কায়মনোবাক্যে মহাপ্রভুর ধ্যানে নিযুক্ত থাকা। অষ্টপ্রহর গৌরাঙ্গমূর্তি ধ্যানের ফল বিনোদিনী লাভ করেছিলেন নিত্যানন্দের খোলে শ্রীচৈতন্যের পুনঃ আবির্ভাবে। অর্দ্ধ শতাব্দী পার হয়ে গেছে অনেক দিন তবু আধুনিক বিচারশীল মানুষের কাছে সাধিকা বিনোদিনী পারিপার্শ্বের নিরিখে উত্তরিত নারী। যতদিন শ্রীরামকৃষ্ণ নাম জগতে উচ্চারিত হবে, ততদিন বিনোদিনী উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের রূপ ধরে স্খলিত, পথভ্রষ্ট পথিকের যাত্রা পথের দিশারী হয়ে বিরাজ করবেন।
” তারাসুন্দরীর আশ্চর্য প্রতিভা। ওর ওপরে একটা কবিতা রচনার ইচ্ছা আছে।”
– মহারাজ (স্বামী ব্রহ্মানন্দ) সেবাঅন্তে বিশ্রাম করিতে যাইবেন-আমরা উভয়ে (বিনোদিনী ও তারাসুন্দরী) প্রণাম করিলাম। মহারাজ দেখিয়াই বলিলেন,” এই যে বিনোদ, এই যে তারা- এসো এসো,এত বেলা করে এলে–মঠের খাওয়া দাওয়া যে সব হয়ে গেছে – আগে একটু খবর দিতে হয় -তাইতো বসো বসো।” দেখলাম আমাদের জন্য বড়ই ব্যস্ত। তাঁহার আদেশে তখনই প্রসাদ আসিল। লুচি ভাজাইবার ব্যবস্থা হইল। আমরা ঠাকুর প্রণাম করিয়া মঠে প্রসাদ পাইলাম। মহারাজের তখন আর বিশ্রাম করা হইল না। একটি সাধুকে ডাকাইয়া বলিলেন- ” এদের সব মঠের কোথায় কি আছে দেখিয়ে দাও।” পরে পরিচয় হইলে জানিলাম-সাধুটির নাম স্বামী অমৃতানন্দ।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বললেন, ” ঠাকুরের কাছে আসতে কারুর তো কোন বাধা নেই।”
WHY. SHOULD I"? II Mr. Allen Swift: Born – (1908 – Died 2010)
Mr. Allen Swift: Born – (1908 – Died 2010)
![]() |
Mr. Allen Swift: Born – (1908 – Died 2010) |
Can you imagine even having identical automobile for eighty two years?
Mr. Allen Swift (Springfield, Massachusetts ) received this 1928 Rolls-Royce Piccadilly-P1 Roadster from his father, novel – as a graduation gift in 1928. He drove it up till his death … At the age of 102!!! He was the oldest living owner of a automobile that was purchased new. Just thought you would like to check it.
It was given to a Springfield deposit when his death. It has 1,070,000 miles on that, still runs sort of a Swiss watch, dead silent at any speed and is in good cosmetic condition. eighty two years – that is or sothirteen,048 miles annually (1087 per month)…1,070,000 miles ( one,712,000 kilometers!!
That’s British engineering of a bygone era. I do not suppose they create them like this anymore!
Albert Einstein’s adult female usually urged that he dress a lot of professionally once he headed off to figure.”WHY. ought to I”?*he would invariably argue.
“EVERYONE is aware of American state THERE”. once the time came for Einstein to attend his 1st major conference, she begged him to decorate up a touch.”WHY ought to I”? aforementioned Einstein,,”NO ONE is aware of American state THERE “
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }
Donkeys are singing song in a weddings of camels.
What are the simple principles of life
– Never think you are nothing
– Never think you are everything
– But always think you are something & you can achieve anything
यदि कोई व्यक्ति इस बच्चे को पहचानता हो तो इस बच्चे के घर वालो को बता दे आप छोटा सा प्रयास करें यह सन्देश हर फ़ोन तक पहुच जाये तो शायद बच्चे को परिवार मिल जाये
श्रधेय भारत वासियों
आप सभी से एक नम्र निवेदन है कि आज एक बच्चा जो शायद अपने बाबा या पिता के साथ कही जा रहा था रास्ते मे ट्रैन के अंदर किसी अज्ञात कारण से बच्चे के साथ वाले शख्स की मृत्यु हो गयी है और बच्चा बहुत परेशान है बच्चा इस समय मथुरा जंक्शन के जी आर पी थाने पर है
यदि कोई व्यक्ति इस बच्चे को पहचानता हो तो इस बच्चे के घर वालो को बता दे आप छोटा सा प्रयास करें यह सन्देश हर फ़ोन तक पहुच जाये तो शायद बच्चे को परिवार मिल जाये
Night is the ideal time for spiritual practice. Meditation and japa should be performed regularly with great devotion. They purify the mind
What keeps our mind in high level? December 25
Night is the ideal time for spiritual practice. Meditation and japa should be performed regularly with great devotion. They purify the mind. Continued for some time, regular practice of this kind is conducive to the establishment of a constant spiritual mood, giving one a taste of inner joy. A person should not leave his seat immediately after meditation, but should sit for a while thinking about the object of his meditation. Then he may recite prayers and hymns along similar lines to intensify and stabilize the meditative mood and inner joy. Even after leaving his seat he should not talk with anyone, but should rather be contemplative and remain by himself for some time. Practice like this fosters a continuous undercurrent of meditation, helping to keep the mind on a high level and bringing to the heart great joy.
(p.5, For Seekers of God, Swami Shivananda’s advice on 25 December 1920). Divine night 🌃











