ভগবান লাভ করতে হলে সাধকের চাই :
(১) ধৈর্য। (২) অধ্যাবসায়। (৩) দেহ ও মনের পবিত্রতা। (৪) তীব্র আকাঙ্খ বা ব্যাকুলতা। (৫) ষট সম্পৎ অর্থাৎ শম (অন্তঃকরণের স্থিরতা), দম (ইন্দ্রিয়নিগ্রহ), উপরতি (বিষয়ে আসক্তিত্যাগ), তিতিক্ষা (সকল প্রকার দুঃখে অবিচল থাকা), শ্রদ্ধা (গুরু ও শাস্ত্ৰবাক্যে বিশ্বাস) ও সমাধান (ইষ্টে চিত্তস্থাপন)।
২। সাধন-ভজনের দ্বারা যে সব উপলব্ধি বা দর্শনাদি হবে তা গুরু ছাড়া আর কাকেও বলবে না। তােমার আধ্যাত্মিক সম্পদ – তােমার অন্তরতম চিন্তাধারা – নিজের অন্তরে লুকিয়ে রাখবে। তা অপরের কাছে প্রকাশ করবে না। উহা তােমার পবিত্র গুপ্তধন, একমাত্র ভগবানের সঙ্গে একান্তে উপভােগ্য বস্তু। সেই রকম তােমার দোষ, ত্রুটি ও অনাচেরের কথা অপরের কাছে বলে বেড়াবে না। তাতে আত্মসম্ভম খােয়াবে, ও অপরের কাছে হীন বলে প্রতিপন্ন হবে। নিজের দোষ, দুর্বলতা ভগবানকে জানাবে ও তার কাছে প্রার্থনা করবে যেন তিনি সেগুলি শােধরাবার শক্তি দেন।
৩। ধ্যান করতে বসে প্রথমে খানিক্ষণ স্থির হয়ে বসে মন যেখানে যেতে চায় যেতে দাও। ভাববে, আমি সাক্ষী, দ্রষ্টা। বসে বসে মনের ভাসা-ডােবা, দৌড়ঝাপ দেখ, লক্ষ্য কর। ভাববে, আমি দেহ নই, ইন্দ্রিয় নই, আমি মন হতে সম্পূর্ণ পৃথক। মনও জড়, জড়েরই একটা সূক্ষ অবস্থা। আমি আত্মা, প্রভু মন আমার দাস। যখনই কোন বাজে চিন্তা মনে উঠবে, তখনই সেটাকে জোর করে দাবিয়ে দেবার চেষ্টা করবে।
৪ ।
সাধারণতঃ বিশ্রামের সময় বা নাক দিয়ে নিঃশ্বাস পড়ে, কাজের সময় ডান নাক দিয়ে পড়ে, ধ্যানের সময় দু’নাক দিয়ে পড়ে। যখন দেহ মন শান্ত হয়ে আসবে আর দু’নাক দিয়ে সমান ভাবে নিঃশ্বাস পড়বে, তখন বুঝবে ঠিক ঠিক ধ্যানের অনুকুল অবস্থা হয়েছে। তবে দেখবার জন্য নিঃশ্বাসের দিকে অত নজর দেবে না, অথবা এইটিকে মাপকাঠি করে কর্ম নিয়ন্ত্রণ করবে না।
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});