@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }
আজ এ রাজ্যের অবস্থা আবার দেশভাগের মর্মান্তিক পরিস্থিতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৪৬ সালে কলকাতার ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ আর সেই সঙ্গে কাতারে কাতারে হিন্দু হত্যা, তার কিছুদিন পরেই নােয়াখালিতে কোজাগরী পূর্ণিমার দিন শুরু হল নরসংহার। গত কয়েক বছরে খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণ, কালিয়াচকে মুসলমান জেহাদীদের থানা জ্বালানাে, ধূলাগড়ের ভয়ানক দাঙ্গা বা বশিরহাটে দাঙ্গা আর একতরফা হিন্দু হত্যা দেখে মনে আসছে ১৯৪৬/৪৭ সালের স্মৃতি।
সেদিনের মুসলিম লীগ সরকারের যে ভূমিকা ছিল আজ রাজ্য সরকার প্রায় একই ভূমিকা পালন করছে। খাগড়াগড়ের মূল অপরাধী শাকিল আহমেদ ছিল বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী পার্টি অফিসের উপরের তলায় ইমপ্রােভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বানাবার কারখানা বানিয়েছিল ওই জেহাদী। কালিয়াচকে বাংলাদেশ সীমান্তের একটা থানা জ্বালিয়ে দিল জেহাদীরা। সরকার নির্বাক। বসিরহাটের দাঙ্গাতে মহামহিম রাজ্যপালের উদ্যোগে সেনা নামানাে হয়েছিল। নাহলে কয়েক হাজার হিন্দু জবাই হত। রাজ্য সরকার নীরব দর্শক। সরকারী গাফিলতিতে প্রাণ হারালাে কার্তিক ঘােষের মত বহু নিরীহ হিন্দ। ধূলাগড়কে দিনের আলােতে ভেঙ্গে তছনছ করে জ্বালিয়ে দেওয়া হল। তেহট্টে স্কুলে সরস্বতী পুজোর দাবী করে রাস্তায় মার খেল স্কুলের নিস্পাপ ছাত্রীরা। মহরমের আগের দিন মহরমের মহড়া দেবার অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হল দু–দুবছর দুর্গাপুজোর বিসর্জন। অথচ এটা তাে ভারতবর্ষ! পাকিস্তান বা বাংলাদেশ নয়!
রামনবমীর শােভাযাত্রায় যােগদানের জন্য গত দুই বছরে ৩০০ জনের বেশি ভক্তকে মাসের পর মাস কারাবরণ করতে হয়েছে। অথচ মহরমের দিনে কলকাতার রাস্তাতে ভয়ানক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল করলে, বা মহরমে রাজ্যের মন্ত্রী খােলা তলােয়ার হাতে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ রাজ্যে হিন্দ হিসাবে জন্মগ্রহণ করাটাই যেন অপরাধ ধরা। হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দির, দেবীমন্দিরের উন্নয়ন সমিতির মাথায় কেন অহিন্দুকে বসানাে হয়েছে? | দেশভাগের আগে যেসব দাবী করা হয়েছিল গত দু‘বছর থেকে সেইসব মৌলবাদী দাবীগুলি আবার করা হচ্ছে। গত বছর ৪ অক্টোবর তারিখে কলকাতায় একটি মৌলবাদী সংস্থার র্যালি হয়। এই র্যালিতে পুরভাগে ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ মৌলবাদীরা।
তারা কলকাতার রাজপথে তিনটি দাবী করেছিল—
(১) কলকাতায় মুসলমান মেয়র করতে হবে।
(২) কলকাতায় মুসলমান পুলিশ কমিশনার নিয়ােগ করতে হবে।
(৩) রাজ্যের ইমাম ও মােয়াজ্জেমদের ভাতা দ্বিগুণ করতে হবে।
রাজ্য সরকার এই দাবীর ঠিক ২ মাসের মাথায় ওই মিছিলের প্রথম দাবী পূরণ করেছে। যে কলকাতা মেয়রের চেয়ারে বসেছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেখানে আজ বসেছেন এমন একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতা যিনি নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রকে অবলীলায় মিনি পাকিস্তান বলতে পারেন। দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসছে পশ্চিম বাংলাদেশ! পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল বাংলার হিন্দুহুল জেলাগুলিকে নিয়ে। লাগাতার মুসলমান অনুপ্রবেশ আর হিন্দুদের উপর ভয়ানক অত্যাচারের জন্য বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলি এক এক করে হিন্দুদের সংখ্যা প্রত্যেক দশ বছর পর পর লাগাতার কমেছে। এতে সমস্যা বেড়েছে, বিপদ বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গের। ঘটেছে খাগড়াগড় কালিয়াচকের মতাে ঘটনা।
অন্যদিকে ১৯৪৭ সালের পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানে লাগাতার হিন্দুদের উপর অত্যাচার হয়েছে। মায়ের সামনে মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছে, মেয়ের সামনে মা গণধর্ষিতা হয়েছেন, কোথাও কোন দর্গামন্দিরে মা–মেয়ে–ঠাকমা তিন প্রজন্ম গণধর্ষিতা হয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে পরেই সামান্য কয়েকটি বছর বাদ দিয়ে বাকি সময় প্রতিমাসে বাংলাদেশের প্রতি জেলায় নিরীহ হিন্দদের হত্যা করা হয়েছে। অবাধে লুঠ হয়েছে সম্পত্তি। তাই পূর্ববাংলা থেকে সব হারানাে হিন্দুদের স্রোত লাগাতার এ দেশে এসেছে। এই সর্বশ্রান্ত উদ্বাস্তু হিন্দুদের জন্য কংগ্রেস বা কমুনিষ্ট সরকার কখনাে কিছু করেনি। তাদের দণ্ডকারণ্যের জঙ্গলে নয়তাে ওডিষ্যার উষর মালকানগিরিতে পাঠিয়েছে কংগ্রেস সরকার। জ্যোতি বসুর বামফ্রন্ট সরকার মরিচঝাপিতে গুলি করে মেরেছে শরণার্থী হিন্দু উদ্বাস্তুদের। এই প্রথম কোন কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববঙ্গ থেকে আসা বাঙালি উদ্বাস্তুদের জন্য কোন সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ জানুয়ারি লােকসভায় পাশ করেছে নাগরিকত্ব সংশােধনী বিল, ২০১৮।
এই বিলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতাে পাঁচটি দেশ থেকে অত্যাচারিত হিন্দুরা এ দেশে স্থায়ীভাবে থাকতে পারবেন। এত দিন পরে বাঙালি হিন্দ উদ্বাস্তুদের উপর পলিশ বা রাজনৈতিক দলের অত্যাচার বন্ধ হতে চলেছে। কিন্তু লােকসভায় এর প্রবল বিরােধিতা করেছে বামফ্রন্ট আর তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবী কেবল হিন্দু উদ্বাস্তুকে থাকতে দিলে হবে না। মুসলমান অনুপ্রবেশকারীকেও ভারতে থাকতে দিতে হবে। কারণ ওদের কাছে সবহারানাে হিন্দু উদ্বাস্তু আর খাগড়াগড়ের নায়ক শাকিল আহমেদ সমান। দু‘জনেরই একটা করে ভােট।
এবার দশবার ভাবুন। আজ আপনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে আপনার সন্তানের ভবিষ্যত।
https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});