তিনি কাশ্মীরে ও দাক্ষিণাত্যে ‘অম্বা’ ও ‘অম্বিকা’ নামে, গুজরাটে ‘হিঙ্গলা’ ও ‘রুদ্রাণী’ নামে, কান্যকুব্জে ‘কল্যাণী’ নামে, মিথিলায় ‘উমা’ নামে এবং কুমারিকা প্রদেশে ‘কন্যাকুমারী’ নামে পূজিতা হইয়া থাকেন।

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

*দেবী দুর্গা*

KUMARI PUJA,শ্রীশ্রীদুর্গাদেবী
KUMARI PUJA

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

ভারতবর্ষে হিন্দুদিগের দুর্গাপূজা সকল পূজা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এই পূজাকে হিন্দুমাত্রেই অতিশয় শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। ইহাকে হিন্দুদের জাতীয় উৎসব বলা যাইতে পারে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে জগন্মাতা শ্রীশ্রীদুর্গাদেবী ভিন্ন ভিন্ন নামে পূজিতা হইয়া থাকেন। 
তিনি কাশ্মীরে ও দাক্ষিণাত্যে ‘অম্বা’ ও ‘অম্বিকা’ নামে, গুজরাটে ‘হিঙ্গলা’ ও ‘রুদ্রাণী’ নামে, কান্যকুব্জে ‘কল্যাণী’ নামে, মিথিলায় ‘উমা’ নামে এবং কুমারিকা প্রদেশে ‘কন্যাকুমারী’ নামে পূজিতা হইয়া থাকেন। 
এইরূপে হিমালয় হইতে কুমারিকা-অন্তরীপ পর্যন্ত এবং দ্বারকাপুরী ও বেলুচিস্তানের হিঙ্গলাজ হইতে পুরীতে শ্রীজগন্নাথক্ষেত্র পর্যন্ত ভারতরর্ষের সর্বত্রই ‘শারদীয়া দুর্গাপূজা’ অথবা ‘নবরাত্র’ নামে পূজা-পার্বণ অনুষ্ঠিত হইয়া থাকে। এই নব-রাত্রিতে নেপাল, ভুটান, সিকিম ও তিব্বত প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরাও দেবীর পূজা করিয়া থাকেন। ভারতের বাহিরে চীন, জাপান, কম্বোজ, চম্পা, যবদ্বীপ (যাভা) প্রভৃতি দেশের যেখানে যেখানে হিন্দুধর্ম অথবা বৌদ্ধধর্ম প্রচারিত সেখানে সেখানেই শ্রীশ্রীদুর্গাদেবী পূজিতা হইয়া আসিতেছেন। জাপানে বৌদ্ধধর্ম প্রচারিত হইবার চল্লিশ বৎসর পরে রাজ্ঞী সিন্‌কোর রাজত্বকালে (৪৯৩-৬২৮ খ্রীষ্টাব্দ) চীন হইতে মহাযান-বৌদ্ধধর্মের অবলোকিতেশ্বর কোয়াননের মধ্যে একটি দেবীমূর্তির পূজা হইয়া থাকে। জাপানী ভাষায় তাঁহার নাম ‘চনষ্টী’। ইহা সংস্কৃত ‘চণ্ডী’ শব্দের অনুরূপ। তাঁহার আর একটি নাম ‘কোটীশ্রী’ অথবা ‘সপ্তকোটী বুদ্ধমাতৃকা চনষ্টীদেবী’। ইনিই হিন্দুদিগের শ্রীশ্রীদুর্গাদেবী।

চীন দেশের ক্যান্টন শহরের বৌদ্ধ মন্দিরে এক দেবীর মূর্তি আছে, তাঁহার শত হস্ত। ইনিও শ্রীশ্রীদুর্গাদেবীর অপর এক রূপ। মহাযান বৌদ্ধতন্ত্রে বজ্রতারার উল্লেখ আছে। ইনি তিব্বত, মহাচীন, জাপান প্রভৃতি দেশে এখনও পূজিতা হইয়া থাকেন। ইনিও শ্রীশ্রীদুর্গাদেবীর অন্যতম একটি মূর্তি। ঋগ্বেদে ‘দুর্গা’ নামটি পাওয়া যায় না সত্য, কিন্তু দুর্গাপূজার সময়ে যে ‘দেবীসূক্ত’ পাঠ করা হয় সেই সূক্তটি ঋগ্বেদে (১০/১২৫) আছে। ঐ দেবীসূক্তে যে জগন্মাতা আদ্যাশক্তি বর্ণিত হইয়াছেন তিনি অগ্নিরূপা। বৈদিক যুগে যাগযজ্ঞের প্রথা প্রচলিত ছিল। যজ্ঞের অগ্নিতে সেই সময়ে সকল দেবদেবীকে আবাহন করা হইত এবং যে দেবতার উদ্দেশ্যে আহুতি দেওয়া হইত সেই দেবতার নামে যজ্ঞীয়-অগ্নির নামকরণও করা হইত। এখনও প্রত্যেক বা প্রতিটি পূজার শেষে হোম না করিলে পূজা সম্পূর্ণ হয় না। বৈদিক যুগে দুর্গার প্রতিমা ছিল না। হব্যবাহী অগ্নিশিখাই তাঁহার (দুর্গার) রূপ। পরে যখন প্রতিমার প্রচলন হইল তখন সেই অগ্নিশিখার রূপই দেবীর গায়ের পীতাভ-রঙ বা বর্ণ হইয়া দাঁড়াইল। ঋগ্বেদের খিল-অংশে দুর্গাদেবীকে ‘রাত্রিদেবী’ বলা হইয়াছে। যজুর্বেদের তৈত্তিরীয়-আরণ্যকে ঐ দেবী ‘হব্যবাহিনী-অগ্নি’ নামে অভিহিত হইয়াছেন। 
তাঁহার সপ্তজিহ্বাকে অথর্ববেদের অন্তর্গত মুণ্ডকোপনিষদে (১।২।৪) বর্ণনা করা হইয়াছে। 
যথা,—

‘‘কালী করালী চ মনোজবা চ সুলোহিতা যা চ সুধূম্রবর্ণা/ 
স্ফুলিঙ্গিনী বিশ্বরুচী চ দেবী লেলায়মানা ইতি সপ্ত জিহ্বা।।

’’অর্থাৎ কালী করালী মনোজবা, সুলোহিতা, সুধূম্রবর্ণা, স্ফুলিঙ্গিনী, বিশ্বরুচী এই সপ্তজিহ্বার শিখার দ্বারা দেবতা হব্যকে (ঘৃতাহুতি) গ্রহণ করেন। শতপথ-ব্রাহ্মণে পুনরায় আট প্রকার অগ্নির নাম আছে, যথা—রুদ্র, সর্ব, পশুপতি, উগ্র, অশনি, ভব, মহাদেব ও ঈশান। দক্ষতনয়া বেদীর উপরে প্রজ্বলিত ‘মহাদেব’ (শর্ব) নামক অগ্নি হইতেই কালক্রমে গৌরীপট্টের উপরে শিবলিঙ্গের মূর্তি রচিত হইয়াছে। এইরূপ অনুমান করা যাইতে পারে। বিভিন্ন পুরাণেও এই বৈদিক যজ্ঞবেদী দক্ষতনয়া অগ্নিরূপী মহাদেবের পত্নী ‘সতী-রূপে’ বর্ণিত হইয়াছেন। বৈদিক যজ্ঞবেদীর চতুষ্পার্শ্বে অন্য চারিটি দেবতার স্থান কল্পিত হইত। একদিকে বেদমাতা সরস্বতী বা বাগ্‌দেবী, অপরদিকে ধনধান্যপ্রদায়িনী লক্ষ্মীদেবী এবং একদিকে যজ্ঞরক্ষাকর্তা কার্তিকেয় এবং অপরদিকে থাকিত গণনাঃ গণপতি,—যিনি সকল মানবের পতি (পালনকর্তা) চতুর্হস্তবিশিষ্ট। 

গণনাগক গণপতির 

  1. প্রথম হস্ত যজ্ঞের হোতা, 
  2. দ্বিতীয় হস্ত ঋত্বিক, 
  3. তৃতীয় হস্ত পুরোহিত এবং 
  4. চতুর্থ হস্ত যজমান কল্পিত হইত।
_*স্বামী অভেদানন্দের ‘দেবী দুর্গা’ থেকে*_

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

OM AIM HREEM KLEEM CHAMUNDAYE VICHAY

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

OM AIM HREEM KLEEM CHAMUNDAYE VISHAY 

The Importance:

Navarna Mantra is the bija mantra of every one of the three Divine Mothers, Maha Kali, Maha Lakshmi, and Maha Saraswati. So it encapsulates every one of the three Mothers. The Mantra is 
OM AIM HREEM KLEEM CHAMUNDAYE VICHY. 
It gives a wonderful clarification to the mantra.

The point is included two letters an and I and the Anusara, m. an is the letter of creation and I am the letter of the causal body and m is flawlessness. The point is the seed of astuteness. It implies that the production of flawlessness in the causal body is intelligence. The point is Maha Saraswati.
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

OM AIM HREEM KLEEM CHAMUNDAYE VISHAY

OM AIM HREEM KLEEM CHAMUNDAYE VISHAY 

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Hrim is everything that can be seen by the faculties, considered in the brain, known through instinct or reflection, and past. Hrim is Maha Lakshmi.

Klim is involved ka, la, I, and m. Ka implies the reason, la implies the gross body, showed presence, I mean the causal body, and Anusara m implies flawlessness. So Klim is the reason for the ideal relationship between the gross body dissolving into the causal body. Klim is Maha Kali.

Cha intends to move, Munda implies head. So Chamunda is She who moves in the head, which means the worldview of the real world, everything that we know, everything that we see.

OM AIM HREEM KLEEM CHAMUNDAYE VISHAY

  1. Yai intends to or unto.
  2. Vic implies all that is understandable which is called samvit
  3. Ce mean Chaitanya, awareness


OM AIM HREEM KLEEM CHAMUNDAYE VISHAY 

Accordingly, the mantra implies that the three guns, the three Goddesses are always moving in the worldview of reality bringing forth all that is understandable as seen by cognizance.


When we profoundly intuitively the importance we stop to state to the Goddess, ” kindly don’t change”. We make ourselves the observer of nature and free us from the torment of connection. “

Advantages: The love of Goddess Durga expels the impact of a wide range of dark enchantment, horrible impact of negative planets, Bad luckiness, medical issues, issues because of adversaries and so on.

" পূজার দিন লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে , ছেলেরা সবাই খাটছে ; ওমা , এইসময়ে নরেন এসে বললে – ‘ মা , আমার জ্বর করে দাও!’ ওমা , বলতে না বলতে খানিক বাদে হাড় কেঁপে জ্বর এল। আমি বলি – ‘ওমা একি হল ? এখন কি হবে ? ‘

কুমারী পূজা
কুমারী পূজা 
স্বামীজির ‘ জ্যান্ত দুর্গা ‘ —–
রবিরার সেদিন ছিল , মহাঅষ্টমী । মঠে অসংখ্য নরনারী ভিড় করেছে , কেউ কেউ স্বামীজিকে দর্শন করতে এসেছে। হাজার হাজার লোকে বসে প্রসাদ গ্রহণ করছে, বিশেষ করে দরিদ্রনারায়ণের প্রতি বিশেষ যত্ন ছিল স্বামীজির নির্দেশ। কিন্তু সেদিন তিনি নিজেই জ্বরে পড়লেন।
শ্রীমা জানিয়েছেন – ” পূজার দিন লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে , ছেলেরা সবাই খাটছে ; ওমা , এইসময়ে নরেন এসে বললে – ‘ মা , আমার জ্বর করে দাও!’ ওমা , বলতে না বলতে খানিক বাদে হাড় কেঁপে জ্বর এল। আমি বলি – ‘ওমা একি হল ? এখন কি হবে ? ‘
নরেন বললে – ‘ কোন চিন্তা নেই মা, সেধে জ্বর নিলুম এই জন্যে যে , ছেলেগুলো প্রাণপণ খাটছে ,তবু কোথায় কি ত্রুটি হবে , আমি রেগে যাব , চাই কি দুচারটে থাপ্পড়ই বসিয়ে দেব। তখন ওদেরও কষ্ট হবে , আমারও। তাই ভাবলুম – কাজ কি , থাকি কিছুক্ষণ জ্বরে পড়ে !’

পরদিন সোমবার , প্রাতে সন্ধিপূজা ! ভোর সাড়ে ছটায় স্বামীজি পূজামণ্ডপে এসে বসলেন । শ্রীদুর্গামায়ের রাঙা চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিলেন। উজ্জ্বল , জ্যোতির্ময় , সহাস্য মুখমণ্ডল – ভাবগম্ভীর ভাবে বসে আছেন। স্বামীজি কুমারী পূজা করলেন। সে এক অপূর্ব দৃশ্য ! শ্রীমা তখন সেখানে উপস্থিত। সাধারণত , অষ্টমীতেই কুমারীপূজা হয় কিন্তু স্বামীজি অসুস্থ ছিলেন বলে পরের দিন করলেন।
বেলুড় মঠের দুর্গাপূজার একটি বিশেষ অনুষঙ্গ হল – কুমারীপূজা।
শ্রীরামকৃষ্ণ কুমারীকে ভগবতীর অংশ বলেছেন। শ্রীমা সারদা দেবীকে ষোড়শীরূপে পূজা করা , আবার সাধনা শেষে ষোড়শীরূপিণী জগন্মাতার শ্রীচরণে তাঁর সব সাধনার ফল সমর্পণ করেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের মতে – মাতৃভাব বড় শুদ্ধভাব, কুমারীকে দেবীরূপে দেখা , তাকে জননীজ্ঞানে পূজা করা – সেই শুদ্ধ সত্ত্বভাবেরই সার্থক প্রকাশ।
বেলুড় মঠের পূজায় মায়ের নির্দেশে পশুবলি নিষিদ্ধ হয়। তবে নিয়ম রক্ষার্থে কিছু ফল বলি হিসাবে উৎসর্গ করা হয়। তাই নবমীতে পশুবলি হয় না।
– জয় মা জগজ্জননী ।
কুমারী পূজা
কুমারী পূজা 
কুমারী পূজা
কুমারী পূজা 

মুসলমান হয়েও দুর্গাপুজো কেন? তাও ৬০০ বছর ধরে?

MA DURGA
MA DURGA

৬০০ বছর ধরে দুর্গার পুরোহিত জামালের পরিবার

—————————————————–
………………………………

রাজস্থানের এক সমৃদ্ধ জনপদ যোধপুর। একদা এটি ছিল রাজার অধীন। যোধপুরের বেশ কিছুটা মরুভূমি। ভোপালগড় এমনই মরু অঞ্চল। আছে ছোট ছোট পাহাড়ও। বাগোরিয়া এমনই মরু-পাহাড়ের গ্রাম। এখানে পাহাড়ের উপরে আছে এক দেবীমন্দির। দুর্গামন্দির। সমস্ত নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে এখানে নিত্য পুজো হয়। নবরাত্রিতে হয় বিশেষ পুজো। মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের বয়স এখন ৮২ বছর। তাঁর নাম জামালুদ্দিন খান।
বাগোরিয়ায় ও সংলগ্ন এলাকায় জামালুদ্দিনের ব্যাপারই আলাদা। তাঁর মতো সম্মান আর কেউ পান না। কারণ, মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছাড়াও দু-বছর আগে পর্যন্ত তিনিই ছিলেন মসজিদের নামাজ পড়ানোর কারী সাহেব। বয়সের ভারে এখন প্রতিদিন ৪০০ পাহাড়ি সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরে যাওয়া-আসা সম্ভব হয় না বলে মসজিদের দায়িত্ব ছেড়েছেন। এখন মন্দিরেই থাকেন, নিত্যপুজো তাঁর দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যমকে জামালুদ্দিন বলেছেন, “৬০০ বছর ধরে আমার পূর্বপুরুষরা এই মন্দিরের পুরোহিত। এখন আমি করছি। তারপর আমার ছেলে মেহরুদ্দিন করবে। আমার কাছেই সবকিছু শিখেছে। মা দুর্গার প্রতি আমাদের বংশের সকলেরই অগাধ ভক্তি, শ্রদ্ধা।”

কিন্তু মুসলমান হয়েও দুর্গাপুজো কেন? তাও ৬০০ বছর ধরে?

একটি অলৌকিক ঘটনাই সে দিকে মোড় ঘুরিয়েছে। একদা সিন্ধের বাসিন্দা ছিল এই মুসলমান পরিবার। ছয় শতাব্দী আগে ভয়ঙ্কর খরার কারণে সিন্ধ ছেড়ে পরিবারটি উটের পিঠে যাবতীয় সম্পদ চাপিয়ে মধ্য ভারতের কোনও বাসযোগ্য স্থানের খোঁজে রওনা হয়। জামালুদ্দিন বলেছেন, “একদিন হঠাৎ দুটো উটের পা ভেঙে গেলে পূর্বজনেরা এই মরুভূমিতেই দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। কয়েকটা দিন খাবার আর পানীয় জলের অভাবে গোটা পরিবারই প্রায় মৃত্যুমুখে। তখনই একদিন রাতে পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নে দেখেন, মা দুর্গা কাছেই এক জায়গায় পানীয় জলের ধাপ কুঁয়ো বা স্টেপ ওয়েলের সন্ধান দিলেন। পথও বলে দিলেন। আর বললেন, সেই কুঁয়োর নিচে তাঁর একটি মূর্তি পড়ে আছে। সেটিকে উদ্ধার করে তাঁরা যেন পুজোর ব্যবস্থা করেন।

পরদিন সেই পথনির্দেশ মেনে সেই ধাপ কুঁয়ো পাওয়া যায়। জল পেয়ে প্রাণ বাঁচল সকলের। মূর্তিও উদ্ধার হল। জামালুদ্দিন বলেছেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা সিদ্ধান্ত নেন, আর কোথাও যাওয়া নেই। এখানেই মায়ের পুজোর ব্যবস্থা হবে। ধীরে ধীরে তাঁরা মন্দির পড়ে তোলেন। মন্দিরে পুজো দিতে থাকেন তাঁরাই। মন্ত্র জোগাড় করে শেখেন, শেখেন পুজোর পদ্ধতিও। আবার স্বধর্মের মসজিদও পড়ে তোলেন। সেখানেও নামাজ আদায়ের দায়িত্ব নেন। সেই থেকে পাঁচ ওয়ক্ত নামাজ পড়া আর নিত্যসেবা দুটিই পরিবারের সকলের কাজ।


বাগোড়িয়ায় বহু হিন্দু বাস করেন। তাঁদের নিয়ম মেনে নবরাত্রির সময় বাগোড়িয়ায় সব বাড়িতে নিরামিশ রান্না হয়। এখানকার সরপঞ্চ থানারাম জাখর বলেছেন, “শিশুকাল থেকেই জানি, মা দুর্গার নির্দেশে এই সিন্ধি মুসলমান পরিবারের সদস্যরাই এই মন্দিরের পুরোহিতরা হবেন। মায়ের ইচ্ছা, আমরা তাঁকে সম্মান করি।” বিগত ৬০০ বছরে অনেক বদলে গেছে বাগোড়িয়া। কিন্তু সেই ধাপ কুঁয়ো এখনও তেমনই আছে। গ্রামের মানুষের কাছে এই কুঁয়ো পরম শ্রদ্ধার। বাইরের লোকজন এলে তাঁরাও কুয়োর জল ছুঁয়ে আসেন, আশির্বাদ কামনা করেন মা দুর্গার কাছে। ধর্মীয় বিরোধে দেশ উত্তাল হলেও, টুকরো হলেও এখানে কখনই তাঁর ছায়াও পড়েনি।

চিত্র পরিচিতি — পুজোয় রত জামালুদ্দিন, সহকারী মেহরুদ্দিন।
/ মন্দির থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে ধাপ কুঁয়োয় যাচ্ছেন পূণ্যার্থীরা।
/ মন্দিরের তোরণের মাথায় সিংহবাহিনীর মূর্তি।
/ যজ্ঞ করাচ্ছেন জামালুদ্দিন।
/ মন্দিরের দরজায় লেখা ‘মা অম্বা’।/

সন্ধি পুজো কী এবং কেন ?

সন্ধি পুজো কী এবং কেন?

‘সন্ধি’ মানে মিলন। যুদ্ধারত মা দুর্গা কারও সঙ্গে সন্ধি করেননি। আসলে এই মুহূর্তটি হল অষ্টমী তিথি ও নবমী তিথির মিলন সময়। ঠিক যে সময়ে দু’টি তিথির মিলন ঘটে, সেই সময়টিকে মহাসন্ধিক্ষণ বলা হয়।
আরও স্পষ্ট করে অষ্টমী তিথির শেষ 24 মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম 24 মিনিট মিলিয়ে মোট 48 মিনিট সময়ের মধ্যে সাঙ্গ করতে হয় সন্ধি পুজো।
দুর্গাপূজায় এই সন্ধিক্ষণের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।পুরাণ অনুসারে অসুরদের সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধের সময়ে দেবী অম্বিকার কপালে থাকা তৃতীয় নেত্র থেকে দেবী কালিকা প্রকট হয়েছিলেন ঠিক এই সময়কালে। আবার অন্যত্র এমনও বলা হয়েছে যে, পরাক্রমী অসুর রক্তবীজের সমস্ত রক্ত এই সন্ধি মুহূর্তেই দেবী চামুণ্ডা কালিকা খেয়ে ফেলেছিলেন। তাই পণ্ডিতেরা বলে থাকেন, এই সন্ধিক্ষণ চলাকালীন সময়ে মা দুর্গার অন্তর থেকে সমস্ত স্নেহ, মমতা অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই কারণেই সন্ধি পুজোর সময়ে দেবীর দৃষ্টি পথ পরিষ্কার রাখা হয়, চামুণ্ডা দুর্গার চোখের সামনে দাঁড়াতে নেই।
অনেক জায়গায় এই সন্ধিপুজোতে বলি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বহু জায়গায় ছাগ বলি হয়ে থাকলেও কলা, আখ, চালকুমড়ো ইত্যাদিও বলি দেওয়া যায়। বলিদান অষ্টমী তিথিতে নয়, সন্ধি পূজার প্রথম দণ্ড অর্থাৎ 24 মিনিট পার হওয়ার পরেই হয়।
শাস্ত্রে এই সন্ধি পূজার অনেক মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে। সংযমী হয়ে উপবাসী থেকে সন্ধিব্রত পালন করলে নাকি যম-দুঃখ থেকে মুক্তি মেলে। অর্থাৎ মৃত্যুর সময়ে মায়ের কৃপা লাভে যম স্পর্শ করতে পারে না। এমনও বলা হয় যে, ভক্তিভরে সন্ধি পুজোয় যোগ দিলে সারা বছর দুর্গাপুজো না করেই সেই ফল লাভ করা যায়।
সন্ধি পুজো কী এবং কেন ?
সন্ধি পুজো কী এবং কেন ?
পণ্ডিত নবকুমার ভট্টাচার্যের কথায়, “এই সময়ে দশভূজা দেবী নয়, মুণ্ডমালিনী চতুর্ভূজা চামুণ্ডারূপে পূজিতা হন দুর্গা। আর এই পুজোয় সকলেরই যোগ দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু মঙ্গল লাভ করতে হলে সত্যিকারের উপবাস প্রয়োজন। উপবাস অর্থাৎ দেবী সমীপে বাস করতে হবে। গোটা দিন দেবীর জপ করতে হবে। নিষ্ঠাভরে পুজোতেই মেলে মঙ্গল।” পণ্ডিত নবকুমার বলেন,

“আশ্বিনের ষষ্ঠী তিথিতে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র।

বিভীষণ বিধান দিয়েছিলেন 108টি লালপদ্ম দিয়ে দেবীর আরাধনা করলে দুর্গা প্রসন্না হবেন। কিন্তু পুজোর সময়ে রামচন্দ্র দেখেন একটি ফুল কম। সেই সময়ে তির-ধনুক তুলে নিজের একটি চোখ উপড়ে ফেলতে চান দশরথনন্দন। যদিও গোটাটাই ছিল মহামায়ার ছলনা। রামের ভক্তি দেখে দেবী নিজে আবির্ভূত হন। সেই ঘটনার থেকেই সন্ধি পুজোর সময়ে দেবীকে 108টি পদ্ম নিবেদন করা হয়। সমসংখ্যাক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।’
পণ্ডিতরা তাই এমনও বলেন যে, সন্ধি পুজোর সময়েই দেবী মহামায়া মৃন্ময়ী মূর্তি থেকে চিন্ময়ী রূপে আসেন ও ভক্তের পূজা গ্রহণ করেন। 108 প্রদীপ জ্বেলে প্রার্থনা করতে হয় যাতে দেবী সংসারের সব আঁধার মোচন করেন। দেবী যেন জ্ঞানের আলো জ্বেলে দেন।
এই বছর সন্ধি পূজা কখন?
বেনীমাধব শীলের পঞ্জিকা মতেঃ-
● বৃহস্পতিবার, 28 সেপ্টেম্বর 2017 সন্ধি পুজো।
রাত্রি 7 টা 6 মিনিট গতে।
7টা 54 মিনিটের মধ্যে।
● বলিদান : রাত্রি 7.30 গতে।
● সন্ধি পুজো সমাপন : রাত্রি 7টা 54 মিনিটের মধ্যে। (তথ্য সুত্র )

বেলুড় মঠের দূর্গা পূজার সূচনা… II “মা, আমার জ্বর করে দাও।”

বেলুড় মঠের দূর্গা পূজার সূচনা...

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

বেলুড় মঠের দূর্গা পূজার সূচনা…

স্বামীজী যখন বেলুড় মঠে দূর্গা পূজা করার চিন্তা করছিলেন সে সময়  স্বামী ব্রহ্মানন্দ স্বপ্নে দেবী দূর্গার দর্শন পান। তিনি দেখেন স্বয়ং মা মহিষাসুরমর্দিনী গঙ্গার ওপর দিয়ে দক্ষিণেশ্বর থেকে বেলুড়ের দিকে আসছেন । গুরুভাইয়ের মুখে এই কথা শুনে স্বামীজী স্থির করলেন এবার মঠে যেভাবে হোক মায়ের পূজা করতেই হবে।স্বামীজীর ধ্যানে সেই দেবীর যে রূপ উদ্ভাসিত হয়েছিলো তিনিই শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘের জননী শ্রীশ্রীমা সারদা ।  
বেলুড় মঠের এই দূর্গা মায়ের পূজায় সঙ্কল্প করা হয় শ্রীমা সারদা দেবীর নামেই। এই প্রথা এখনও চলে আসছে। কারণ সন্ন্যাসীগণ সঙ্কল্প করে কোনো পূজা বা বৈদিক কাণ্ড করার অধিকারী নন বলেই আদর্শ গৃহস্থাশ্রমী শ্রীশ্রীমায়ের নামে ( যদিও ত্যাগ- তপস্যায় তিনি সন্ন্যাসীরও শিরোমণি ) নামেই বেলুড় মঠের দূর্গা পূজায়  সঙ্কল্প হয় । আর একটি কথা স্বামীজী যে কল্পনা করতেন শ্রীশ্রীমাকে ‘জ্যান্ত দূর্গা’ রূপে-  প্রতি বছর মঠে সেই চিন্ময়ী মায়েরই মৃন্ময়ী মূর্তিতে পূজা হয়।  তাঁর নির্দেশে একদল গেলেন কুমারটুলিতে প্রতিমার বায়না করতে। আর একদল গেলেন বাগবাজারে শ্রীমায়ের অনুমতি নিতে। তখন পূজার তিন সপ্তাহ বাকী। সৌভাগ্যক্রমে কুমোরটুলিতে একটি মূর্তি পাওয়া গেলো। অপরদিকে শ্রীমা অনুমতি দিলেন। রঘুনন্দনের “অষ্টবিংশতি তত্ত্ব” পড়ে স্বামীজী বলছেন- 

“রঘুনন্দন বলছেন- 
‘নবম্যাং পূজয়েৎ দেবীং কৃত্বা রুধিরকর্দমম্’

 – মার ইচ্ছা হয় তো তাও করবো। মাকে বুকের রক্ত দিয়ে পূজা করতে হয়, তবে তিনি প্রসন্না হন। মার ছেলে বীর হবে, মহাবীর হবে। নিরানন্দে , দুঃখে প্রলয়ে, মহালয়ে মায়ের ছেলে নির্ভীক  হয়ে থাকবে” । শ্রীশ্রীমায়ের নামে পূজায় সঙ্কল্প হয়েছিলো। তবে শ্রীমায়ের নির্দেশে অবশ্য পশুবলিদান হয় নি। বেলুড় মঠের প্রথম সেই দূর্গা পূজা মহাসমারোহে হয়েছিলো। স্বামী ব্রহ্মানন্দজী পূজার সব উপকরণ জোগারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পূজকের আসনে বসেছিলেন কৃষ্ণলাল নামক জনৈক নবীন ব্রহ্মচারী। তন্ত্রধারক হয়েছিলেন স্বামী রামকৃষ্ণানন্দজীর পিতৃদেব ঈশ্বরচন্দ্র ভট্টাচার্য । 
ষষ্ঠীর দিন থেকেই বেলুড়ে আনন্দের বাণ ডেকেছিলো। এই পূজায় নিমন্ত্রিত ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের গৃহী ভক্তগণ। এছাড়াও বেলুড়, বালি, উত্তরপাড়ার নৈষ্ঠিক ব্রাহ্মণ ও ভক্ত শত শত লোকেদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। পূজায় পশু বলির বিকল্প রূপে ফল বলি হিসাবে উৎসর্গ করা হয় । এই পূজোর সাথে জড়িয়ে আছে কুমারী পূজা। স্বামীজীর অনুরোধে , গৌরী মা,  কুমারী পূজার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। পাদ্য- অর্ঘ- শঙ্খবলয় – বস্ত্রাদি দিয়ে স্বামীজী নয়জন কুমারীকে পূজা করেন । স্বামীজী সেই সকল কুমারীদিগকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করেন। ভাবাবস্থায় একজন কুমারীকে কপালে রক্তচন্দন পড়াবার সময় স্বামীজী শিহরিয়ে উঠে বলেছিলেন- “আহা দেবীর তৃতীয় নয়নে আঘাত লাগে নি তো।” দূর্গা পূজার সাথে কুমারী পূজা তন্ত্রের মত। এই সময় আর একটি আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। পূজার দিন। হঠাত স্বামীজী এসে শ্রীমায়ের কাছে প্রার্থনা করেন, “মা, আমার জ্বর করে দাও।” বলতে না বলতেই স্বামীজীর প্রচণ্ড জ্বর হল। শ্রীমা চিন্তিত হলেন। স্বামীজী বললেন- “কোন চিন্তা নেই মা। আমি সেধে জ্বর নিলুম এই জন্য যে ছেলেগুলো প্রাণপণ করে তো খাটছে, তবু কোথাও কি ত্রুটি হবে, আমি রেগে যাব, বকবো , চাই কি দুটো থাপ্পড়ই দিয়ে বসবো। 
ওদেরও কষ্ট হবে, আমারও কষ্ট হবে। তাই ভাবলুম- কাজ কি, থাকি কিছুক্ষন জ্বরে পড়ে।” খানিক পরে শ্রীমা বললেন- “ও নরেন , এখন তা হলে ওঠ।” স্বামীজী বললেন- “হ্যা মা, এই উঠলুম আর কি”- স্বামীজী উঠতেই দেখা গেলো তাঁর আর জ্বর নেই। তখন তিঁনি এদিক ওদিক পায়চারী, পূজা মণ্ডপে বসে গুন গুন করে গান গাইছেন সদানন্দময়ী কালী, মহাকালের মনমোহিনী তুমি আপনি নাচ, আপনি গাও,আপনি দাও মা করতালি ।
স্বামীজীর প্রবর্তিত সেই পূজাতে এখনও বেলুর মঠে শ্রীমায়ের নামে সঙ্কল্প করা হয়। স্বামীজীর সেই চিন্ময়ী “জ্যান্ত দূর্গা,  মা সারদা”  মৃন্ময়ী বিগ্রহে অবস্থান করে ভক্তের পূজা গ্রহণ করে সকল ভক্তকে কৃপা করেন।

—-স্বামী দেবেন্দ্রানন্দ

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

পূজনীয় খোকা মহারাজ শরৎবাবুকে বলেছিলেন যে, একদিন বেলুড় মঠে কালীকীর্তন হচ্ছিল। II swami subodhananda

‘চিত্তাকর্ষক দুটি অসাধারণ স্মৃতিকথা’

SWAMI SUBODHANANDA
SWAMI SUBODHANANDA

+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+÷+
      পূজনীয় খোকা মহারাজ শরৎবাবুকে বলেছিলেন যে, একদিন বেলুড় মঠে কালীকীর্তন হচ্ছিল।
  তিনি ওপর তলায় গঙ্গার দিকের বারান্দায় মাঝে মাঝে বেড়াচ্ছিলেন।  মহাপুরুষ মহারাজ তাঁর ঘরে ছিলেন।  নিচে কীর্তন খুব জমে গিয়েছে, তখন রাত প্রায় আটটা নয়টা হবে।  এমন সময় পূজনীয় খোকা মহারাজ দেখেন—একটি আট নয় বছরের মেয়ে গঙ্গার ঘাটে সিঁড়ির ওপর গঙ্গার দিকে পা ঝুলিয়ে বসে আছে।  মহারাজ ভাবছেন এত রাতে কাদের মেয়েটি একা বসে আছে, পথ ভুলে যায় নি তো ?  এই মনে করে নিচে যারা ছিল তাদের ডেকে বললেন—“দেখতো, কাদের মেয়েটি ঘাটে বসে আছে ?”  এই বলতে বলতে মেয়েটি ঝুপ করে গঙ্গায় পড়ে গেল।  অমনি মহারাজ বলে উঠলেন, “আরে যাঃ !  কাদের মেয়ে একটি গঙ্গায় পড়ে গেল !”  শুনে মহাপুরুষ মহারাজ বললেন—“ও আর কাদের মেয়ে—স্বয়ং মা গঙ্গা কালীকীর্তন শুনছিলেন।”
      বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দের ঘরে কেউ শোয় না।  একদিন পূজনীয় মহাপুরুষ মহারাজ খোকা মহারাজকে বললেন—“খোকা, স্বামীজীর ঘরে কেউ শোয় না, তুমি ঐ ঘরটায় আজ শোও।”  খোকা মহারাজ সে রাত্রে স্বামীজীর ঘরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।  স্বপ্নে দেখেন, স্বামীজী তার পীঠে আস্তে আস্তে ধাক্কা দিয়ে বলছেন—“খোকা, এক গ্লাস জল দেনা ভাই।”
      পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খোকা মহারাজ পূজনীয় মহাপুরুষ মহারাজকে বলেন, “ও ঘরে যেন কেউ না শোয়, ও ঘরে স্বামীজী মহারাজ এখনো আছেন !”
      একদিন পূজনীয় রাখাল মহারাজ ঘুমুচ্ছেন।  খোকা মহারাজও সেই ঘরে আছেন।  খোকা মহারাজ জেগে, রাখাল মহারাজ ঘুমুতে ঘুমুতে বলে উঠলেন, “তাঁ দা।”  খোকা মহারাজ মনে মনে ভাবতে লাগলেন—“রাজা মহারাজ ‘তাঁ দা’ কি বললেন ?”  ভাবতে ভাবতে খোকা মহারাজের যেই তন্দ্রা এসেছে, ঠাকুর তাকে বললেন—“রাখাল ‘তাঁ দা’ বললে, তুই বুঝতে পারলিনি ?  ‘তাঁ দা’ মানে তাঁর দয়া, অর্থাৎ তাঁর দয়া না হলে কিছু হবার যো নেই।”

           ওঁ শান্তিঃ !  ওঁ শান্তিঃ !  ওঁ শান্তিঃ !

বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজা (১৯০১),

Durga puja

বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজা (১৯০১),স্মৃতির পাতা থেকে……………স্বামী ব্রহ্মানন্দ একদিন (বেলুড়) মঠের সম্মুখে বসে হঠাৎ দেখলেন, যেন মা দুর্গা দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে গঙ্গাবক্ষে চলে মঠের বিল্ববৃক্ষতলে গিয়ে উঠলেন। ঠিক এই সময়েই স্বামীজী (স্বামী বিবেকানন্দ) কলকাতা থেকে নৌকা করে মঠে এসেই জিজ্ঞাসা করলেন, “রাজা (ব্রহ্মানন্দ) কোথায়?” তাঁকে দেখতে পেয়েই বললেন, “এবার প্রতিমা এনে মঠে দুর্গাপূজা করতে হবে, সব আয়োজন কর।” ব্রহ্মানন্দ বললেন, “তোমাকে দুদিন পরে কথা দেব; এখন প্রতিমা পাওয়া যায় কি না দেখতে হবে – সময় একেবারে সংক্ষেপ, দুটো দিন সময় দাও।” স্বামীজী তাঁকে জানালেন যে, তিনি ভাবচক্ষে দেখেছেন, মঠে দুর্গোত্‍সব হ‌চ্ছে এবং প্রতিমায় পূজা হ‌চ্ছে। স্বামী ব্রহ্মানন্দও তখন স্বামীজীকে স্বীয় দর্শনের কথা বললেন। মঠে এইসব শুনে হ‌ইচ‌ই লেগে গেল। স্বামী ব্রহ্মানন্দের আদেশে ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল কলকাতায় কুমারটুলিতে প্রতিমার সন্ধানে গেলেন – তখন পূজার মাত্র চারি-পাঁচ দিন বাকি। তবু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, একখানি মাত্র প্রতিমা সেখানে দেখা গেল। কৃষ্ণলাল কারিগরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি এই প্রতিমা আমাদের দিতে পার ?” কারিগর উত্তরে জানাল, যিনি ফরমাশ দিয়াছিলেন, তিনি হয়তো কোন কারণে তখন‌ও নিয়ে যাননি; তিনি নেবেন কি না বুঝে নিয়ে পরদিন পাকা কথা দিতে পারবেন। স্বামীজী মহারাজ কৃষ্ণলালের মুখে সব শুনে বললেন, “যেমন করেই হোক, প্রতিমাখানি নিয়ে আসবি।” শেষ পর্যন্ত প্রতিমাখানি পাওয়া গেল এবং মঠের পূজা সম্পন্ন হ‌ইল এবং তার সাথে সাথেই শুরু হল বেলুড়মঠে দুর্গোৎসবের যা আজ এক ঐতিহাসিক দুর্গোৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের সকলের মা-ই, মৃন্ময়ী মূর্তি ধরে চিন্ময়ী রূপধারণ করে এই পূজা গ্রহণ করেন। স্বামীজীর “জ্যান্ত দুর্গা”র পুজা আজ এক ঐতিহ্য ও স্বর্ণাক্ষরে লেখা বর্ণময় ইতিহাসে রুপান্তরিত হয়েছে। ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ পেজের  সকল সদস্যকে জানাই শুভ শারদীয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।শ্রীশ্রী ঠাকুর ও মায়ের কৃপায় সকলের আগামীদিনগুলি আনন্দময় হোক।জয় দুর্গামাঈ কী জয়!!!জয় মহামাঈ কী জয়!!!

TODAY VISIT MAA SARADA AT BELUR MATH 26-9-2017

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

Thought for the Week

Would you be able to call a man who is without empathy an individual? He is a veritable mammoth.
Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

শুভ প্রথম দর্শন………..মাতৃপ্রতিমা, বেলুড়মঠ, দুর্গোৎসব,

শুভ প্রথম দর্শন………..
মাতৃপ্রতিমা, বেলুড়মঠ, দুর্গোৎসব, 

Design a site like this with WordPress.com
Get started