হিন্দু রীতি অনুসারে মহালয়া হল, প্রয়াত পূর্বপুরুষদের জলদান বা তর্পণ করার সর্বশ্রেষ্ঠ তিথি।

পিতৃপক্ষের প্রথমদিনে….

হিন্দু রীতি অনুসারে মহালয়া হল, প্রয়াত পূর্বপুরুষদের জলদান বা তর্পণ করার সর্বশ্রেষ্ঠ তিথি। 
এ প্রসঙ্গে একটি আখ্যান আছে।
মহাভারতে আছে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে নিহত কর্ণ স্বগে গেলে তাঁকে খাদ্য-পানীয়ের পরিবর্তে শুধু সোনা-রুপো খেতে দেওয়া হচ্ছে। বিস্মিত কর্ণ যমরাজকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর প্রতি ওই রকম ব্যবহারের কারণ কী? যমরাজ বললেন, ‘হে কর্ণ, তুমি জীবনভোর শুধু শক্তির আরাধনা করে গেছ। কখনও নিজের পূর্বপুরুষের কথা ভাবোনি, তাঁদের প্রয়াত আত্মাকে খাদ্য-পানীয় দাওনি তাই পুণ্যফলে তুমি স্বর্গে আসতে পারলেও খাদ্য-পানীয় পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হওনি। সেই জন্যেই তোমার প্রতি এই ব্যবহার।’ কর্ণ বললেন, ‘হে ধর্মরাজ! এতে আমার দোষ কোথায়? জন্ম মুহূর্তেই আমার মা আমাকে ত্যাগ করেন। সূত বংশজাত অধিরথ ও তাঁর স্ত্রী আমাকে প্রতিপালন করেন। তার পর আমার শৌর্য দেখে দুযোর্ধন আমাকে আশ্রয় দেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ আরম্ভের আগের দিন প্রথমে কৃষ্ণ ও তার পরে মাতা কুন্তী এসে আমার জন্ম ও বংশ পরিচয় জানিয়ে দেন। এর পর যুদ্ধ আরম্ভ হল এবং মাত্র ষোল সতের দিন বেঁচে ছিলাম আমি। পিতৃপুরুষকে জল দেবার সময়ই তো পাইনি আমি।’ আবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাহলে উপায়? আমি কি কোনও দিনও খাদ্য-পানীয় পাব না আর?’ যমরাজ বললেন, ‘উপায় অবশ্য আছে একটা। তা হল— তোমাকে আবার মর্ত্যে ফিরে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে পিতৃপুরুষকে জলদান করলে তবেই স্বর্গে খাদ্য-পানীয় পাবে।
যমের নির্দেশে সূর্য যেদিন কন্যা রাশিতে প্রবেশ করল সেদিন কর্ণ আবার মর্ত্যে ফিরে এসে এক পক্ষ কাল থেকে পিতৃপুরুষকে তিল-জল দান করে পাপস্খলন করলেন। এক পক্ষ কাল পরে সূর্য যখন বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করল তখন কর্ণ স্বর্গে ফিরে গেলেন। এই বিশেষ পক্ষকাল সময়কে শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ বলা হয়েছে। পিতৃপক্ষের শেষ দিন হল মহালয়া। এই সময়কালে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের তিল-জল দিয়ে স্মরণ করার রীতি চালু আছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। একে বলা হয় তর্পণ।
কাজেই মহালয়া হল মানুষের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিন। তাকে wish করে শুভেচ্ছা জানানোর কোনও কারণ থাকতে পারে না। কিন্তু মোবাইলধারী জনগণ sms-এর মাধ্যমে এবং Facebook accountওয়ালারা wallএ wallএ মহালয়ার শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে এটা করে থাকেন। এই ভুল ধারণার প্রধান কারণ হল, মহালয়ার ভোরে আকাশবাণীর মহিষাসুরমর্দিনী গীতিআলেখ্য প্রচার।
১৩৩৯ বঙ্গাব্দের (১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ) আশ্বিন মাস। দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর ভোরে তত্‌কালীন ‘ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং সার্ভিস’ নামে খ্যাত কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার হল এক অভিনব আগমনী গীতি-আলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী। রচনা: বাণীকুমার, সুর সংযোজনা: পণ্ডিত হরিশচন্দ্র, রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। স্ত্রোত্র পাঠ: বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।
বেতার সম্প্রচারের চুরাশি বছরের ইতিহাসে এই রকম অনুষ্ঠান আর দ্বিতীয় নির্মিত হয়নি, যার জনপ্রিয়তা এর ধারেকাছে আসতে পারে। ১৯৭৬-এ একবার, মাত্র একবারই মহালয়ার ভোরে বেজে উঠেছিল এক নতুন গীতি-আলেখ্য, কিন্তু সে পরিবর্তন বাঙালি মেনে নেয়নি। প্রত্যাখ্যানের সুর এতটাই চড়া ছিল যে বাদ পড়েননি বাঙালির ‘ম্যাটিনি আইডল’ উত্তমকুমারও, যিনি ছিলেন ওই অনুষ্ঠানের গ্রন্থক। সেই ‘জরুরী অবস্থা’-র জমানাতেও জনগণের প্রবল প্রতিবাদে মহাষ্ঠীর সকালে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচার করতে বাধ্য হয়েছিল সরকারি প্রচার মাধ্যম ‘আকাশবাণী’।
প্রথম বছর অর্থাৎ, ১৯৩২-এ দুর্গাষষ্ঠীর ভোরে সম্প্রচারিত হলেও পরের বছর থেকে তা মহালয়ার ভোরে সরিয়ে আনা হয় একটাই কারণে যে, মানুষজন ওই অনুষ্ঠান শোনার জন্য ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন এবং তার পর তর্পণ করতে বেরোবেন।
মহালয়া পিতৃপুরুষকে জলদান করার তিথি, এর সঙ্গে দুর্গাপুজোর কোনও যোগ নেই, যোগ নেই মহিষাসুরমর্দিনী’ গীতিআলেখ্যটিরও। নেহাতই morning alarm হিসেবে এটি সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। অতএব, মহালয়া উপলক্ষে একে অপরকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই।

সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি (6-9)

  সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 6

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

অকস্মাৎ স্বসমীপে সমাগতা সারদাকে মাদুর পাতিয়ে সমাসিনা করে যখন বার্তালাপে জানলেন , পথশ্রমে তিনি অসুস্থা হয়ে এসেছেন, তখন নিজের ঘরে তাঁকে রেখে – নিজের তত্বাবধানে সুচিকিৎসায় তাঁকে সুস্থ করে তুললেন।
ঠাকুরকে প্রত্যক্ষ দর্শনে যে শুধু সারদার চক্ষু-কর্ণের বিবাদ ঘুচলো তাই নয়, নূতন করে অনুভূতিতে পেলেন তিনি ঠাকুরের পূর্ণতর কৃপা।

সুস্থ হয়ে জীবনের নবোন্মোচিত অধ্যায়ে অচিরে আপন কর্তব্য বিষয়ে স্থিরনিশ্চয় হয়ে মহোৎসাহে সারদা ঠাকুর ও তাঁর জননীর সেবায় আত্মনিয়োগ করলেন। এটিই হল তাঁর প্রথম ও প্রধান সাধনা । সারাদিন নহবতে থেকে ‘সংসারের’ কাজকর্ম সেরে রাত্রিতে তিনি ঠাকুরের ঘরে তাঁর শয্যায় শয়নের অনুমতি পেয়েছিলেন।
একান্তে প্ররীক্ষাচ্ছলে ঠাকুর সারদাকে এই প্রশ্নটি করলেন, “ কি গো, তুমি কি আমায় সংসারপথে টেনে নিতে এসেছ ?”
মুহূর্তমধ্যে সারদার যে অভাবিত ও অভাবনীয় জবাব এলো তাতে সকল মানুষের ধর্মদিগন্ত তৎক্ষণাৎ এক নবীন মহাসম্ভাবনার আভায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো।

   সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 7

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

নিজের স্বতস্ফুর্ত সারল্যে স্পষ্টতম ভাষায় সারদা বললেন ঃ- “না, আমি তোমাকে সংসারপথে কেন টানতে যাব ? আমি তোমার ইষ্টপথেই সাহাজ্য করতে এসেছি । “
কত জন্ম ধরে এই মহাযোগিনী কত সার্থক সাধনার ফলশ্রুতিরূপে যে অবলীলায় এ যুগান্তকারী আর্য ঘোষণাটি করতে পেরেছিলেন তা কে বলতে পারে?
তাৎক্ষণিক এমন সম্পূর্ণ সংসারত্যাগের নজির ধর্মের ইতিহাসে আরো আছে বলে আমাদের জানা নেই। ত্যাগীশ্বরের সহধর্মিণী তাঁর পাশে  অনায়াসে ত্যাগীশ্বরীরূপে সমাসীনা হলেন। এই ত্যাগীশ্বরীর বৈরাগ্য-বৈভবেই ত্যাগীশ্বর ঠাকুরের চিরপ্রতিষ্ঠা হলো।
এ যে একেবারে পরমাপ্রকৃতির মুখের কথা। কে পারেন ! কার সাধ্য আছে সিদ্ধ ব্রহ্মজ্ঞানী রামকৃষ্ণকে “ইষ্টপথে” সাহায্য করতে ! তিনি সামান্যা নন – তিনি অনন্যা, অতি অনন্যা ! তাই তাঁর  দক্ষিণেশ্বরের কালো বোনটি কতটা পথ এগয়ে গিয়ে সারদাকে স্বাগত জানিয়ে এসেছিলেন, বলে এসেছিলেন, “আমি তোমার বোন হই” , “তোমার জন্যই তো তাঁকে  সেখানে আটকে রেখেছি” ।
ভবতারিণীর এই বাণী ও সারদার এই বাণী – দুই বাণীরই প্রাণের সঙ্গীত অতি গম্ভীর এক সুরে মন্দ্রিত ।

 সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 8 

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

আজ আমরা যে আমাদের কপালমোচন, ভবভয়ভেদকারী, অভয়শরণ,, জগজনদুঃখহারী, ‘ চির উন্মাদ প্রেম পাথার’ শ্রীরামকৃষ্ণকে জগৎজুড়ে – প্রাণ –মান হৃদয় ভরে পেয়েছি সে কেবলি সারদার মঙ্গলহস্তের দানরূপে।  সারদার ত্যাগ অমন সম্যক সম্পূর্ণ না হলে আমাদের অমন “ভঞ্জন-দুঃখ-গঞ্জন” “প্রেমার্পণ –সমদারশন” অবতারবরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণকে পেতান না – তা তাঁর প্রাক-সারদা –আবির্ভাবের সকল সাধন-সিদ্ধি সত্ত্বেও !
ঠকুরের ইষ্টলাভ বহু পূর্বেই হয়ে গেছে – তিনি এখন পূর্ণাতিপূর্ণ। সারদা এমন লগ্নে আবার তাঁকে কোন ইষ্টপথে সাহায্য করতে এলেন? তার জন্য আবার শ্রীরামকৃষ্ণকে দক্ষিণশ্বরে ধরে রাখাই বা কেন ?
এ প্রশ্নদুটির জবাব আমরা স্বামীজী ও নিবেদিতার প্রশ্নত্তোরের মধ্যে পাই যেখানে স্বামীজী নিবেদিতার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলছেন, “ –– এ বিষয়ে আমি ও নিঃসন্দেহ যে, কালী রামকৃষ্ণের উপর ভর করে নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধ করেছেন।“

সারদার পথে পাওয়া কালো বোনটি — 9 

( স্বামী বুধানন্দ — শ্রীরামকৃষ্ণ- বিভাসিতা মা সারদা )

মা কালী তো প্রথম থেকেই জানতেন যে শ্রীরামকৃষ্ণ অবতারপুরুষ। ভবতারিণী  যে ঠাকুরকে সদা-সর্বদা নিজ ত্রিনয়নের সজাগ ও সস্নেহ দৃষ্টি রেখে, নিজের যন্ত্রমাত্র করে এতো বহুপ্রকারের সাধনা করিয়ে নিয়েছিলেন তার উদ্দেশ্য আমাদের জানতে হবে। তার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আমাদের ধারনা এটুকুই  জন্মায় যে তিনি সর্বদেবদেবীর শক্তি সংহত করে, যুগপ্রয়োজনে তাঁকে নিজ প্রতিভূরূপে এ ধারণীতে ধর্মসংস্থাপনার্থ ও জীবদ্ধার-কর্মে চালিত করতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন।  এই প্রস্তুতির পেছনে ভবতারিণীর অপার করুণার যে একটি শক্তি প্রবায় বয়ে চলছিল তার প্রতীকরূপেই তিনি যেন ঘটালেন সারদার দক্ষিণেশ্বরে আবির্ভাব ও  ঠাকুরের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর এই অবিশ্বাস্য ঘোষণা।
ভবতারিণী যেমন জানতেন রামকৃষ্ণ- সম্ভাবিতকে তেমনই জানতেন সারদা-সম্ভাবনাকে। তিনি জানতেন স্বল্পায়ু শ্রীরামকৃষ্ণের দেহাবসানে সারদাই ধারন করবেন তাঁর মাধ্যমে প্রবাহিত ঈশশক্তিধারা ।

TODAY VISIT MA SARADA ,BELUR MATH

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

Thought for the Week


I reveal to you a certain something – in the event that you need harmony, don’t discover blame with others. Or maybe observe your own deficiencies. Figure out how to make the entire world your own. Nobody is an outsider, my tyke; the entire world is your own.

নৃত্য-নাট্যে আকৃতি শিল্পী গিরিশচন্দ্রের মূল্যায়ন খুবই মূল্যবান

নৃত্য-নাট্যে আকৃতি শিল্পী গিরিশচন্দ্রের মূল্যায়ন খুবই মূল্যবান
নৃত্য-নাট্যে আকৃতি শিল্পী গিরিশচন্দ্রের মূল্যায়ন খুবই মূল্যবান 

@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

নৃত্যনাট্যে আকৃতি শিল্পী গিরিশচন্দ্রের মূল্যায়ন খুবই মূল্যবান তিনি নৃত্য‘ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন , “কঠোর তিতিক্ষাশালী প্রকাশানন্দ যে গৌরাঙ্গের নৃত্যদর্শনে উন্মত্ত হইয়াছেন একথা প্রত্যয় করিতে পারিতাম না কিন্তু প্রত্যয় করিতে বাধ্যআমরা যে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের নৃত্য দেখিয়াছি | ‘নদে টলমল করে‘ মৃদঙ্গতালে গান হইতেছেশ্রীরামকৃষ্ণ দেব নাচিতেছেন যে ভাগ্যবান দেখিয়েছেন – আমরা দর্শন করিয়াছিলেন তিনি প্রত্যক্ষ দেখিয়াছেন যে ভাবপ্রবাহে  পৃথিবী_টলটলয়ামানা কেবল নদে টলমল করিতেছে নাসমস্তই টলটলয়ামানা যে সে নাচ দেখিয়াছেনতৎসময়ে পরমার্থ তাহার প্রাণ ধাবিত হইয়াছেসন্দেহ নাই নাচের এতদূর শক্তি ,  সৌন্দর্য যে তাহার ভিত্তি দর্শকগনের ওপর প্রভাব হত অতুলনীয় ভাবোজ্জল পরিবেশে যে মৌতাত জমে উঠততাতে উপস্থিত ব্যাক্তিদের অন্তরের দীপ জ্বলে উঠত তাঁর কীর্তন নৃত্যের মৌলিকত্ত বিষয়ে মহেন্দ্র নাথ দত্ত লিখেছেন , ” পরমহংস মশায়ের কীর্তনের মধ্যে দেহ ভাবরাশির শক্তি ধারন করিতে পারিত না বলিয়া কখনও বা অঙ্গ সঞ্চালন হইত কখনও বা দেহ নিস্পন্দ হইয়া যাইত সাধারন লোকের কীর্তন হইত গতি হইতে ভাবআর পরমহংস দেবের নৃত্য হইতে ভাব হইতে গতিতে সাধারন লোকের নৃত্য হইত নরনৃত্য আর পরমহংস মশায়ের নৃত্য হইত দেব নৃত্য যাহাকে চলিত কথায় বলে শিবনৃত্য একটি বিষয়ে আমি বিশেষভাবে লক্ষ্য করছি যে কীর্তনকালে পরমহংস মাশাই এর পদসঞ্চালন প্রথম যে পরিধির ভিতর হইততাহার পর উহা এক ইঞ্চি আগে যাইত না বা পিছনেও যাইত না ঠিক যেন কাঁটায় কাঁটায় মাপ করিয়া তাঁহার পদসঞ্চালন হইত 
ভাবাবেশে শ্রীরামকৃষ্ণের নৃত্যের সঙ্গে এক বিশেষ নৃত্যের মিল খুজে পাওয়া যায় 
মাদ্রাজ রামকৃষ্ণ মঠের প্রাচীন সন্ন্যাসীদের মুখে শোনা যায় যে স্বামী ব্রহ্মানন্দ নাকি নটরাজ মূর্তি দর্শন করে অতীব বিস্মিত ও পুলকিত হয়ে বলেছিলেন যে শ্রীশ্রী ঠাকুর যখন ভাবাবেশে নৃত্য করতেন তখন পায়ের ভঙ্গি ঠিক  নটরাজের পায়ের ভঙ্গির মতই দেখা যাইত এছারা আরও মিল খুঁজে পাওয়া যায় কেশববাবুর বাড়িতে তোলা সমাধিস্থ ছবিতে ঠাকুরের দাঁড়ানো অবস্থার হাতের  যে বরাভীতি” মুদ্রা দেখা যায় তার সঙ্গে  শিবের হস্তের ” মৃগমুদ্রা” তুলনীয় শ্রীশ্রী ঠাকুরকে শ্রীগুরু মুর্তিরূপে ঐং” বীজে পুজো ও হর হর” ” শিব শিব” বলে আরতি করা হয় | (সর্ত্রই দক্ষিণামূর্তি শিব শ্রীগুরুমূর্তি বলে পরিচিত )| শ্রীশ্রী ঠাকুরের স্তবে স্বামীজী ঔঁ হ্রীং‘ বলে শুরু করেছেনআর সশক্তিক শ্রীগুরুদেবের শরণ‘ প্রাথর্না করেছেন  ঠাকুরের আরতিতে ধে ধে ধে লঙ….. বাজে মৃদঙ্গ” শিবের তান্ডব নৃত্যের তাল এবং স্তবের মোহষ্কর্ষং” অজ্ঞানতিমিরহারী  শ্রীগুরুমূর্তি স্মরণ করায় 
জয় ঠাকুরজয় মাজয় স্বামীজী
জয় বাবা ভোলামহেশ্বর শিবায় নম

Photo: Swamiji Maharaja’s room, Belur Matha ছবি : স্বামীজী মহারাজের কক্ষ, বেলুড়মঠ

Photo: Swamiji Maharaja's room, Belur Matha
Photo: Swamiji Maharaja’s room, Belur Matha

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের এক অন্যতম উজ্জ্বলতম দিন,

আজ স্বামীজী মহারাজের চিকাগো বক্তৃতার ১২৫বছর পূর্তিতে জানাই তাঁর শ্রীচরণে আমার সাষ্টাঙ্গ প্রণতি………………

হে আনন্দ, বিবেকানন্দ হে মহা যোগীরাজ।
পরম প্রেম-মূর্তি তুম হে গরীব নিবাজ।।
রামকৃষ্ণ তনয় তুম সারদা প্রাণারাম।
ভারতকী আত্মা তুম অন্দর কী আওয়াজ।।

ছবি : স্বামীজী মহারাজের কক্ষ, বেলুড়মঠ  Photo: Swamiji Maharaja’s room, Belur Matha

বিবেকানন্দ,স্বামীজী মহারাজের কক্ষ, বেলুড়মঠ
Photo: Swamiji Maharaja’s room, Belur Matha

তাপসী বসুমতী-মা

তাপসী বসুমতী-মা

                  1st part
      🌷অধ্যাত্ম-জগতের পরশমণি ছিলেন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ। তাই দেখতে পাই,স্নেহভরে যাঁদেরই তিনি স্পর্শ করেছেন,মনের কোণে ঠাঁই দিয়েছেন,উত্তরকালে তাঁদের প্রত্যেকেই রূপান্তরিত হয়েছেন খাঁটি সোনায়।
        🌷বসুমতী-মা, বালিকা থাকা কালে ঠাকুর রামকৃষ্ণ যাঁর নামকরণ করেছিলেন ভবতারিনী,সাধিকা হিসাবে হয়ে উঠেছেন এমনি এক খাঁটি সোনা।
       🌷রামকৃষ্ণের ভক্তমণ্ডলীতে এই তপস্বিনীর,এই মাতৃস্বরূপিণী সাধিকার পুন্যস্মৃতি বহু ভক্তের অন্তরের মণিকোঠায় বিরাজ করছে চিরপ্রোজ্জ্বল হয়ে।
      🌷ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ ও সারদাদেবী উভয়েরই সঙ্গে ঘনিষ্ট আত্মীয়তা ছিল বসুমতী-মার।
       🌷কিন্তু শুধু আত্মীয়তা থাকলেই আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে না।সে সম্পর্ক গড়ে ওঠে পূর্ব জন্মের শুভসংস্কার,ঈশ্বরীয় কৃপা আর আত্মিক সাধনার    সৌভাগ্যের বলে।
      🌷বসুমতি-মার জীবনে দেখা গিয়েছে এর সব কয়টি সৌভাগ্য,তাই আত্মীয় শ্রী রামকৃষ্ণের সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছেন আধ্যাত্মিক সম্পর্কের দ্বারা।
     🌷ঠাকুরের স্নেহাশীষ অবিরল ধারায় ঝরে পড়েছিল তাঁর ওপর, ফলে আপ্তকামা 
।।তাপসী বসুমতী-মা।।
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
          ।।প্রাক্- ভাষণ।।
              2nd Part
   🌷 শেষ জীবনে তিনি বারাণসীর পুন্য ভূমির এক কোণে ,একান্তে,ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের অনুধ্যানে তিনি দিন যাপন করতেন।
     🌷মহল্লার নরনারীর তিনি অতি আপনজন,তাঁদের তিনি বুড্ঢা মাঈ।আর রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু ব্রহ্মচারীদের তিনি পরম আদরের বুড়ী-মা—-বসুমতি-মা।
    🌷সুপ্রসিদ্ধ বসুমতী পত্রিকা ও প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের পত্নী তিনি,তাই সবাই তাকে বসুমতী-মা বলে।
    🌷ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের পুন্যদেহ স্পর্শ করেছেন বসুমতী মা।আদুরে মেয়ের মতো আবদার করেছেন,ঝগড়া করেছেন তাঁর সঙ্গে,তাঁর কোলে উঠেছেন অবলীলায় ও স্বচ্ছন্দে।
     🌷তারপর দীর্ঘ ধ্যান মননের ফলে পেয়েছেন ঠাকুরের দিব্য দর্শন ও দিব্য কৃপা।পরম সৌভাগ্যবতী ও পুন্যবতী নারী তিনি।
    🌷তাই শুধু বারাণসীর রামকৃষ্ণ মঠের সাধুরা ও ভক্তরাই নয়,সর্ব সম্প্রদায়ের সাধক ও ভক্তেরাই বসুমতী মাকে উচ্চকোটির সাধিকা বলে গণ্য করতেন,ভালোবাসতেন,
শ্রদ্ধা করতেন।
    🌷তাঁর মুখে ঠাকুর ও সারদামণির স্মৃতি কাহিনী শোনার জন্য সবাই উন্মুখ হয়ে বসে থাকতেন।
    🌷তাপসী বসুমতী মা কৃপাসিদ্ধা।এই কৃপাসিদ্ধি শুধু সেই মহাসাধকই দান করতে পারেন নিজে যিনি তপস্যার বলে সিদ্ধি ও পরমপ্রাপ্তির শিখরে অধিষ্টিত।
    🌷ঠাকুর রামকৃষ্ণ ছিলেন এমনি এক অসামান্য মহাসাধক,তাই তাঁর কৃপাশক্তি বসুমতী মার শুদ্ধ আধারে অবলীলায় ঢেলে দিতে পেরেছে দিব্য লোকের আলোকধারা।
    🌷”ঠাকুরকে দেখেছেন আপনি?”এই প্রশ্ন কেউ করলে স্নিগ্ধ আলোর ঝলক দেখা দিত বসুমতী মার চোখ দুটিতে।
    🌷উত্তরে বলতেন,”দেখেছি কেবল!স্পর্শও পেয়েছি কতো—স্পর্শ মণির স্পর্শ।মা’র বাপের গাঁয়ের মেয়ে আমি।
    🌷ডান হাতের মাঝের এই আঙুল মা’র মুঠিতে দিয়ে ছোট্ট মেয়েটি আমি কতবার গেছি ঠাকুরের কাছে।
    🌷ঠাকুর সস্নেহে বলতেন আহা,কুমারী মেয়ে,ওকে আগে খেতে দাও গো।”
         ।।প্রণাম।।
Design a site like this with WordPress.com
Get started