জন্মাষ্টমী উৎসব বেলুড়ের নাটমন্দিরের

বেলুড়ের নাটমন্দিরের জন্মাষ্টমী র উৎসব।

বেলুড়ের নাটমন্দিরের জন্মাষ্টমী র উৎসব -
বেলুড়ের নাটমন্দিরের জন্মাষ্টমী র উৎসব – 
বেলুড়ের নাটমন্দিরের জন্মাষ্টমী র উৎসব -
বেলুড়ের নাটমন্দিরের জন্মাষ্টমী র উৎসব – 

Journeys of Ramakrishna and Holy Mother between Kamarpukur – Jayrambati, and Dakshineswar – Calcutta

Reading from Sri Sarada Devi And Her Divine Play – Swami Chetanananda
Appendix 4: p. 802-803

Journeys of Ramakrishna and Holy Mother between Kamarpukur –  Jayrambati, and Dakshineswar Calcutta
SRI RAMAKRISHNA
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

SRI RAMAKRISHNA

Professor Tarit Kumar Bandyopadhyay made a chart detailing Ramakrishna’s and Holy Mother’s travels between the Kamarpukur-Jayrambati area and the Dakshineswar-Calcutta area.*
[*Tarit Kumar Bandyopadhyay, Sri Srima O Dakat Baba, Dev Sahitya Kutir Pvt. Ltd, (Calcutta, 1994), 45-49.] 
We are grateful to Professor Bandyopadhyay for furnishing this thoroughly researched information, and we provide it in this appendix to help the reader visualize how Ramakrishna and Holy Mother made the long journeys on foot, by bullock cart, by palanquin, by boat, by steamer, and by train.

*Telo-Bhelo route, 64 miles:* Holy Mother walked from Jayrambati to Baidyabati via Arambagh-Tarakeswar and then traveled by boat to Dakshineswar. This route passed through 61 villages (from Jayrambati) and crossed five rivers –  Amodar, Dwarakeshwar, Mundeshwari, Damodar, and the Ganges. Holy Mother once encountered a robber on this route.
Sri Sarada Devi,
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi, 
*Burdwan route, 101 miles:* Sarada Devi walked from Jayrambati to Burdwan via Uchalan, a distance of 34 miles, or took a bullock cart, and then traveled to Calcutta by train for 67 miles. This route passed through 17 villages and crossed the Damodar River.

*Ghatal route, 68 miles:* In the 1870s there was a steamer service between Calcutta and Ghatal. In July 1877, Holy Mother traveled with Ramakrishna and Hriday along this route. They went by steamer from the Armenian Ghat at Calcutta and stopped at Bandar, and then took a boat to Bali-Dewanganj. In Dewanganj, they stayed at Banshidhar Modak’s house for three days, and finally either walked or went by palanquin the last eight miles to Kamarpukur.

*Vishnupur route, 153 miles:* Holy Mother took a train from Calcutta to Vishnupur, a distance of 125 miles, and then went to Jayrambati by bullock cart or planning for 28 miles.


Jai Maa…

“Ma Bhabatarini (Kali)”
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Ma Bhabatarini (Kali)”

Sitaramdas Omkarnathdev II শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথদেব

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Sri Sri Thakur Sitaramdas Omkarnathdev

Sri Sri Thakur Sitaramdas Omkarnathdev

“ আমাদের পুণ্যভূমি ভারত স্বতঃই পবিত্র । কালক্রমে বিধির বিধানে ম্লেচ্ছ রাজা হলেও এর স্বাভাবিক পবিত্রতা নষ্ট হয়নি। ”

শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথদেব
” Our Holy Land of Bharat (India) is innately pure. As destined, in course of Time , there were unholy foreign rulers  — yet, Bharat’s innate purity hasn’t been tarnished.

Sri Sri Thakur Sitaramdas Omkarnathdev

🔶🔷🔻🔷🔺🔶🔸🔷🔺🔹🔶🔺

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

স্বামীজির অবর্তমানে , গুরুদেবের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের কাজ করতে গিয়ে , ভগিনী নিবেদিতাকে ক্রমশই বিপ্লবাত্মক রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছিল ।

স্বামীজির অবর্তমানে , গুরুদেবের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের কাজ করতে গিয়ে , ভগিনী নিবেদিতাকে  ক্রমশই বিপ্লবাত্মক রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছিল । স্বামীজি নিজের প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশনকে রাজনীতির থেকে দূরে রাখতে বার বার সতর্ক করে দিয়েছিলেন । অধ্যাত্মবিদ্যার অনুশীলন ও প্রচার এবং নারায়ন জ্ঞানে জীবের সেবা করাই – সন্ন্যাসী সঙ্ঘের মূলমন্ত্র ।
তাই ১৯০২ সালের ১৮ই জুলাই নিবেদিতা তদানীন্তন মঠের অধ্যক্ষ
”   অতঃপর সিস্টার নিবেদিতার কোন কাজই মঠের সম্মতির অপেক্ষায় থাকবে না । তাঁর কাজ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বলে গন্য  হবে । “
         এসবের পরেও কিন্তু নিবেদিতার সঙ্গে সঙ্ঘের  অন্তরের যোগ ছিল আর গুরুভাইয়েরা তাঁকে কখনও অনাত্মীয় মনে করেন নি । 
Swami Vivekananda
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Swami Vivekananda

স্বামী ব্রম্মানন্দকে নিজের বর্তমান কাজের পন্থা সম্পর্কে  এক পত্র লিখলেন ; নিজেও স্বয়ং বেলুড়  মঠে গিয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনাও করে এলেন । অবশেষে , সন্ন্যাসী- সঙ্ঘ প্রকাশ্যে  নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দিলেন –

            ভগিনী নিবেদিতা এইসময়ে বেশ নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন । স্কুলের আর্থিক হিসাব নিকাস প্রায় মিটিয়ে ফেলেছিলেন । নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে শ্রীমাতা ঠাকুরানীর জন্য একখানি বাড়ি কেনার অভিপ্রায়ে চারশো পাউন্ড মঠের হাতে তুলে দিলেন । আর অবশিষ্ট অর্থ বাগবাজারের নিজের বাসভবনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং  ভারতভ্রমনের উদ্দেশ্যে জমা রাখলেন ।
      প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে স্বামী সদানন্দের সঙ্গে পরিভ্রমণ করে অনেক দেশসেবকের সঙ্গে পরিচিত হলেন । বরোদায় পৌঁছানো মাত্রই রাজ কলেজের তদানীন্তন অধ্যাপক শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ নিবেদিতাকে সংবর্ধনা জানিয়ে ষ্টেশন থেকে রাজ অতিথিশালায় নিয়ে গেলেন । সেখানে যে কদিন ছিলেন , শ্রীঅরবিন্দ এবং স্বদেশ-প্রেমিক রমেশচন্দ্র দত্তের সঙ্গে মেশার আর ভারতের নানা জটিল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন । তিনি ফেরার সময়ে শ্রীঅরবিন্দকে জানিয়ে দিয়েছিলেন – বাংলাই তাঁর উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র , বাংলার যুব- সম্প্রদায় অরবিন্দের মতো একজন প্রতিভাশালী , শক্তিধর পুরুষের জন্য অপেক্ষা করছে।
কারণ নিবেদিতা বুঝেছিলেন শ্রীঅরবিন্দের মতো খাঁটি ভারতীয়ের সন্ধান তিনি পেয়েছেন । কলকাতায় পৌঁছে , আবার তিনি মাদ্রাজ কংগ্রেসে যোগদানের জন্য দক্ষিণ ভারতে রওনা হন । সেখানের সমস্ত প্রাচীন তীর্থস্থান পরিদর্শন করে , সর্বত্রই ভারতের উজ্জল ভবিষ্যৎ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের বানী প্রচার করলেন।

 ১৯০৪ সালের অক্টোবর মাসের বুদ্ধগয়া ভ্রমণ, নিবেদিতার জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা । 

  1. সিস্টার ক্রিস্টিন , 
  2. বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ , 
  3. বসু -দম্পতি , 
  4. স্বামী সদানন্দ , 
  5. স্বামী শঙ্করানন্দ  মহারাজ , 
  6. স্টেটসম্যান পত্রিকার র‍্যাটক্লিফ , 
  7. অধ্যাপক যদুনাথ সরকার

 প্রভৃতি বিশিষ্ট মনীষীগন ছিলেন নিবেদিতার সঙ্গী।
        এই সময়ে সাঁচীর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভারতীয় ভাস্কর্য -শিল্পের অপূর্ব বিকাশ দেখে তিনি মুগ্ধ হন । বুদ্ধগয়ায় আসার পরে প্রাচীন ভারতের কীর্তি নিবেদিতার মনে জাগ্রত হয়ে তাঁকে ভাব -বিহ্বল করে তুলল ; স্বামীজির সঙ্গে আসা সেই পুণ্যস্মৃতি তাঁর মনে গভীরভাবে ছায়াপাত করল , নিজের প্রিয় গুরুদেবকে যেন আবার অনুভব করতে পারলেন ।
    
        নিবেদিতা তাঁর ” Footfalls of Indian History ”  বইটিতে আবেগের সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মহাপ্রভু বুদ্ধের মায়াময় রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন –
  কেমন করে খঞ্জ একটি ছাগলের শিশুকে কাঁধে নিয়ে অনুকম্পাভরা প্রাণে প্রেমের অবতার বুদ্ধদেব রাজপ্রাসাদে আসলেন । তিনি আরও লিখেছেন –
” এখনও যেন রাজগৃহের প্রতি গুহায় বুদ্ধদেবের  কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া যায় । ”

       ক্রমশ – ভগিনী নিবেদিতার গৃহপ্রাঙ্গণ ভারতের বিপ্লবী , বিখ্যাত মনীষীদের পুণ্যতীর্থে পরিণত হল । 

  1. রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে –  
  2. ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র  দত্ত , 
  3. শ্রী যদুনাথ সরকার ,
  4.  বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র ও 
  5. প্রফুল্লচন্দ্র , 
  6. শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং 
  7. নন্দলাল বসু , 
  8. অসিত হালদার , 
  9. সাংবাদিক শিশিরকুমার ঘোষ , 
  10. রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় , 
  11. সাহিত্যিক দীনেশচন্দ্র সেন  

প্রভৃতি প্রগতিবাদী চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ এই বিদুষী , তেজস্বিনী মহিলার সংস্পর্শে এসে অফুরন্ত প্রেরণা সংগ্রহ করেছেন ।

" ঈশ্বরের উপর টান সকলের হয় না , আধার বিশেষে হয় | সংস্কার থাকলে হয় | তা না হলে বাগবাজারে এতো লোক ছিল কেবল তোমরাই এখানে এলে কেন ? আদাড়েগুলোর হয় না | "

( ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ মহেন্দ্র মুখুজ্জে প্রভৃতি ভক্তদের প্রতি ) –

” ঈশ্বরের উপর টান সকলের হয় না , আধার বিশেষে হয় | সংস্কার  থাকলে হয় | তা না হলে বাগবাজারে এতো লোক ছিল কেবল তোমরাই এখানে এলে কেন ? আদাড়েগুলোর হয় না | “
– শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত
SRI RAMAKRISHNA
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

SRI RAMAKRISHNA 

স্বামী প্রভানন্দ মহারাজজীর রচনা II ‘হ্যাঁ মা আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি’। ‘কতটুকু ভালোবাস?’ মেয়েটি তার দুহাত বিস্তৃত করে বললো –‘এতোটুকু’ শ্রীশ্রীমা

swami prabhanandaji, স্বামী প্রভানন্দ মহারাজজী,
swami prabhanandaji,
স্বামী প্রভানন্দ মহারাজজীর রচনা ‘No one is a stranger’ প্রবন্ধের ‘A Timeless Conversation’ থেকে একটা অংশের উদ্ধৃতি দিচ্ছি। সেখানে শ্রীশ্রীমা সবাইকে ‘সমদরশন’ করার পদ্ধতি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
         একবার শ্রীশ্রীমা কোলকাতা থেকে জয়রামবাটী যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি মেয়ে তার মায়ের সাথে এলো শ্রীশ্রীমায়ের সাথে দেখা করতে। শ্রীশ্রীমা মেয়েটিকে প্রাণভরা আশীর্বাদ করলেন এবং কিছু মিষ্টি হাতে দিলেন। শ্রীশ্রীমা জানতে চাইলেন কেন সে এতো দেরী করে এলো। শ্রীশ্রীমা আরও জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি আমাকে ভালোবাস না?’
         ‘হ্যাঁ মা আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি’। ‘কতটুকু ভালোবাস?’ মেয়েটি তার দুহাত বিস্তৃত করে বললো –‘এতোটুকু’।
 শ্রীশ্রীমা আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি যখন কোলকাতা থেকে দূরে জয়রামবাটীতে থাকবো, তখনও কি তুমি আমাকে এইরূপ ভালোবাসবে?’
         ‘হ্যাঁ মা, আমি এই রকমই ভালোবাসবো’। ‘আমি কেমন করে তা জানবো?’ ‘মা, আপনিই বলুন কি করলে আপনি জানতে পারবেন’। ‘ যখন তুমি বাড়ীর সবাইকে ভালোবাসবে, তখনই আমি বুঝতে পারবো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো’। ‘নিশ্চয়ই আমি বাড়ীর সবাইকে খুব ভালোবাসবো’।
         ‘সে তো খুবই ভালো। কিন্তু আমি কিভাবে জানবো যে তুমি সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসছো, কাউকে বেশী বা কাউকে কম নয়’। ‘মা, আপনিই বলুন আমি কিভাবে সবাইকে সমান ভালোবাসবো’।
         শ্রীশ্রীমা বললেন –‘আমি বলছি কিভাবে সবাইকে সমান ভালোবাসবে।– শুনো। যাদের তুমি ভালোবাসবে, তাদের কাছ থেকে কিছুই চাইবে না। যদি তুমি কিছু চাও, তবে কেউ তোমাকে বেশী দেবে, কেউ দেবে কম – আবার কেউ কিছুই দেবে না। স্বাভাবিক ভাবেই তোমার ভালোবাসাও বেশী-কম হবে এবং কোথাও ভালোবাসা থাকবেই না। অর্থাৎ তুমি সবাইকে সমান ভাবে ভালোবাসতে পারবে না,।
         মেয়েটি প্রতিজ্ঞা করলো যে সে কোন প্রতিদান না চেয়ে সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসবে। শ্রীশ্রীমা পরে খবর পেয়েছিলেন যে তারপর থেকে মেয়েটির ব্যবহারে এক দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন এসেছিল।
         শ্রীশ্রীমা এখানে মেয়েটিকে কোন কঠিন সাধনার কথা বলেন নি। শ্রীশ্রীমায়ের শেষ উপদেশের ব্যবহারিক প্রয়োগ করার সহজ উপায় কিভাবে বের করতে হবে তা এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে মেয়েটিকে অর্থাৎ আমাদের সবাইকে বলে দিলেন।
         তাই আমার অনুধাবন এই যে – শ্রীশ্রীমায়ের জীবনী এবং উপদেশের পাহাড়-প্রমাণ গ্রন্থপাঠ এবং আলোচনায় নিমগ্ন না থেকে একটি বা দুটি উপদেশের সারমর্ম অনুধাবন করে বাস্তবে প্রয়োগ করতে চেষ্টা করাই তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানর প্রকৃষ্ট উপায়।

আমি ভালবাসার জন্য তাঁকে ভালবাসি ___আমি ভালবাসার ব্যবসা করি না ।"

শ্রীকৃষ্ণের  এক শিষ্য  তৎকালীন ভারতের সম্রাট ___ শত্রু কর্তৃক সিংহাসনচ্যুত  হয়ে ,রানীর সহিত  অরণ্যে  আশ্রয়  নিলেন ।
সেখানে রানী  তাঁকে  প্রশ্ন  করেন ____ “আপনি   শ্রেষ্ঠ  ধার্মিক ব্যাক্তি , আপনাকে কেন এত  কষ্ট যন্ত্রনা  ভোগ  করতে হচ্ছে  ?”
যুধিষ্ঠির  উত্তর দিলেন ,,” প্রিয়ে ,  দেখ দেখ , হিমালয়ের  দিকে চেয়ে  দেখ , আ হা ! কি  সুন্দর আর  মহান।
আমি  হিমালয় বড় ভালবাসি ।পর্বত  আমাকে  কিছুই  দেয়না ,তথাপি  সুন্দর ও মহান বস্তুকে  ভালবাসাই আমার স্বভাব , তাই আমি  হিমালয় কে ভালবাসি ।
ঈশ্বরকেও  আমি ঠিক এই জন্য  ভালবাসি । তিনি  নিখিল  সৌন্দর্য্য ও মহত্ত্বের  মূল , তিনিই  ভালবাসার একমাত্র  পাত্র  ___ তাঁকে  ভালবাসা  আমার  স্বভাব , তাই  আমি ভালবাসি ।
আমি  কোন কিছুর  জন্য প্রার্থনা করিনা , আমি তাঁহার  নিকট  কিছুই  চাইনা ____তাঁর যেখানে  ইচ্ছা  আমাকে তিনি সেখানে  রাখুন , সর্ব  অবস্থাতেই  আমি  তাঁকে  ভালবাসবো ।।

আমি  ভালবাসার  জন্য তাঁকে ভালবাসি ___আমি  ভালবাসার  ব্যবসা  করি না ।”

(  স্বামী বিবেকানন্দের রচনাবলী )

শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ – প্রকৃতিং পরমাং (স্বামী অব্জজানন্দ)।। অরবিন্দ-পত্নী মৃণালিনীকে মা মানসিক শান্তির জন্য ‘সব সময় ঠাকুরের বই’ পড়তে বলে দিয়েছিলেন।

জানা যায়, আলিপুরের বোমার মামলায় জড়িত শ্রীঅরবিন্দ ঘোষ যখন তাঁর অনুগামীদের সহ বন্দী হয়েছিলেন – রাষ্ট্রদোহিতা ও সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোতে নেতৃত্ব প্রদানের অভিযোগে (১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দের ২ মে), তখন তাঁর সহধর্মিণী শ্রীমতী মৃণালিনী ঘোষ শোকে ও ত্রাসে একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছিলেন, এমনকি সিদ্ধান্ত করে ফেলেছিলেন, এই রকম পতিহীনা অবস্থায় বেঁচে থাকা অপেক্ষা মরণই ভাল। 
কেননা তিনি সুনিশ্চিত ছিলেন যে, তাঁর অভিযুক্ত স্বামীর মৃত্যুদণ্ড অবধারিত। অরবিন্দের ঘনিষ্ঠ সতীর্থ শ্রীদেবব্রত বসু – উত্তরকালে যিনি রূপান্তরিত শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবস্নাত মনীষী সন্ন্যাসী স্বামী প্রজ্ঞানন্দে – তাঁরই সুযোগ্যা ভগিনী, শ্রীশ্রীমায়ের চরণাশ্রিতা সুধীরা দেবী, পতি-শোক-বিধুরা মৃণালিনীকে সঙ্গে করে বাগবাজারে মায়েরই চরণপ্রাণে নিয়ে গিয়েছিলেন। 
সুধীরা দিদি মাকে আর্তি নিবেদন করেছিলেন, ব্যথাচঞ্চলা মৃণালিনীর জন্য। সমস্ত ঘটনা মা অতিশয় সহানুভূতির সঙ্গে শুনেছিলেন এবং পরিশেষে মৃণালিনীকে অশেষ কৃপাসিক্ত মিষ্টি কথায় আশ্বাস প্রদান করেছিলেন। বলেছিলেনঃ “চঞ্চল হয়ো না মা, চাঞ্চল্যে কিছুই লাভ নেই।
তোমার স্বামী শ্রীভগবানের পূর্ণ আশ্রিত, – ঠাকুরের আশীর্বাদে তিনি অতি সত্বর নিষ্পাপ প্রমাণে মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন”। 
অরবিন্দ-পত্নী মৃণালিনীকে মা মানসিক শান্তির জন্য ‘সব সময় ঠাকুরের বই’ পড়তে বলে দিয়েছিলেন। 
তদনুসরণে মৃণালিনীও প্রতিদিন মধ্যাহ্নে কথামৃত পাঠ করতেন। – প্রকৃতিং পরমাং (স্বামী অব্জজানন্দ)।।
Design a site like this with WordPress.com
Get started