शुचित्वं त्यागिता शौर्यं सामान्यं सुखदु:खयो: |

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

शुचित्वं त्यागिता शौर्यं सामान्यं सुखदु:खयो: |
दाक्षिण्यञ्चानुरज्ञिग्त;श्च सत्यता च सुहॄद्गुणा: ||

The qualities of a true friend are: Purity, generosity, chivalry, being composed in happiness and distress, politeness, affection and truthfulness.
अर्थातशुचिता (प्रामाणिकता), त्याग (औदार्य), शौर्य, सुखदुःख में समरस होना, दक्षता, प्रेम, और सत्यता – ये मित्र के सात गुण हैं।

একবার একটি ছেলে তার স্কুলের খরচ জোগাড় করার জন্যে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দরজায় কিছু কিছু জিনিস বিক্রি করছিলো

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

একবার একটি ছেলে তার স্কুলের খরচ জোগাড় করার জন্যে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দরজায় কিছু কিছু জিনিস বিক্রি করছিলো   একদিন দুর্ভাগ্যক্রমে তার কোনো জিনিসই বিক্রি হলো না , আর এমন সময়  তার খুব খিদেও পেয়ে গিয়েছিলো l                 
সে ঠিক করল এর পর সে যেই বাড়িতে প্রথমে যাবে , সে সেখান থেকে কিছু খাবার চেয়ে নিয়ে খাবে I                           
তখন সে এগিয়ে গেলো এবং সামনের বাড়ির দরজায় আওয়াজ করলো l একটি ছোটো মেয়ে দরজা খুলে দাঁড়ালো l কিন্তু মেয়েটিকে দেখে ছেলেটি ঘাবড়ে গেলো আর খাবার চাওযার পরিবর্তে সে এক গ্লাস জল চাইলো l
কিন্তু মেয়েটি দেখে বুঝতে পারলো যে ছেলেটি ক্ষুধার্ত , তাই সে ভিতরে গিয়ে বড় এক গ্লাস দুধ নিয়ে এলো l ছেলেটি বিনা বাক্যব্যয়ে ওই এক গ্লাস দুধ ধীরে ধীরে পান করলো l
ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো দুধের দাম কতো টাকা দেবো ? মেয়েটি বললো , টাকা কিসের জন্যে ? আমার মা আমাকে শিখিয়েছেন যে কাউকে যদি কোনোরকম উপকার বা সাহায্য করো তবে তার থেকে কোনোপ্রকার অর্থ নেবে না l
তখন ছেলেটি বললো “, তাহলে আমি তোমাকে মন থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি l ” তারপর ছেলেটি সেই স্থান ত্যাগ করলো l দুধ পান করার ফলে সে কেবল শারীরিক বলই পেলো না , বরং তার ঈশ্বর আর মানুষের উপরে বিশ্বাস আর ভরসা আরও বেড়ে গেলো l
বেশ কয়েক বছর পরে সেই মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে l গৃহ চিকিৎসক তাকে শহরের বড় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দিলো l
হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হোবার্ড কেল্লি কে রোগী দেখবার জন্য ডাকা হলো l যখনই ডাক্তার মেয়েটির গ্রামের নাম শুনলেন  , তিনি  চমকে উঠলেন  l
ডাক্তার তার আসন ছেড়ে দৌড়ে মেয়েটির ঘরে ঢুকলেন  , মেয়েটিকে দেখে ডাক্তার সহজেই চিনতে পারলেন  l তিনি  তখনই প্রতিজ্ঞা করলেন  যে মেয়েটির প্রাণ বাঁচাতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন l ডাক্তার মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করলেন এবং তার পরিশ্রম সার্থক হলো l মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গেলো l
ডাক্তার হাসপাতালের অফিসে গিয়ে মেয়েটির চিকিৎসার যাবতীয় খরচ জমা করে দিলেন l তিনি রসিদ নিলেন l
রসিদের এক কোনে তিনি একটি ছোটো কথা লিখলেন আর সেটি মেয়েটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন l
মেয়েটি রসিদ দেখে ঘাবড়ে গেলো ……..কারণ সে জানতো যে , তার মারাত্মক অসুখ থেকে তো সে বেঁচে গেছে , কিন্তু হাসপাতালের খরচ দেওয়া তার পক্ষে কষ্টকর হবে l
সে ধীরে ধীরে রসিদটা খুললো , খরচের হিসাব দেখছিলো , আচমকা তার নজর কোনের দিকে পড়লো যেখানে ডাক্তার কিছু কথা লিখেছিলেন l
মেয়েটি পড়লো , যেখানে লেখা ছিলো এক গ্লাস দুধের ঋণ এইভাবে শোধ করলাম
নীচে ডাক্তার হোবার্ড কেল্লির হস্তাক্ষর ছিলো l
খুশী আর আনন্দে মেয়েটির চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো l
সে মাথার উপর হাত তুলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলো , বললো , ” হে ঈশ্বর, তোমায় অনেক অনেক ধন্যবাদ ,……তোমার ভালোবাসা মানুষের হৃদয় আর কর্মের দ্বারা কিভাবে চারিদিকে ছাড়িয়ে পড়ছে l “
যদি আপনি সর্বদা অন্যের ভালো চিন্তা করেন , অপরের উপকার করেন, তাহলে সবসময় আপনার ভালোই হবে ….l l

এখন আপনাকে দুটোর মধ্যে ☝একটাকে পছন্দ করতে হবে………l
এক তো আপনি এই গল্প আপনার পরিচিত জনের সঙ্গে ভাগ করে নিন যাতে এই সুন্দর মানসিকতা চারিদিকে
ছড়িয়ে পড়ে ……..l
আর না হলে নিজেকে বুঝিয়ে নিন যে এই ঘটনা আপনার হৃদয় স্পর্শ করে নি …………..!!!

তরুণ যুবক :- আচ্ছা মহারাজ, বিদেশে যখন স্বামীজিকে চায়ের সাথে বিষ মিশিয়ে পান করতে দেওয়া হয়েছিল তখন তিনি চায়ের মধ্যে ঠাকুরকে দেখতে পান। এই ঘটনায় ঠাকুর কি স্বয়ং এসেছিলেন?

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

তরুণ যুবক :- আচ্ছা মহারাজ, বিদেশে যখন স্বামীজিকে চায়ের সাথে বিষ মিশিয়ে পান করতে দেওয়া হয়েছিল তখন তিনি চায়ের মধ্যে ঠাকুরকে দেখতে পান। এই ঘটনায় ঠাকুর কি স্বয়ং এসেছিলেন?

জয়দীপ মহারাজ :- ঠাকুর কোন ব্যক্তি নন, তিনি চৈতন্যস্বরূপ; গুরুশক্তি। গুরুশক্তি প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে। স্থূলরূপে গুরু এসে সেটা জাগিয়ে দেন, সক্রিয় করে দেন। অপরদিকে স্বামীজি সবসময় ঠাকুরের চিন্তার মধ্যেই রয়েছেন। তাই তাঁর কাছে চৈতন্যশক্তি বলতে ঠাকুর রামকৃষ্ণ। চৈতন্য, ব্রহ্ম বা বিরাটকে কল্পনা করা যায় না। ঈশ্বরচিন্তা অর্থাৎ কোন প্রতীকের চিন্তা। সদগুরু এবং ইষ্ট এক‘, ‘গুরু ব্রহ্মময়‘ – কেন বলা হয়? কারণ যাকে আমরা চিন্তা করতে পারিনা, তাকে কেন্দ্র করে যে লীলা, তা যাকে কেন্দ্র করে হয় তাকে চিন্তা করলেই হয়।
স্বামীজি সকল কাজের পেছনে ঠাকুরের হাতছানি অনুভব করছেন। তাঁর লোকশিক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও ডিভাইন প্ল্যানে (divine plan) এটা ছিল। ঠাকুরের কথা নরেন লোকশিক্ষা দেবেসেই ঐশ্বরিক ইচ্ছারই প্রতিফলন। যদিও ডিভাইন প্ল্যান পরিবর্তন করার ক্ষমতাও ঠাকুরের ছিল কারণ তিনি মায়াধীশ। রাখাল, যোগীন, তারক এরা তিনজনেই তো বিবাহিত ছিলেন। অথচ তিনজনেই সন্ন্যাসী। এটা ঠাকুরের সংকল্প ছাড়া সম্ভব নাকি! স্বামীজি সারাদিন লেকচার (lecture) দেবার পর ভেবে পেতেন না পরের দিন কি বলবেন। তখন তিনি অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করতেন ঠাকুরের কাছে। লেকচারে কিছু বলতে হয় নিজের থেকে। আর যারা শিবতুল্য বা ঋষিতুল্য মানুষ হন তাঁদের নিজের থেকে কিছু বলার থাকেনা। এমনই এক চরম সংকটের মুহূর্তে বিবেকানন্দ দেখতে পেতেন তাঁরই মত এক ব্যক্তি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিয়ে চলেছেন। তিনি শুনতেন ও পরের দিন সেই লেকচারটাই তিনি দিতেন। এটা কোন ইচ্ছা বা শক্তিতে হচ্ছে? এইভাবে প্রতি পদে পদে স্বামীজি রিয়েলাইস (realise) করছেন যে কিভাবে ঠাকুরের শক্তি কাজ করছে।
স্বামীজির তখনও কাজ বাকী আছে তাই তার অন্তঃকরণ থেকেই একটা মেসেজ (message) বা দর্শন দিয়ে তাকে চা টা পান করতে বারণ করা হল। অর্থাৎ তাঁর নিজের মধ্যে অর্ন্তযামী যে সত্তা তিনিই তাকে জানালেন। তিনি কিন্তু তখন চায়ে বিষ আছেবলে মানুষকে তঠস্ত করে দেওয়ার রাস্তায় হাঁটলেন না। প্রপার অ্যাকশন (proper action) করলেন, গ্লাসটা নামিয়ে রাখলেন। নেগেটিভ অ্যাকশন (negative action) বা রিয়েকশন্ (reaction) করলেন না।
একবার স্বামী বাউলানন্দ সৎসঙ্গের মধ্যে আগামীর এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন এই ঘটনা ঘটবে রামকৃষ্ণের ইচ্ছায়। সেই সৎসঙ্গে উপস্থিত এক শিক্ষিত ব্যক্তি এই কথা শুনে তখন বলেন, ‘কিন্তু ঠাকুর তো দীর্ঘ সত্তর বছর আগে শরীর ছেড়েছেন। উত্তরে বাউলানন্দ বলেন, ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক দিয়ে রামকৃষ্ণকে ধরা সহজ নয়। রামকৃষ্ণ কোন সাধারণ মানুষ নয়, বর্তমান বিশ্বজুড়ে যে হাইয়ার কনশাসনেস্ (higher consciousness) সেটাই রামকৃষ্ণ
একদিকে ঠাকুরকে আমরা ভগবান, যুগাবতার বলছি আবার আমরাই তাঁকে তাঁর বলা কথা ও কাজের মধ্যে লিমিট (limit) করে দিচ্ছি। তাঁর রোলটার (role) মধ্যেই কেবল তাঁকে খুঁজছি। ওনার লীলার পরিপ্রেক্ষিতে ওনার রোলটা বিশ্বসংসারে ঈশ্বরীয় শক্তির এক ঘন রূপ বা কনডেন্সড্ ফরম্ (condensed form) বলা চলে। রামকৃষ্ণ একটা চেতনা। তাই এহেন মহাপুরুষ শরীর ছাড়লে তাঁর চেতনাটা ফেটে চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। সারা পৃথিবীতে যেখানে যেখানে যোগ্যতা, দক্ষতা বা আধার আছে সেখানে সেখানে তারা ক্যাচ (catch) করে নেয়। হয়ত তারা রামকৃষ্ণ বলে চিনতে পারে না। সেটাকে আত্মস্থ করে তারা ভগবানের কোন না কোন কাজ করতে শুরু করে দেয়। বিজ্ঞানে, ইতিহাসে, সংস্কৃতিতে সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে। তাই বেঙ্গল রেনেসা (Bengal renaissance) বা ইংরেজ বিরোধী যে এক আন্দোলন শুরু হয় তার সেন্টারে (centre) কিন্তু রয়েছেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ। হয়ত অনেকে নবজাগরণের রূপকার হিসাবে স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন বা বিপ্লবীদের নাম নেয়। কিন্তু যে শক্তিকে কেন্দ্র করে এই ছোট ছোট শক্তি আবর্তিত হচ্ছে তিনি হচ্ছেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।।
(জয়দীপ মহারাজের সৎসঙ্গের অংশবিশেষ)

আপনি যখন মন্দিরে আসবেন আপনার উচিত আপনার পূর্ণ মনোযোগ ভগবানের উপর স্থাপন করা I দেখবেন একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া বিশ্বের কোন অপ্রিয় জিনিস আপনার নজরে আসবে না I

এক মহিলা মন্দিরের পূজারীকে সাফ জানিয়ে দিলেন– আমি আর কোনদিন মন্দিরে আসবো না I

পূজারী জিজ্ঞেস করলেন– কারণটা কি জানতে পারি ?
মহিলা বললেন– মন্দিরের পরিবেশটা আমার এখন একদম ভালো লাগে না I মন্দিরে এসে মানুষের মোবাইল টেপা, প্রেম, গল্প, আড্ডা এসব দেখতে আমার একদন ভালো লাগে না I
পূজারী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন–আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার আগে আমার একটা কথা মানবেন ?
মহিলাটি বললেন– কি বলুন I
পূজারী বললেন– একটি জলপূর্ণ গ্লাস হাতে নিয়ে আপনাকে দুইবার এই মন্দির প্রদক্ষিণ করতে হবে, পারবেন তো ? তবে এক ফোটা জল যেন গ্লাস থেকে বাইরে না পড়ে I
মহিলাটি বললেন- পারবো I
মহিলাটি একটি জলপূর্ণ গ্লাস হাতে নিয়ে পুরো মন্দির দুইবার প্রদক্ষিণ করলেন, এক ফোটা জল গ্লাস থেকে নিচে পড়ে নি I
প্রদক্ষিন শেষ হলে পূজারী মহিলাটিকে তিনটি প্রশ্ন করলেন–
১) আপনি কি প্রদক্ষিণের সময় কাউকে মোবাইল টিপতে দেখেছেন ?
২) আপনি কি কাউকে গল্প করতে লক্ষ্য করেছেন ?
৩) কাউকে কি বাজে কোন কাজ করতে দেখেছেন I
মহিলাটি বললেন– আমি এসব কিছুই লক্ষ্য করি নি কারণ আমার পুরো মনোযোগ জলের গ্লাসের উপর ছিল যাতে এক ফোটা জল গ্লাস থেকে না পড়ে যায় I
পূজারী বললেন– আপনি যখন মন্দিরে আসবেন আপনার উচিত আপনার পূর্ণ মনোযোগ ভগবানের উপর স্থাপন করা I দেখবেন একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া বিশ্বের কোন অপ্রিয় জিনিস আপনার নজরে আসবে না I

मुझे अब यह पेशा छोड़ देने के अलावा अन्य कोई रास्ता सूझ नहीं रहा है ।"

.                                                        सुप्रभातम्
                                                        माँ की वाणी   

    शरीर धारण करने में कोई सुख नहीं है । संसार दुःखमय ही है । केवल भगवान के नाम कीर्तन में ही सुख है । जिन पर ठाकुर की कृपा हुई है केवल वे ही उन्हें भगवान के रूप में जान पाये है । और केवल यही उनका सुख है ।

                                                          सच्ची प्रार्थना    

    एक गाड़ीवान ने यहूदी धर्माचार्य रबी बर्डिक्टेव के पास जाकर पूछा, “महाराज, मैं एक गाँव से दूसरे गाँव गाड़ी हाँका करता हूँ । यह पेशा मुझे पसन्द नहीं, क्यों कि मैं भगवान की प्रार्थना के लिए सेनेगाग (मंदिर) जाने को नियमित समय नहीं दे पाता । मुझे अब यह पेशा छोड़ देने के अलावा अन्य कोई रास्ता सूझ नहीं रहा है ।”
          इस पर रबी ने पूछा, “क्या तुम्हारी गरीब बूढ़े यात्रियों से कभी भेंट होती है ?” “जीहाँ, मुझे गरीब, दीन-दुखी यात्री अवश्य दिखायी देते हैं और मैं उन्हे मुफ्त में सवारी भी दिया करता हूँ ।” — गाड़ीवान ने जवाब दिया ।
       तब तुम इस पेशे को कदापि न छोड़ों । तुम इस पेशे में कहकर ही भगवान् की प्रार्थना करते आ रहे हो, क्यों कि दिन-दुखियों की सेवा ही भगवान् की सेवा है और यही भगवान् की सच्ची प्रार्थना है ।”

Disregarding best medicinal consideration, his condition deteriorated in the course of the most recent couple of days and he passed away around 5.30 p.m. on 18 June 2017.

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

Swami Atmasthanandaji
Swami Atmasthanandaji 
Swami Atmasthanandaji
Swami Atmasthanandaji 

Swami Atmasthanandaji
Swami Atmasthanandaji 

 With profound distress, 

we declare the passing without end of Swami Atmasthanandaji, President of Ramakrishna Math and Ramakrishna Mission, on Sunday, 18 June 2017 at around 5:30 pm at Ramakrishna Mission Seva Pratishthan clinic, Kolkata. He was 98. He had been admitted to Seva Pratishthan clinic on 21 February 2015 for treatment of maturity infirmities. Disregarding best medicinal consideration, his condition deteriorated in the course of the most recent couple of days and he passed away around 5.30 p.m. on 18 June 2017.

The incineration will occur at Belur Math on Monday, 19 June 2017 at around 9.30 p.m. The entryways of Belur Math will stay open all during that time of the eighteenth and through the nineteenth till the last rituals are finished.

Conceived on the blessed Buddha Purnima day in May 1919, at Sabajpur, close Dhaka, he got mantra diksha from Swami Vijnananandaji Maharaj (a religious devotee of Sri Ramakrishna) in 1938 and joined the Ramakrishna Order at Belur Math on 3 January 1941 at 22 years old years. In 1945, Swami Virajanandaji Maharaj, the 6th President of the Order, gave him Brahmacharya pledges, and in 1949, Sannyasa promises and the name Swami Atmasthananda.

In the wake of serving the Order at Belur Math and the branches at Deoghar (Vidyapith) and Mayavati (Advaita Ashrama), he got the chance to serve Swami Virajanandaji Maharaj, the then President of the Order, for quite a while. He put in quite a long while in his blessed organization in the isolation of Shyamla Tal in the Himalayas. In 1952, he was presented on Ranchi TB Sanatorium branch as an Assistant Secretary. He endeavored to grow the Sanatorium’s administrations from various perspectives. He was sent to Rangoon (Yangon) Sevashrama as its Secretary in 1958. He built up the Sevashrama healing facility and it before long turned into the best doctor’s facility in Burma (Myanmar) around then. At the point when military rulers assumed control of Rangoon Sevashrama, he came back to India in 1965. He was presented on Rajkot branch as its head in 1966. The delightful sanctuary of Sri Ramakrishna at Rajkot Ashrama was worked amid his residency on his drive.

He was chosen a Trustee of the Ramakrishna Math and Member of the Governing Body of the Ramakrishna Mission in 1973. In 1975, he was selected an Assistant (General) Secretary of the twin associations. Under his stewardship as Relief Secretary, the Math and Mission led gigantic alleviation and restoration tasks in different parts of India, Nepal, and Bangladesh. He turned into the General Secretary of the Math and Mission in 1992 and kept on being in that post for a long time till 1997 when he turned into a Vice-President of the Order. He was chosen President of the Ramakrishna Math and Ramakrishna Mission on 3 December 2007.

Swami Atmasthanandaji voyaged broadly in different parts of the nation and visited numerous branches of the Order and some unaffiliated focuses. In 1998, he visited different places in the USA, Canada, Japan, and Singapore. He additionally went to Malaysia, Fiji, Sri Lanka and Bangladesh at various occasions. In each one of those spots, he spread the message of Sri Ramakrishna, Sri Sarada Devi, Swami Vivekananda and Vedanta and furthermore gave mantra Diksha to numerous otherworldly searchers.

He was one of the key people to arrange Pallimangal (incorporated rustic advancement) exercises in Kamarpukur and Jayrambati, an adolescent instructional hub at Saradapitha (Belur) and numerous other social administration programs.

“যখন সেই অবস্থা আসত শিরদাঁড়ার ভিতর দিয়ে যেন ফাল চালিয়ে যেত! ‘প্রাণ যায়, প্রাণ যায়’ এই করতাম। কিন্তু তারপরে খুব আনন্দ!”

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

Sri Ramakrishna
Sri Ramakrishna  

তব কথামৃতং তপ্তজীবনং, কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম্‌ ৷শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং, ভুবি গৃণন্তি যে ভূরিদা জনাঃ ৷৷

কাছাকাছি দিন থেকে
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
১৮৮৫, ১২ই এপ্রিল
পূর্বকথা শ্রীরামকৃষ্ণের মহাভাব ব্রাহ্মণীর সেবা
গিরিশ, মাস্টার প্রভৃতিকে সম্বোধন করিয়া ঠাকুর নিজের মহাভাবের অবস্থা বর্ণনা করিতেছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ (ভক্তদের প্রতি) — সে অবস্থার পরে আনন্দও যেমন, আগে যন্ত্রণাও তেমনি। মহাভাব ঈশ্বরের ভাব এই দেহমনকে তোলপাড় করে দেয়! যেন একটা বড় হাতি কুঁড়ে ঘরে ঢুকেছে। ঘর তোলপাড়! হয়তো ভেঙেচুড়ে যায়!
ঈশ্বরের বিরহঅগ্নি সামান্য নয়। রূপসনাতন যে গাছের তলায় বসে থাকতেন ওই অবস্থা হলে এইরকম আছে যে, গাছের পাতা ঝলসাপোড়া হয়ে যেত! আমি এই অবস্থায় তিনদিন অজ্ঞান হয়ে ছিলাম। নড়তেচড়তে পারতাম না, এক জায়গায় পড়েছিলাম। হুঁশ হলে বামনী আমায় ঘরে স্নান করাতে নিয়ে গেল। কিন্তু হাত দিয়ে গা ছোঁবার জো ছিল না। গা মোটা চাদর দিয়ে ঢাকা। বামনী সেই চাদরের উপর হাত দিয়ে আমায় ধরে নিয়ে গিছল। গায়ে যে সব মাটি লেগেছিল, পুড়ে গিছল!
যখন সেই অবস্থা আসত শিরদাঁড়ার ভিতর দিয়ে যেন ফাল চালিয়ে যেত! ‘প্রাণ যায়, প্রাণ যায়’ এই করতাম। কিন্তু তারপরে খুব আনন্দ!”
ভক্তেরা এই মহাভাবের অবস্থা বর্ণনা অবাক্‌ হইয়া শুনিতেছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশের প্রতি) — এতদুর তোমাদের দরকার নাই। আমার ভাব কেবল নজিরের জন্য। তোমরা পাঁচটা নিয়ে আছ, আমি একটা নিয়ে আছি। আমার ঈশ্বর বই কিছু ভাল লাগে না। তাঁর ইচ্ছে। (সহাস্যে) একডেলে গাছও আছে আবার পাঁচডেলে গাছও আছে। (সকলের হাস্য)
আমার অবস্থা নজিরের জন্য। তোমরা সংসার করো, অনাসক্ত হয়ে। গায়ে কাদা লাগবে কিন্তু ঝেড়ে ফেলবে, পাঁকাল মাছের মতো। কলঙ্কসাগরে সাঁতার দেবে তবু গায়ে কলঙ্ক লাগবে না।”
গিরিশ (সহাস্যে) — আপনারও তো বিয়ে আছে। (হাস্য)
শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্য) — সংস্কারের জন্য বিয়ে করতে হয়, কিন্তু সংসার আর কেমন করে হবে! গলায় পৈতে পরিয়ে দেয় আবার খুলে খুলে পড়ে যায় সামলাতে পারি নাই। একমতে আছে, শুকদেবের বিয়ে হয়েছিল সংস্কারের জন্য। একটি কন্যাও নাকি হয়েছিল। (সকলের হাস্য)
কামিনীকাঞ্চনই সংসার ঈশ্বরকে ভুলিয়ে দেয়।”
গিরিশ কামিনীকাঞ্চন ছাড়ে কই?
শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা কর, বিবেকের জন্য প্রার্থনা কর। ঈশ্বরই সত্য আর সব অনিত্য এরই নাম বিবেক! জলছাঁকা দিয়ে জল ছেঁকে নিতে হয়। ময়লাটা একদিকে পড়ে ভাল জল একদিকে পড়ে, বিবেকরূপ জলছাঁকা আরোপ করো। তোমরা তাঁকে জেনে সংসার করো। এরই নাম বিদ্যার সংসার।
দেখ না, মেয়েমানুষের কি মোহিনী শক্তি, অবিদ্যারূপিণী মেয়েদের। পুরুষগুলোকে যেন বোকা অপদার্থ করে রেখে দেয়। যখনই দেখি স্ত্রীপুরুষ একসঙ্গে বসে আছে, তখন বলি, আহা! এরা গেছে। (মাস্টারের দিকে তাকাইয়া) — হারু এমন সুন্দর ছেলে, তাকে পেতনীতে পেয়েছে! — ‘ওরে হারু কোথা গেল’, ‘ওরে হারু কোথা গেল’। সব্বাই গিয়ে দেখে হারু বটতলায় চুপ করে বসে আছে। সে রূপ নাই, সে তেজ নাই, সে আনন্দ নাই! বটগাছের পেতনীতে হারুকে পেয়েছে।
স্ত্রী যদি বলে ‘যাও তো একবার’ অমনি উঠে দাঁড়ায়, ‘বসো তো’ আমনি বসে পড়ে।
একজন উমেদার বড়বাবুর কাছে আনাগোনা করে হায়রান হয়েছে। কর্ম আর হয় না। আফিসের বড়বাবু। তিনি বলেন, এখন খালি নাই, মাঝে মাঝে এসে দেখা করো। এইরূপে কতকাল কেটে গেল উমেদার হতাশ হয়ে গেল। সে একজন বন্ধুর কাছে দুঃখ করছে। বন্ধু বললে তোর যেমন বুদ্ধি। ওটার কাছে আনাগোনা করে পায়ের বাঁধন ছেঁড়া কেন? তুই গোলাপকে ধর, কালই তোর কর্ম হবে। উমেদার বললে, বটে! — আমি এক্ষণি চললুম। গোলাপ বড়বাবুর রাঁড়। উমেদার দেখা করে বললে, মা, তুমি এটি না করলে হবে না আমি মহাবিপদে পড়েছি। ব্রাহ্মণের ছেলে আর কোথায় যাই! মা, অনেকদিন কাজকর্ম নাই, ছেলেপুলে না খেতে পেয়ে মারা যায়। তুমি একটি কথা বলে দিলেই আমার একটি কাজ হয়। গোলাপ ব্রাহ্মণের ছেলেকে বললে, বাছা, কাকে বললে হয়? আর ভাবতে লাগল, আহা, ব্রাহ্মণের ছেলে বড় কষ্ট পাচ্ছে! উমেদার বললে, বড়বাবুকে একটি কথা বললে আমার নিশ্চয় একটা কর্ম হয়। গোলাপ বললে, আমি আজই বড়বাবুকে বলে ঠিক করে রাখব। তার পরদিন সকালে উমেদারের কাছে একটি লোক গিয়ে উপস্থিত; সে বললে, তুমি আজ থেকেই বড়বাবুর আফিসে বেরুবে। বড়বাবু সাহেবকে বললে, ‘এ ব্যক্তি বড় উপযুক্ত লোক। একে নিযুক্ত করা হয়েছে, এর দ্বারা আফিসের বিশেষ উপকার হবে।’
এই কামিনীকাঞ্চন নিয়ে সকলে ভুলে আছে। আমার কিন্তু ওসব ভাল লাগে না মাইরি বলছি, ঈশ্বর বই আর কিছুই জানি না।”

ওঁ নিরঞ্জনং নিত্যমনন্তরূপং ভক্তানুকম্পাধৃতবিগ্রহং বৈ।ঈশাবতারং পরমেশমীড্যং তং রামকৃষ্ণং শিরসা নমামি।।

Today’s thoughts: *

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

*আজকের ভাবনা:*

*পরমার্থপ্রসঙ্গ*
    *-স্বামী বিরজানন্দ*
             *(২৪৪)*
ভগবানলাভ বা মোক্ষ মনুষ্যজীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই পরমপুরুষার্থলাভ করবার অধিকার ও সামর্থ্য কেবল মানুষেরই আছেপশু বা দেবতা, গন্ধর্ব, কারও নেই। পশুদের নেই, কারণ তারা বিবেকবুদ্ধিহীন। দেবাদির মোক্ষলাভ অসম্ভব, কারণ নিরতিশয় সুখ ও সম্পদে তাদের বুদ্ধি আচ্ছন্ন থাকে, বিবেকবৈরাগ্যের অবসর কোথায়! সেই কারণেই আবার মানুষের মধ্যে যারা বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী তাদের পক্ষেও মোক্ষলাভ কঠিন। আর যারা অত্যন্ত গরিব, যারা ক্ষুধার জ্বালায় ও অভাবের তাড়নায় সর্বদা অস্থির ও উদভ্রান্ত তাদেরও ধর্মলাভ হয় না। ভগবানলাভ মধ্যবিত্ত লোকের পক্ষে সম্ভব, কারণ তাদের অবস্থা ওই দুইয়ের মাঝামাঝি। আর দেখা যায়, জগতের ইতিহাসে ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র ও জীবনের অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে ও চিন্তার রাজ্যে যেসব শক্তিমান মনীষী নিজেদের প্রতিভাবলে অক্ষয়কীর্তি ও প্রভাব রেখে গেছেন তাঁদের প্রায় অনেকেরই এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে জন্ম।

* শ্রীরামকৃষ্ণের মন-ধ্যান* *-স্বামী চেতনানন্দ* * Ramakrishna’s mind-meditation * * – Swami Chatanananda *

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

*-স্বামী চেতনানন্দ*

          *শ্রীরামকৃষ্ণের মনধ্যান*
                        *(৯৪)*
শ্বেতাশ্বতর  উপনিষদে আছে— *”য একোহবর্ণো বহুধা শক্তিযোগাদ্বর্ণাননেকান্ নিহিতার্থো দধাতি।/ বি চৈতি চান্তে বিশ্বমাদৌ স দেবঃ স নো বুদ্ধ্যা শুভয়া সংযুনক্ত।।(/)* — সৃষ্টির পূর্বেএক সেই পরমাত্মার মধ্যে কোনো বর্ণভেদ ছিল না। বহু বিচিত্র বর্ণ নিয়ে তিনি ছিলেন একবর্ণ, অখণ্ড একটি সত্তা। সৃষ্টিকালে শক্তির সাহায্যে বহু হলেন— নানা বর্ণের সৃষ্টি করলেন। কী সেই শক্তি? আর কেনই বা করলেন? সেই শক্তি হলো মায়াশক্তি। করলেন— সৃষ্টির মধ্যে বৈচিত্র আনার জন্য। আর তার লীলা আস্বাদনের জন্য। তাই বিচিত্র এই সৃষ্টি এবং স্থিতির মধ্যেও যেমন তিনি সঙ্গোপনে থেকে গেলেন, প্রলয়কালে আবার সবই লয় করে নেন তিনি সেই এক নিজের মধ্যেই। আবার সৃষ্টির উষায় তিনিই হন উচ্ছাসিত। বিজ্ঞানময় সেই সত্তাকে জানার জন্য, ঈশ্বরআপনি আমাদের সুবু্দ্ধি দিন।

সাধারণ লোকের জন্য সংসার ত্যাগ নয় বরং সংসারে থেকেই ঈশ্বরলাভের পথ প্রশস্ততর।

p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120%; }

জন্মজন্মান্তরের মা।।*

*শ্রীরামকৃষ্ণশক্তি শ্রীমা*
প্রব্রাজিকা মুক্তিপ্রাণা।
   শ্রী রামকৃষ্ণের জীবনাদর্শ সম্পর্কে শ্রীমা কেবল অবহিত ছিলেন না, তাঁর নিকট সমাগত সব ভক্তকেই তিনি চিনতেন, যদিও দুইএকজন ব্যতীত তাদের সঙ্গে বাক্যালাপ ছিল না।

Sri Sarada Devi
@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; direction: ltr; font-variant: normal; color: #181818; letter-spacing: normal; line-height: 120%; text-align: left; orphans: 2; widows: 2; text-decoration: none } p.western { font-family: “Merriweather”, “Georgia”, serif; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } p.cjk { font-size: 15pt } p.ctl { font-family: “inherit”; font-size: 15pt; font-style: normal; font-weight: normal } a:link { so-language: zxx }

Sri Sarada Devi

   কে কোন স্তরের, কার সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণের কিরূপ ব্যবহার, সব তাঁর জানা ছিল। যার ফলে পরবর্তী কালে একদিকে তিনি যেমন শত শত নরনারীকে শিষ্যরূপে গ্রহণ করে তাদের অধ্যাত্মজীবন পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন, তেমনি শ্রীরামকৃষ্ণের ভক্তগণেরও তিনিই ছিলেন আশ্রয়স্থল।
   আবার বহুবিধ সমস্যায় শ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্ঘের কর্তৃপক্ষকেও মূল্যবান পরামর্শ ও নির্দেশ তিনিই দিয়েছেন।
   একদিকে আত্মীয়স্বজন, ভক্ত, ভালোমন্দ নিয়ে বৃহৎ সংসারের সুগৃহিণী, অন্যদিকে অধ্যাত্মপিপাসু ভক্তগণের তৃষ্ণা নিবারণ, আবার সতত সঙ্ঘের কল্যাণে রত।
   আর সবগুলিই এত সাধারণ ও স্বাভাবিকভাবে করতেন যে কারও মনে করার অবকাশ ছিল না যে তিনি অতিশয় দুরূহ কোনও কাজ সম্পাদন করছেন।
   শ্রীরামকৃষ্ণের অন্তর্ধানের পর কিছুকাল কামারপুকুরে দারিদ্রের সঙ্গে তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল, লোকশিক্ষার জন্য তার প্রয়োজনও ছিল।

   শ্রী রামকৃষ্ণের নির্দেশ সাধারণ লোকের জন্য সংসার ত্যাগ নয় বরং সংসারে থেকেই ঈশ্বরলাভের পথ প্রশস্ততর।

   কিন্তু কাজটা সহজ নয়। শ্রীরামকৃষ্ণ তো কখনও সংসারজীবন যাপন করেননি। সেখানে প্রতিপদে যে দ্বন্দ্ব, সমস্যা, কলহ, অশান্তি সেই পরিবেশে ঈশ্বরচিন্তা কি সম্ভব?
   নিজের জীবন দিয়ে ওই আদর্শের দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্যই যেন শ্রীশ্রীমা আজীবন সংসারে বাস করে গেলেন।
   সেখানে প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিপদে অসংখ্য ঘটনার মধ্যে তাঁর যে অপূর্ব সহনশীলতা, অপার স্নেহ, বিচক্ষণতা ও অনন্ত ক্ষমার পরিচয় পাওয়া যায়, নারীমাত্রেরই তা আদর্শস্থল, শত কর্মকোলাহলের মধ্যে তাঁর ঈশ্বরাভিমুখী চিত্ত প্রমান করে অদ্বৈতজ্ঞান আঁচলে বেঁধে সংসার করা সম্ভব।
   নিজের সম্বন্ধে শ্রীশ্রীমার উক্তি, ঠাকুর তাঁকে রেখে গেছেন মাতৃভাব বিকাশের জন্য। তাঁর এই অপূর্ব মাতৃভাবের কথা এখানে পৃথকভাবে বলব না কারণ তাঁর জীবনী ছাড়াও বহুজন এ তত্ত্ব আলোচনা করেছেন বিস্তৃতভাবে।
   আমাদের দেশে মেয়েদের মধ্যে এই মাতৃত্বের বিকাশ ছিল সহজাত, এখনও আছে যা বহুক্ষেত্রে নিজ সন্তানের গন্ডি অতিক্রম করে। শ্রীশ্রীমার জীবনে অবশ্য তার বিকাশ অদ্ভুত। দেশকাল, জাতিবর্ণের কোনও পার্থক্য দেখা যেত না।
   তাঁর উদার মাতৃহৃদয় নির্বিচারে যে কাছে এসেছে তাকেই আশ্রয় দেবার জন্য সতত উন্মুখ।
   কিন্তু সেই মাতৃহৃদয়ে কেবল স্নেহবাৎসল্য ছিল মনে করলে ভুল হবে। প্রয়োজনস্থলে সন্তানের কল্যাণের জন্য কঠোরতাও ছিল, আর কদাপি ছিল না জাগতিক উচ্ছ্বাস।
   তাঁকে উপলক্ষ বা কেন্দ্র করে ভক্ত ও শিষ্যদের উচ্ছ্বাস, প্রচারের বাহুল্য, ভাবের অতিশয়োক্তি ইত্যাদি কোনওদিন তাঁর কাছে প্রশ্রয় পায়নি।
   ‘আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ‘ – স্বামীজীর প্রতিষ্ঠিত সঙ্ঘ আজ বিশ্বের সর্বত্র সমাদৃত। বর্তমানে ওই সঙ্ঘের অনুসরণে বহু সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ও লোককল্যাণকার্যে অগ্রণী।
   কিন্তু ঠিক সেই সময় তার প্রকৃত মূল্যায়ন করা কঠিন ছিল। বিরুদ্ধ সমালোচনা কম ছিল না। এমনকি, তাঁর গুরুভাইদের মধ্যেও কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন।
   কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে শিক্ষাবিহীন, অতি সাধারণ এক পল্লীরমণী সর্বতোভাবে ওই আদর্শকে সমর্থন ও সাহায্য করেছেন। উৎসাহ দিয়েছেন সকলকে স্বামীজী প্রবর্তিত সেবাব্রত বা নিঃস্বার্থ কর্মযোগে।
*”জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্‌গুরুম্।*

*পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।“*

Design a site like this with WordPress.com
Get started