মাকে যেমন করে ভালবাসতে শিখলাম


মাকে যেমন করে ভালবাসতেশিখলাম

***************************************
মা আমাদের সামনে সামনে, পাশে পাশে। কখনও হাতধরে চলছেন, কখনও ছেড়েদিচ্ছেন।সংসার সাগরে ভাসার কৌশলশিখতে শিখতে, ডুবতে ডুবতে, খাবি খেতে খেতে যখনতখন চিৎকারে উচ্চকিত হচ্ছি —-মা, ডুবে যাই, মাগো যন্ত্রনায় পুড়ে যাই,তুমিধরো, সন্তানের মাথায় দাও তোমারশ্বেতবসনের আঁচল। তোমার নরমস্নেহ সুধামাখা বুকে আশ্রয় নিইশিশুর মতো, তোমার গায়েশুধু মা মা গন্ধ।আমিএখন আর কোন গর্ভধারিণীরমুখ মনে করতে পারিনা।সমস্ত জাগতিক অবয়ব কোথায়কোথায় মিলিয়ে যায় শুধুমাত্রএকটি মুখশ্রীশ্রীমা সারদারঅপাপবিদ্ধ মুখটি এক নক্ষত্রহয়ে ফুটে থাকে। আমিজগতের সব উপেক্ষাকে পাশকাটিয়ে চলি। শরীরের ক্লেশদুহাতে আড়াল করি। আমারদুঃখ রাতের আধাঁর সরিয়েশ্রীমা আমার অসময়ের সুসময়, নিঃসীম অন্ধকারেতারাময় আকাশের আলো হয়েজেগে থাকেন।
আমি ঠাকুরের মার ভালবাসায় পূর্ণহয়ে শুধুই বিশ্বাসের ভেলায়উত্তীর্ণ হতে থাকি অন্যকোনও গভীর বোধে, যেবোধ এক অবর্ণনীয় সুখেআমার জীবনকে প্লাবিত করেপূর্ণ করেমারুফিখান

মানুষ তাঁর বাইরের উন্মত্ত-ভোগের জীবনকে দেখবার কালে ""গভীর সন্ধান করেনি""— যদি করত দেখতে পেত "সেখানে আছে নিয়তির অন্ধকার।"


 || ভৈরব||

……………………

মৃত্যুর মিছিল এবং নাস্তিকতারকুঠার
________________________________
যেকাহিনীকে .. ছেড়ে এসেছি, এবারতাতে প্রবেশ করব —- রাত্রিঅন্ধকারে এক মানবযাত্রীর আলোকাভিযানেরসেই কাহিনী।
গিরিশের সম্বন্ধে স্মৃতিকথায় এবং গিরিশের জীবনীতেছড়িয়ে আছে সেই বিবরণ।……
        😂গিরিশের চেয়েদুর্ভাগাজীবন অল্পই সম্ভবপর।
মানুষ তাঁর বাইরের উন্মত্তভোগের জীবনকে দেখবারকালে “”গভীর সন্ধান করেনি“”—
যদি  করত      দেখতে পেত,     ~    “সেখানেআছে নিয়তির অন্ধকার।
সংক্ষেপে বলা চলে,   ~  সেই মানুষটি  সর্বদাই  মৃত্যুর  দ্বারা পশ্চাদ্ধাধিত
পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত গিরিশ  —-  সেই  তিনিই জীবনজড়ানোকালো ছায়ার সঙ্গে অবিরামযুদ্ধরত
গিরিশের জীবনের  আলোকিত প্রহরগুলি  যাঁরাদেখেছিলেনতাঁরা জানেন যে, – “সেগুলি কালিন্দীতে ভাসিয়ে দেওয়া প্রদীপেরমতো —#___নিমজ্জনের_আগে__মরণ__হাসিতে__রক্তিম।
****
আমরা জেনেছি, অনেকগুলো কন্যার পরে পুত্রগিরিশের জন্ম হয় ফাল্গুনেরশুক্লাষ্টমী তিথিতে।
তিনি অষ্টমগর্ভের লগনচাঁদা ছেলে। এমন ক্ষণজন্মাকেপেয়ে বাড়িতে আনন্দের অবধিছিলনা,
কিন্তু ____ না,   ছেলেটি মাতৃস্তন্য পেলনা____ মা অসুখে পড়লেন
ফলে
           “যশোদামায়েভূমিকা নিলেন বাড়িরবাগ্দিনীদাসী
মা কিছুদিনের মধ্যে সুস্থ হলেন, কিন্তু
যেমাতা পুত্রকে স্তন্যদানেঅপারগ,   😭তিনি স্নেহদান করতেওরাজি হলেন না
গিরিশকে তিনি অত্যন্ত অবহেলাকরতেন,   অকারণে তিক্ত শাসনেরমধ্যে রাখতেন
😭😭😭গিরিশবাল্যে জানলেন না মাতৃস্নেহকাকে বলে
                        ◆◆◆◆মায়ের ব্যবহারের রূপ তারকারণ গিরিশ পরবর্তীকালে স্বয়ংবলেছেন:-
               আদর প্রত্যাশায় যদিকখনো মার কাছে যাইতাম—   মা  দূরদূর করিয়া তাড়াইয়াদিতেন
যদি কখনও মিথ্যা বলিতামবা কাহাকেও গালি দিতাম, —- *মামুখের ভিতর গোবর টিপিয়াদিতেন*
মার  মুখে কখনও মিষ্টিকথা শুনিতে পাইতাম না, — *এজন্য মনে বড় কষ্টহইত।*
😭একদিন আমার গালগলাফুলিয়া ভারি জ্বর, অঘোরেপড়িয়া আছি,
শুনিলাম —-  মা  বাবাকে  বলিতেছেন:- 👏#তুমি_যেমন_করে_পারো_বাঁচাও
বাবা জানিতেন,  ‘মা আমাকে আদরকরেন নাবোধহয় তেমন ভালওবাসেন না
😢তিনি বিস্মিত হইয়া বলিলেন :-  “তুমি যেএত ব্যাকুল হচ্ছ !”
😭#__মা__কাতর__কন্ঠে উত্তরকরিলেনঃ–  
                                           ‘আমি রাক্ষসী, এক সন্তান খেয়েছি[‘ইহার পূর্বে গিরিশচন্দ্রে, জ্যেষ্ঠভ্রাতানিত্যগোপালের মৃত্যু হইয়াছিল‘],  এটিঅষ্টম গর্ভের ছেলে, পাছেআমার দৃষ্টিতে কোনো অমঙ্গল হয়,   তাই  আমি একে কাছেআসতে দিতুম না,
এলে   দূরদূর রে তাড়িয়ে দিতুম
কোলে করিনিকখনো একটি মিষ্টিকথা বলিনি,
আমার হেনস্তায়  কত  কষ্ট পেয়েছে, _____  আমার  বুক  ফেটে যাচ্ছে।
••••••••••••••••••
      মাতার  #গোপন__স্নেহের   কথা  গিরিশচন্দ্র বড় দেরীতে জেনেছিলেন
😭😭😭এইজানার কয়েক  মাসের মধ্যে  মায়েরমৃত্যু হয়। গিরিশের বয়সতখন এগারো
                    😍গিরিশ অপরপক্ষে ভ্রাতৃস্নেহ কাকে বলে জেনেছিলেন।
তাঁর বড় ভাই #নিত্যগোপালগিরিশকে গভীরভাবে ভালবাসতেন
গিরিশের শিক্ষার দিকে তাঁর বিশেষনজর ছিল
💖পিতার উপযুক্ত সন্তান তিনি, বিবাহিতসংসারের আশাভরসার স্থল।
তিনি মারা গেলেন মাত্র22 বছর বয়সেমায়ের মৃত্যুর একবছর আগেগিরিশের বয়স তখন দশ
              💛পিতার স্নেহ গিরিশ অপর্যাপ্তপেয়েছিলেন। সে অপরিমেয়  স্নেহেরপ্লাবনে গিরিশ নিমজ্জিত থাকতেন।
পিতা গিরিশকে কোনোদিন শাসন করেন নিতার কোনো ইচ্ছায় তিনিবাধা দেননি
বিশেষতঃ   পত্নীর মৃত্যুর পরেপুত্রের প্রতি তাঁর বাধাবন্ধহারাভালবাসা
😍গিরিশ আমৃত্যু তা স্মরণ করেছেন
পিতার নাম —-  #নীলকমল
💐নাটকের পর নাটকে গিরিশ শব্দটিকে 🌷পূজাপুষ্প🌷 করে তুলেছিলেন
🌺কখনো লিখেছেন : “রাখি  নীলকমলে হৃদ্কমলে ___ হওরে ভোলা ভাবেভোল!”
🌺কখনোবা আকুল স্বরে: “সংসারে মোরে সকলেনীলকমলআঁখি বলে।
            পিতার যখন মৃত্যুহলো তখন গিরিশের বয়সমাত্র  চৌদ্দ।
           গিরিশের নিতান্ত শৈশবে  আরো একটি মৃত্যুঘটেছিল,  ______ যা তাঁর চেতনায়#অনতিলক্ষ্য কিন্তু  #অনপনেয় ছায়াবিস্তার করে
গিরিশের থেকে দুবছরেরবড় এক বোন #প্রসন্নকালী____ শৈশবে ছোট ভাইটিকে সেঅত্যন্ত ভালবাসত
“””গিরিশচন্দ্রকেসে আদর করিয়া #গিরিভাই  বলিয়া ডাকিত
😍গিরিভাইকে একবার কোলে করিতেপারিলে তাহার আনন্দের সীমাথাকিত না
ছাতে গিরিশচন্দ্রের শুইবার কাঁথা শুকাইতেছে,
হঠাৎ বৃষ্টি আসিয়াছে,
পাছে গিরিশভাইয়ের কাঁথাভিজিয়া যায়বলিয়া বালিকা কাঁদিয়াআকুল
গিরিশকে কোলে লইবার জন্যবালিকা সতত সুযোগ খুঁজিত। কিন্তু
পাছে কোলে তুলিয়া ফেলিয়াদেয় নিমিত্ত বাটীরসকলকে সতত সাবধানে থাকিতেহইত।“””
নানা কারণে বাড়ীর সকলেরধারণা হয়েছিল , বালিকা শুভসংস্কারসম্পন্ন
গিরিশের শৈশবে  এই বালিকার মৃত্যুহয়
গিরিশ পরিণত বয়স পর্যন্তএই বালিকার ভালবাসাকে নিজের ক্ষীণ শৈশবস্মৃতিতে এবং কল্পনায় লালনকরে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন
বারবার  এই  দিদিটির দেখা পেতে চেয়েছেনকঠিন স্নেহহীন সংসারের মধ্যে” :  “””স্বপ্নেযদি দেখা দাও একদিনবলিদিদি, তোমায়—- #সংসার__কি__কঠিন!”””
মৃত্যুসমুদ্রের এপার থেকে ওপারেরউদ্দেশ্যে বৃদ্ধ গিরিশের কান্নারবার্তাঃ– “””মনে পড়েকরে ধরে(হাতধরে) বলিতে আমায়— ‘তুমিমার কাছে যাও। আমারেবিদায় দাও“””
           পিতার মৃত্যুর অল্পদিনপর যখন কিশোর গিরিশেরবিয়ে দিলেন তাঁর অভিভাবিকা#বড়দিদি —- তখন সে কাজকরেছিলেন ভ্রাতার সুখ শান্তিরকামনায়।
তিনি চেয়েছিলেন  অমঙ্গলের কালো ছায়া যেনদূর হয়ে যায় মঙ্গলপ্রদীপের আলোকে। কিন্তু
মঙ্গলদীপ নয় —–গিরিশের জীবনে🔥🔥🔥🔥দাবানলই সত্য
বিয়ের দিনের ঘটনা এইপ্রকার: —
মৃত্যুর মিছিল এবং নাস্তিকতারকুঠার
_______________________________________
গিরিশের জীবনে দাবানলই সত্য
বিয়ের দিনের ঘটনা এইপ্রকার:-
                      “””বিবাহেরদিন কলকাতায় ভীষণ অগ্নিকান্ড হইয়াছিল।
নিমতলায় একটি কাঠগোলায় আগুনলাগে
🔥সেই অগ্নি ভীষণাকারে জ্বলিতেজ্বলিতে বাগবাজার অভিমুখে ধাবিত হইয়া গিরিশচন্দ্রেরবাটীর সন্নিকটে আসিয়া উপস্থিত হয়। কোথায় বিবাহের আমোদআর
এই আসন্ন সর্বনাশ ! ! ! চারিদিকে হাহাকার শব্দ
সর্বনাশ হলো ! ! ! গেল    গেল  ! ! !’  – শব্দে সহস্র সহস্রনরনারীর কন্ঠে রাজপথ মুখরিত
জল আনো ! ! !  জল  আনো ! ! !’
বাড়ির লোক ভয়ে কম্পমানপ্রাণপণে ভগবানকে ডাকিতেছেন
গৃহদেবতা  #শ্রীধরজীর  দ্বারে লুটাইয়া পড়িয়াবলিতেছেন — ‘ঠাকুর রক্ষা করো! রক্ষা  করো‘!”””
         গিরিশচন্দ্রের বাড়ি  #আশ্চর্যভাবে  রক্ষা পেয়েছিল
তাঁদের বাড়ির দক্ষিণপশ্চিমেএক বৃহৎ তেঁতুলগাছ ছিল, “সেই বৃক্ষে অগ্নিরাশি আসিয়াপ্রতিহত হয়”  এবং  তারশক্তি নিঃশেষিতহয়েযায়
     জীবনেরমধুরতম কল্পনার রাত্রের এই অগ্নিকান্ড বাহ্যতনিঃশেষিত হলেও  আসলে নিঃশেষিত হয়নি
একদেড় বছরের মধ্যেগিরিশচন্দ্রের পঞ্চমা ভগিনী কৃষ্ণরঙ্গিণীরমৃত্যু হলো।
গিরিশের তেইশ বছর বয়সেপ্রথম পুত্র জন্মাল।
প্রথম পুত্র !–পিতামাতার স্বপ্নসাধের মূর্তি।সে পুত্র কয়েক মাসেরবেশি বাঁচেনি।
পরের বছরেই  গিরিশের মেজদিদির মৃত্যু। গিরিশের বয়স তখন চব্বিশ।
অব্যবহিত পরে মারা গেলেনগিরিশের তৃতীয় ভ্রাতা কানাইলাল।গিরিশের সঙ্গে এই ভাইয়েরবয়সের ব্যবধান ছিল অল্প, ইনিগিরিশের প্রিয় সুহৃদের মতোছিলেন, — মৃত্যুর সামান্য আগে এঁর বিয়েহয়
——- এর পরে গিরিশচন্দ্র 6 বছরেরজন্য #অব্যহতি পেলেন — #মৃত্যুযন্ত্রণার হাত থেকে
এইসময়েই 1868 সালে, গিরিশের দ্বিতীয়পুত্রেল জন্ম হয় —- যারমৃত্যু অবশ্য গিরিশকে দেখেযেতে হয়নিযেপুত্র অভিনেতাহিসাবে গিরিশের উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন।
তিনি হলেন সুবিখ্যাত #সুরেন্দ্রনাথ_ঘোষ —  #দানীবাবু  নামেই  পরিচিত
এই ছয় বছর গিরিশচন্দ্রঅব্যাহত গৃহশান্তি এবং বহির্গত খ্যাতিপেয়েছিলেন
*****
        গিরিশতিরিশে পা দেওয়ার সঙ্গেসঙ্গে অপেক্ষায় অস্থির  “দুর্ভাগ্যদ্বিগুণ বেগে আক্রমণ শুরুকরে দিল
সন্তান প্রসব করে তাঁরপত্নী সূচিকায় আক্রান্ত হলেন। সন্তানটি বাঁচলনা।
অল্পদিন পরে গিরিশের ছোটভাইক্ষীরোদচন্দ্র মারা গেলেনএকুশবছর বয়সে।
কয়েকমাস পরে মারা গেলেনগিরিশের তৃতীয় ভগিনী — 40বছরবয়সে।
তার কয়েকমাস পরে মারা গেলেন  গিরিশের পত্নী দীর্ঘ রোগভোগেরপরে। গিরিশের বয়স তখন — 30বছর9মাস।

গিরিশ তাঁর পত্নীকে বিশেষভালবাসতেন (উচ্ছৃঙ্খলতা পত্নীপ্রেমকে নষ্ট করতে পারেনি),  পত্নীর যথেষ্ট সেবাশুশ্রূষাকরেছিলেন। পত্নীর মৃত্যু তাঁকে দিশেহারাকরে ফেলল।চারিদিক শুধু অন্ধকার।
অন্ধকারই আশ্রয়
গাঢ় প্রেমে সর্পচুম্বন করারমতো অন্ধকারকে আলিঙ্গন করে গিরিশ লিখলেনঃ
 ●○●তোমায় জানে না নরেতাইতো তোমায় ডরে; অসময়েতুমি সখা, কেহ নাহিআর!
●○●যখন
●○●জ্বলে শুধু স্মৃতি চিতেচিতানল প্রায়
●○●তখন
  ●○●অভাগা তব মুখপানে চায়।●○●

         তিরিশ বছরবয়সে এই গভীর চিত্তসংকটেরকালে গিরিশের কাছে কেনঅন্ধকার”  একমাত্র  “সখাহয়ে উঠেছিলতারহেতু গিরিশের আত্মকাহিনী জীবনকথাতেপাওয়া যায়
আমরা দেখি,
                      “এই সময়ের আগেঈশ্বরকেডাকার ইচ্ছাস্বেচ্ছায় বর্জনকরেছেন
#_______গিরিশ___এখন___নাস্তিক
                  গিরিশের  ধর্মজীবনকে পূর্বাপর অনুসরণ করলে দেখব:- বাল্যে সেকালের হিন্দুবালকদের মতো তিনি #রামায়ণ  #মহাভারত  #পুরাণের  কাহিনীতে নিমজ্জিত ছিলেন, সহজ ভক্তিবিশ্বাসঅর্জন করেছিলেন।……
কিন্তু
🔥বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রোহজাগতে লাগল তাঁর মধ্যে
মৃত্যুমিছিলের মধ্যে দাঁড়িয়ে  “প্রতিভাবান অনুভূতিকাতরতরুণের মনে নানা প্রশ্নজেগেছিল
😡স্বভাবে প্রচন্ডতা ছিল বলে তাঁরপ্রশ্ন উপনীত হয়েছিল  “সংশয়ে” ____ এবংবিদ্রোহে
ভাবুলতাকে চূর্ণ করার অধীরআকাঙ্ক্ষায় তিনি #কালাপাহাড় হয়েউঠলেন —-  ঠিকভাবে বলতে গেলে,     ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য অধীরতা বোধকরলেন
দেখা যায়, —  যৌবনের প্রারম্ভে  পাড়ার   “বওয়াটে দলের”  নেতারূপে তিনি নানা অপকর্মকরছেন,
অধিকন্তু  “ভন্ড সন্ন্যাসীদের দন্ড”  দিচ্ছেন
সেখানেও   থামলেন  না —– খাঁটি  কালাপাহাড় হবার   চেষ্টাওকরলেন।তাঁর  যৌবনকালের একটি ঘটনা এইঃ
              “””শারদীয়াপূজার পূর্বদিন প্রভাতে বাটীর লোক উঠিয়া  দেখিল —-বহির্বাটীর প্রাঙ্গনে কাহারা প্রতিমা ফেলিয়াদিয়া গিয়াছে
বাড়িতে হুলস্থূল পড়িয়া গেল।….. বাটীতেবহু লোকের সমাগমে একটাকোলাহল উত্থিত হওয়ায় গিরিশচন্দ্রঘুম হইতে উঠিয়া পড়িলেন
বহির্বাটীতে আসিয়া  প্রতিমাদর্শনে বুঝিলেন —- পাড়ার জনকতক দুষ্টলোকের কীর্তি
তিনিও  তাহাদের কীর্তি লোপ করিবারজন্যকালাপাহাড়মূর্তিধারণ করিলেন
মদ্যপান করিয়া  ,  কোথা হইতে একখানিকুঠার সংগ্রহ করিয়া আনিয়াপ্রতিমা খন্ডবিখন্ড আরম্ভকরিলেন
করিস কি, করিস কি‘  বলিয়া  আর্তনাদ করিতেকরিতে [বড়দিদি] কৃষ্ণকিশোরী ছুটিয়া আসিলেন।
বাড়িতে কান্না পড়িয়া গেল।…..
[কিন্তু]     তাঁহার সেই সংহারমূর্তি দর্শনেঅন্য কেহ নিকটে যাইতেসাহস করিল নাএকেএকে সকলে সরিয়াপড়িল
ধ্বংসকার্য শেষ করিয়া গিরিশচন্দ্রপ্রতিমার একএক টুকরোতাঁহাদের  খিড়কির বাগানের একআমগাছতলায় লইয়া গিয়া স্তূপীকৃতকরিলেন।
পরে সমস্ত দিন ধরিয়াসেইগুলি মাটিতে পুঁতিয়া  তবেনিশ্চিন্ত হইলেন।“””
(দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত।)
তৃতীয় পর্ব  “বিশ্বাসের তটরেখায় অলৌকিক আকার” __ পরবর্তীতেপোস্ট হইবে
(শ্রীশঙ্করী প্রসাদ বসু)
জয় মা।জয় ঠাকুর।জয় স্বামীজী।

‘শ্রীরামকৃষ্ণ নামই মহামন্ত্র’ : II তখনও জপ-ধ্যান কিভাবে করতে হয় জানি না l



শ্রীরামকৃষ্ণ নামই মহামন্ত্র’ :
তখনও জপধ্যান কিভাবেকরতে হয় জানি নাl
তাই পরের দিন সকলেরসঙ্গে মহাপুরুষজীকে প্রনাম করে বিনীতভাবেজপ ধ্যান কিভাবে করতেহয় জিজ্ঞাসা করাতে
মহাপুরুষজী সস্নেহে বললেন : “প্রীতির সঙ্গে বারং বারভগবানের নাম করাই জপl”
ঠাকুরই জীবন্ত জাগ্রত দেবতাএযুগেশ্রীরামকৃষ্ণনামই মহামন্ত্র l
মনে মনেরামকৃষ্ণনামজপ্ করবে, আর খুবব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা করবেl
বলবে, প্রভু, তুমি জগতেরউদ্ধারের জন্য নরদেহ ধারণকরে কত কষ্ট সহ্যকরেছ,
আমি অতি দীন হীন, ভজনহীন , পুজনহীন, জ্ঞানহীন, ভক্তিহীন, বিশ্বাসহীন, প্রেমহীন, দয়া করে আমারহৃদয়ে প্রকাশিত হও l
মানবজীবন সার্থক হোক l
তোমারই একজন সন্তান তোমারকাছে এভাবে প্রার্থনা করতেকরতে শিখিয়েছেন l তুমি আমায় কৃপাকর l –
এমনি করে প্রার্থনা করতেকরতে তাঁর কৃপা হবেl
ক্রমে মন স্থির হয়েআসবে l
জপধ্যানে মন বসবে,অন্তরে আনন্দ প্রেম অনুভব করবে, প্রাণেআসার সঞ্চার হবে l
খুব প্রার্থনা করে, পরে যেমনযেমন বলেছি তেমনি ভাবেজপ করবে l
ঠাকুরের পবিত্র নাম এরএমনই শক্তি যে, নাম জপ করতেকরতে ক্রমে ধ্যান আপনিইহবে l
জপের সময় খুব একাগ্রচিত্তেভাববে যে, তিনি প্রসন্নদৃষ্টিতেতোমার দিকে চেয়ে আছেনl
এই চিন্তা দীর্ঘ সময়স্থায়ী হওয়াও এক রকমেরধ্যান l
তুমি তাঁর নাম জপকরতে করতে প্রার্থনা করপ্রভু, আমার ধ্যান যাতেহয় তা করেদাও l তিনি তাকরে দেবেন, নিশ্চয় যেনোl
তিনি সকলের গুরু, পথপ্রদর্শক, প্রভু, পিতামাতা, সখা, ভ্রাতা l
যেকোনো রকমে প্রেমেরসঙ্গে তাঁর শ্রীমূর্তি বাতাঁর গুন চিন্তা করাইধ্যান l ধ্যানের অনেক অবস্থা আছে, বহু রকমের ধ্যান আছে  l
খুব ব্যাকুল হয়ে ডাকখুবকাঁদ l কাঁদতে কাঁদতে হৃদয়েরময়লা সব ধুয়ে যাবে—-আর তিনি প্রকটিত হবেনl
এসব একদিনে হয় নাl করে যাও, ডেকে যাওনিশ্চয়ই সাড়া পাবেআনন্দপাবে l
এযুগেরামকৃষ্ণনামই মহামন্ত্র l শুধুরামকৃষ্ণনাম—-তাতেওঁকার বা অন্য কোনোবীজমন্ত্র যোগ করারও প্রয়োজনহয় না l’
স্বামী অপুর্বানন্দ (দেবলোকে)…
______________________________
তাঁকে যত পার স্মরণমনন করবে, তাঁকেইএকমাত্র আপনার জন বলেজানবে,
তাঁকে আপনার চেয়েও আপনারবলে জানবে l
যিনি ইহকাল পরকালেরএকমাত্র আশ্রয় সম্বল, তাঁকেই একমাত্র মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসবে l
যে যাকে ভালবাসে সেতারই কথা ভাবে, ভাবেসুখ পায়, আনন্দ পায়, তাকে পেতে চায়, সবক্ষণহৃদয়ের মধ্যে রাখতে চায়, আপনার করে নিতে চায়l
অন্য কথা বা কাজতার ভাল লাগে না, অন্য কিছু সে চায়না l
সবকিছুর বিচ্ছেদ আছে, শেষ আছে, কিন্তু ভগবৎ প্রেমের শেষনেই, সে যে অফুরন্তভান্ডার !
যত পান করবে ততইপিপাসা বাড়বে, শেষে আনন্দেবিভোর হয়ে আপনাকে ভুলেতন্ময় হয়ে যাবে l
তখন জীবত্ব ঘুচে দেবত্বপাবে, শবত্ব ঘুচে শিবত্বপাবে, মৃত্যুর বদলে অমৃতত্ব পাবে
~~~~~~স্বামী বিরজানন্দ

একদিন বাবুরাম মহারাজ মঠের বাগানের সবজি থেকে কোনো ভক্তকে দু-একটা লাউ দিয়েছেন

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

একদিন বাবুরাম মহারাজ মঠের বাগানের সবজি থেকে কোনো ভক্তকে দুএকটা লাউ দিয়েছেন। 

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বাগানের কাজ বাবুরাম মহারাজই করেন, তিনি দুএকটা লাউ কাউকে দিতেই পারেন। কিন্তু রাজা মহারাজ শুনেই তাঁর সঙ্গে কথা বন্ধ করে দিলেন। বাবুরাম মহারাজ প্রথমে বুঝতে পারছেন না কি ব্যাপার! তারপর মহারাজের কাছে গিয়ে বললেন, _“বলো, কি তোমার মনের ভাব।”_ মহারাজ কিছু বললেন না, চুপ করে আছেন। বাবুরাম মহারাজ বুঝলেন ভক্তকে লাউ দেওয়া তাঁর অন্যায় হয়েছে। তখন মহারাজের সামনে দণ্ডবৎ হয়ে প্রণাম করে বললেন, _“ভাই ক্ষমা করো।”_ মহারাজের চেয়ে বাবুরাম মহারাজ বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু মহারাজের কাছে এইরকম নত হয়ে থাকতেন। মহারাজের ভাব হচ্ছে, মঠের সম্পত্তি ঠাকুরের সম্পত্তি। সেই সম্পত্তির ওপর কারও অধিকার নেই, এমনকি স্বামী প্রেমানন্দেরও নয়। মহারাজ নিজেও এদিকে কর্তৃত্ব করতেন না।
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
মহারাজ অনেক সময় কলকাতায় বলরাম মন্দিরে থাকতেন। মঠে তখন খুব ম্যালেরিয়া হত। বালকস্বভাব মহারাজ ম্যালেরিয়ার ভয়ে মঠে আসতেন না। একবার তিনি খুব ম্যালেরিয়ায় ভুগেছিলেন, সেই থেকে ছেলেমানুষের মতো ভয় হয়েছিল। ম্যালেরিয়া হয়েছিল বলে তিনি গঙ্গাস্নানেও যেতেন না। তাঁকে বুঝিয়েসুঝিয়ে গঙ্গাস্নানে নিয়ে যাওয়া হত।
//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
মহারাজের যাঁরা সাক্ষাৎ শিষ্য, একসময় তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়ে মনে করতেন যে তাঁরা একটু উচ্চতর থাকের। স্বামীজী বাবুরাম মহারাজকে বলেছিলেন, *“বাবুরামদা তুমি চেলা করো না, তাহলে রাজার চেলা আর তোমার চেলায় লাঠালাঠি চলবে।”* বাবুরাম মহারাজকে মঠমিশনে *“মঠের মা”* বলা হতো। তাঁর এত প্রবল আকর্ষণ ছিল যে, তিনি চেলা করলে আর রক্ষা ছিল না! স্বামীজী তাঁর সূক্ষ্মদৃষ্টি দিয়ে বুঝে একথা বলেছিলেন। বাবুরাম মহারাজ কখনও দীক্ষা দেননি। তাঁদের পরস্পরের সম্বন্ধ এমন ছিল যে, সেখানে কোনো সংঘর্ষের অবকাশ ছিল না। এমন একটি সম্প্রদায় সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে শাসন কেবল প্রেমের শাসন!

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

             – স্বামী ভূতেশানন্দ



//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

एक पंडित था, वो रोज घर घर जाके भगवत गीता का पाठ करता था |

एक पंडित था, वो रोज घरघर जाके भगवतगीता का पाठकरता था |

एक दिन उसेएक चोर नेपकड़ लिया औरउसे कहा तेरेपास जो कुछभी है मुझेदे दो ,
तब वो पंडितजी बोला कीबेटा मेरे पासकुछ भी नहींहै,
तुम एक कामकरना मैं यहींपड़ोस के घरमैं जाके भगवतगीता का पाठकरता हूँ,
वो यजमान बहुतदानी लोग हैं, जब मैं कथासुना रहा होऊंगा
तुम उनके घरमें जाके चोरीकर लेना!
चोर मान गया
अगले दिन जबपंडित जी कथासुना रहे थेतब वो चोरभी वहां गया तब पंडितजी बोले कीयहाँ से मीलोंदूर एक गाँवहै वृन्दावन, वहांपे एक लड़काआता है जिसकानाम कान्हा है,वो हीरोंजवाहरातों से लदारहता है,
अगर कोई लूटनाचाहता है तोउसको लूटो वोरोज रात कोइस पीपल केपेड़ के
नीचे आता है,
जिसके आस पासबहुत सी झाडियाहैं चोर नेये सुना औरख़ुशी ख़ुशी वहांसे चला गया!
वो चोर अपनेघर गया औरअपनी बीवी सेबोला आज मैंएक कान्हा नामके बच्चे को
लुटने जा रहाहूँ ,
मुझे रास्ते में खानेके लिए कुछबांध कर देदो ,पत्नी नेकुछ सत्तू उसकोदे दिया
और कहा कीबस यही हैजो कुछ भीहै,
चोर वहां सेये संकल्प लेकेचला कि अबतो में उसकान्हा को लुटके ही आऊंगा,
वो बेचारा पैदलही पैदल टूटेचप्पल में हीवहां से चलपड़ा,
रास्ते में बसकान्हा का नामलेते हुए, वोअगले दिन शामको वहां पहुंचाजो जगह उसे
पंडित जी नेबताई थी!
अब वहां पहुँचके उसने सोचाकि अगर मेंयहीं सामने खड़ाहो गया तोबच्चा मुझे देखकर
भाग जायेगा तो मेरायहाँ आना बेकारहो जायेगा,
इसलिए उसने सोचाक्यूँ पासवाली झाड़ियों मेंही छुप जाऊँ,
वो जैसे हीझाड़ियों में घुसा, झाड़ियों के कांटेउसे चुभने लगे!
उस समय उसकेमुंह से एकही आवाज आयी
कान्हा, कान्हा , उसका शरीरलहू लुहान होगया पर मुंहसे सिर्फ यहीनिकला,
कि कान्हा जाओ! कान्हा जाओ!
अपने भक्त कीऐसी दशा देखके कान्हा जीचल पड़े
तभी रुक्मणी जी बोलीकि प्रभु कहाँजा रहे होवो आपको लूटलेगा!
प्रभु बोले किकोई बात नहींअपने ऐसे भक्तोंके लिए तोमैं लुट जानातो क्या
मिट जाना भीपसंद करूँगा!
और ठाकुर जीबच्चे का रूपबना के आधीरात को वहांआए वो जैसेही पेड़ केपास पहुंचे
चोर एक दमसे बहार गया और उन्हेंपकड़ लिया औरबोला कि
कान्हा तुनेमुझे बहुत दुखीकिया है, अबये चाकू देखरहा है , अब चुपचाप अपने
सारे गहने मुझेदे दे
कान्हा जी नेहँसते हुए उसेसब कुछ देदिया!
वो चोर हंसीख़ुशी अगले दिनअपने गाँव मेंवापिस पहुंचा,
और सबसे पहलेउसी जगह गयाजहाँ पे वोपंडित जी कथासुना रहे थे,
और जितने भीगहने वो चोरीकरके लाया थाउनका आधा उसनेपंडित जी के
चरणों में रखदिया!
जब पंडित नेपूछा कि येक्या है, तबउसने कहा आपनेही मुझे उसकान्हा का पतादिया था
मैं उसको लूटके आया हूँ, और ये आपकाहिस्सा है , पंडितने सुना औरउसे यकीन ही
नहीं हुआ!
वो बोला किमैं इतने सालोंसे पंडिताई कररहा हूँ
वो मुझे आजतक नहीं मिला, तुझ जैसे पापीको कान्हा कहाँसे मिल सकताहै!
चोर के बारबार कहने परपंडित बोला किचल में भीचलता हूँ तेरेसाथ वहां पर,
मुझे भी दिखाकि कान्हा कैसादिखता है, औरवो दोनों चलदिए!
चोर ने पंडितजी को कहाकि आओ मेरेसाथ यहाँ पेछुप जाओ,
और दोनों काशरीर लहू लुहानहो गया औरमुंह से बसएक ही आवाजनिकली
कान्हा, कान्हा, जाओ!
ठीक मध्य रात्रिकान्हा जी बच्चेके रूप मेंफिर वहीँ आये,
और दोनों झाड़ियोंसे बहार निकलआये!
पंडित जी किआँखों में आंसूथे वो फूटफूट के रोनेलग गया, औरजाके चोर केचरणों में गिरगया और बोलाकि हम जिसेआज तक देखनेके लिए तरसतेरहे,
जो आज तकलोगो को लुटताआया है, तुमनेउसे ही लूटलिया तुम धन्यहो,
आज तुम्हारी वजहसे मुझे कान्हाके दर्शन हुएहैं,
तुम धन्य हो……!!
ऐसा है हमारेकान्हा का प्यार, अपने सच्चे भक्तोंके लिए ,
जो उसे सच्चेदिल से पुकारतेहैं, तो वोभागे भागे चलेआते हैं…..!!
प्रेम से कहियेश्री राधे ~ हेराधे ! जय जयश्री राधे—–
मेरो तो गिरधरगोपाल, दूसरो कोई

রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃক গঠিত কমিটিতে নিবেদিতা হলেন সম্পাদিকা এবং স্বামী সদানন্দ প্রধান কার্যাধ্যক্ষ


১৮৯৯ খ্রীষ্টাব্দে প্লেগের পুনরায় প্রাদুর্ভাব ঘটলেএই রোগের প্রতিরোধের ব্যাপারেসকল দায়িত্ব স্বামীজী নিবেদিতার ওপর অর্পণ করলেন।

এই উদ্দেশ্যে রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃক গঠিতকমিটিতে নিবেদিতা হলেন সম্পাদিকা এবংস্বামী সদানন্দ প্রধান কার্যাধ্যক্ষ স্বামীসদানন্দকে নিয়ে নিবেদিতা বাগবাজারঅঞ্চলে প্লেগ নিবারণের কাজেঝাঁপিয়ে পড়লেন। বিভিন্ন সময়বিভিন্ন স্থানে প্লেগ সম্বন্ধেবক্তৃতা দিয়ে তিনি মানুষকেএই রোগ সম্বন্ধে সচেতনকরার চেষ্টা করতে থাকেন।সমস্ত বস্তিগুলি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব ছিলস্বামী সদানন্দের ওপর আর নিবেদিতাপ্রতিদিন প্রত্যেকটি  কাজ পরিদর্শন করেপ্রয়োজনীয় নিদের্শাদি দিতেন। একদিন তিনিনিজেই ঝাড়ুহাতে রাস্তা পরিষ্কার করতেউদ্যত হলে পাড়ার যুবকগণলজ্জিত হয়ে সেই কাজেরদায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করে। ঘরেঘরে গিয়ে তিনি প্লেগাক্রান্তরোগীদের সেবা করতেন। সম্বন্ধে ডাঃ রাধাগোবিন্দ করলিখ ছেনঃএকবার একজনরোগীর ঔষধপথ্যাদির ব্যয়নির্বাহার্থে তাঁহাকেকিছুদিনের জন্য দুগ্ধপান পরিত্যাগকরিতে হইয়াছিল। তখন দুগ্ধ ফলমূলই ছিল তাঁহার আহার।এই সময়ে একদিন চৈত্রেরমধ্যাহ্নে রোগিপরিদর্শনান্তে গৃহেফিরিয়া দেখিলাম, দ্বারপথে ধূলিধূসর কাষ্ঠাসনেএকজন ইউরোপীয় মহিলা উপবিষ্টা। ইনিইভগিনী নিবেদিতা।সেইদিন প্রাতে বাগবাজারেকোনো বস্তিতে আমি একটি প্লেগাক্রান্তশিশুকে দেখিতে গিয়েছিলাম। রোগীরব্যবস্থা সম্বন্ধে অনুসন্ধান ব্যবস্থা গ্রহণেরজন্যই সিস্টার নিবেদিতার আগমন। আমি বলিলাম, ‘ রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন !’ …অপরাহ্নেপুনরায় রোগী দেখিতে যাইয়াদেখিলাম, সেই অস্বাস্থ্যকর পল্লিতে, সেই আর্দ্রজীর্ণ কুটিরানিবেদিতা রোগগ্রস্ত শিশুটিকে ক্রোড়ে লইয়া বসিয়াআছেন। দিনের পর রাত্রি, রাত্রির পর দিন তিনিস্বীয় আবাস পরিত্যাগ করিয়াসেই কুটিরে রোগীর সেবায়নিযুক্ত রহিলেন।তিনি স্বয়ং একখানিক্ষুদ্র মই লইয়া গৃহেচুনকাম করিতে লাগিলেন। রোগীরমৃত্যু নিশ্চিত জানিয়াও তাঁহার শুশ্রূষায় শৈথিল্যসঞ্চারিত হইল না। দুইদিনপরে শিশু এই করূনাময়ীরস্নেহতপ্ত অঙ্কে অন্তিম নিদ্রায়নিদ্রিত হইল!” ম্ররত্যুর পূর্বেশিশুটি তাঁকে নিজের মামনে করেমাবলেজড়িয়ে ধরেছিল।

– (ভারত উপাসিকা নিবেদিতা, পৃ২৯)

কজন মানুষ যতই মন্দই হোক না কেন, এমনকি সমগ্র জগৎ যদি তাকে পরিত্যাগ করে, তাকে ঈশ্বর ততটাই ব্যাকুলভাবে ভালোবাসেন, যতটা ব্যাকুলভাবে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ধার্মিক মানুষকে ভালোবাসেন।

নিশ্চিতভাবে জেনো

কজন মানুষযতই মন্দই হোক নাকেন, এমনকি সমগ্র জগৎযদি তাকে পরিত্যাগ করে, তাকে ঈশ্বর ততটাই ব্যাকুলভাবেভালোবাসেন, যতটা ব্যাকুলভাবে তিনিসর্বশ্রেষ্ঠ ধার্মিক মানুষকে ভালোবাসেন। শিশু বড় হয়েএকজন খুনী হতে পারে, কিন্তু তার প্রতি মায়েরভালোবাসা অটুট থাকে। সমস্তজননীর সমষ্টির চেয়েও ঈশ্বর বেশীপ্রেমময় দয়ালু। তাঁরপ্রেমপূর্ণ দয়ার প্রতি কখনবিশ্বাস হারিও না। পাপিষ্ঠতমব্যক্তির প্রতিও তিনি সর্বদাদৃষ্টি রেখেছেন। এই কথা জেনেসুখী হও।
                              স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ(সান্ত্বনা)

A Businessman who lost everything in a fire placed a Sign Board:

@page { margin: 2cm } p { margin-bottom: 0.25cm; line-height: 120% }

*Excellent Inspiring Message:*


x

A Businessman who lost everything in a fire

set a Sign Board: “Everything consumed except fortunately

confidence & certainty unharmed. Business begins tomorrow.”

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx

*Superb Attitude for Life!!*


Somebody asked Life:

For what reason would you say you are so troublesome???

Life Smiled and said

“You individuals never acknowledge simple things”

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx

Pardon others, not on the grounds that they merit absolution,

but since *you 👤 merit peace… 😇*

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx

*Unbelievable fact!!*


Our body is loaded with water yet wherever it harms,

BLOOD turns out.

& Our heart is loaded with blood yet at whatever point it harms,

Detaches comes…

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx

On the off chance that you have a *”Magnetic”* identity but then individuals don’t get pulled in to you, it’s not your blame…

They have “Press” lack in their bodies…

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx

*Coolest msg….*


“In the event that we mull over blossoms,

its called our First Night”

“On the off chance that blooms consider us, its called our Last Night”

The truth of life.😘

দারুণ শীত পড়েছে। সেদিন একটু তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়েছি। গভীর রাত্রে স্বপ্ন দেখলাম, মা এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে যেন বলছেনঃ “রাজন, তোর জ্ঞান না শুনলে আমার তৃপ্তি হয় না রে!” ব্যাস।

একবার এক বিশেষ ঘটনাঘটেছিল। 

মা কলকাতা থেকেদেশে এসেছেন। মায়ের জন্মতিথি পড়েছে।এদিকে সাধু, গৃহী ভক্তসকলে মিলে মায়ের আবির্ভাবতিথিপূজার আয়োজন করছেন। আমিলোকমুখে সেখবর পেলাম।কিন্তু মঠ থেকে কোননিমন্ত্রন এল না। মা লোক পাঠালেননা অন্যবারের মতো। মনে ভারীঅভিমান হলো। ভাবলাম, থাকগেএবার আর যাব নামাকে দর্শন করতে। অনেকবড় বড় ভক্ত পেয়েমা নিশ্চয় ভুলে গেছেনআমার মতো সামান্য ভক্তকে
তখন পৌষ মাস। দারুণশীত পড়েছে। সেদিন একটুতাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়েছি।গভীর রাত্রে স্বপ্ন দেখলাম, মা এসে আমার সামনেদাঁড়িয়ে যেন বলছেনঃরাজন, তোর জ্ঞান না শুনলেআমার তৃপ্তি হয় নারে!” ব্যাস। এই কথাবলেই তিনি যেন কোথায়অন্তর্ধান করলেন। ঘুম ভেঙ্গেগেল। মনে হলো, মাস্বয়ং এসে নিমন্ত্রণ করেগেলেন। আমাকে যেতেই হবেজয়রামবাটীতে, মায়ের আবির্ভাবতিথিতেতাঁকে প্রনাম করতে, তাঁকেগান শোনাতে। খুব ভোরে উঠেইরওনা দেওয়ার জন্য তৈরিহতে লাগলাম। একটু বেলা বাড়লেবাজারে গিয়ে দোক্তা কিনেআনলাম মায়ের জন্য। এগারোটারমধ্যে খাওয়াদাওয়া সেরে ষ্টেশনে রওনাহলাম গাড়ি ধরার জন্য।ঠিক বারোটায় ট্রেন। বেলা একটারসময় পৌঁছে গেলাম বিষ্ণুপুরষ্টেশনে। বিষ্ণুপুর থেকে হাঁটতে শুরুকরলাম জয়রামবাটী অভিমুখে। তখন বাস ছিলনা, অন্য যানবাহনও ছিলনা। আমি পায়ে হেঁটেইচলেছি মাতৃদর্শনে
শীতকালের বেলা ছোট। জয়রামবাটীপৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। হাড়কাঁপানোশীত পড়েছে। মাথায় মাঙ্কিক্যাপ, গলায় কম্ফর্টার আরসর্বাঙ্গে শাল জড়িয়ে আমিযখন সন্ধ্যার অন্ধকারে জয়রামবাটীতে মায়ের বাড়িতে গিয়েহাজির হলাম, তখন হঠাৎআমায় দেখে চেনার কোনউপায় ছিল না যেআমি রাজেন দত্ত। মাবসে আছেন একটি চৌকিতেপূর্বদিকে মুখ করে। সামনেপিছনে, আশেপাশেএকদল ভক্ত মেয়েপুরুষ।আবার মঠে পৌঁছেই মাকেপ্রণাম করলাম না, এমনকিমায়ের সামনে গিয়েও দাঁড়ালামনা। মাথায় এক দুর্বুদ্ধিএসেছিলমাকে পরীক্ষা করব।শুধু তাই নয়, গতরাত্রে মাকে যে স্বপ্নদেখেছিলাম, সেটা নিছক আমারমনের বিকার কিনা, তাও পরীক্ষা করব। আরো দশজনলোকের সঙ্গে আমি মায়েরপিছনের দিকে বেশ খানিকটাদূরে গিয়ে বস্লাম। সেখানথেকে শুনতে পেলাম, একজনভক্ত বলছেনঃএকটা গান হলেভাল হতো একজনসাধু বল্লেনঃকে আর গাইবে? রাজন দত্ত থাকলে গাইত
মা বলে উথলেনঃরাজনএসেছে। পিছনে বসে আছে।ডেকে নিয়ে এসো। গানগাইবে মায়েরকাটা কাটা কথাগুলো আমারকানে একএকটা তীরেরমতো এসে বিঁধতে লাগল।আমি একদিকে যেমন বিস্ময়েহতবাক হয়ে গেলাম, তেমনইআর একদিকে লজ্জায় মরেযেতে লাগলাম। কেউ আমাকে দাকারআগেই ছুটে গিয়ে দাঁড়ালামমায়ের সামনে। দুটি পায়েহাত বুলিয়ে প্রণাম করেহাত জোড় করে বল্লামঃআমায় ক্ষমা করো মা মায়েরসঙ্গে আমি তুমি করেইকথা বলতাম। আমার চিবুকেহাত দিয়ে মিষ্টি হাসিহেসে মা বল্লেনঃকই, দোক্তা দে
আবার মাথায় দুর্বুদ্ধি। বলেফেল্লামঃএবার তাড়াতাড়িতে দোক্তাআনতে ভুলে গেছিকৌতুকভরা দুটি চোখে মাআমার মুখের দিকে তাকিয়েবল্লেনঃতোর বাঁ দিকেরপকেটে দোক্তা আছে, দেবাবা দে!”
আমার সর্বাঙ্গ তখন কাঁপছে। একবারমনে হচ্ছে, কী মূর্খআমি! কার সঙ্গে ছলনাকরছি? আবার মনে হচ্ছে, আমি ধন্য! স্বয়ং জগন্মাতাআমার সঙ্গে লীলা করছেন।বাঁ দিকের পকেট থেকেদোক্তার প্যাকেটগুলো কম্পিত হাতে বেরকরে মায়ের হাতে দিলাম।মা খুশি হয়ে বল্লেনঃবেঁচে থাক, বাবা। নেএকটা গান শোনা দেখি!”
সেদিন একটার পর একটাগান গেয়েছিলাম। কতগুলো গান গেয়েছি, তা ঠিক মনে নেই।আমার গানেই যেন সেদিনমায়ের তিথিপূজা সম্পন্ন হয়েছিল। ধন্য আমার মনুষ্যজন্ম! ধন্য মা।রাজেন্দ্রানাথ দত্ত।(শ্রীশ্রীমায়ের পদপ্রান্তে)।।

উদ্দেশ্যে রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃক গঠিত কমিটিতে নিবেদিতা হলেন সম্পাদিকা এবং স্বামী সদানন্দ প্রধান কার্যাধ্যক্ষ।

১৮৯৯ খ্রীষ্টাব্দে প্লেগের পুনরায় প্রাদুর্ভাব ঘটলে এই রোগের প্রতিরোধের ব্যাপারে সকল দায়িত্ব স্বামীজী নিবেদিতার ওপর অর্পণ করলেন।


এই উদ্দেশ্যে রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃক গঠিত কমিটিতে নিবেদিতা হলেন সম্পাদিকা এবং স্বামী সদানন্দ প্রধান কার্যাধ্যক্ষ। স্বামী সদানন্দকে নিয়ে নিবেদিতা বাগবাজার অঞ্চলে প্লেগ নিবারণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে প্লেগ সম্বন্ধে বক্তৃতা দিয়ে তিনি মানুষকে এই রোগ সম্বন্ধে সচেতন করার চেষ্টা করতে থাকেন। সমস্ত বস্তিগুলি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব ছিল স্বামী সদানন্দের ওপর আর নিবেদিতা প্রতিদিন প্রত্যেকটি  কাজ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নিদের্শাদি দিতেন। একদিন তিনি নিজেই ঝাড়ুহাতে রাস্তা পরিষ্কার করতে উদ্যত হলে পাড়ার যুবকগণ লজ্জিত হয়ে সেই কাজের দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করে। ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি প্লেগাক্রান্ত রোগীদের সেবা করতেন। সম্বন্ধে ডাঃ রাধাগোবিন্দ কর লিখ ছেনঃ একবার একজন রোগীর ঔষধপথ্যাদির ব্যয়নির্বাহার্থে তাঁহাকে কিছুদিনের জন্য দুগ্ধপান পরিত্যাগ করিতে হইয়াছিল। তখন দুগ্ধ ফলমূলই ছিল তাঁহার আহার। এই সময়ে একদিন চৈত্রের মধ্যাহ্নে রোগিপরিদর্শনান্তে গৃহে ফিরিয়া দেখিলাম, দ্বারপথে ধূলিধূসর কাষ্ঠাসনে একজন ইউরোপীয় মহিলা উপবিষ্টা। ইনিই ভগিনী নিবেদিতা।সেইদিন প্রাতে বাগবাজারে কোনো বস্তিতে আমি একটি প্লেগাক্রান্ত শিশুকে দেখিতে গিয়েছিলাম। রোগীর ব্যবস্থা সম্বন্ধে অনুসন্ধান ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যই সিস্টার নিবেদিতার আগমন। আমি বলিলাম, রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন !অপরাহ্নে পুনরায় রোগী দেখিতে যাইয়া দেখিলাম, সেই অস্বাস্থ্যকর পল্লিতে, সেই আর্দ্রজীর্ণ কুটিরা নিবেদিতা রোগগ্রস্ত শিশুটিকে ক্রোড়ে লইয়া বসিয়া আছেন। দিনের পর রাত্রি, রাত্রির পর দিন তিনি স্বীয় আবাস পরিত্যাগ করিয়া সেই কুটিরে রোগীর সেবায় নিযুক্ত রহিলেন।তিনি স্বয়ং একখানি ক্ষুদ্র মই লইয়া গৃহে চুনকাম করিতে লাগিলেন। রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত জানিয়াও তাঁহার শুশ্রূষায় শৈথিল্য সঞ্চারিত হইল না। দুইদিন পরে শিশু এই করূনাময়ীর স্নেহতপ্ত অঙ্কে অন্তিম নিদ্রায় নিদ্রিত হইল! মৃত্যুর পূর্বে শিশুটি তাঁকে নিজের মা মনে করে মা বলে জড়িয়ে ধরেছিল।– (ভারত উপাসিকা নিবেদিতা, পৃ২৯)
Design a site like this with WordPress.com
Get started